27/01/2026
“অভিযোগ নয়,ইস্তেগফার বাড়াও; কারণ সমস্যা সৃষ্টি হয় পাপের কারণে,আর সমাধান আসে তাওবার মাধ্যমে☝️
ইসলামী শিক্ষা অনুসারে পাপ-গুনাহ মানুষের জীবনে বিপদ,সংকীর্ণতা,রিযিকের কমতি,মানসিক অস্থিরতা ইত্যাদি নিয়ে আসে। অন্যদিকে তাওবা (অনুতাপের সাথে ফিরে আসা) এবং ইস্তেগফার (বারবার ক্ষমা প্রার্থনা) এসব থেকে মুক্তি,বরকত ও সমাধানের দরজা খুলে দেয়। নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পাপ-গুনাহ সমস্যা ও বিপদের কারণ
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে,মানুষের কৃত অপরাধের কারণেই বিপদ আসে:
✅ সূরা আশ-শূরা (৪২:৩০)
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
অর্থ: “তোমাদের যেকোনো মুসীবত (বিপদ) আসে,তা তোমাদের হাতের কৃতকর্মের (পাপের) কারণে; আর আল্লাহ অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন।”
✅ সূরা আর-রূম (৩০:৪১)
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ
অর্থ: “স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ (বিপর্যয়) প্রকাশ পেয়েছে মানুষের হাতের কৃতকর্মের (পাপের) কারণে।”
এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়—ব্যক্তিগত,সামাজিক বা পরিবেশগত সমস্যার মূলে প্রায়ই পাপ-অবাধ্যতা থাকে।
২. ইস্তেগফার ও তাওবাই সমাধানের পথ
আল্লাহ তা‘আলা বারবার ইস্তেগফারের মাধ্যমে সমস্যা থেকে মুক্তি,রিযিক বৃদ্ধি ও স্বস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
✅ সূরা নূহ (৭১:১০-১২)
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا
وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا
অর্থ: “আমি বললাম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো, নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।তিনি তোমাদের উপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন,তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী প্রবাহিত করবেন।”
✅ সূরা হূদ (১১:৩)
وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ
অর্থ: “…এবং তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো,তারপর তাঁর দিকে ফিরে এসো (তাওবা করো)। তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনোপভোগ করতে দেবেন এবং প্রত্যেক ফযলপ্রাপ্তকে তার ফযল দান করবেন।”
৩. হাদিসে ইস্তেগফারের অলৌকিক ফযীলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে প্রতিদিন ৭০-১০০ বারেরও বেশি ইস্তেগফার করতেন এবং উম্মতকে তা শেখাতেন।
✅ সহীহ হাদীস (আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ,হাকিম)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ইস্তেগফারকে নিয়মিত করে নেয় (অভ্যাস বানিয়ে নেয়), আল্লাহ তার জন্য *প্রত্যেক সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন, প্রত্যেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করেনি* ।”
✅ আরেক হাদীসে এসেছে:
ইস্তেগফার বাড়ালে আল্লাহ → দুশ্চিন্তা দূর করেন, → বিপদ থেকে বের হওয়ার উপায় করে দেন, → রিযিক অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে দান করেন।
৪. উপসংহার
সমস্যার মূল কারণ অনেক সময় আমাদের পাপ-ভুল। অভিযোগ,অন্যকে দোষারোপ বা হতাশার পরিবর্তে বেশি বেশি ইস্তেগফার ও খাঁটি তাওবা করি।
নিম্নোক্ত দো'আটি আমরা বেশি বেশি করার চেষ্টা করি-
رَبِّ إِنِّىْ ظَلَمْتُ نَفْسِىْ فَاغْفِرْ لِىْ
*'রাব্বি ইন্নি জলামতু নাফসি ফাগফিরলি'*
এর অর্থ হলো— *"হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর জুলুম (পাপ) করেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন"*
দিনে ১০০ বার বা তার বেশি বলার অভ্যাস করি। আল্লাহর রহমত অসীম—তিনি ক্ষমাশীল,দয়ালু। তাওবা করলে তিনি সমস্যাকে সহজ করে দেন, বরকত দেন এবং দুনিয়া-আখিরাতের শান্তি দান করেন।
আল্লাহ আমাদের সকলকে খাঁটি তাওবার তাওফিক দান করুন। আমীন।
©️সংগৃহীত #তাওবা