09/06/2020
#উপসর্গহীন_বাহকের_থেকে_সংক্রমণের_হার_কম
#জানাল_World_Health_Organization ( )
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যে রোগীদের শরীরে কোনও উপসর্গ নেই, অর্থাৎ যাঁরা অ্যাসিম্পটম্যাটিক, তাঁদের থেকে সংক্রমণ খুব বেশি ছড়াচ্ছে না বলে জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।
লকাডাউন শিথিল হওয়ার পর চিন্তা ছিল করোনা আক্রান্ত উপসর্গহীন ব্যক্তিদের নিয়ে। তাঁরাই সবথেকে বেশি সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে উল্টো কথা। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে হু-র ইমার্জিং ডিজিজ বিভাগের প্রধান মারিয়া ভন কেরখভ বলেন, “পরিসংখ্যান বলছে যাঁরা করোনা পজেটিভ কিন্তু উপসর্গ নেই এ ধরনের অ্যাসিম্পটমেটিক ব্যক্তিদের মাধ্যম দিয়ে সংক্রমণ ছড়ায় না। আর যদি ছড়ায় তা বিরল ঘটনা।” তবে, মারিয়া ভন জোর দিয়ে এ কথা বললেও, তাঁর মতে, কয়েকটি দেশের পরিসংখ্যান ও তথ্য থেকে এমন ধারণা করা হচ্ছে। সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রয়োজন এ বিষয়ে আরও গবেষণা। হু-র এই তত্ত্ব ধরে চললে কিন্তু লকডাউনের বিধি নিষেধ পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মারিয়া জানিয়েছেন, এখন প্রয়োজন উপসর্গ আছে এমন করোনা পজেটিভ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনে রাখা। শুধু মাত্র উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিরাই সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম।
গত এক মাসে ভারতে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। তাঁদের অনেক ক্ষেত্রে করোনা পজেটিভ মিলেছে। অ্যাসিম্পটমেটিক রোগীও কম নয়। সংক্রমণের আশঙ্কায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। হু-এর কথা অনুযায়ী, অ্যাসিম্পটমেটিক রোগী বাদ দিয়ে শুধুমাত্র উপসর্গ রয়েছে এমন করোনা পজেটিভ ব্যক্তিদের উপযুক্ত চিকিত্সা ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এক ধাক্কায় সংক্রমণ ছড়ানোর হার কমে যাবে। ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই তত্ত্ব কিছুটা আশার বাণী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছিলেন, কোভিডের সংক্রমণ নিয়ে সব থেকে উদ্বেগ রয়েছে অ্যাসিম্পটম্যাটিক রোগীদের নিয়ে। কারণ, তাঁদের থেকে সংক্রমণ ছড়ালে তা ধরাই যাবে না। সংক্রমণ মোকাবিলা তখন কঠিন হয়ে পড়বে। কিন্তু সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে হু-র কর্তারা সেই ধারণা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর পর থেকেই বহু বিশেষজ্ঞ বলছিলেন, অনেক অল্পবয়সি বা সুস্থ ও সবল ব্যক্তির মধ্যে হয়তো কোভিডের সংক্রমণ ঘটবে। কিন্তু তাঁদের শরীরে কোনও উপসর্গই দেখা যাবে না। বা দেখে গেলেও তা হবে খুবই মৃদু। এও হতে পারে যে আক্রান্ত হওয়ার বেশ কিছু দিন পর মৃদু উপসর্গ দেখা দিল।
তবে সেজন্য নিজের সুরক্ষা কে একদমই হেলা ফেলা করা যাবে না , ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিধি, ফেস মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক।