16/01/2026
যে কারণে খুন হলেন মা ও মেয়ে।
নির্মমতা কখনোই হঠাৎ আসে না—কখনো তা জন্ম নেয় লোভ, ভয় আর রাগের অন্ধকারে।
কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ের এই হত্যাকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি ছিল পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর এবং বিবেকহীন এক অপরাধ। একটি দেড় লাখ টাকার এনজিও ঋণ—যার বোঝা বইতে না পেরে শিক্ষিকা মীম নিজের দায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন অন্যের কাঁধে। সেই ঋণের জামিনদার ছিলেন রোকেয়া রহমান। টাকা পরিশোধ না হওয়ায় এনজিওর চাপ গিয়ে পড়ে রোকেয়ার ওপর।
এই কষ্টের কথাই রোকেয়ার মেয়ে ফাতেমা তার শিক্ষিকার কাছে বলেছিল—একজন ছাত্রীর সরল অভিযোগ, একজন মায়ের অসহায় আর্তি। কিন্তু সেই কথাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষিকার মনে জন্ম নেয় ক্ষোভ, রাগ আর প্রতিশোধের নেশা। কথার কাটাকাটির এক পর্যায়ে জ্ঞান, মানবতা আর শিক্ষকতার সব মূল্যবোধ পায়ের নিচে ফেলে মীম নিজের ছাত্রীর গলা টিপে ধরে। মুহূর্তেই নিভে যায় ফাতেমার ছোট্ট প্রাণ।
এখানেই থেমে যায়নি অমানবিকতা। মীম ফোন করেন রোকেয়াকে—মিথ্যা বলেন, “আপনার মেয়ে অসুস্থ।” বুকভরা দুশ্চিন্তা নিয়ে মা ছুটে আসেন সন্তানের কাছে। কিন্তু তিনি জানতেন না, সেখানে অপেক্ষা করছে মৃত্যু। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মীমের ছোট বোন পেছন থেকে ওড়না পেঁচিয়ে ধরেন রোকেয়ার গলায়। দু’জন মিলে নিশ্চিত করে একজন মায়ের শেষ নিঃশ্বাস।
হত্যার পরও বিবেক জাগেনি। মাকে খাটের নিচে, মেয়েকে বাথরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে রাখা হয়—যেন মানুষের জীবন কেবল ঢাকতে পারা কোনো বস্তু।
একটি ঋণ, একটি চাপ, একটি রাগ—সব মিলিয়ে ঝরে গেল দুটি জীবন। নিভে গেল একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ, ভেঙে পড়ল একটি মায়ের পৃথিবী।
আজ শিক্ষিকা মীম আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। আর বয়স কম হওয়ায় তার বোনকে পাঠানো হয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সমাজে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠলে একজন শিক্ষক নিজের ছাত্রীর হাতেই মৃত্যু লিখে দেয়?
এই মৃত্যু শুধু মা ও মেয়ের নয়—এই মৃত্যু আমাদের মানবিকতার।