23/04/2026
ওরা ঠিক করেছিল—
যদি কখনো হারিয়ে যায়,
তাহলে আবার দেখা হবে সেই পুরোনো স্টেশনে।
রাত ১২টায়।
শেষ ট্রেন যাওয়ার পর।
সেদিনও রিমি অপেক্ষা করছিল।
স্টেশনের বেঞ্চে একা বসে—
হাতঘড়িটার দিকে বারবার তাকাচ্ছে।
১২টা বেজে গেছে।
ট্রেন চলে গেছে।
লোকজন নেই।
শুধু হালকা কুয়াশা আর স্টেশনের ম্লান আলো।
“আজও দেরি…”
রিমি আস্তে বলল।
কিন্তু সে জানে—
সে আসবেই।
কারণ আরিয়ান কখনো কথা ভাঙে না।
সময় কেটে গেল।
১২:৩০
১টা
২টা…
স্টেশন পুরো ফাঁকা।
তবুও রিমি উঠে গেল না।
হঠাৎ দূরে একটা পায়ের শব্দ।
টক… টক…
সে উঠে দাঁড়াল।
হৃদয়টা জোরে ধড়ফড় করছে।
“আরিয়ান?”
কেউ এগিয়ে আসছে।
ধীরে… খুব ধীরে।
অবশেষে—
একটা ছায়া এসে থামল তার সামনে।
“এত দেরি করলি কেন?”
রিমি অভিমানী গলায় বলল।
ছেলেটা চুপ।
শুধু তাকিয়ে আছে।
“তুই কথা বলছিস না কেন?”
ছেলেটা আস্তে বলল—
“তুই… এতদিন অপেক্ষা করলি?”
রিমি হেসে ফেলল—
“আমি তো বলেছিলাম… আমি অপেক্ষা করব… যতদিন লাগে।”
একটা দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর—
ছেলেটা বলল—
“আমি আসতে পারিনি…”
“কেন?”
“কারণ… আমি তো অনেক আগেই চলে গেছি…”
রিমির হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
“মানে?”
ছেলেটা এগিয়ে এল।
তার চোখে অদ্ভুত শূন্যতা।
“সেদিন… অ্যাক্সিডেন্টে… আমি বাঁচিনি…”
রিমির শরীরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।
“না… না… এটা সত্যি না…”
সে পেছাতে লাগল।
“তুই তো জানতিস…”
ছেলেটা আস্তে বলল,
“তুই শুধু মানতে চাইনি…”
হঠাৎ—
স্টেশনের স্পিকারে একটা ভাঙা শব্দ—
“গত সপ্তাহে… এই প্ল্যাটফর্মে… এক তরুণী…”
রিমি থেমে গেল।
তার মাথায় সব ঝাপসা হয়ে উঠল।
সেদিন—
সে দৌড়ে এসেছিল…
শুনে যে আরিয়ান নেই…
তারপর—
একটা ঝাপটা আলো…
একটা ট্রেনের শব্দ…
আর কিছুই মনে নেই।
রিমি ধীরে ধীরে ছেলেটার দিকে তাকাল।
“তাহলে… আমরা দুজনেই…”
ছেলেটা মাথা নেড়ে হালকা হাসল।
“তবুও… আমরা দেখা করলাম…”
রিমি ফিসফিস করে বলল।
ছেলেটা তার হাত বাড়াল।
“এইবার আর দেরি না…”
রিমি তার হাত ধরল।
দূরে আবার একটা ট্রেনের আলো দেখা গেল।
কিন্তু এই ট্রেনটা থামল না।
চলে গেল।
স্টেশন আবার ফাঁকা।
বেঞ্চে কেউ নেই।
ঘড়িটা থেমে গেছে—
১২টার কাঁটায়।
কেউ জানে না—
কতদিন ধরে ওরা অপেক্ষা করছিল।
কিন্তু এবার—
অপেক্ষা শেষ।