Dr Bilquis Jahan Rupa

Dr Bilquis Jahan Rupa Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr Bilquis Jahan Rupa, Health & Wellness Website, London, London.

26/01/2026

26/01/2026

জীবন যে রকম (১১৬)

🥹আমার সব কাছের মানুষদের একে একে চলে যাওয়া-আমি নীরবে দেখে যাই, নীরবে সয়ে যাই 🥹 - বিদায় বলবো না!! দেখা হবে আবার কোন এক অচেনা ভুবনে- 🖤🤍

আজ আমার ছুটির দিন । বাচ্চাদের সকালে নাস্তা দিলাম । ঘর গোছালাম । তারপর মেয়েকে নিয়ে বাজারে গেলাম । যাওয়ার আগে বাংলাদেশ থেকে আনা চিংড়ি ভুনা করা হলো । ইদানিং মেয়ের এই খাবার খুব পছন্দ ।

বাজারে গিয়ে ভুলেই গেলাম ইহা লন্ডন! গ্রীন স্ট্রিটের এই এলাকা বাংলাদেশের মতই । সবজি বাজার, মাছ বাজার, স্বর্ণের দোকান-সব একসাথেই । স্বর্ণের এত দাম কিন্তু মাছের বাজার থেকে স্বর্ণের দোকানে অনেক ভীড় । কারণ না হয় নাই বললাম । এই ক’মাস আগে মায়ের জন্য মালাবার থেকে ছোট্ট এক জোড়া দুল কিনলাম । আমার মা খুব সাধারণ । কোনও বাহুল্য নেই । দুল জোড়া দিয়ে বললাম, আম্মা, কষ্ট হলেও পড়ে থেকো ।কিনবার সময় আমার মেয়েকে বললাম, মা তুমি কিছু কিনবে? উত্তরটা জানি বলেই জিজ্ঞেস করলাম । ছোটবেলায় আমার প্রতি জন্মদিনে আম্মা আমায় স্বর্ণের জিনিস কিনে দিতেন । আমি পড়তাম না । এদিক ওদিক পড়ে থাকতো । কিন্তু হারাতো না । যখন বড় হয়ে আমার খুব গয়নার শখ হলো তখন গয়না হারানো শুরু হলো । থাক সে কথা ।

আজ বাজারে গিয়ে পুঁই মিটুলি দেখেই কিনে ফেললাম । কয়দিন আগেই মায়ের সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল । আম্মাকে বললাম, আম্মা, দেশ থেকে কিছু আনতে হবে না, শুধু পুঁই মিটুলি আর খালার হাতের রোস্ট আর খালুর হাতের গরুর মাংস আনবে । আমরা কুমিল্লার মানুষ বোধ করি, শাক, সবজি, ছোটমাছ বেশি পছন্দ করি । ভুনা কম খাই । মাছ রান্না করি তরকারি দিয়ে । অনেকের হয়তো সেটা পছন্দ নয় ।নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ দেখেছি ভুনা জাতীয় রান্না বেশি করেন এবং ওনাদের রান্না আসলেই অসাধরণ ।

তরকারি, মাছ কেনা শেষ করে মা আর মেয়ে মিলে chaiwala তে বসে আজ কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দিলাম । হুম, ঠিক আমাদের ধানমন্ডি লেকের মটকা চায়ের স্বাদ । কত কথা হলো, আহা ফিরে দেখতে দেখতে বুঝলাম জীবনে কম ঝড়-ঝাপটা পার হয়নি আমি । আসলে মেয়েই মায়ের সেরা বন্ধু আর উল্টোটাও সত্য ।

বাসায় ফিরে মা-মেয়ে মিলে লাল শাক রান্না করলাম । ভাবলাম আজ ওরা একটু সব্জি খাক । হুম, আমরা বাঙালি মায়েরা সর্বক্ষণ অতৃপ্তিতে ভুগি-এই বুঝি আমাদের ছেলেমেয়ের খাওয়াটা আজ ভালো হলো না, এই বুঝি পেট ভরে খেলো না!!

ওদের ভাত মেখে খাওয়াতে খাওয়াতে প্রথমে বাবার কথা মনে পড়লো । বাবার মাখা ভাত, আহা কোনদিন অফিস থেকে ফিরে যদি শুনেছেন আমি ভাত না খেয়ে ঘুমিয়েছি তো মশারির ভিতরে ঢুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে খাইয়ে দিতেন । আমার সেই বাবা চলে গেলেন পাঁচ বছর আগে ।

ফুপু গেলেন এই তো আজ ছ’ দিন । জন্মের পর থেকে ফুপুর বিয়েরও কয়েক বছর পর্যন্ত যাকে আমি মা ডেকেছি । আমার পুরো শৈশব জুড়ে কত স্মৃতি ফুপুকে ঘিরে । আমি কি জানতাম, আমি আর ফুপুকে দেখতে পাবো না । এত আদর আমায় আর কেউ করতো ফুপু, তুমিই বলো? যদি বলতাম, ফুপু আমার মাথা ব্যথা করছে! কি সুন্দর করে জাদুর মত মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন! আরামে আমার চোখ বুজে আসতো । কতদিন এমন হয়েছে অফিস থেকে ফিরবার পথে আমার মাথায় তেল দিয়ে বাসায় ফিরতেন! দাদী চলে যাওয়ার পর অতো যত্ন করে আলু ভাজা আমায় ফুপুই করে খাওয়াতেন! ছোটবেলায় অফিস থেকে না খেয়ে আনা একটা বিস্কিট ভাই আর আমায় ভাগ করে দিতেন । বিকেলে উল দিয়ে আমার চুল আঁচড়ে বেণী করে দিতেন । নিজের বানানো কাজল আমার চোখে দিয়ে দিতেন । ভোরবেলায় ফুপু আর আমি শিউলি ফুল, বকুল ফুল কুড়িয়ে এনে মালা বানাতাম । ফুপুর গানের খাতা থেকে ফুপু যখন গান গাইতো আমি অবাক হয়ে শুনতাম । প্রতি মাসে একটা নতুন শাড়ি, বড় বড় চোখে কাঁজল ,বিশাল লম্বা চুলে একটা বড় খোপা আর মুক্তোর একটা নাক ফুল । সবই আমার স্পষ্ট মনে আছে । ওইটাই তো আমার ছেলেবেলা ।

তারপর ……গত সপ্তাহে টানা তিন দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিউটি । ফুপু massive স্ট্রোক করে হাসপাতালে অচেতন । আমি ডিউটিতে ঢুকার আগে ভিডিও কলে ফুপুকে শেষ বার দেখলাম । তিনদিনের ডিউটি শেষ করার পর আম্মা জানালেন ফুপুকে কবর দেয়া হয়ে গেছে । মানে আমার ফুপু নাই ।

আমার শোক করার সময় নাই, আমার পেশা আমায় সেই সময়ই দিলো না । আজ আমার ছেলেমেয়েদের ভাত খাওয়াতে খাওয়াতে আমি একটু অবসর পেলাম । মাথা ব্যথা করছিল খুব । হঠাৎ সব একসাথে মনে পড়লো । ফুপুর কথা, বাবার কথা । ছেলেমেয়েদের সামনে কাঁদতে মানা । কিন্তু আজ বাঁধ মানলো না ।চোখের জলে আজ আমার সব কষ্ট, সব দুঃখ যেন ভেসে গেলো । মেয়েকে বলছিলাম, মা, কেন আমার প্রিয় মানুষগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে । কেন আমি এত একা হয়ে যাচ্ছি । ছেলে কিছু বুঝলো না, বললো, মা, why are you crying like a kid? আমার কোন উত্তর নাই!!

আব্বা, ফুপু ! আজ সারাদিন ভাবছিলাম, তোমরা কেন সারাজীবন আমাদের এত্ত ভালবেসেছিলে? তোমরা কেন এত নিঃস্বার্থ ছিলে? কেন এত এত স্মৃতি রেখে গেলে? কেন মনে পড়লেই চোখে পানি আসে? যত অযত্ন পাই, যত অবহেলা পাই, ততই মনে পড়ে আব্বা থাকলে আজ কি হতো? রাতে ঘুম না আসলে, মাথা ব্যথা করলে মনে হয়, ফুপু যদি থাকতো তাহলে ঠিকই আমায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো!

কোথায় আছো তোমরা?? কেমন আছো তোমরা??তোমরাই বলো স্মৃতির বোঝা এত ভারী হয় কেন??

26/01/2026

🌸🍀মায়ের গল্প-১ 🌸🍀

আজ মায়ের শরীর খারাপ । তারপরও মা সবার জন্য রান্না করে একটু শুতে গেলেন । নাহ, আজ তাঁকে কেউ ডাকেনি । মায়ের আজ বেশ বিশ্রাম হলো ।

রাতে মা খাবার খেতে রান্নাঘরে ঢুকলেন। দেখলেন শুধু ভাত পড়ে আছে অল্প । ক্ষুধার কষ্ট চলে গিয়ে মায়ের বুকের ভিতরটা কেমন করে উঠলো । মা একে একে সবার ঘরে গেলেন । ছেলে, মেয়ে, স্বামী সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত । সবাই তার দিকে এক পলক তাকালো মাত্র । অন্ধকার বসার ঘরে গিয়ে বসলেন তিনি । হু হু করে উঠলো বুকটা । সে বহুকাল আগের কথা, মায়ের একটা বাপের বাড়ি ছিলো । মনে হলো,আজ খেতে গিয়ে তার কথা কারও মনে পড়েনি! সেই বহুকাল আগে বাবার পাশে গিয়ে না বসলে বাবা খাওয়াই শুরু করতেন না । একদিন বাবার উপর রাগ করে ঘুমিয়ে ছিলেন, মা এসে বললো ,খেতে আয়, তুই না খেলে বাবা খাবেন না তো। অগত্যা উঠতেই হলো । কত কথা আজ মনে পড়ছে!

মা আবার রান্না ঘরে ঢুকলেন । শুধু ভাত নিয়ে বসলেন। ভাতে আঙুল নাড়াতে নাড়তে মায়ের চোখ ফেটে জল গড়িয়ে পড়লো ভাতের উপর । বিশ বছর!! সমস্ত কষ্ট, সব অভিমান জমে জমে এক পাহাড় সমান হয়েছে বুকের ভেতর । বলা হয়নি কাউকে । সবাই বলেন, তোমার আবার কিসের কষ্ট , কিসের অভাব ?কষ্টের কত প্রকার হয়, সে খবর কেউ জানে?

প্রতিদিন সবাইকে খাবার দিয়ে মা ডাইনিং টেবিলের এক কোণে বসে পড়েন । আগের দিনের ভাত, তরকারি দিয়ে খেয়ে উঠেন । নিজের সংসারের কিছুই নষ্ট করা যায় না ।

বিয়ের পর মাকে বলা হলো, তোমার চাকরি করার দরকার নেই । ঘরটা সামলাও । এখন সবাই বলে, সারাদিন বাসায় বসে বসে কি করো? মেয়ে বলে, মা, তুমি house wife । তুমি তো বেকার ।মা জানি কোথাও পড়েছিলেন, housewife সবচেয়ে highest paid job হওয়া উচিত!! housewife সবচেয়ে difficult job !

মা সেই কবেই সব বিসর্জন দিয়েছেন । কিন্তু এখনও একটু যত্ন, একটু ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে । মা জানেন, মায়েদের কিছু চাইতে নেই । তারপরও অযত্ন, অবহেলায় এখনও মায়ের বুকে ব্যথা হয়, এখনও মায়ের চোখে জল আসে ।

সেই ব্যথা, সেই চোখের জল কেউ দেখে না । দেখলেই বা কার কি আসে যায়!

ঘর , বর আর সংসার নিয়ে থাকতে থাকতে মায়ের সব বন্ধুরা হারিয়ে গেছে । মা বড্ড একা । মাঝে মাঝে মায়ের রাগগুলো ,কষ্টগুলো, কাউকে বলতে ইচ্ছে করে । মার আজ কেউ নেই ।বোনেরা ব্যস্ত, ভাইয়েরা ব্যস্ত । মন খারাপের কথা বললে তারা বলেন, যা একটু বেড়িয়ে আয় । যা একটু পার্লারে যা । মা তো বাহিরটা চেনেন না । একা বেরোনোর অভ্যাসটাই তো হারিয়ে ফেলেছেন সেই কুড়ি বছর আগে!!

মায়ের অজান্তেই পৃথিবীটা ছোট হয়ে গেছে ।

হুম , মায়ের ভাত খাওয়া শেষ হলো । চোখের জল প্রতিবারের মতো এমনিই বন্ধ হলো । রান্না ঘর গুছিয়ে মা ঘুমাতে গেলেন । মা যে চাকরিটা করেন, সেটা সবার আগে শুরু হয়, সবার পরে শেষ হয় । সেই চাকরির বেঁধে দেয়া working hours নেই । কোনও বেতন নেই, কোনও praise নেই, কারও কোন কৃতজ্ঞতা বোধ নেই । মাঝে মাঝে থাকে বাঁধ ভাঙা তিরস্কার!!

এটা আমাদের মায়ের গল্প নয়, আসলে বাঙালি মায়ের গল্প । গল্প বলবো না, চিরায়ত সত্য ।এত দেশের মানুষ দেখেছি, প্রতিনিয়ত দেখছি, একটা কথা না বললেই নয়, বাঙালি মায়েরা আলাদা, তাই ওদের গল্পটাও আলাদা , ওদের সত্যটাও আলাদা , ভীষণ কঠিন ।

✍️✍️✍️✍️✍️✍️ আবার কথা হবে আরেক বাঙালি মায়ের গল্প নিয়ে , যাদের খুব কাছ দেখেছি, দেখছি ✍️✍️✍️✍️✍️

Address

London
London

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Bilquis Jahan Rupa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram