15/04/2026
প্রতিটি মৃত্যু এক একটি পৃথিবী ভেঙে যাওয়ার মতো। একজন মানুষের চলে যাওয়া মানে শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়—তার সাথে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্বপ্ন, সম্পর্ক, ভালোবাসা। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
কিন্তু এই গভীর শোকের মাঝেও যখন একজন চিকিৎসককে, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সর্বস্ব দিয়ে একটি জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়—তখন সেই কষ্ট অন্য মাত্রা পায়। এটি শুধু অন্যায় নয়, এটি নিষ্ঠুরও।
একজন চিকিৎসক কখনোই তার রোগীর অমঙ্গল চান না—এটি শুধু একটি বাক্য নয়, এটি তাদের পেশার শপথ, তাদের বিবেক, তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম। তারা প্রতিটি রোগীর জন্য লড়াই করেন, কখনো কখনো নিজের সীমার বাইরে গিয়েও।
এম রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটিও তেমনই একটি কঠিন বাস্তবতা। রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছিল ১৮ দিন আগে। এরপর তিনি শুধুমাত্র সেলাই কাটাতে এসেছিলেন। মাঝখানে জ্বর বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলেও তখনই চিকিৎসা নেননি। কিন্তু যখন অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পেটে মারাত্মক সংক্রমণ—পেলভিক কালেকশন, অর্থাৎ পুঁজ জমে গেছে। চিকিৎসকরা শুরুতেই ঝুঁকি বুঝে নেন। তবুও প্রথমে অপারেশন এড়িয়ে ঔষধের মাধ্যমে তাকে ভালো করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। দুই দিন ধরে নিবিড় চিকিৎসা চলে।
কিন্তু যখন কোনো উন্নতি হচ্ছিল না, তখন একমাত্র পথ ছিল অপারেশন—জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা। সেই অপারেশন সফলভাবেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, দীর্ঘদিনের সংক্রমণ শরীরকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে রোগী শকে চলে যান।
এই অবস্থায় দেরি না করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুধু তাই নয়—দায়িত্ববোধ থেকে একজন চিকিৎসক নিজেই রোগীর সাথে যান, শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার জন্য।
প্রশ্ন হলো—এতকিছুর পরও কি একজন চিকিৎসককে দোষী বলা যায়?
যেখানে ছিল না অবহেলা, ছিল না গাফিলতি—ছিল শুধুই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার চেষ্টা!
আমরা কি কখনো ভেবেছি, একজন রোগীকে হারানোর পর একজন চিকিৎসকের ভেতরে কী ঝড় বয়ে যায়? তারা কি পাথর? তাদের কি কষ্ট হয় না?
প্রতিটি ব্যর্থতা তাদের মনেও গভীর ক্ষত তৈরি করে—যা কেউ দেখে না, কেউ বোঝে না।
আসুন, আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়—সত্যকে জেনে বিচার করি।
অন্যায়ভাবে কাউকে দোষারোপ করার আগে একবার ভাবি—