04/12/2020
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটা কী?
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি Confusing, সেটি হলো জেলা কোটা! আসুন জেনে নেই, সেটি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?
আমরা জানি, প্রতি বছর বাংলাদেশের সকল অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। সেই হিসেবে সে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো জেলার ছাত্র/ছাত্রী। যে-যেই জেলার ছাত্র-ছাত্রী হোক না কেন, সকল জেলার শিক্ষার্থীরা এই জেলার কোটার বেনিফিট পাবেনই।
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে জেলা কোটা মানে হচ্ছে জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউটের আসন বণ্টন। অর্থাৎ দেশের সকল জেলার শিক্ষার্থীরাই যেন নার্সিং শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং নার্সিং প্রফেশনে আসতে পারে, সেজন্য এই জেলা কোটা রাখা হয়েছে।
# সরকারি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউটে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের জন্য মোট আসনের ২% সংরক্ষিত থাকে।
# অবশিষ্ট ৯৮% আসনের মধ্যে ৬০% প্রার্থী জাতীয় মেধা এবং ৪০% প্রার্থী জেলা কোটায় নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
সব শিক্ষার্থীদের এই জেলা কোটা আছে, এমন না যে A/B/C জেলার কোটা আছে, X/Y/Z জেলার কোটা নেই। অর্থাৎ সকল জেলার জন্যই জেলা কোটা বরাদ্দ আছে।
এবার চলুন উদাহরণ সহ ব্যপারটা ক্লিয়ার করি!!
√ সরকারি বিএসসি ইন নার্সিং কলেজ ১৩ টি, আসন ১২০০ টি।
√ সরকারি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ইন্সটিটিউট ৪৬ টি, আসনঃ ২৭৩০ টি।
√ সরকারি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি ইন্সটিটিউট ৪১ টি, আসনঃ ১০৫০ টি।
# বিএসসি ইন নার্সিং এ ১২০০ টি সীটের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী বা ৭২০ জন জাতীয় মেধায় চান্স পাবে এবং বাকি ৪০% শিক্ষার্থী বা ৪৮০ জন জেলা কোটায় চান্স পাবে।
# একই ভাবে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে ২৭৩০ টি সীটের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী বা ১৬৩৮ জন জাতীয় মেধায় চান্স পাবে এবং বাকি ৪০% বা ১০৯২ জন জেলা কোটায় চান্স পাবে।
# অনুরূপ ভাবে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে ১০৫০ টি আসনের মধ্যে ৬০% শিক্ষার্থী বা ৬৩০ জন জাতীয় মেধায় চান্স পাবে এবং বাকি ৪০% শিক্ষার্থী বা ৪২০ জন জেলা কোটায় চান্স পাবে।
সুতরাং বুঝতেই পারছো, এই জেলা কোটা টা সবার জন্যই প্রযোজ্য।
এবার আসো, Calculation করি! 😁
দেশে মোট জেলা ৬৪ টি।
✅ বিএসসি ইন নার্সিং এ জেলা কোটা আছে ৪৮০ টি; প্রতিটি জেলার জন্য বরাদ্দ = (৪৮০ ÷ ৬৪) = ৭.৫ জন ~ ৮ জন।
✅ ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে জেলা কোটা আছে ১০৯২ টি; প্রতিটি জেলার জন্য বরাদ্দ = (১০৯২ ÷ ৬৪) = ১৭.০৬ জন ~ ১৭ জন।
✅ ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে জেলা কোটা আছে ৪২০ টি, প্রতিটি জেলার জন্য বরাদ্দ = (৪২০÷৬৪) = ৬.৫৬ জন ~ ৭ জন।
সো, গড়ে প্রত্যেকটা জেলা থেকে বিএসসি ইন নার্সিং ভর্তি ৮ জন, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে ১৭ জন এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে ৭ জন করে জেলা কোটায় নেওয়া হবে!
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
প্রতিটি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউট এর আসন/সীটের ক্ষেত্রে মেয়ে শিক্ষার্থী ৯০% এবং ছেলে শিক্ষার্থী ১০% নেওয়া হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, দেশের ৬৪ টি জেলাতেই বিএসসি ইন নার্সিং কলেজ, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ইন্সটিটিউট এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি ইন্সটিটিউট নেই। (কোথায় বা কোন জেলায় নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউট আছে, লিস্ট দেখে নাও)
উদাহরণঃ
Suppose, তোমার বাড়ি কুমিল্লায়, তুমি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে আবেদন করবে। আর, ধরে নিই এবছর কুমিল্লা জেলা থেকে ১ হাজার জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
এখন দেখো,
এই ১ হাজার জনের মধ্যে ধরো ২০ জন জাতীয় মেধায় বিভিন্ন নার্সিং ইন্সটিটিউটে চান্স পেয়ে গেলো।
তাহলে, ১ হাজার জনের মধ্যে বাকী যে ৯৮০ জন আছে, এদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম ১৭ জন জনকে কুমিল্লা জেলা থেকে জেলা কোটায় নিয়ে নেওয়া হবে।
ভর্তি পরীক্ষায় তোমরা যে নম্বরই পাও না কেন, তোমার কুমিল্লা জেলার সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে এই প্রথম ১৭ জন জেলা কোটায় চান্স পেয়ে যাবে। তবে অবশ্যই
পাশ মার্ক ৪০+ পেতে হবে।
আশা করি, তোমরা সবাই নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটা কী তা ভালো করে বুঝতে পেরেছো!!?
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ Facts যা না জানলেই নয়! 📣📣
নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় সরকারি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউটে জাতীয় মেধায় (৬০%) চান্স পাওয়া সাধারণত নির্ভর করে ৩ টি বিষয়ের উপর, যথাঃ
⚠️ নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর।
⚠️ HSC & SSC এর GPA এর উপর প্রাপ্ত নম্বর।
⚠️ আবেদন করার সময় প্রার্থীর পছন্দের ১০ টি নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউট Choice দেওয়ার ক্রমানুসারে।
নির্বাচিত প্রার্থীদের অর্জিত মেধাক্রম, নার্সিং কলেজ/ইন্সটিটিউট পছন্দের ভিত্তিতে প্রার্থী কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হবে।