Family Care Pharmacy

Family Care Pharmacy Family Care Pharmacy situated in Haoladarpara,Kali Bari Road,Sylhet with Doctor Consultation chamber

06/05/2023

প্রোস্টেট ক্যানসার: যা জানা প্রয়োজন

প্রোস্টেট ক্যানসার একটি প্রাণঘাতী রোগ। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ নতুন করে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে ৩০ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু ঘটে। তবে রোগের শুরুতে ধরা পড়লে রোগীর প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেকেই বুঝতে পারে না যে এই মারণরোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে।

প্রোস্টেট ক্যানসার কাদের এবং কেন হয়
এখন পর্যন্ত প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণ জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় আছে, যা এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন, বয়স বৃদ্ধি অর্থাৎ ৫০ বছরের ওপর পুরুষদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ধূমপায়ীদের প্রোস্টেট ক্যানসার অধূমপায়ীদের তুলনায় বেশি। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণসমূহ
প্রোস্টেট ক্যানসার অনেক ধীরে বৃদ্ধি পায়, তাই কয়েক বছর পর্যন্ত সব লক্ষণ অনুভব না–ও হতে পারে। তবে প্রোস্টেট বড় হয়ে যখন মূত্রনালিকে আক্রান্ত করে তখন বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায়। রোগী তখন প্রস্রাব করতে অনেক ধরনের অসুবিধাবোধ করে। যেমন, হঠাৎ বেশি বেগে প্রস্রাব পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি প্রস্রাব হওয়া। মূত্রত্যাগের শুরুতে প্রস্রাব আসতে দেরি হওয়া এবং প্রস্রাব শেষ করতে অনেক বেশি সময় লাগা। মূত্রত্যাগের পরেও প্রস্রাবের বেগ আছে মনে হওয়া। প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখা কষ্টকর হওয়া। প্রস্রাবের সময় ব্যথা অনুভব হওয়া, সঙ্গে রক্ত যাওয়া। অগ্রবর্তী পর্যায়ে কোমর ও তলপেটে ব্যথা অনুভব হওয়া।

প্রোস্টেট ক্যানসার নির্ণয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা
রক্তে PSA পরীক্ষা প্রোস্টেট ক্যানসার নির্ণয়ে সাহায্য করে। এর মাত্রা ৪–এর নিচে থাকলে চিন্তার কিছু নেই। সাধারণত ক্যানসার হলে এর মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। TRUS নামক একটি পরীক্ষা দ্বারা একধরনের ultra sonography-এর মাধ্যমে প্রোস্টেটের ভালো ছবি দেখা যায়। ওই ছবিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে BIOPSY করা হয়। BIOPSY-এর মাধ্যমে ক্যানসার আছে কি না এবং থাকলে ক্যানসারটি কী ধরনের, তা–ও জানা যায়।

চিকিৎসা
প্রোস্টেট ক্যানসার শুরুতে ধরা পড়লে নির্মূল করা যায়। দেরি হলে রোগ সম্পূর্ণ সারানো না গেলেও রোগ বেড়ে যাওয়া আটকানো যায়। র‍্যাডিক্যাল প্রোস্টেকটমি অপারেশন হলো এ রোগের একমাত্র চিকিৎসা। এ ছাড়া রোগের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, কেমোথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রশ্ন হলো প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কি বাঁচে? নিশ্চয় বাঁচে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। একেবারে শেষ পর্যায়ে এলেও রোগ বাড়তে না দিয়ে দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা যায়।
পুরুষদের যত ক্যানসার হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় কোলোরেক্টাল ও ফুসফুসের ক্যানসার। এরপরই হয় প্রোস্টেট ক্যানসার। কিন্তু একটু সতর্কতাই পারে এই ক্যানসারের কারণে পুরুষদের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে।

04/09/2020
04/07/2020

ভিটামিন সি ঘরেই আছে

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই বলে ভিটামিন সি-এর চাহিদা মেটাতে দোকান থেকে কিনে খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রাখলেই দৈনিক চাহিদা পূরণ হয়ে যায়।

ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয়। তাই শরীরে সঞ্চিত থাকে না। এই ভিটামিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করলে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাই প্রতিদিনই নির্দিষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি খেতে হয়। যেমন শিশুদের ৩০ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম, প্রাপ্তবয়স্কদের ৪৫ মিলিগ্রাম, গর্ভবতী মায়েদের ৫৫ মিলিগ্রাম ও প্রসূতি মায়েদের ৭০ মিলিগ্রাম।

এবার জেনে নেওয়া যাক, কোন ফল ও শাকসবজিতে (প্রতি ১০০ গ্রামে) কী পরিমাণ ভিটামিন সি (মিলিগ্রাম) পাওয়া যাবে।

ফল: আমলকি (৪৬৩ মিলিগ্রাম), পেয়ারা (২২৮), করমচা (১৩৫), জাম্বুরা (১০৫), আমড়া (৯২), ডেউয়া (৬৬), কাগজি লেবু (৬৩), পাকা পেঁপে (৬২), কালোজাম (৬০), মাল্টা (৫৪), বরই (৫১), মুসাম্বি (৫০), লেবু (৪৭), পাকা আম (৪১), কমলা (৪০), জলপাই (৩৯), আতা (৩৮), পাকা তাল (৩৫), আনারস (৩৪), লিচু (৩১), বেদানা (২৬), বাঙ্গি (২৬), তরমুজ (২৪), জামরুল
(২২) ইত্যাদি।

শাক: শজনেপাতা (২২০ মিলিগ্রাম), নটেশাক (১৭৯), ধনেপাতা (১৩৫), ডাটাশাক (৮৩), গাজরপাতা (৭৯), করলাশাক (৭৮), বিটশাক (৭০), মুলাশাক (৬৯), পুঁইশাক (৬৪), কালো কচুশাক (৬৩), ছোলাশাক (৬১), শর্ষেশাক (৬০), বরবটিপাতা (৫৭), পাটশাক (৫৪), মেথিশাক (৫২), লাউশাক (৪৮), সবুজ কচুশাক (৪৮), হেলেঞ্চাশাক (৪৩), লালশাক (৪৩), বতুয়াশাক (৪১), মিষ্টিকুমড়াশাক (৩৭), কলমিশাক (৩০), পালংশাক (৩০) ইত্যাদি।

সবজি: কাঁচামরিচ (১২৫), উচ্ছে (৯৬), করলা (৯১), কাঁচা আম (৯০), ফুলকপি (৭৩), শজনে (৭০), ওলকপি (৫৩), ডাঁটা (৩৬), মিষ্টি আলু (৩৫), মুলা (৩৪), কাঁচা টমেটো (৩১), চালকুমড়া (৩১), পাকা টমেটো (২৭), পেঁয়াজকলি (২৭), মিষ্টিকুমড়া (২৬), শালগম (২৫), অড়হড় (২৫), ফরাসি শিম (২৪), কাঁচা কলা (২৩), কাঁচা পেঁপে (১৯), আলু (১৯), পটল (১৯), চিচিঙ্গা (১৯), ঢেঁড়স (১৮), মুলা (১৭), কলার মোচা (১৬), বাঁধাকপি (১৬), বিট (১৫), এঁচোড় (১৪), লাল শিম (১২), পুঁই ডাঁটা (১১) ইত্যাদি।

এ ছাড়া শুকনা মরিচ (৪৭), লেবুর খোসা (১২৯), পুদিনাপাতা (২২) ও থানকুনিপাতায়ও (২৪) ভিটামিন সি রয়েছে।

তবে শাকসবজি উচ্চতাপে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা যাবে না। ঢাকনা দেওয়া পাত্রে যথাসম্ভব অল্প পানি ব্যবহার করে দ্রুত রান্না করতে হবে। সর্বোচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি ধরে রাখতে ভাপে অথবা প্রেসার কুকারে রান্না করা উত্তম।

লেখক:

ড. নুরুন নাহার দিলরুবা,
পুষ্টিবিদ ও শিক্ষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

Source: প্রথম আলো, ০৪ জুলাই ২০২০

মৌসুমি ফলের দারুণ গুণগ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে প্রচুর ফল পাওয়া যায়। বৈচিত্র্যপূর্ণ আর রসাল সব মৌসুমি ফলের সমারোহ ঘটে এ সময়...
20/06/2020

মৌসুমি ফলের দারুণ গুণ

গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে প্রচুর ফল পাওয়া যায়। বৈচিত্র্যপূর্ণ আর রসাল সব মৌসুমি ফলের সমারোহ ঘটে এ সময়। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ইত্যাদি রসাল ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এগুলো পানি, খাদ্য-আঁশ ও প্রাকৃতিক চিনিরও (সুক্রোজ, গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ) উৎস। সব মিলিয়ে এই ফলগুলো শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বেশ সহায়ক। কাজেই করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণের সময় রোজকার খাদ্যতালিকায় কিছু মৌসুমি ফল অবশ্যই রাখুন। এবার জেনে নেওয়া যাক এ সময়ের কোন ফলের উপকারিতা কতটুকু।

আম:আমে বিদ্যমান ক্যারোটিনয়েডগুলো কোলন ও ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা প্রতিরোধ করে। আমের পটাশিয়াম, খাদ্য-আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো উচ্চরক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। পেকটিন খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। খাদ্য-আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এক দিন পরপর দৈনিক শর্করার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আম খেতে পারেন।

জাম: কালো জামের অ্যান্থোসায়ানিন হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। পটাশিয়াম উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে,
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ফ্রি-রেডিক্যাল কমিয়ে ত্বকের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। জামের খনিজ লবণ হাড়কে শক্তিশালী ও মজবুত করতে সাহায্য করে। শর্করা কম থাকায় এবং খাদ্য–আঁশের উপস্থিতির কারণে কালো জাম খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিনই কালো জাম খেতে পারেন।

কাঁঠাল: রসাল ও সুমিষ্ট স্বাদের ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই ফলে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম আছে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বি ভিটামিনেরও ভালো উৎস এটি। কাঁঠালের বীজ ও কাঁচা কাঁঠালে রয়েছে যথেষ্ট প্রোটিন, ক্যালরি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি ও খাদ্য–আঁশ। কাঁঠালের ফাইটোকেমিক্যালসগুলো ফ্রি-রেডিক্যাল দূর করে কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। ফলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ ছাড়া এর ভিটামিন সি সর্দি-কাশি প্রতিহত করে, খাদ্য-আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

লিচু: মিষ্টি গন্ধ ও স্বাদের রসাল ফল লিচুতে রয়েছে শর্করা, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি। এ ছাড়া এই ফলে বিদ্যমান কপার, আয়রন, ফোলেট লোহিত কণিকা তৈরিতে; বি ভিটামিনগুলো বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে; পটাশিয়াম ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। লিচুর খাদ্য-আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো রোগপ্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

লেখক: ড. নুরুন নাহার দিলরুবা,
পুষ্টিবিদ ও শিক্ষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
Source: দৈনিক প্রথম আলো, ২০ জুন ২০২০

14/06/2020

করোনা রোগীর অক্সিজেন ঘাটতি

একজন সুস্থ মানুষের রক্তে অক্সিজেনের স্বাভাবিক ঘনত্ব থাকে ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর চেয়ে কমে গেলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি আছে বলে ধরা হয়, যাকে ‘হাইপক্সিয়া’ বলে। অক্সিজেনের ঘনত্ব ৯০ শতাংশের কম হলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত অনেক রোগীরই শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। এটি এ রোগের অন্যতম একটি জটিলতা।

তবে কখনো কখনো রক্তে অক্সিজেনের ঘনত্ব মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলেও রোগী টের পান না। একে বলে ‘নীরব অক্সিজেনের ঘাটতি’। রোগীর রক্তে অক্সিজেনের ঘনত্ব এবং সে অনুযায়ী তাঁর উপসর্গের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণে এমনটা হয়। এ সমস্যায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগী কিছু বুঝতে বা সমস্যা অনুভব না করলেও হঠাৎ করেই দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

করোনা রোগীর আরেকটা নীরব বিপদ হলো, রক্তনালিগুলোয় রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা। যদি ফুসফুসের রক্তনালিগুলোয় রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে, তাহলেও অক্সিজেনের ঘনত্ব কমতে থাকে। মস্তিষ্ক, কিডনিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যেতে শুরু করে। করোনা হলে এই দুটি নীরব বিপদ থেকে খুবই সাবধান থাকতে হবে।

করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ৫ থেকে ১০ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টা বেশ সতর্ক থাকতে হবে। সুযোগ থাকলে বাড়িতে রোগীর অক্সিজেনের ঘনত্ব মনিটরিং করতে হবে এবং টেলিফোনে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। বাড়িতে ‘পালস অক্সিমিটার’ নামক ছোট একটি যন্ত্রের সাহায্যে শরীরের অক্সিজেনের ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করা যায়।

যাঁরা উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গ রয়েছে, তাঁরাও বাড়িতে পালস অক্সিমিটার যন্ত্রের সাহায্যে দিনে বেশ কয়েকবার অক্সিজেনের ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ করবেন। সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতে হয়রান লাগছে কি না, লক্ষ করুন। এটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

আপাতদৃষ্টে শ্বাসকষ্ট না থাকলেও যদি শরীরে অক্সিজেনের ঘনত্ব ৯৩ শতাংশ বা তার কম থাকে, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

পেটের ওপর ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকলে শরীরে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেশ খানিকটা বাড়ে। এটি খুব কার্যকর একটি প্রাথমিক চিকিৎসা। পালস অক্সিমিটারে বাড়িতে অক্সিজেনের ঘনত্ব ৯৫ শতাংশের নিচে নামলেই এ কাজটি করুন। তবে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম দেখে আতঙ্কিত হলে চলবে না। মনোবল শক্ত রাখতে হবে।

লেখক: ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ
Source: প্রথম আলো, ১৩ জুন ২০২০

08/06/2020

করোনার চিকিৎসা নিজে নিজে নয়.....

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক দেশেই নানা প্রচারণায় কান দিয়ে নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। এতে হীতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই ওষুধ সেবন করা ঠিক নয়। মহামারির এ সময় কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব।

• জ্বর বা করোনার কোনো উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে পরিবারের অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে যান। তারপর নিবিড়ভাবে নিজের উপসর্গগুলোকে লক্ষ করুন। করোনার সংক্রমণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসায় রোগী সেরে ওঠেন। তাই বলে সমস্যাকে একেবারে গুরুত্ব না দেওয়াও ঠিক নয়। এতে নিজের ও পরিবারের বিপদের কারণ হতে পারে। মহামারির এ সময় যেকোনো জ্বর বা সন্দেহজনক উপসর্গকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

• জ্বর, ডায়রিয়া, কাশি দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে আগে ৩৩৩ অথবা ১৬২৬৩ নম্বরে কল দিন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাড়ির কাছের কোনো কেন্দ্রে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসুন।

• করোনা শনাক্ত হলে জ্বরের জন্য সাধারণ প্যারাসিটামল সেবন করুন। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন, মিনারেলস খেতে পারেন। কাশি থাকলে গরম ভাঁপ নিন, গরম আদা চা–পান করুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। পুষ্টিকর খাবার খান।

• রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই ওষুধ খেলে আসল রোগ ধরা না–ও পড়তে পারে। আবার ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে। এ সময় ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া বা টাইফয়েডের কারণেই জ্বর হতে পারে। কাজেই শুরুতেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেললে আসল রোগ নির্ণয়ে সমস্যা হতে পারে।

• শ্বাসকষ্টের কারণ যে শুধু করোনা, তা নয়। হাঁপানি, ক্রনিক ব্রংকাইটিস, হৃদ্‌রোগ ইত্যাদি নানা কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। কাজেই নিজে নিজে ওষুধ খেয়ে নিলে এ ক্ষেত্রেও আসল রোগ ধরা নাও পড়তে পারে। ফলে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

• শুধু পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট নয়, আরও কিছু আনুষঙ্গিক রিপোর্টের ভিত্তিতেও করোনা চিকিৎসা করা হয়। কাজেই নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া শুরু করে দিলে অন্যান্য সমস্যা যেমন রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা, ফুসফুসের নতুন কোনো জটিলতা, যকৃত বা কিডনির সমস্যা ইত্যাদি অচিহ্নিতই রয়ে যাবে।

সুত্র: প্রথম আলো, ০৮ জুন ২০২০,

লেখক: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

19/04/2020

প্রতিদিন মাস্ক পরিষ্কার করবেন যেভাবে:

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে দিশেহারা মানুষ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো ও সংক্রমণ রোধ করতে মাস্ক পরার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশেও মাস্ক পরা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখন প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রতিদিন নতুন নতুন মাস্ক পড়া সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে পরিষ্কার করে একই মাস্ক বারবার পরছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে নির্দিষ্ট রীতি মেনে জীবাণুমুক্ত না করলে তা হতে পারে ভয়াবহ। উল্টো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন তারা।

যদি সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করেন তা ফেলে দিতে হয়। কিন্তু এন৯৫ ও সুতির কাপড়ের মাস্ক বা টেরিলিন কাপড়ের মাস্ক এমনকি ঘরোয়া উপায়ে বানানো মাস্ক পরলেও নির্দিষ্ট রীতি মেনে তাদের পরিষ্কার করতে হবে।

আসুন জেনে নেই কীভাবে মাস্ক পরিষ্কার করবেন :

১. মুখ থেকে মাস্ক খুলতে হবে দড়ি, ফিতে বা রাবার ব্যান্ডের অংশ ধরে। মাস্কে সরাসরি হাত দেওয়া যাবে না।
এবার তা সাবান পানিতে ভিজিয়ে কেচে নিন। তাতে মাস্ক জীবাণুমুক্ত হবে।

২. ঝুলিয়ে রাখতে হবে মাস্কের ফিতে বা দড়ির অংশ ধরে। যাতে শুকানোর সময় মাস্কের মূল অংশে ধুলোবালি যেন না লাগে।

৩. এ ছাড়া পানি ফুটতে দিয়ে তাতে লবন দিন। এবার ওই লবন মেশানো গরম পানিতে মাস্ক রেখে ফুটিয়ে নিতে পারেন। তাতেও সহজেই জীবাণুমুক্ত হবে মাস্ক। তবে এ ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে কড়া রোদে শুকাতে হবে মাস্ক।

৪. শুকানোর পর মাস্ক ৫-৭ মিনিট ধরে ইস্ত্রি করে নিলেই ফের ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়ে যাবে।

৫. কোনোভাবেই ভেজা মাস্ক পরবেন না। এতে সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

সম্মানিত গ্রাহক, পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনি ও আপনার পরিবারের সুস্থতা আমাদের একান্ত কাম্য। ফ্যামিলি কেয়ার ফার্মেসী আছে সব সময় আপনার পাশে.......

প্রিয় গ্রাহক, আপনার মেডিসিন ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়, আমাদের কাছে পাওয়া যায় কি না, অথবা আমাদের মজুত/স্টক আছে কি না জানার জন্য আমাদের ফোন করুন ০১৬ ১১ ৮৮৮৮ ৭৭ নম্বরে।

17/04/2020

করোনাকালের খাদ্যাভ্যাস:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এই সময় বাড়িতে থাকার কারণে অনেকের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু এ সময় সবচেয়ে জরুরি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকালের খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছে।

প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্য কিনুন ও মজুত করুন। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত খাদ্যপণ্য কিনলে খাদ্যের সুষম বণ্টন ও ক্রয়-বিক্রয় যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনই এতে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা বাড়ে। খাবারের অপচয়ও হয়।

টাটকা ও পচনশীল খাবার আগে শেষ করবেন (যেমন ফল, সবজি)। আর বাকি খাদ্যদ্রব্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবেন। সংরক্ষণের সময় মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন।

বাড়িতে তৈরি খাবার খান। বাইরের খাবার যত কম খাবেন, ততই ভালো।

বাড়িতে থাকার কারণে এ সময় কায়িক শ্রম কমে গেছে। ফলে স্থূলতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জটিলতা স্থূলদের বেশি। তাই এখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাবেন না।

এ সময় নানা রকমের খাবার তৈরির চেয়ে বরং খাদ্য সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিন বেশি। যেমন রান্নাঘর, তৈজসপত্র ও থালাবাসন ধোয়ার স্থান জীবাণুমুক্ত করা, রান্না ও কাঁচা জিনিস আলাদা রাখা, কাটা ও আস্ত খাবার আলাদা রাখা, হাত ধোয়া, কাঁচা মাছ-মাংস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, বাজার থেকে আনা প্যাকেট ও ব্যাগ জীবাণুমুক্ত করা ইত্যাদি। অতিরিক্ত রান্না করতে গিয়ে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলবেন না।

লবণ সীমিত খাবেন। নয়তো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। চিনির বেলায়ও তা–ই। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস—দুটোই বাড়ায়। আর এগুলো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে সংক্রমণের জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। ডেজার্ট হিসেবে ফলমূল, দই খান। ফলের রস পান করুন, তবে তা হতে হবে চিনি ছাড়া।

দৈনিক মোট ক্যালরির ৩০ শতাংশের কম চর্বিজাতীয় খাবার খাবেন। রান্নায় কম তেল ব্যবহার করুন। মাছ, বাদামে অসম্পৃক্ত ভালো চর্বি থাকে। সম্ভব হলে অলিভ অয়েল বা সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করুন। ভাজা–পোড়া, রেড মিট (গরু, ছাগলের মাংস), মাখন, ঘিসমৃদ্ধ খাবার, ট্রান্সফ্যাট (যেমন ডোনাট, পেস্ট্রি, কেক, বিস্কুট, পাই, পিৎজা ইত্যাদি) কম খাবেন।

আঁশযুক্ত খাবার যেমন গোটা শস্যের খাবার, লাল আটা, ওটস, লাল চাল, শাকসবজি, ডালে পেট ভালো থাকে। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

প্রচুর পানি পান করুন। সাইট্রাস ফলের (যেমন লেবু, মাল্টা, কমলা) রস খান। শসা, পুদিনা, তরমুজ খেলে পানিশূন্যতা দূর হবে। চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, অতিরিক্ত কফি, চা পান করবেন না। এতে পানিশূন্যতা বাড়ে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তবে আদা বা লেবু দেওয়া চিনি ছাড়া লিকার চা পান করতে পারেন।

এই মহামারির কারণে খাদ্যসরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার কারণে সারা বিশ্বেই খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই খাবার অপচয় করবেন না। বরং স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

সুত্র : দৈনিক প্রথম আলো

পরামর্শ: জেনিফার বিনতে হক, পুষ্টিবিদ

Address

Family Care Pharmacy, Haoladarpara, Kali Bari Road
Sylhet
3100

Opening Hours

Monday 09:00 - 23:15
Tuesday 09:00 - 23:15
Wednesday 09:00 - 23:15
Thursday 09:00 - 23:15
Friday 09:00 - 23:15
Saturday 09:00 - 23:15
Sunday 09:00 - 23:15

Telephone

+8801611888877

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Family Care Pharmacy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Family Care Pharmacy:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category