Dr Subhasish Pati

Dr Subhasish Pati This page brings education on pain and movement health from Dr Subhasish Pati, Specialist in Interventional Pain Management and Rehabilitation Medicine.
(1)

Learn about early signs, proven treatments and daily habits that support pain free living.

চেম্বারের দরজাটা ঠেলে সুকুমার বাবু ভেতরে ঢুকলেন। মুখে একগাল হাসি, হাতে এক ব্যাগ টাটকা সবজি। মাসখানেক আগে এই মানুষটাই যখন...
21/04/2026

চেম্বারের দরজাটা ঠেলে সুকুমার বাবু ভেতরে ঢুকলেন। মুখে একগাল হাসি, হাতে এক ব্যাগ টাটকা সবজি। মাসখানেক আগে এই মানুষটাই যখন এসেছিলেন, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। আজ যেন অন্য মানুষ!

🧓🏻"ডাক্তারবাবু, আপনার ম্যাজিক তো কাজ করে দিয়েছে! হাঁটুর ব্যথা তো এখন একদম নেই বললেই চলে। কিন্তু মনে মনে একটা ভয় হচ্ছে—এই যে ভালো আছি, এটা ধরে রাখব কী করে? যাতে আর ওই কষ্ট না হয়, তার একটা দাওয়াই দিন তো!"

👨🏻‍⚕️আমি কলমটা টেবিলের ওপর রেখে তাকিয়ে একটু হাসলাম। বললাম, "বসুন সুকুমার বাবু। সব বলছি। দেখুন, এটা তো বয়সজনিত রোগ, বয়সকে তো আমরা কমাতে পারব না, কিন্তু রোগটা আটকানো যাবে! আপনার এই সুস্থতা কিন্তু কোনো ম্যাজিক নয়, এটা আপনার লাইফস্টাইলের ওপর নির্ভর করছে।"

🧓🏻সুকুমার বাবু মন দিয়ে শুনছেন দেখে আমি বলতে শুরু করলাম:

🖌️"সুকুমার বাবু, আমাদের হাঁটুর জয়েন্টের ভেতর একধরণের তরল থাকে, যাকে আমরা বলি সাইনোভিয়াল ফ্লুইড—চলতি ভাষায় ওটাই হলো আপনার হাঁটুর 'জেলি'। আপনি যখন নিয়ম করে দিনে দু’বার ব্যায়াম করবেন, তখন হাঁটুতে রক্ত চলাচল বাড়ে আর এই জেলি তৈরির প্রক্রিয়াটা সচল থাকে। ফলে হাড়ের ঘর্ষণ কমে যায়।"
আমি একটু থেমে যোগ করলাম, "আর সবথেকে বড় কথা, ব্যায়াম করলে মস্তিস্ক থেকে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। এটা শরীরের একদম প্রাকৃতিক পেইনকিলার! তাই ওষুধ ছাড়াই আপনার মন ফুরফুরে থাকবে আর ব্যথাও কম লাগবে।"

🔎"আপনার ঊরুর পেশি (Quadriceps) যত শক্তিশালী হবে, শরীরের ওজনটা সরাসরি হাড়ের ওপর না পড়ে পেশিগুলো ভাগ করে নেবে। অনেকটা গাড়ির শক-অ্যাবজর্বারের মতো! তাই ব্যায়াম বন্ধ করলে কিন্তু বিপদ।"

❌"ওজনটা কিন্তু আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। মনে রাখবেন, শরীরের ওজন যদি মাত্র ১ কেজি বাড়ে, হাঁটুর ওপর কিন্তু চাপ পড়ে প্রায় ৪ কেজি! আপনার জয়েন্টগুলো এত বাড়তি ভার সইতে পারে না, তাই ওজন বাড়লেই ব্যথা ফিরে আসবে।"

🎯"সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা এক্কেবারে কমিয়ে দিন। একটা প্ল্যান করে নিন সুকুমার বাবু। ওপরে কাজ থাকলে এমনভাবে গুছিয়ে নিন যাতে দিনে একবার কি বড়জোর দু’বার ওপরে উঠতে হয়। বারবার ওঠানামা করা মানেই হাঁটুর আয়ু কমিয়ে দেওয়া।"

🔎"বাথরুমে কিন্তু আর নিচে বসা চলবে না। কমোড ব্যবহার করা মানেই হাঁটুর ওপর ৯০ শতাংশ চাপ কমিয়ে দেওয়া। আর প্রতিদিন নিয়ম করে সমতলে আধঘণ্টা হাঁটুন।"

🧓🏻সুকুমার বাবু একটু ইতস্তত করে বললেন, "ডাক্তারবাবু, খাবারের ব্যাপারে কী করব? পাড়ার লোকজন তো বলছে এটা খাবেন না, ওটা খাবেন না..."
আমি হাসলাম। "খাবার নিয়ে তো আপনাকে আগেও বলেছি— প্রতিবেশীর কথা শুনে নয় কিন্তু! নিজের শরীরের ভাষা বুঝুন। কোনো বিশেষ খাবার খেলে যদি আপনার মনে হয় ব্যথা বাড়ছে, তবেই সেটা বন্ধ করবেন। ঢালাওভাবে সবার কথা শুনে ডায়েট করবেন না।"

🩺সুকুমার বাবু আশ্বস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমি ওনার কাঁধে হাত রেখে বললাম, "এই নিয়মগুলো মাথায় রাখুন সুকুমার বাবু। দেখবেন বিনা ওষুধেও আপনি দারুণ ভালো থাকবেন!"

🧓🏻সুকুমার বাবু হাসিমুখে বিদায় নিলেন। আমি ভাবলাম, শুধু সুকুমার বাবু কেন, আমাদের ঘরে ঘরে তো এমন অনেক সুকুমার বাবু আছেন! তাই আপনিও যদি কোনো সুকুমার বাবু কে চেনেন তাহলে এই নিয়ম গুলো শেয়ার করবেন কিন্তু I@top fans

"আরে পুলকবাবু যে! আসুন আসুন। ভোটের বাজারে চারদিকে তো এখন শুধু মাইকের আওয়াজ আর জনসভা। আপনাকে  অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য স...
19/04/2026

"আরে পুলকবাবু যে! আসুন আসুন। ভোটের বাজারে চারদিকে তো এখন শুধু মাইকের আওয়াজ আর জনসভা। আপনাকে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য সেই যে ব্যায়ামগুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো চলছে তো? আজকে আবার সাথে কাকে আনলেন?"

🧓পুলকবাবু চেয়ারটা টেনে বসে বললেন, "ডাক্তারবাবু, আজ নিজের জন্য নয়, মেয়ে সীমাকে নিয়ে এলাম। ওর বয়স এখন মাত্র ৩০ বছর, কিন্তু দেখুন তো কয়েক দিন ধরে কী এক আপদ জুটেছে! সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতের আঙুল সোজা করতে পারছে না, প্রচণ্ড যন্ত্রণা। আবার বলছে হাঁটুতেও ব্যথা , আমার মতো ওরও কি এই বয়সেই হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস শুরু হলো নাকি?"

👧সীমা কাঁচুমাচু মুখে নিজের আঙুলগুলো দেখাল। আমি সীমার হাতের জয়েন্টগুলো একটু টিপে দেখে বললাম, "পুলকবাবু, আপনি আর সীমা দুজনেই 'বাত' বা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন ঠিকই, কিন্তু আপনাদের দুজনের লড়াইটা একদম আলাদা। আপনারটা হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস, আর সীমার যেটা মনে হচ্ছে, সেটা হলো রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)।"

👧🏻সীমা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "দুটো কি আলাদা ডাক্তারবাবু?"

🖌️আমি ড্রয়ার থেকে একটা কলম বের করে বোঝাতে শুরু করলাম, "সীমা, তোমার বাবার যেটা হয়েছে, সেটা হলো হাড়ের 'ক্ষয়'(Osteoarthritis)। বয়স বাড়লে যেমন হাড়ের মাঝের লুব্রিকেন্ট কমে যায়, অনেকটা পুরনো সাইকেলের চেনের মতো—এটাও তাই। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হাড়ের ক্ষয় নয়, বরং শরীরের ভেতরের একটা 'বিদ্রোহ'। তোমার নিজের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে তোমার জয়েন্টগুলোকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করছে। একে আমরা বলি Autoimmune Disease।"

👨‍⚕️ তুমি যে বললে সকালে হাত সোজা করতে পারো না, এটাকেই আমরা বলি Early Morning Stiffness। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে সারা রাত জয়েন্টের ভেতরে প্রদাহ বা Inflammation জমে থাকে। তাই সকালে উঠে মনে হয় আঙুলগুলো কেউ আঠা দিয়ে আটকে দিয়েছে। অন্তত ১ ঘণ্টা না কাটলে বা কাজকর্ম না করলে হাত সচল হয় না।"

🩸আমি সীমাকে কিছু রক্ত পরীক্ষা (RA Factor, Anti-CCP) করতে দিলাম । রিপোর্ট আসতেই দেখা গেল Rheumatoid Factor পজিটিভ।

🧓পুলকবাবু রিপোর্ট দেখে আঁতকে উঠলেন, "ডাক্তারবাবু, এ তো পজিটিভ! তবে কি ওর হাতগুলো সব ওই উনুন ধরার সাঁড়াশির মতো বেঁকে যাবে? জানেন ওর মাসির সব আঙ্গুল বাঁকা "

👨‍⚕️"একদম ভয় পাবেন না," আমি আশ্বস্ত করলাম। "আগেকার দিনে যখন আমাদের কাছে ভালো ওষুধ ছিল না, তখন হাত বেঁকে যেত, যাকে আমরা Rheumatoid Hand বলি। কিন্তু সীমা এখন একদম Window of Opportunity-তে আছে। অর্থাৎ রোগ ধরা পড়ার প্রথম ৩-৬ মাসের মধ্যে যদি আমরা সঠিক চিকিৎসা শুরু করি, তবে হাড়ের ওই বিকৃতি বা deformity আমরা ১০০% আটকে দিতে পারি।"

🔎"পুলকবাবু, সীমার ক্ষেত্রে আমাদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে কারণ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটা Systemic Disease। এটা শুধু জয়েন্টে আটকে থাকে না; এটি ফুসফুসে জল জমাতে পারে, চোখের জল শুকিয়ে দিতে পারে (শুষ্ক চোখ), এমনকি হার্টের রক্তনালীতেও প্রদাহ তৈরি করতে পারে। তাই একে একদম অবহেলা করা চলবে না।"

🖌️পুলক বাবু জিজ্ঞেস করলেন "আচ্ছা এই রোগ টার লক্ষণ কি কি একটু বলবেন ?
"খুব ভালো প্রশ্ন পুলক বাবু , এই রোগে এই এই উপসর্গ দেখা যায় , যেমন ":
১ ) আঙ্গুলে বা হাত বা পায়ের ছোট জয়েন্টগুলোতে ব্যথা।
২ ) জয়েন্টগুলোতে লালচে ও ফোলাভাব।
৩ ) সকালে বিছানা থেকে ওঠার পর ব্যথা বা হাতের আঙ্গুল আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া।
৪ ) আপনার কব্জি, কনুই, কাঁধ, এবং হাঁটুগুলি ফোলা এবং লালচে ভাব এবং সেইসাথে আপনার হাঁটুগুলি বেদনাদায়ক হতে পারে।
৫ ) সাধারণত রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পিঠে ব্যথা হয় না।
৬ ) আপনি অত্যধিক ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন । প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বরও হতে পারে।

সংক্ষেপে: শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা হবে এবং প্রধানত বিশ্রামের পরে বৃদ্ধি পাবে।

👧🏻সীমা জিজ্ঞেস করল, "তাহলে এখন উপায়? আমাকে কি সারাজীবন পেইনকিলার খেয়ে যেতে হবে?"

🖌️"একদমই না সীমা! আমাদের কাছে এখন অনেক আধুনিক অস্ত্র আছে:
• DMARDs: এই ওষুধগুলো তোমার বিগড়ে যাওয়া ইমিউন সিস্টেমকে শান্ত করবে।
• Biologics: এগুলো একদম লেটেস্ট টেকনোলজি, যা সরাসরি ব্যথার উৎসকে ব্লক করে।
• USG Guided Injections: যদি কোনও জয়েন্টে খুব বেশি ব্যথা থাকে, তবে আমরা আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে একদম নিখুঁতভাবে ইনজেকশন পৌঁছে দিতে পারি।"
• ⁠এর সাথে সাথে exercise কিন্তু নিয়ম মেনে করতে হবে I

🩺এটা ঠিক যে এই রোগ পুরোপুরি হয়তো সারে না কিন্তু এতোটাই ভালো থাকা যায় যে বোঝা যাবে না কিছু হয়েছে বলে I

❓পুলকবাবু আমতা আমতা করে বললেন, "ডাক্তারবাবু, আমার থেকেই কি এটা মেয়ের হলো? ওর বাচ্চাদেরও কি এটা হবে?"

👨‍⚕️"না না, অস্টিওআর্থ্রাইটিস আর রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এক নয়। বংশগতির একটা সূক্ষ্ম যোগসূত্র থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার থেকে এটা হয়েছে। সীমা যদি ধূমপান না করে (যা এই রোগের বড় শত্রু), নিয়মিত ব্যায়াম করে আর আমার দেওয়া ওষুধগুলো ঠিকমতো খায়, তবে ও একদম স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারবে।"

🖌️দেখা গেছে যদি আপনার প্রথম-ডিগ্রী আত্মীয়ের (যেমন মা, বাবা, ভাইবোনদের) এই রোগ থাকে তবে আপনার RA এর কোনো পারিবারিক ইতিহাস নেই এমন লোকদের তুলনায় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি।

❓পুলক বাবু জিজ্ঞেস করলেন প্রেগন্যান্সি তে সমস্যা হবে?

🔎 আমি বললাম ওনাকে , এই বাত , সাধারণত গর্ভাবস্থায় সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু রোগের সাথে সম্পর্কিত ব্যথা বা স্ট্রেসের জন্য পরোক্ষ ভাবে প্রভাব হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কিছু ওষুধ যা রোগীদের দেওয়া হয় তা বিকাশমান শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি শুক্রাণুর জন্য বিষাক্ত।
তাই আমরা সবাই কে বলে থাকি আপনি যদি গর্ভবতী হন বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করেন তাহলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তার বাবু কে জানান।

🎯সব শুনে পুলকবাবু আর সীমা আশ্বস্ত হলেন। বাইরে তখন ভোটের স্লোগান শোনা যাচ্ছে, আর চেম্বারের ভেতরে সীমা তৈরি হচ্ছে তার জয়েন্টের এই 'বিদ্রোহ' দমনের জন্য।

👨‍⚕️আমি হেসে বললাম, " সীমা, আজ থেকে তোমার লড়াই শুরু। পরের বার যখন আসবে , যেন দেখি এই হাত দিয়েই তুমি নিজের সব কাজ হাসিমুখে করতে পারছো !"

🔎সীমা হাসল। আর পুলকবাবু মেয়ের হাত ধরে বললেন, "চল মা, ডাক্তারবাবু যখন অভয় দিয়েছেন, তখন আর চিন্তা নেই। সামনে ভোট আছে, তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে ভোটের লাইন এ দাঁড়াতে হবে তো " fans

আমার প্র্যাকটিস জীবনের শুরুর দিক। 'শুভ নববর্ষ' আসতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। চেম্বারে এক মহিলা এলেন পিঠের মাঝখানের তীব্র ...
15/04/2026

আমার প্র্যাকটিস জীবনের শুরুর দিক। 'শুভ নববর্ষ' আসতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। চেম্বারে এক মহিলা এলেন পিঠের মাঝখানের তীব্র ব্যথা নিয়ে। আমি আমার সাধ্যমতো চিকিৎসা শুরু করলাম, কিন্তু কিছুতেই উন্নতি হচ্ছিল না।

🩺আমি এক্স-রে করালাম, এমআরআই করালাম, এমনকি অনেকগুলো রক্ত পরীক্ষাও হলো। সব রিপোর্ট স্বাভাবিক, অথচ রোগীর ব্যথা কমছে না। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম। মাস খানেক পর, একদিন হঠাৎ ওনার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো। এক ফিজিশিয়ান ওনাকে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG) করতে দিলেন। আর তাতেই ধরা পড়ল আসল রহস্য—ওনার পিত্তথলিতে পাথর (Gallbladder Stone) হয়েছে।

🖌️চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় 'রেফারড পেইন'। পিত্তথলিতে পাথরের কারণে পিঠের মাঝখানে ব্যথা হওয়া বেশ বিরল, মাত্র ২% থেকে ৫% ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে। ডাক্তার হিসেবে সেদিন কিন্তু আমি রোগটা ধরতে ভুল করেছিলাম।

👨‍⚕️আজ ১৪৩৩ সাল। অভিজ্ঞতার ঝুলি এখন একটু বেশি । কয়েকদিন আগে ঠিক একই রকম লক্ষণ নিয়ে এক রোগী এলেন। তারও পিঠের মাঝখানে ব্যথা। আমি আর দেরি না করে সরাসরি তাকে এই বার আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে বললাম।

🔎রিপোর্ট এল—ঠিক যা ভেবেছিলাম, পিত্তথলিতেই পাথর! মাত্র একটা পরীক্ষায় রোগ ধরা পড়ায় রোগী তো খুব খুশি। তিনি আমার অনেক প্রশংসা করলেন। কিন্তু আমি মনে মনে হাসলাম; এই প্রশংসা আসলে পাওনা ছিল আমার সেই পুরনো ভুলের।

👨‍⚕️একজন ডাক্তারও মানুষ, আর মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া। সততা আর নিষ্ঠা থাকলে আজ না হোক কাল, সঠিক পথটা ঠিকই খুঁজে পাওয়া যায়। নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়াটাই শেখার প্রথম ধাপ।

🪴এই লেখাটি যারা পড়ছেন, তাদের সবাইকে জানাই— শুভ নববর্ষ! এই নববর্ষে কিন্তু ব্যথা কে জিততে দেওয়া যাবে না, তাকে সবাই মিলে হারাতেই হবে।

বাইরে তখন বিকেলের নরম আলো। যদু বাবু (৬০) কাঁচুমাচু মুখে আমার সামনে বসে। ওনার ডান হাতের কনিষ্ঠা বা ছোট আঙুলটা ফুলে ঢোল হয়...
13/04/2026

বাইরে তখন বিকেলের নরম আলো। যদু বাবু (৬০) কাঁচুমাচু মুখে আমার সামনে বসে। ওনার ডান হাতের কনিষ্ঠা বা ছোট আঙুলটা ফুলে ঢোল হয়ে আছে। এক্স-রে প্লেটটা আলোর সামনে ধরে যখন আমি বললাম আঙুলে ফ্র্যাকচার হয়েছে, যদু বাবু আকাশ থেকে পড়লেন!

🧓যদু বাবু: "বলেন কি ডাক্তারবাবু! এইটুকু আছাড় খেলাম, আর তাতেই হাড় ভেঙে গেল? এইটুকু লাগতে ফ্র্যাকচার? বলেন কি? বিশ্বাস হচ্ছে না! ছোটবেলায় গাছ থেকে পড়েও তো কিছু হয়নি, আর এখন এই সামান্য ধাক্কায়?"

👨‍⚕️আমি একটু হেসে ওনার সামনে বসে বললাম, "যদু বাবু, শরীরটা তো আর ২০ বছরের নেই। কেন এমন হলো, একটু বুঝিয়ে বলি।"

✍️"যদু বাবু, বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে Osteoporosis। গ্রিক শব্দ 'Osteo' মানে হাড়, আর 'Porosis' মানে ফুটো হয়ে যাওয়া। ধরুন আপনার বাড়ির একটা কাঠের বিম। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় কাঠটা শক্ত, কিন্তু ভেতরে যদি ঘুণ ধরে যায়, তাহলে সামান্য টোকা দিলেই সেটা মড়মড় করে ভেঙে পড়ে না?

🦴আমাদের হাড়ের ভেতরেও প্রোটিন আর ক্যালসিয়াম দিয়ে তৈরি একটা জালি বা 'Matrix' থাকে। অস্টিওপোরোসিসে এই জালিগুলো পাতলা হয়ে যায়। ফলে হাড় তার Tensile Strength বা সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আপনার আঙুলটা আজ ভেঙেছে কারণ আপনার হাড়ের ভেতরের সেই ঘনত্ব বা 'Density' কমে গেছে।"

🧓যদু বাবু: "কিন্তু কেন ডাক্তারবাবু? আমি তো মাছ-ভাত সব খাই! কেন হাড় এমন পাতলা হবে?"

👨‍⚕️আমি বোঝালাম ওনাকে "শরীরে একটা চমৎকার ভারসাম্য থাকে। আমাদের হাড় কিন্তু স্থির কিছু নয়, এটা সবসময় তৈরি হচ্ছে। দুটো কোষ এখানে কাজ করে: Osteoblasts (যারা নতুন হাড় তৈরি করে) আর Osteoclasts (যারা পুরনো হাড় ভেঙে ফেলে)।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে, বিশেষ করে আপনার মতো ৬০ বছর বয়সে, হাড় ভাঙার গতি (Resorption) হাড় তৈরি হওয়ার গতির চেয়ে বেড়ে যায়। শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষমতা কমে যায়, আর ভিটামিন D-এর অভাবে শরীর হাড়ের ভেতরে ক্যালসিয়াম জমা করতে পারে না। অনেকটা ব্যাংকের জমানো টাকা খরচ করার মতো—জমার চেয়ে খরচ বেশি হলে মূলধন তো কমবেই!"

👨‍⚕️আমি: "আপনি একা নন যদু বাবু। পরিসংখ্যন বলছে, বিশ্বে প্রতি ৩ জন মহিলার ১ জন এবং আপনার মতো প্রতি ৫ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন এই রোগে ভোগেন। সবচেয়ে ভয়ের কথা কী জানেন? ভারতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত, যাদের বড় অংশই জানে না যে তাদের হাড় ভঙ্গুর হয়ে গেছে।"

👨‍⚕️আমি: "যদু বাবু, ওষুধ তো দেবই, তবে আপনার হাড়ের অবস্থা পুরোপুরি বুঝতে আমি একটা BMD টেস্ট করাতে চাই।"

🧓যদু বাবু: "কী বললেন? BMD? এটা আবার কী? পরীক্ষা কি খুব কঠিন? সুঁই ফোটাবে নাকি?"

👨‍⚕️আমি: "আরে না যদু বাবু! BMD মানে হলো Bone Mineral Density টেস্ট। একে আমরা বলি DEXA Scan। সাধারণ এক্স-রে দিয়ে আমরা শুধু দেখি হাড় ভেঙেছে কি না, কিন্তু এই পরীক্ষাটা দিয়ে আমি একটা T-Score বের করব।
• যদি আপনার স্কোর -১ এর উপরে থাকে, তবে আপনি নিরাপদ।
• যদি -১ থেকে -২.৫ এর মধ্যে থাকে, তবে একে বলি Osteopenia (হাড় কমতে শুরু করেছে)।
• আর যদি -২.৫ এর নিচে চলে যায়, তবেই সেটা Osteoporosis।
এতে কোনো কষ্ট নেই, আপনি একটা টেবিলের ওপর শুয়ে থাকবেন আর একটা স্ক্যানার আপনার হাড়ের ওপর দিয়ে যাবে। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যাপার!"

যদু বাবু এবার একটু মন দিয়ে শুনছেন। জিজ্ঞেস করলেন কি কি করা উচিত ছিল বা বলুন তো গিন্নি কে কি কি করতে বলবো যাতে এটা আটকানো যায় ?
এই জিনিস গুলো কিন্তু মেনে চললে এটা অনেক টা আটকানো যেতে পারে
1. আপনার প্রতিদিন অন্তত ১০০০-১২০০ মিগ্রা ক্যালসিয়াম দরকার। দুধ, ছানা, ছোট মাছ (কাঁটা সহ) আর সবুজ শাকসবজিতে এটা প্রচুর থাকে।
2. শুধু ক্যালসিয়াম খেলে হবে না, তাকে হাড় পর্যন্ত পৌঁছাতে গেলে ভিটামিন D দরকার। দিনে অন্তত ২০ মিনিট সকালের রোদে বসুন।
3. হাড়কে বলতে হয় যে সে কাজ করছে। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে হাড়ের ওপর চাপ পড়ে, যা হাড়ের কোষগুলোকে (Osteoblasts) উদ্দীপ্ত করে হাড় শক্ত করতে।
4. অতিরিক্ত চা, কফি বা নুন হাড়ের ক্যালসিয়ামকে শরীর থেকে বের করে দেয়। এগুলো একটু কমান।

🧓যদু বাবু: "দারুণ বোঝালেন তো ডাক্তারবাবু! আমি তো ভাবলাম বুড়ো হয়েছি বলে এমন হচ্ছে। এখন বুঝলাম ভেতরকার ইঞ্জিনিয়ারিংটা ঠিক রাখা দরকার। আমি কালকেই BMD টেস্টটা করিয়ে আপনার কাছে আসছি।"

🔎আমি: "একদম ঠিক যদু বাবু। আজ আঙুল ভেঙেছে বলে বেঁচে গেলেন, কিন্তু কোমর বা শিরদাঁড়া ভাঙলে বিপদ অনেক বড় হতো। মনে রাখবেন, হাড়ের যত্ন নেওয়া মানেই হলো বার্ধক্যেও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা!"

🙏যদু বাবু একগাল হাসি নিয়ে প্রেসক্রিপশনটা পকেটে ভরলেন। ওনার চোখে এখন আর বিভ্রান্তি নেই, বরং হাড় মজবুত করার এক নতুন জেদ দেখা যাচ্ছে। fans

চেম্বারে শ্যামলবাবু মানেই একরাশ প্রশ্ন আর একটু বাড়তি কৌতূহল। প্রেসারটা মেপে যখনই ওনাকে ছাড়তে যাব, উনি ঘাড়টা দুবার ডানে-ব...
08/04/2026

চেম্বারে শ্যামলবাবু মানেই একরাশ প্রশ্ন আর একটু বাড়তি কৌতূহল। প্রেসারটা মেপে যখনই ওনাকে ছাড়তে যাব, উনি ঘাড়টা দুবার ডানে-বামে ঘুরিয়ে বললেন

🧓"ডাক্তারবাবু, একটা খাঁটি কথা বলুন তো। এই যে আপনারা বালিশ নিতে বারণ করেন না কেন? এই তো পাশের বাড়ির হারুবাবু বললেন, বালিশ ছাড়া শক্ত মেঝেতে শুলে নাকি ঘাড়ের সব হাড় লোহার মতো সোজা হয়ে যায়! আর আমি তো আবার উপুড় হয়ে শুতেই ভালোবাসি, ভাবছি আজ থেকে বালিশ একদম রিটায়ারমেন্টে পাঠিয়ে দেব।"

👨‍⚕️আমি কলমটা নামিয়ে রেখে বললাম, "শ্যামলবাবু, হারুবাবুর কথা শুনলে তো আপনার ঘাড় আর জ্যান্ত থাকবে না! শুনুন, এটা তো প্রায় সবাই জিজ্ঞেস করেন, আর এখানেই সাধারণ মানুষ বড় ভুলটা করে ফেলেন।"
আসুন, একটু 'সায়েন্স' দিয়ে ব্যাপারটা বুঝি।

🖌️আমাদের মেরুদণ্ড কিন্তু ইংরেজি 'I' অক্ষরের মতো সোজা নয়, বরং অনেকটা 'S' অক্ষরের মতো ঢেউ খেলানো। ঘাড়ের কাছের হাড়গুলো (Cervical Spine) সামনের দিকে একটু ধনুকের মতো বেঁকে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে 'Cervical Lordosis'।

🩺আপনি যখন বালিশ ছাড়া শোন, তখন মাধ্যাকর্ষণের টানে আপনার মাথাটা পেছনের দিকে ঝুলে যায়। এতে ঘাড়ের ওই স্বাভাবিক ধনুকের মতো বাঁকটা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ঘাড়ের হাড়ের মাঝে যে ছোট ছোট 'ডিস্ক' (Intervertebral Discs) থাকে, সেগুলোর ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। ঠিক যেমন একটা স্প্রিংকে উল্টোদিকে জোর করে বাঁকালে সেটা নষ্ট হয়ে যায়।

✍️আমাদের মাথার ওজন প্রায় ৫ কেজি (একটা বড় তরমুজের সমান)। এই পুরো ওজনটা ধরে রাখে ঘাড়ের সাতটি হাড়।
বালিশ ছাড়া শুয়ে থাকলে, মাথা পেছনের দিকে একটু বেশি ঝুলে থাকে এবং ঘাড়ের সামনের দিকের পেশিগুলো সারারাত টানটান হয়ে থাকে মাথাটাকে ধরে রাখার জন্য।

তখন সকালে ঘুম ভাঙলে দেখবেন ঘাড় আর নাড়ানো যাচ্ছে না—যাকে আমরা বলি 'Stiffness'। পেশিগুলো সারারাত কুস্তি করেছে, তাই তারা ক্লান্ত!

❌শ্যামলবাবু আপনি যে উপুড় হয়ে শোওয়ার কথা বললেন, ওটা বিজ্ঞানের চোখে সবথেকে ভয়ঙ্কর।
উপুড় হয়ে শুলে আপনি বালিশের ভেতর মুখ গুঁজে শ্বাস নিতে পারেন না। ফলে আপনাকে ঘাড় হয় ডানে নয়তো বাঁয়ে ৯০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে রাখতে হয়।

❓ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাড় এভাবে মোচড় দিয়ে রাখলে ঘাড়ের সূক্ষ্ম রক্তনালী এবং জয়েন্টগুলোতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এটা ঠিক একটা ভিজে গামছাকে নিংড়ানোর মতো—আপনি সারারাত আপনার মেরুদণ্ডকে নিংড়াচ্ছেন! এই অবস্থায় বালিশ নিলে ঘাড় আরও অস্বাভাবিক কোণে বেঁকে থাকে।

🎯স্নায়ু বা নার্ভের ওপর চাপ
ঘাড়ে অনেকগুলো সূক্ষ্ম নার্ভ থাকে যা আমাদের হাত এবং মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। বালিশ ছাড়া, ভুল বালিশে বা উপুড় হয়ে শুলে সেই ছিদ্রগুলো (Foramina) ছোট হয়ে যায়। এতে নার্ভে চাপ পড়ে হাতে ঝিঁঝিঁ ধরা বা ব্যথা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

👨‍⚕️আমি শ্যামলবাবুকে বুঝিয়ে বললাম, "বালিশ হবে আপনার ঘাড়ের 'সাপোর্টিং পার্টনার'।"

👨‍⚕️আপনি যদি চিত হয়ে শোন, তবে বালিশ হবে আপনার ঘাড়ের ফাঁকা জায়গাটার সমান উঁচু। বেশি উঁচু হলে আবার ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে থাকবে, যা আরও বিপজ্জনক!

❌খুব নরম বালিশে মাথা ঢুকে যায়, আবার খুব শক্ত বালিশে ঘাড় ব্যথা করে। Contour Pillow বা এমন বালিশ ব্যবহার করুন যা ঘাড়ের শেপটা ধরে রাখে।

🛌যদি আপনি পাশ ফিরে শোন, তবে বালিশটা হবে আপনার কাঁধের চওড়ার সমান। যাতে আপনার নাক আর মেরুদণ্ড এক সরলরেখায় থাকে।

🔎 চেষ্টা করুন এই উবুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস বদলাতে। যদি একদমই না পারেন, তবে মাথার তলায় বালিশ না নিয়ে বরং পেটের নিচে একটা পাতলা বালিশ রাখুন যাতে মেরুদণ্ড কিছুটা স্বাভাবিক থাকে বা একদম পাতলা বালিশ নিন I

🧓"তার মানে ডাক্তারবাবু, বালিশ ছাড়া শোওয়া বা উপুড় হয়ে শোওয়া মানে ঘাড়কে সাজা দেওয়া?"

👨‍⚕️ "একদম! সোজা কথায়—বালিশ মাথার জন্য নয়, ঘাড়ের ওই ফাঁকা গর্তটা ভরাট করার জন্য। হারুবাবুর পরামর্শ মেনে মেঝেতে শোবেন না, বরং আপনার শরীরের গঠন বুঝে সঠিক মাপের বালিশ নিন। মেরুদণ্ড সোজা রাখা মানে শক্ত হয়ে থাকা নয়, তার স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখা।"

🙂শ্যামলবাবু হাসলেন। বললেন, "বুঝেছি ডাক্তারবাবু! আজই হারুবাবুর সায়েন্স ফেল করিয়ে দিয়ে নিজের ঘাড়টা বাঁচাব।"

বিশেষ দ্রষ্টব্য :: ঘাড়ের নীচে বালিশের উপকারিতা নিয়ে কিন্তু এখনও গবেষণা চলছে। fans

আজকের গল্পটা চার বোনকে নিয়ে। একজন মনে হয় “গ্যাস” নামক রোগের -এর পর সবার চেয়ে বেশি পরিচিত—স্পন্ডাইলোসিস (Spondylosis)। কো...
04/04/2026

আজকের গল্পটা চার বোনকে নিয়ে। একজন মনে হয় “গ্যাস” নামক রোগের -এর পর সবার চেয়ে বেশি পরিচিত—স্পন্ডাইলোসিস (Spondylosis)। কোমর বা ঘাড়ের এক্স-রে মানেই তিনি আছেন। বাকিদের নাম জানেন?𝐒𝐩𝐨𝐧𝐝𝐲𝐥𝐨𝐥𝐲𝐬𝐢𝐬, 𝐒𝐩𝐨𝐧𝐝𝐲𝐥𝐨𝐥𝐢𝐬𝐭𝐡𝐞𝐬𝐢𝐬 আর 𝐬𝐩𝐨𝐧𝐝𝐲𝐥𝐢𝐭𝐢𝐬 I

🩻আচ্ছা, তাহলে একটা জিনিস তো জানলাম—এক্স-রে মানেই স্পন্ডিলোসিস (Spondylosis) নয়।

🖌️ স্পন্ডাইলোসিস (Spondylosis) মানে আমাদের হাড় ক্ষয়ে যাওয়া। বয়েস জড়িত রোগ I জেনারেলি ৪০ বছরের নিচে এটা হয় না। যদি হয়, তাহলে কিন্তু কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এক্স-রে-তে দেখা যায় হাড় ক্ষয়ে গেছে। কোমর ব্যথা হয় শুরুতে, পরের দিকে নেগলেক্ট করলে কোমর থেকে পা ঝিনঝিন করে বা ভারি হয়ে যায়। কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যায়। ওষুধ কিন্তু একটু ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D3 আর ঠিকমতো এক্সারসাইজ। স্প্যাজম থাকলে তখন কিছুদিনের জন্য ব্যথার ওষুধ।

🎯এবারে আসি মেজো বোনের কথায়—𝐒𝐩𝐨𝐧𝐝𝐲𝐥𝐨𝐥𝐲𝐬𝐢𝐬 । একে অনেকেই বড় দিদি স্পন্ডিলোসিসের সাথে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু এর স্বভাবটা আলাদা। এটা হাড়ের ক্ষয় নয়, বরং হাড়ের একটা সূক্ষ্ম ফাটল বা 'স্ট্রেস ফ্র্যাকচার'। মজার ব্যাপার হলো, এটি অনেক সময় অল্পবয়সীদের মধ্যেও দেখা যায়, বিশেষ করে যারা খুব বেশি খেলাধুলা বা শরীরচর্চা করেন। অনেক সময় হটাৎ ভারী জিনিস তুলতে গিয়েও হতে পারে I কোমরের হাড়ের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় যখন অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তখন সেখানে এই ফাটল দেখা দেয়। এর ব্যথাটা সাধারণত দাঁড়িয়ে থাকলে বা পিছনের দিকে ঝুঁকলে বাড়ে। বিশ্রাম নিলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়, কিন্তু অবহেলা করলে এটি তার পরের বোনকে ডেকে নিয়ে আসে।

🩺 সেই তৃতীয় বোন হলো 𝐒𝐩𝐨𝐧𝐝𝐲𝐥𝐨𝐥𝐢𝐬𝐭𝐡𝐞𝐬𝐢𝐬, সংক্ষেপে যাকে আমরা 'Listhesis' বলি। এই বোনটি একটু বেশিই চঞ্চল, এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। যখন মেরুদণ্ডের একটি হাড় তার নিচের হাড়টির ওপর থেকে সামনের বা পেছনের দিকে পিছলে যায়, তখনই তৈরি হয় এই সমস্যা। এর ফলে স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। রোগী অভিযোগ করেন যে দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে বা দাঁড়ালে পা ঝিনঝিন করছে, অবশ লাগছে বা একদম শক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। একে বলা হয় 'নিউরোজেনিক ক্লোডিকেশন'। এই অবস্থায় সঠিক সময়ে ফিজিওথেরাপি আর মাংসপেশি শক্ত করার ব্যায়াম না করলে অবস্থা জটিল হতে পারে।

🚶সবশেষে আসি ছোট বোন 𝐬𝐩𝐨𝐧𝐝𝐲𝐥𝐢𝐭𝐢𝐬-এর কথায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নামের শেষে 'Itis' থাকা মানেই হলো সেখানে প্রদাহ বা 'Inflammation' আছে। এখানে আমরা বলছি Ankylosing Spondylitis-এর কথা। এটি মূলত একটি অটো-ইমিউন সমস্যা। এর চরিত্র বাকি তিন বোনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে বিশ্রাম নিলে ব্যথা কমে না, বরং বাড়ে! সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর আড়ষ্ট হয়ে থাকে, মনে হয় কোমরটা যেন জ্যাম হয়ে গেছে। আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা চলাফেরা করার পর শরীর একটু খোলে। এটি সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের তরুণদের বেশি হয়। রক্ত পরীক্ষায় ও করতে হয় কিন্তু, র এটা নিয়ে তো আগের দিন কথা বললাম , মনে আছে তো ?

👨‍⚕️তাহলে বুঝতেই পারছেন, কোমরে ব্যথা বা এক্স-রে রিপোর্টে 'Spondy' লেখা মানেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে কোন বোন আপনার শরীরে বাসা বেঁধেছে, সেটা চেনা খুব জরুরি। Spondylosis হয়েছে ধরে নিয়ে ,ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িকভাবে চেপে না রেখে, সঠিক ব্যায়াম আর জীবনযাত্রার পরিবর্তন করলে এই চার বোনের সাথেই দিব্যি ঘর করা যায়। মনে রাখবেন, কোমর আপনার শরীরের শক্ত খুঁটি, একে অবহেলা করা মানে নিজের ভিত্তিটাই নড়বড়ে করে দেওয়া। তাই ব্যথাকে ভয় নয়, বরং তাকে চিনে নিয়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করাই হলো আসল কাজ।

🙏আর হ্যাঁ, সেই দিন একজন follower জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোমর ব্যথা কি ঠিক হয়? উত্তর অবশ্যই ঠিক হয় কিন্তু আগে জানতে হবে কেন ব্যথা এবং আপনাকেও কিন্তু অনেক নিয়ম মানতে হবে, ব্যথা যদি ৩/৪ মাসের মধ্যে ঠিক না হচ্ছে অবশ্যই পরামর্শ করুন। fans

31/03/2026

কাঁধে ব্যথা ও হাত তুলতে অসুবিধা হচ্ছে?
এটি Frozen Shoulder-এর লক্ষণ হতে পারে।

চুল আঁচড়ানো, জামা পরা বা দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হলে তা কাঁধের জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিন হাত কম নড়ানো বা পুরনো আঘাত এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

সঠিক সময়ে ফিজিওথেরাপি ও চিকিৎসা নিলে, স্বাভাবিক নড়াচড়া আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব।

Dr Subhasish Pati

[ frozen shoulder treatment, shoulder stiffness causes, shoulder physiotherapy, adhesive capsulitis care, shoulder mobility exercises, orthopedic shoulder specialist, shoulder pain clinic, non surgical shoulder treatment, joint stiffness relief, pain management doctor ]

চেম্বারের দরজাটা ঠেলে যখন সুমিত বাবু ঢুকলেন, তাঁর চোখেমুখে একরাশ দুশ্চিন্তা আর বিষণ্ণতা। ধীর পদক্ষেপে এসে চেয়ারে বসে করু...
28/03/2026

চেম্বারের দরজাটা ঠেলে যখন সুমিত বাবু ঢুকলেন, তাঁর চোখেমুখে একরাশ দুশ্চিন্তা আর বিষণ্ণতা। ধীর পদক্ষেপে এসে চেয়ারে বসে করুণ সুরে বললেন, "ডাক্তারবাবু, Ankylosing Spondylitis রোগ আছে আমার। আমি কি সত্যি কোনোদিন ভালো হব না?"

👨‍⚕️আমি একটু হেসে ওনাকে শান্ত করে বললাম, "আগে মনটা শান্ত করুন সুমিত বাবু। আচ্ছা, আপনি কি জানেন এই রোগটা আসলে কেন হয় বা ভেতরে ঠিক কী ঘটে?"

🚶‍♀️উনি মাথা নিচু করে বললেন, "না স্যার, অত শত বুঝি না। শুধু জানি ঘুম থেকে উঠলে খুব ব্যথা হয়, কোমরটা পুরো শক্ত (stiffness) হয়ে যায়। এটা তো বাতের রোগ, তাই না?"

🖌️আমি কলমটা সরিয়ে রেখে ওনাকে বোঝাতে শুরু করলাম, "দেখুন, আমাদের শরীরে একটা ইমিউন সিস্টেম (Immune System) বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে, যার কাজ হলো বাইরের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করা। কিন্তু এই রোগে আপনার ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত নিজের শরীরের জয়েন্ট বা হাড়ের সংযোগস্থলকেই শত্রু মনে করে আক্রমণ শুরু করে (Autoimmune response)। মূলত মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানের লিগামেন্ট বা টেন্ডন যেখানে হাড়ের সাথে মেশে (Enthesis), সেখানে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন (Inflammation) তৈরি হয়। শরীর তখন সেই ক্ষত সারাতে গিয়ে বাড়তি হাড় তৈরি করে ফেলে, যার ফলে মেরুদণ্ড নমনীয়তা হারিয়ে শক্ত বাঁশের মতো হয়ে যায়, যেটাকে আমরা বলি 'ব্যাম্বু স্পাইন' (Bamboo Spine)।"

🩻সুমিত বাবু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আচ্ছা আমি কি একা? ঠাকুর আমাকেই কেন এই রোগ দিল?"
আমি ওনার কাঁধে হাত রেখে বললাম, "একদমই না। বিশ্বে কয়েক কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০০ বা ২০০ জনের মধ্যে একজনের এই সমস্যা থাকতে পারে। তাই আপনি একা নন, অনেকেই এই লড়াই লড়ছেন এবং জয়ীও হচ্ছেন।"

👤উনি খানিকটা চুপ থেকে বললেন, "আমি তো এক বছর পর ডাক্তার দেখাচ্ছি। আপনি বলছেন এটা বংশগত হতে পারে, তাহলে আমার ছেলেরও কি হবে? আগে থেকে বুঝব কী করে?"

👨‍⚕️আমি বুঝিয়ে বললাম, "সবার ক্ষেত্রে বংশগত না হলেও একটা জিনগত যোগ (HLA-B27) থাকে। দেখা গেছে 30 পার্সেন্ট চান্স থাকে এই রোগ টা আপনার ছেলের মধ্যে দেখা যাওয়ার , তাই একদম হবেই তা কিন্তু নয় I কিছু লক্ষণ দেখে সাবধান হওয়া যায়। যেমন—ভোরবেলা বা ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠ-কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা যা হাঁটাচলা করলে কমে (Early morning stiffness), বিশ্রাম নিলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া (Rest pain), কখনো ডান দিকের নিতম্বে(buttocks) আবার কখনো বাঁ দিকের নিতম্বে ব্যথা হওয়া (Alternating buttock pain), বা শরীরের বিভিন্ন বড় জয়েন্টে হঠাৎ ফোলা ভাব। এমনকি কখনো কখনো চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা খচখচ করাও (Uveitis) এই রোগের লক্ষণ হতে পারে। যদি এই লক্ষণ গুলো দেখা যায় তবে আপনার ডাক্তার বাবুর সাথে পরামর্শ করবেন "

🚶‍♀️উনি উৎকণ্ঠা নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, "তার মানে কি আমি কোনোদিন রোগমুক্ত হব না?"
আমি আশ্বস্ত করে বললাম, "দেখুন, হয়তো রোগটা শরীর থেকে পুরোপুরি মুছে যাবে না, কিন্তু এখন এমন চমৎকার সব ওষুধ আছে যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে বুঝিয়ে দেবে যে নিজের শরীরকে আক্রমণ করা বন্ধ করো। এই ওষুধগুলো ইমিউন সিস্টেমের অতিরিক্ত সক্রিয়তাকে কিছুটা কমিয়ে দেয় (Immunomodulators)। ঠিকঠাক ওষুধ খেলে আপনার মনেই হবে না যে শরীরে কোনো রোগ আছে। আপনি একদম স্বাভাবিক মানুষের মতো ব্যথা ছাড়াই জীবন কাটাতে পারবেন।"
"কিন্তু শুধু ওষুধ নয়," আমি যোগ করলাম, "প্রতিদিনের ব্যায়াম আর লাইফস্টাইল পরিবর্তন করাটা মাস্ট (Must)। সাঁতার কাটা বা নির্দিষ্ট কিছু স্ট্রেচিং আপনার মেরুদণ্ডকে সচল রাখবে। সোজা হয়ে শোয়া আর সঠিক ভঙ্গিতে বসা খুব জরুরি।"

💉পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা উঠলে আমি ওনাকে বললাম, "প্রাথমিক অবস্থায় একটা সাধারণ X-ray করলেই এস-আই জয়েন্টের (Sacroiliac Joint) পরিবর্তন দেখে আমরা রোগটা ধরতে পারি। তবে অনেক সময় শুরুতে ধরা না পড়লে MRI বা HLA-B27 রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।"

🩻চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতির কথা বলতে গিয়ে জানালাম, "অনেক সময় যখন ব্যথা খুব বেশি হয়, আমরা এস-আই জয়েন্টে ইনজেকশন দিই। আর এখন তো বায়োলজিক্স (Biologics) নামক এক আধুনিক ইনজেকশন এসেছে যা সরাসরি সেই প্রোটিনগুলোকে ব্লক করে দেয় যারা প্রদাহ তৈরি করছে। এতে জাদুর মতো কাজ হয়।"

🙂পুরোটা শোনার পর সুমিত বাবুর মুখের মেঘ যেন অনেকটা কেটে গেল। ওনার চোখে এখন একটা নতুন জেদ। উনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "অনেক ধন্যবাদ ডাক্তারবাবু। আমি সব নিয়ম মেনে চলব আর রোজ ব্যায়াম করব। কথা দিচ্ছি, পরের বার যখন আসব, হাসিমুখেই চেম্বারে ঢুকব।"

👨‍⚕️আমি হেসে বললাম, "সেই হাসিমুখটাই তো দেখতে চাই। মনে রাখবেন, রোগ আপনার শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, আপনি আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন।"

This post is to all patients with Spondylitis 🙏 fans

শিলিগুড়ির অনেক সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তারবাবুদের উপস্থিতিতে কালকের মেডিকেল কনফারেন্সটা ছিল বেশ জমজমাট! আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়...
25/03/2026

শিলিগুড়ির অনেক সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তারবাবুদের উপস্থিতিতে কালকের মেডিকেল কনফারেন্সটা ছিল বেশ জমজমাট! আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল স্থূলতা (Obesity) আর হাড়ের জয়েন্টের ব্যথা নিয়ে কিছু বলার জন্য।

🎯বড় বড় সব স্লাইড আর খটমটে সব মেডিকেল টার্মের ভিড়ে বলতে বলতে আমার হঠাৎ মনে হলো—আরে, এই জরুরি কথাগুলো যদি আপনাদের সবার জন্য লিখি, তবে তো সেটা সবারই কাজে আসবে! তাই ভাবলাম, আজ একটু গল্প করা যাক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় শত্রু ‘অতিরিক্ত ওজন’ নিয়ে।

🖌️আসলে আমরা যখন ওজন বাড়াই, আমরা শুধু আয়নায় নিজেদের একটু চওড়া দেখি না, বরং আমাদের হাড়ের ওপর এক বিশাল ‘অদৃশ্য বোঝা’ চাপিয়ে দিই। অনেকেই ভাবেন, "মোটে তো ৫ কেজি ওজন বেড়েছে, এতে আর এমন কী!" কিন্তু বিজ্ঞানের অঙ্কটা বেশ চমকে দেওয়ার মতো।

🚶আপনি যখন সমতলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটেন, আপনার শরীরের প্রতি ১ কেজি অতিরিক্ত ওজনের জন্য হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে প্রায় ৪ কেজি! তার মানে, আপনার ওজন মাত্র ৫ কেজি বাড়লে প্রতি পদক্ষেপে আপনার হাঁটু ২০ কেজি বাড়তি চাপ সহ্য করছে।

🚶‍♀️আর সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়? এই চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঠিক যেন একটা ছোট 'ন্যানো' গাড়ির ওপর আপনি বিশাল এক ট্রাকের বডি বসিয়ে দিয়েছেন! ন্যানোর টায়ার আর ইঞ্জিন কি সেই ভার সইতে পারবে?

🖌️ঠিক এখানেই চলে আসে বিজ্ঞানের সেই মজার মোচড়। হাঁটার সময় আমাদের শরীরের ভারটা হাঁটুর ঠিক মাঝখান দিয়ে না গিয়ে একটু ভেতর দিক দিয়ে যায়। ওজন বাড়লে এই মোচড় বা চাপটা অসহ্য হয়ে ওঠে, যাকে আমরা চিকিৎসকরা বলি 'Knee Adduction Moment'। ফলাফল? ভেতরের নরম হাড় বা কার্টিলেজগুলো দ্রুত ক্ষয়ে গিয়ে জন্ম দেয় অস্টিওআর্থ্রাইটিস ( medial compartment OA)।

💪এর ওপর যদি আপনার মাংসপেশি বা মাসল দুর্বল হয়, তবে বিপদ আরও বাড়ে। এটাকে আমরা বলি 'সারকোপেনিক ওবেসিটি'—অর্থাৎ একদিকে চর্বি বাড়ছে, অন্যদিকে হাড়কে ধরে রাখার জন্য যে পেশি দরকার, সেটা লক্কড়ঝক্কড় হয়ে যাচ্ছে কারণ চর্বি আপনার মাংসপেশি কে replace করে দিচ্ছে । ঠিক যেন একটা ভারী ট্রাক যার ইঞ্জিনটা একদম বিকল!

🙋একবার এক গোলগাল চেহারার রোগী আমায় একটা মোক্ষম প্রশ্ন করেছিলেন, "ডাক্তারবাবু, আপনার কথা মেনে নিলাম যে ওজন বাড়লে হাঁটুতে চাপ পড়ে। কিন্তু আমার হাতের আঙুলের গাঁটগুলো কেন ব্যথা করে? আমি কি হাত দিয়ে হাঁটি নাকি?"

🖌️সত্যিই তো! রহস্যটা হলো—চর্বি বা ফ্যাট শুধু আমাদের আলসে বানায় না, এটা একটা ‘বায়ো-অ্যাক্টিভ টিস্যু’। মানে, চর্বি কোষ থেকে সারাক্ষণ কিছু রাসায়নিক পদার্থ রক্তে মিশে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন ঘটায়। এই রাসায়নিকগুলো রক্ত দিয়ে বয়ে গিয়ে হাতের ছোট ছোট জয়েন্টেও আক্রমণ করে। একেই বলে ওবেসিটির মেটাবলিক এফেক্ট।

🩺তাহলে উপায় কী? গাড়ি ভালো রাখতে যেমন তেলের পাশাপাশি নিয়মিত সার্ভিসিং লাগে, আমাদের শরীরের জন্যও তাই। প্রথমত, ডায়েটে নজর দিতে হবে—শুধু কম খাওয়া নয়, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যাতে চর্বি কমে কিন্তু মাসল ঠিক থাকে। চিনি আর ময়দা থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। দ্বিতীয়ত, ব্যায়াম জরুরি। পেশি মজবুত না করলে জয়েন্টের ওপর চাপ কমবে না। যাদের হাঁটুতে ব্যথা, তারা দৌড়ানোর বদলে সাঁতার বা সাইক্লিং করতে পারেন। আর ওমেগা-৩ বা হলুদের মতো প্রদাহরোধী খাবার জয়েন্টের ভেতরের 'অদৃশ্য আগুন' কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।

❓অনেকে বলেন, "ডাক্তারবাবু, ডায়েট-ব্যায়াম সবই তো করছি, তাও ওজন কমছে না।" সেক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শে নির্দিষ্ট কিছু আধুনিক ওষুধ বা মেটাবলিজম ঠিক করার চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। এমনকি খুব জটিল ক্ষেত্রে বেরিয়াট্রিক সার্জারিও এখন জীবন বদলে দেওয়ার মতো এক বিজ্ঞানসম্মত পথ।

🙏তবে সবার আগে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু তো করি! ডায়েট আর নিয়ম মেনে যদি শরীরটাকে বশে আনা যায়, তবে শুরুতেই ওষুধের জটিলতায় কেন যাব? নিজের সেরাটা দিয়ে আগে চেষ্টা তো করি—দিয়ে না হয় পরে ভাবা যাবে!

🎯মনে রাখবেন, আপনার হাঁটু দুটো কিন্তু আপনার সারা জীবনের স্থায়ী বাহন। এদের সুস্থ রাখা মানে নিজের স্বাধীনতাকে বাঁচিয়ে রাখা। fans

23/03/2026

पीठ दर्द का मतलब हमेशा Surgery नहीं होता।
सही कारण जानना ही सही इलाज की पहली सीढ़ी है।

लगातार पीठ दर्द, झुकने-बैठने में परेशानी या चलने में तकलीफ, इन लक्षणों को नजरअंदाज करना भविष्य में समस्या बढ़ा सकता है। हर Back Pain का समाधान ऑपरेशन नहीं होता।

समय पर जांच, फिजियोथेरपी और सही जीवनशैली अपनाने से

अधिकतर मरीज बिना Surgery के ही राहत पा सकते हैं।

Dr Subhasish Pati



[ back pain treatment, spine specialist near me, non surgical back pain relief, physiotherapy for back pain, slip disc treatment, lower back pain causes, orthopedic doctor consultation, chronic back pain solution, spine care clinic, back pain exercise tips ]

❓ "ডাক্তারবাবু, এই কোমর ব্যথাটা না আমার কিডনির জন্যই হচ্ছে? কী করব বলুন তো? ইন্টারনেটে পড়লাম কিডনি তো ঠিক এই পেছনেই থাকে...
19/03/2026

❓ "ডাক্তারবাবু, এই কোমর ব্যথাটা না আমার কিডনির জন্যই হচ্ছে? কী করব বলুন তো? ইন্টারনেটে পড়লাম কিডনি তো ঠিক এই পেছনেই থাকে, তাই না?"

🖌️চেম্বারের দরজা ঠেলে অধীর বাবু বসতে না বসতেই চিন্তিত মুখে এই প্রশ্ন টা করলেন, এক হাত দিয়ে কোমরের ডান দিকটা শক্ত করে চেপে ধরে বসে আছেন I

👨‍⚕️আমি একটু হেসে ওনার দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা অধীর বাবু, আপনি কী করে বুঝলেন যে এটা কিডনিরই ব্যথা?"
উনি বেশ প্রত্যয়ের সাথে কোমরের একপাশে হাত দিয়ে দেখালেন, "এই যে দেখুন, একদম পাজরের নিচে এইখানটায় চিনচিন করছে। আর কিডনি তো এর পেছনেই আছে, না?"

🖌️আমি ওনার মনের ভয়টা কাটাতে একটু সামনে ঝুঁকে বসলাম। বললাম, "অধীর বাবু, আপনার ভাবনাটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিডনির ব্যথা আর সাধারণ মাংসপেশির ব্যথার মধ্যে একটা বড় বৈজ্ঞানিক তফাত আছে। চলুন একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলি।"

🩺আমি ওনার পিঠের দিকে ইশারা করে ব্যাখ্যা করলাম, "প্রথমত, এর অবস্থান (Location), কিডনি আমাদের শিরদাঁড়ার দুপাশে, ঠিক যেখানে আমাদের নিচের পাঁজরগুলো শেষ হচ্ছে, সেই খাঁজের ভেতরে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে আমরা বলি 'রেনাল অ্যাঙ্গেল' (Renal Angle)। কিডনির ব্যথা শরীরের অনেক গভীর থেকে আসে। একে আমরা বলি 'ভিসারাল পেইন' (Visceral Pain)। কিডনির বাইরের আবরণ বা 'ক্যাপসুল' যখন কোনো পাথরের চাপে বা ইনফেকশনে ফুলে ওঠে, তখনই এই ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথার চরিত্র হলো এটি একটানা এবং ভোঁতা—আপনি শুয়ে থাকুন, বসে থাকুন বা দাঁড়িয়ে থাকুন, এই ব্যথা আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়বে না।"

🎯অধীর বাবু মন দিয়ে শুনছিলেন। আমি যোগ করলাম, "এর সাথে থাকে 'রেডিয়েশন' (Radiation) বা ব্যথার গতিপথ। কিডনিতে পাথর থাকলে সেই ব্যথাটা এক জায়গায় স্থির থাকে না; পিঠের ওপর থেকে শুরু হয়ে পেটের পাশ দিয়ে একদম কুঁচকির দিকে নেমে আসে, যাকে আমরা 'রেনাল কোলিক' (Renal Colic) বলি বা loin টু groin পেন । তার ওপর যদি কিডনিতে ইনফেকশন থাকে, তবে আপনার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে, বমি বমি ভাব হবে, এমনকি প্রস্রাবের রঙ বদলে যেতে পারে বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। একে বলা হয় 'সিস্টেমিক সিম্পটমস' (Systemic Symptoms)।"

✍️এবার আমি ওনাকে একটু পরখ করে জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা, গত দুই সপ্তাহে ভারী কিছু তুলেছিলেন? ধরুন আপনার বাগানের কোনো কিছু বা জলের বালতি ?"

🪴অধীর বাবু এবার একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসলেন। "ঠিক ধরেছেন ডাক্তারবাবু মনে পড়েছে! ওই সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার প্রিয় মাটির টবটা সরাতে গিয়েছিলাম একা একা। বেশ ভারী ছিল সেটা। তারপর থেকেই এই বিপত্তি। আমি তো ভেবেছিলাম নির্ঘাত কিডনি গেল!"

👨‍⚕️আমি ওনার কাঁধে হাত দিয়ে হেসে বললাম, "একদম নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনার কিডনি একদম সতেজ আছে। আপনি ওই ভারী টবটা তুলতে গিয়ে আপনার কোমরের 'প্যারা-স্পাইনাল' (Para-spinal) মাংসপেশিতে অতিরিক্ত চাপ ফেলেছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'মাসকুলোস্কেলিটাল স্প্রেইন' (Musculoskeletal Sprain)। পেশি বা লিগামেন্টে হঠাৎ টান পড়লে সেখানে একধরণের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, যা নড়াচড়া করলে বা পাশ ফিরলে বাড়ে। আপনার ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হয়েছে।"

🙏অধীর বাবু এবার নিশ্চিন্তে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ওনার মুখের দুশ্চিন্তার মেঘটা কেটে গেল। আমি ওনাকে কয়েকটা হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম দেখিয়ে দিলাম এবং সাবধান করে দিলাম যেন আগামী কয়েক সপ্তাহ ভারী কিছু না তোলেন।
অধীর বাবু একগাল হেসে হালকা মনে চেম্বার থেকে বেরোলেন। মনের ভয়টা কাটতেই ওনার অর্ধেক ব্যথা যেন ওখানেই কমে গেলো I fans

Address

16, Hill Cart Road
Siliguri
734001

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+917003996890

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Subhasish Pati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr Subhasish Pati:

Share