10/10/2025
আজকাল মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সংকট বা mental health crisis এত বেশি কেন জানেন?
আমরা এমনিতে আমাদের নিয়ে, এই দুনিয়া নিয়ে ঠিক যা যা শিখি বা করি, তার প্রায় সমস্তকিছুর উল্টোপিঠে থাকে আমাদের মানসিকভাবে ভালো থাকা।😶🌫️
ছোট থেকেই আমরা 'বড়' হতে শিখি। বাকিদের টপকে যাতে অনেক উঁচুতে যেতে পারি, যাতে বিশাল বিরাট একটা জীবন বাঁচতে পারি।
তাইই, ভালো বন্ধু ঠিক হয়ে ওঠে না, চারদিকে তাকালে শুধু কম্পিটিশন চোখে পড়ে।
অবসর সময় যেটুকু পাওয়া যায়, আমরা হয়ত কাটাই ভিডিও গেম খেলে বা রীলস দেখে।
সেইই যে চিরন্তন পাড়ার আড্ডা আমরা গল্পে পড়ে এসেছি, সেই কানেকশন আর তৈরি হয় না। অবসরেও ঢুকে পরে কম্পিটিশন আর অ্যাচিভমেন্টের দৌড়।
ফাঁক পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুঁ মেরে আসি, বিশেষ দিনের ছবি পোস্ট করি। সেই পোস্টে থাকে এডিট, মেকআপ, পোজ, লাইটিং আর নেট ঘেঁটে বের করা ক্যাপশন। এআই এর কথা নাহয় বাদ-ই দিলাম।
কিন্তু, আরেকজনের ছবিটা যে আরো ভালো লাগছে! তার যে মুখে দৃশ্যমান পিম্পল নেই! শুরু হয় নিজের চেহারা নিয়ে হীনমন্যতা।🔎
সবটুকু মনখারাপকে ছেঁটে ফেলে শুধু ভালোটুকুকে নিয়েই পোস্ট করি। আর অন্যের ভালো ভালো পোস্ট দেখে ভেবে নিই, আহা, ওরা কি ভালো আছে!
দু:খ হলে কিছুদিন আগেও যা বন্ধুদের কাছে শেয়ার করতে পারতাম, তাদের এত ভালো পোস্ট দেখে হয়ত আর করতে ইচ্ছা করে না, জেলাস লাগে ভিতরে ভিতরে।📱
ছুটির দিনে হয়ত কোনো এস্থেটিক ক্যাফেতে খেতে যাই, ক্লাবে যাই। কিংবা ঝলমলে পার্টিতে গিয়ে বহুজনের সাথে স্মলটক করি।
এত ছোট, তুচ্ছ কথার ভিড়ে হয়ত বড়বড় স্বপ্নগুলো, পাহাড়প্রমাণ অসহায়তার কথা ভাগ করে নেওয়া যায় না।💄
পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা হলে "ক্যাচ-আপ" করি, ট্রেন্ডিং রীল বানাই। সেই করতে গিয়ে, নির্ভেজাল আড্ডা দেওয়াটা বাদ পড়ে যায়।🎤
রাত জেগে ডেডলাইন মিট করি, কিংবা সিরিজ বিঞ্জ করি। দিনের প্রত্যেকটা ঘন্টাকে কাজে লাগাই বেশি করে।
Rest যে কতটা productive, তা আর জানা হয়ে ওঠে না।🛏️
অফিস পলিটিক্স থেকে সামাজিক চাপ, কিংবা একঘেয়ে মনখারাপ- সবকিছু থেকেই বেরিয়ে আসার উপায় হিসাবে এখন "সাকসেসফুল" হওয়াটাকে দেখানো হয়।
ঠিকমত career ladder-এ চড়তে পারছি না বলেই, হয়ত কাছের মানুষদের থেকে পাত্তা পাচ্ছি না। বহুতল ফ্ল্যাটটার ইএমআই দিতে পারছি না বলেই, আজকে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা করছে না।📈
ধুর্, ওসব মেন্টাল হেলথ-টেলথ আবার কি! ওসব আবার কোনো প্রবলেম নাকি? কই আগে তো এসব কিছু ছিল না!
আগে তো এই "চাকরি পাইনি বলে বন্ধুদের থেকে মুখ লুকিয়ে যেতে হচ্ছে"-ও ছিল না।
ঘরে বসে সারারাত চ্যাট করতে করতে " অফলাইনে আর তেমন বন্ধু কই"-ও ছিল না।
প্রিপ্রাইমারির ক্লাস টেস্টে দশে সাড়ে-নয় পেয়েছে বলে "তুই হলি লুজার। যারা দশে দশ-ই পেয়েছে, তারাই আসলে উইনার" শুনতে হত না (বাড়িয়ে বলছি না, সত্যি ঘটনা)।
ঘন্টার পর ঘন্টা এক চেয়ারে বসে থাকা ছিল না, ক্ষণে-ক্ষণে চাকরি যাবার ভয় ছিল না, খাবারে এত ভেজাল ছিল না, এই-আছে-এই-নেই- এর সিচুয়েশনশিপ ছিল না, চার বছরের বাচ্চার মোবাইল অ্যাডিকশন ছিল না, "নতুন আইফোনটা কিনতেই হবে" মনে করানো সারাক্ষণের বিজ্ঞাপন ছিল না...।
সত্যি বলতে, কমবয়সে পিঠে ব্যথা ছিল না, চল্লিশে হার্টের অসুখ ছিল না, তিরিশে সুগার ছিল না, কুড়িতে থাইরয়েড বা পিসিওডি ছিল না।
হয়ত ভুল বললাম।
তখনও মেন্টাল হেলথ ক্রাইসিস হত, অনেকক্ষেত্রে চাপা থাকত।
কিন্তু, বাকিদের সাহায্য করার জন্য আমাদের দৈনন্দিন রুটিন ছিল, বন্ধু ছিল, সমাজ ছিল।🫂
এই অনেককটা লাইফলাইন এখন নেই, বা হারিয়ে যাবার মুখে।
তাই, ভালো নাম করার বা ভালোভাবে থাকার তাগিদে আমরা এত ঘনঘন নিজেদের মন থেকে ভালো থাকাকে কম্প্রোমাইজ করছি।
হ্যাপি মেন্টাল হেলথ ডে!
Shrijita Som