Dr Subhasish Pati

Dr Subhasish Pati This page brings education on pain and movement health from Dr Subhasish Pati, Specialist in Interventional Pain Management and Rehabilitation Medicine.
(1)

Learn about early signs, proven treatments and daily habits that support pain free living.

23/03/2026

पीठ दर्द का मतलब हमेशा Surgery नहीं होता।
सही कारण जानना ही सही इलाज की पहली सीढ़ी है।

लगातार पीठ दर्द, झुकने-बैठने में परेशानी या चलने में तकलीफ, इन लक्षणों को नजरअंदाज करना भविष्य में समस्या बढ़ा सकता है। हर Back Pain का समाधान ऑपरेशन नहीं होता।

समय पर जांच, फिजियोथेरपी और सही जीवनशैली अपनाने से

अधिकतर मरीज बिना Surgery के ही राहत पा सकते हैं।

Dr Subhasish Pati



[ back pain treatment, spine specialist near me, non surgical back pain relief, physiotherapy for back pain, slip disc treatment, lower back pain causes, orthopedic doctor consultation, chronic back pain solution, spine care clinic, back pain exercise tips ]

❓ "ডাক্তারবাবু, এই কোমর ব্যথাটা না আমার কিডনির জন্যই হচ্ছে? কী করব বলুন তো? ইন্টারনেটে পড়লাম কিডনি তো ঠিক এই পেছনেই থাকে...
19/03/2026

❓ "ডাক্তারবাবু, এই কোমর ব্যথাটা না আমার কিডনির জন্যই হচ্ছে? কী করব বলুন তো? ইন্টারনেটে পড়লাম কিডনি তো ঠিক এই পেছনেই থাকে, তাই না?"

🖌️চেম্বারের দরজা ঠেলে অধীর বাবু বসতে না বসতেই চিন্তিত মুখে এই প্রশ্ন টা করলেন, এক হাত দিয়ে কোমরের ডান দিকটা শক্ত করে চেপে ধরে বসে আছেন I

👨‍⚕️আমি একটু হেসে ওনার দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা অধীর বাবু, আপনি কী করে বুঝলেন যে এটা কিডনিরই ব্যথা?"
উনি বেশ প্রত্যয়ের সাথে কোমরের একপাশে হাত দিয়ে দেখালেন, "এই যে দেখুন, একদম পাজরের নিচে এইখানটায় চিনচিন করছে। আর কিডনি তো এর পেছনেই আছে, না?"

🖌️আমি ওনার মনের ভয়টা কাটাতে একটু সামনে ঝুঁকে বসলাম। বললাম, "অধীর বাবু, আপনার ভাবনাটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিডনির ব্যথা আর সাধারণ মাংসপেশির ব্যথার মধ্যে একটা বড় বৈজ্ঞানিক তফাত আছে। চলুন একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলি।"

🩺আমি ওনার পিঠের দিকে ইশারা করে ব্যাখ্যা করলাম, "প্রথমত, এর অবস্থান (Location), কিডনি আমাদের শিরদাঁড়ার দুপাশে, ঠিক যেখানে আমাদের নিচের পাঁজরগুলো শেষ হচ্ছে, সেই খাঁজের ভেতরে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে আমরা বলি 'রেনাল অ্যাঙ্গেল' (Renal Angle)। কিডনির ব্যথা শরীরের অনেক গভীর থেকে আসে। একে আমরা বলি 'ভিসারাল পেইন' (Visceral Pain)। কিডনির বাইরের আবরণ বা 'ক্যাপসুল' যখন কোনো পাথরের চাপে বা ইনফেকশনে ফুলে ওঠে, তখনই এই ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথার চরিত্র হলো এটি একটানা এবং ভোঁতা—আপনি শুয়ে থাকুন, বসে থাকুন বা দাঁড়িয়ে থাকুন, এই ব্যথা আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়বে না।"

🎯অধীর বাবু মন দিয়ে শুনছিলেন। আমি যোগ করলাম, "এর সাথে থাকে 'রেডিয়েশন' (Radiation) বা ব্যথার গতিপথ। কিডনিতে পাথর থাকলে সেই ব্যথাটা এক জায়গায় স্থির থাকে না; পিঠের ওপর থেকে শুরু হয়ে পেটের পাশ দিয়ে একদম কুঁচকির দিকে নেমে আসে, যাকে আমরা 'রেনাল কোলিক' (Renal Colic) বলি বা loin টু groin পেন । তার ওপর যদি কিডনিতে ইনফেকশন থাকে, তবে আপনার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে, বমি বমি ভাব হবে, এমনকি প্রস্রাবের রঙ বদলে যেতে পারে বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। একে বলা হয় 'সিস্টেমিক সিম্পটমস' (Systemic Symptoms)।"

✍️এবার আমি ওনাকে একটু পরখ করে জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা, গত দুই সপ্তাহে ভারী কিছু তুলেছিলেন? ধরুন আপনার বাগানের কোনো কিছু বা জলের বালতি ?"

🪴অধীর বাবু এবার একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসলেন। "ঠিক ধরেছেন ডাক্তারবাবু মনে পড়েছে! ওই সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার প্রিয় মাটির টবটা সরাতে গিয়েছিলাম একা একা। বেশ ভারী ছিল সেটা। তারপর থেকেই এই বিপত্তি। আমি তো ভেবেছিলাম নির্ঘাত কিডনি গেল!"

👨‍⚕️আমি ওনার কাঁধে হাত দিয়ে হেসে বললাম, "একদম নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনার কিডনি একদম সতেজ আছে। আপনি ওই ভারী টবটা তুলতে গিয়ে আপনার কোমরের 'প্যারা-স্পাইনাল' (Para-spinal) মাংসপেশিতে অতিরিক্ত চাপ ফেলেছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় 'মাসকুলোস্কেলিটাল স্প্রেইন' (Musculoskeletal Sprain)। পেশি বা লিগামেন্টে হঠাৎ টান পড়লে সেখানে একধরণের প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, যা নড়াচড়া করলে বা পাশ ফিরলে বাড়ে। আপনার ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হয়েছে।"

🙏অধীর বাবু এবার নিশ্চিন্তে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ওনার মুখের দুশ্চিন্তার মেঘটা কেটে গেল। আমি ওনাকে কয়েকটা হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম দেখিয়ে দিলাম এবং সাবধান করে দিলাম যেন আগামী কয়েক সপ্তাহ ভারী কিছু না তোলেন।
অধীর বাবু একগাল হেসে হালকা মনে চেম্বার থেকে বেরোলেন। মনের ভয়টা কাটতেই ওনার অর্ধেক ব্যথা যেন ওখানেই কমে গেলো I fans

16/03/2026

কাজ করতে গিয়ে কনুইয়ে টান, ব্যথা বা দুর্বলতা অনুভব করছেন?
এটি Tennis Elbow বা Ligament strain-এর লক্ষণ হতে পারে। সঠিক পরীক্ষা, ব্যায়াম ও চিকিৎসা নিলে
fans

অস্ত্রোপচার ছাড়াই ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সচেতন থাকুন, জয়েন্ট সুস্থ রাখুন।

Dr Subhasish Pati

[ elbow pain treatment, tennis elbow physiotherapy, joint pain specialist, arm pain relief exercises, orthopedic clinic near me, ligament injury treatment, non surgical elbow pain relief, sports injury doctor, pain management clinic, upper limb physiotherapy ]

চেম্বারের জানলা দিয়ে বিকেলের হালকা রোদটা এসে গাঙ্গুলি বাবুর ফ্যাকাশে মুখে পড়েছে। হাতে এক্স-রে প্লেটটা নিয়ে তিনি অবিশ্বাস...
14/03/2026

চেম্বারের জানলা দিয়ে বিকেলের হালকা রোদটা এসে গাঙ্গুলি বাবুর ফ্যাকাশে মুখে পড়েছে। হাতে এক্স-রে প্লেটটা নিয়ে তিনি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। দীর্ঘদিনের হাঁটুর ব্যথা আজ তাকে বড্ড ক্লান্ত করে ফেলেছে।

🩺"ডাক্তারবাবু, পা দুটো যেন আর নিজের নেই। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে মনে হয় হাড়গুলো একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছে। সবাই বলছে নি-রিপ্লেসমেন্ট ( knee Replacement)বা অপারেশন করতে। এই বয়সে ওসব কাটাছেঁড়া কি আর সহ্য হবে? অন্য কোনো রাস্তা নেই?"

👨‍⚕️আমি রিপোর্টগুলো টেবিলের একপাশে রেখে ওনার দিকে একটু ঝুঁকে বসলাম। "শুনুন গাঙ্গুলি বাবু, অপারেশনই শেষ কথা নয়। বিজ্ঞানের উন্নতিতে এখন এমন অনেক কিছু আছে যা দিয়ে আমরা অপারেশনকে অনেক বছর পিছিয়ে দিতে পারি বা অনেক সময় এড়িয়েও যেতে পারি।"

✍️আমি ওনাকে বোঝালাম যে আমাদের হাঁটু অনেকটা কবজার মতো, যার মাঝে Synovial Fluid নামের এক ধরণের প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট বা জেলি থাকে। বয়সের সাথে সাথে বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে সেই জেলি শুকিয়ে যায়। "আমরা যেটা করি তাকে বলে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid) ইনজেকশন। সোজা বাংলায় বলতে পারেন হাঁটুর ভেতরে কৃত্রিম জেলি দেওয়া। এটা অনেকটা গাড়ির ইঞ্জিনে নতুন মোবিল দেওয়ার মতো কাজ করে। এটি কেবল হাঁটুর ঘর্ষণ কমায় না, বরং এর একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। এই ইনজেকশন দেওয়ার পর শরীরের ভেতরে একটি Feedback Mechanism শুরু হয়, যা আপনার হাঁটুকে উদ্বুদ্ধ করে আবার নিজে থেকে প্রাকৃতিক জেলি তৈরি করতে। এই কারণেই একবার ঠিকঠাক স্টেজ এ ইনজেকশন নিলে তার সুফল অনেক সময় কয়েক বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়।"

🧓গাঙ্গুলি বাবু একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করলেন, "তা ডাক্তারবাবু, ইনজেকশন মানেই তো সূঁচ! খুব ব্যথা লাগবে কি? আর এর জন্য কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে? কতক্ষণ সময় লাগে?"

👨‍⚕️আমি হেসে ওনাকে আশ্বস্ত করলাম। "একদম ভয় পাবেন না। আমরা খুব সরু একটা নিডল (Needle) ব্যবহার করি, যার ব্যথা একটা সাধারণ ইনজেকশনের থেকেও কম। এতটাই কম ব্যথা যে জায়গাটা অবশ করারও প্রয়োজন পড়ে না। আর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকার বা ভর্তি হওয়ার কোনো ঝামেলাই নেই। সব মিলিয়ে মাত্র ৩০ মিনিট সময় লাগে। আমরা USG Guided পদ্ধতিতে এই ইনজেকশন দিই, যাতে মনিটরে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে জেলিটা ঠিক জায়গামতো পৌঁছচ্ছে। ইনজেকশন দেওয়ার ঠিক পরেই আপনি নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে পারবেন।"

🤔গাঙ্গুলি বাবু চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন। "সবই তো বুঝলাম ডাক্তারবাবু, কিন্তু খরচ তো কম নয় শুনলাম। একেক কোম্পানিতে একেক রকম দাম, ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এক একটা হাঁটুর জন্য! তা এত টাকা খরচ করার পর 'গ্যারান্টি' আছে তো যে একদম ঠিক হয়ে যাবে?"

👨‍⚕️শুনে একটু হাসলাম। শান্ত গলায় বললাম, "গাঙ্গুলি বাবু, লড়াইটা আপনার বয়সের সাথে। আচ্ছা বলুন তো, চিকিৎসাবিজ্ঞানে কি কোনো কিছুর ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি হয়? আপনার হাঁটু এখন Stage 3 বা তৃতীয় ধাপে আছে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, এই স্টেজে ইনজেকশন দিলে প্রায় ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে খুব ভালো ফল পাওয়ার। সেই কারণেই আমরা ইনজেকশন দেওয়ার আগে রোগীকে খুব ভালো করে পরীক্ষা করি। স্টেজ ৪ হয়ে গেলে অর্থাৎ হাড় পুরোপুরি ক্ষয়ে গেলে কিন্তু এটা আর ভালো কাজ করে না। আপনার ক্ষেত্রে এখনো জেতার সুযোগ আছে।"

🧓ওনার কপালে চিন্তার ভাঁজ একটু কমলো। আমি যোগ করলাম, "তবে মনে রাখবেন, এই ইনজেকশন কোনো জাদুমন্ত্র নয়। এর সাথে আপনাকে কিছু নিয়ম মানতে হবে। নিচে উবু হয়ে বসা বা স্কোয়াটিং একদম বন্ধ। সিঁড়ি ভাঙা যতটা সম্ভব কমাতে হবে। আর সবথেকে জরুরি হলো প্রতিদিন কোয়াড্রিসেপস বা থাইয়ের পেশি মজবুত করার ব্যায়াম। ইনজেকশন জেলি দেবে, আর ব্যায়াম আপনার হাঁটুকে শক্তি দেবে। এই দুটোর মেলবন্ধন হলেই আপনি আবার পার্কে হাঁটতে বেরোতে পারবেন।"

🖌️গাঙ্গুলি বাবু এবার একটা লম্বা শ্বাস নিলেন। যেন মনের ওপর থেকে একটা বড় পাথর নেমে গেল। "বুঝলাম ডাক্তারবাবু। গ্যারান্টি তো ভগবানও দেয় না, আপনি যখন ঠিক পথ দেখালেন, তখন এই লড়াইটা আমি লড়বো। কবে আসতে হবে বলুন?”

🩺আমি ওনার কাঁধে হাত রেখে বললাম, "মানসিকভাবে তৈরি হয়েই আসুন। আমরা লড়াইটা একসাথেই শুরু করব।"

✅বিশেষ দ্রষ্টব্য (Footnote):
হাঁটু ব্যথা কিন্তু শুরুতেই আটকানো যায়। আপনি যদি গাঙ্গুলি বাবুর মতো স্টেজ ৩-এ আসার আগেই সচেতন হন, তবে শুধুমাত্র সঠিক ব্যায়াম, কিছু জীবনযাত্রার নিয়ম এবং সামান্য কিছু ওষুধেই সারাজীবন আরামদায়ক ভাবে কাটিয়ে দিতে পারেন। যেটা সবথেকে বেশি দরকার সেটা হলো—যদি দেখেন হাঁটুর ব্যথা ৩ মাস হয়ে গেছে কিন্তু কমছে না, তবে দেরি না করে ডাক্তারবাবুকে অবশ্যই দেখান। রোগ বাড়ার আগে চিকিৎসা করালে ফল সবসময় ভালো হয়। 🙏

✍️পুনশ্চ:
আধুনিক চিকিৎসায় আরও অনেক ধরণের ইনজেকশন আছে যেমন— PRP, Stemcell, GFC, Steroid বা Nerve Block। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হয় পরের দিনের গল্পের জন্য তোলা রইল।
fans

আসুন সুজয়বাবু, ভেতরে এসে বসুন। আপনার হাঁটার ভঙ্গি দেখেই বুঝলাম গোড়ালিটা বেশ ভোগাচ্ছে। কুঁকড়ে পা ফেলছেন কেন? তা, সমস্যাটা...
09/03/2026

আসুন সুজয়বাবু, ভেতরে এসে বসুন। আপনার হাঁটার ভঙ্গি দেখেই বুঝলাম গোড়ালিটা বেশ ভোগাচ্ছে। কুঁকড়ে পা ফেলছেন কেন? তা, সমস্যাটা ঠিক কবে থেকে শুরু হলো?

🧓"নমস্কার ডাক্তারবাবু। মাসখানেক ধরে খুব ভুগছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে প্রথম পা বাড়ালেই মনে হয় যেন তপ্ত লোহার ওপর পা রাখলাম বা কোনো ধারালো সূঁচ ফুটে গেল। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে আবার কমে যায়। এটা কেন হচ্ছে বলুন তো?"

🖌️সুজয়বাবু, আপনি যেটা বললেন এটা কিন্তু আপনার একার সমস্যা নয়। আমার ক্লিনিকে আসা প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে অন্তত একজনের ঠিক এই একই নালিশ থাকে। আমাদের পায়ের পাতার নিচে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত একটা শক্ত পর্দার মতো ব্যান্ড থাকে, যাকে আমরা বলি Plantar Fascia। এর কাজ হলো আপনার শরীরের পুরো ওজনটা সামলানো এবং হাঁটাহাঁটি করার সময় ‘স্প্রিং’-এর মতো ধাক্কা সামলানো। আপনার ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, অতিরিক্ত চাপ বা টান লেগে ওই পর্দায় খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ফাটল (micro-tears) তৈরি হয়েছে। একেই আমরা বলি Plantar Fasciitis।

🧓সুজয়বাবু: "কিন্তু ডাক্তারবাবু, সকালেই কেন এত বেশি লাগে? আর আমার তো সুগার (Diabetes) আছে, সেটার সাথে কি এর কোনো যোগ আছে?"

👨‍⚕️খুব ভালো প্রশ্ন সুজয়বাবু। সারা রাত যখন আপনি ঘুমান, আপনার পায়ের পাতা নিচের দিকে ঝুলে থাকে, ফলে ওই পর্দাটা একটু সংকুচিত বা ছোট হয়ে যায়। সকালে হুট করে যখন আপনি মেঝেতে পা রাখেন, ওই সংকুচিত পর্দায় হঠাৎ করে প্রচণ্ড টান পড়ে। ঠিক যেমন একটা শুকনো রবার ব্যান্ডকে হুট করে টানলে ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, আপনার গোড়ালিতেও ঠিক সেটাই ঘটছে। আর আপনার সুগারের কথা যেটা বললেন—হ্যাঁ, ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়েড (Hypothyroid) বা ইউরিক অ্যাসিড (Gout) থাকলে শরীরের টিস্যুগুলো নমনীয়তা হারায়, ফলে এই ব্যথা হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। এমনকি যদি আপনার পিঠে বা অন্য জয়েন্টে ব্যথা থাকে, তবে এটি কোনো বিশেষ ধরণের আর্থ্রাইটিসের (Arthritis) অংশও হতে পারে। তাই আমাদের নিশ্চিত হতে হবে যে কারণটা বা 'Cause' আসলে ঠিক কী।

🧓সুজয়বাবু: "এখন উপায় কী? আমি কি সারাজীবন খুঁড়িয়েই হাঁটব?"

✍️মোটেই না! ধাপ অনুযায়ী চললে আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। প্রথমত, আপনার ওই শক্ত তলার চটি আজই বাদ দিন; সবসময় নরম সোলের (Soft Soled) জুতো পরুন। বাড়ি গিয়ে একটি জলের বোতল ফ্রিজে রেখে বরফ করে নিন এবং চেয়ারে বসে পায়ের তলা দিয়ে সেই বোতলটি ১০ মিনিট গড়িয়ে গড়িয়ে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া সকালে বিছানা ছাড়ার আগে পা সোজা করে একটা তোয়ালে দিয়ে পায়ের পাতা নিজের দিকে টেনে ধরবেন (Towel Stretch)। যদি এতে কাজ না হয়, তবে কিছু বিশেষ ফিজিওথেরাপি বা আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে , তখন আমরা সেটা চেষ্টা করবো । আর ব্যথা খুব পুরনো হয়ে গেলে আমরা আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনে দেখে ঠিক যেখানে প্রদাহ আছে, সেখানে নিখুঁতভাবে Guided Injection দিই।
ইনজেকশন কে কিন্তু ভয় করবেন না , এই জয়েন্ট এর ইনজেকশন নিয়েও আমরা একদিন গল্প করবো |

🖌️আজ কের দিন ….
সুজয়বাবু আজ পুরোপুরি সুস্থ। ওনার গত কয়েক মাসের রক্ত পরীক্ষা আর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শেষমেশ আমরা আসল কারণটা ধরতে পেরেছিলাম—সুজয়বাবুর অনিয়ন্ত্রিত Sugar (Diabetes)-এর কারণেই এই ব্যথাটা জাঁকিয়ে বসেছিল। সুগার কন্ট্রোল না করলে শুধু ফিজিওথেরাপিতে কাজ হচ্ছিল না।

🩼আজ তিন মাস পর সুজয়বাবু যখন ক্লিনিকে এলেন, ওনাকে দেখে আমি সত্যিই খুব খুশি। উনি নিয়ম মেনে সুগার কন্ট্রোল করেছেন, কিছুটা ওজন (Weight Loss) কমিয়েছেন এবং নিয়মিত সেই স্ট্রেচিং ব্যায়ামগুলো করে গেছেন। সাথে ওনার ওই শক্ত জুতো বদলে সবসময় নরম সোলের জুতো ব্যবহার করার ফলে গোড়ালির ওপর বাড়তি চাপের বোঝা অনেক কমে গেছে। আজ উনি যে কোনো ইনজেকশন বা বড় ওষুধ ছাড়াই দিব্যি স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারছেন, তার প্রধান কারণ হলো আমরা সমস্যার মূল উৎস বা 'Cause' খুঁজে বের করে সেটার চিকিৎসা করতে পেরেছি।
fans

চেম্বারের দরজা ঠেলে ৪০ বছর বয়সী সোমা দেবী যখন ঢুকলেন, তাঁর হাঁটার ধরণ দেখেই আমি বুঝলাম কষ্টটা বেশ গভীরে। কবজি আর গোড়ালির...
06/03/2026

চেম্বারের দরজা ঠেলে ৪০ বছর বয়সী সোমা দেবী যখন ঢুকলেন, তাঁর হাঁটার ধরণ দেখেই আমি বুঝলাম কষ্টটা বেশ গভীরে। কবজি আর গোড়ালির ব্যথায় রীতিমতো কুঁকড়ে আছেন তিনি।

👨‍⚕️আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, "কোমর ব্যথাও কি আছে?" তিনি ম্লান হেসে উত্তর দিলেন, "ওটা তো ডাক্তারবাবু সেই ১০ বছর আগের পাওনা। সিজারের সময় ওই যে পিঠে মোটা সুঁই (ছুঁচ) ফুটিয়েছিল, সেই থেকেই ওটা আমার নিত্যসঙ্গী। ওই ইনজেকশনটাই আমার হাড়ের বারোটা বাজিয়ে দিল!"

💊আমাদের আজকের গল্পের রহস্য এখানেই—সত্যিই কি ওই ছোট্ট একটা সুঁই (ছুঁচ) ১০ বছর ধরে কাউকে পঙ্গু করে রাখতে পারে? নাকি আসল অপরাধী পর্দার আড়ালে অন্য কেউ? চলুন, আমার ডাক্তারি অভিজ্ঞতার ডায়েরি থেকে কারণগুলো একটু সহজ করে বুঝে নিই।

🤰গর্ভাবস্থায় পিঠের ব্যথার জন্য সুঁই নয়, বরং শরীরের গঠনগত পরিবর্তনই দায়ী বেশির ভাগ সময় ।

• পেটে বাচ্চার ওজন বাড়ার সাথে সাথে শরীরের 'সেন্টার অফ গ্র্যাভিটি' সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। ফলে ভারসাম্য বজায় রাখতে গর্ভবতী মায়েরা অজান্তেই শরীরকে পেছনের দিকে হেলিয়ে দেন। এই অস্বাভাবিক ভঙ্গি বা 'posture’ মেরুদণ্ডের নিচের অংশের হাড়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ (Mechanical Stress) তৈরি করে।

• রিলাক্সিন হরমোন (Relaxin): এটি এক আশ্চর্য হরমোন! প্রসবের পথ সহজ করতে এটি শরীরের লিগামেন্ট আর জয়েন্টগুলোকে রাবারের মতো নরম ও ঢিলে করে দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, হাড়ের জয়েন্টগুলো ঢিলে হয়ে যাওয়ায় মেরুদণ্ডের পেশিগুলো বাড়তি চাপ নিতে পারে না, ফলে ব্যথা শুরু হয়।

• পেশির দুর্বলতা: পেটের পেশিগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রসারিত ও দুর্বল হয়ে যায়। মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার জন্য যে 'কোর মাসল' দরকার, তা কাজ করা কমিয়ে দেয়।

🩼এই বার তাহলে সিজারের পর কেন ব্যথা কমতে চায় না?
অনেকে ভাবেন অপারেশন হয়ে গেলেই তো সব শেষ! আসলে আসল লড়াইটা শুরু হয় তখন।

• জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন (Dehydration): এটি আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিই না। আমাদের মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝে যে 'ডিস্ক' থাকে, তার বেশিরভাগটাই জল। নতুন মায়েরা স্তন্যপান করানোর সময় নিজের জলের চাহিদার কথা ভুলে যান। শরীরে জলের অভাব হলে ডিস্কগুলো শুকিয়ে যায় এবং 'শক-অ্যাবজরবার' হিসেবে কাজ করতে পারে না, ফলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থেকে যায়।

• ভিটামিন D3 এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি: বাচ্চার হাড় তৈরির জন্য মা নিজের শরীর থেকে ক্যালসিয়াম দান করেন। প্রসবের পর যদি সাপ্লিমেন্ট না খাওয়া হয়, তবে অনেক সময়ে হাড় পাতলা হয়ে যায় (Osteopenia), যা ১০ বছর পরেও ব্যথার কারণ হতে পারে। (🖌️Vit D3 নিয়ে আমরা আগেও কথা বলেছি )

❎সিজারিয়ান সেকশনের এক মাস পরেও যদি ব্যথা না কমে, তবে ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নেওয়া উচিত; কারণ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও অসংখ্য গবেষণায় এটি প্রমাণিত যে, ওই ছোট্ট সুঁইটি কখনোই সারাজীবনের জন্য পিঠে ব্যথা তৈরি করতে পারে না।

✅তাহলে এর সমাধান কি ?

দোষটা ওই সুঁইয়ের নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসের।
• সঠিকভাবে নিচু হওয়া: সোমা দেবী যেভাবে নিচু হয়ে জলের বালতি বা ভারী জিনিস তোলেন, তাতে মেরুদণ্ডের ওপর কয়েক গুণ বেশি চাপ পড়ে।

সমাধান: কোমর বাঁকাবেন না। আগে হাঁটু গেড়ে বসুন (Squat), তারপর জিনিসটি শরীরের কাছাকাছি রেখে বুক সোজা করে দাঁড়ান।

• অঙ্গভঙ্গি (Posture): দীর্ঘক্ষণ নিচু হয়ে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো বা সবজি কাটার ফলে পেশিতে খিঁচুনি ধরে।

• সমাধান: কাজ করার সময় পিঠের পেছনে সাপোর্ট রাখুন এবং প্রতি ২০-৩০ মিনিট অন্তর একটু সোজা হয়ে দাঁড়ান।

🤰নিয়মিত এক্সারসাইজ করে যাওয়া , এটার কিন্তু কোনো বিকল্প নেই I

🌟গল্পের অদ্ভুত মোড় (The Twist)
সোমা দেবীর সব কথা শুনে এবং পরীক্ষা করে দেখলাম, তাঁর সমস্যাটি সাধারণ 'পোস্ট-সিজার' ব্যথা নয়। তাঁর হাতের কবজি আর গোড়ালির ব্যথা এবং কোমরের আড়ষ্টতা অন্য কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আসলে সোমা দেবীর রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ল 'অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস' (Ankylosing Spondylitis)। এটি এমন এক কঠিন অসুখ যেখানে আমাদের শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুল করে নিজের হাড়ের জয়েন্টগুলোকেই আক্রমণ করতে শুরু করে।

👨‍⚕️১০ বছর ধরে তিনি সিজারের সুঁইকে দোষ দিয়ে গেছেন, অথচ শত্রু লুকিয়ে ছিল তাঁর নিজের শরীরের ভেতরেই!
এই অদ্ভুত রোগটি নিয়ে এবং কীভাবে আমাদের শরীর নিজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করে, তা নিয়ে নাহয় অন্য একদিন বিস্তারিত আলোচনা করব |
fans

না, আজ কোনো গল্প নেই। আজ চেম্বার সব বন্ধ! আজ শুধু রঙের উৎসব, আজ শুধুই আনন্দের দিন।বসন্তের এই মাতাল হাওয়ায় চারপাশ রঙিন হয়...
04/03/2026

না, আজ কোনো গল্প নেই। আজ চেম্বার সব বন্ধ! আজ শুধু রঙের উৎসব, আজ শুধুই আনন্দের দিন।
বসন্তের এই মাতাল হাওয়ায় চারপাশ রঙিন হয়ে উঠেছে, আর সেই রঙের ছোঁয়া লাগুক আপনার মনেও। আবিরের রঙে ধুয়ে যাক সব মনমালিন্য, থেকে যাক শুধু একরাশ হাসি আর এক বুক ভালোবাসা।
পরিবার আর বন্ধুদের সাথে দিনটি জমিয়ে উপভোগ করুন। মিষ্টিমুখ আর আড্ডায় রঙিন হয়ে উঠুক আপনার আজকের প্রতিটি মুহূর্ত।
শুভ দোলযাত্রা ও শুভ হোলি!
সবাই খুব ভালো থাকবেন।
fans

চেম্বারের বাইরে তখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি। বিকেলের শান্ত পরিবেশে হঠাৎই ভারী জুতো আর লাঠির ঠকঠক শব্দে নিস্তব্ধতা ভাঙল। ভেতরে ঢুক...
01/03/2026

চেম্বারের বাইরে তখন ঝিরঝিরে বৃষ্টি। বিকেলের শান্ত পরিবেশে হঠাৎই ভারী জুতো আর লাঠির ঠকঠক শব্দে নিস্তব্ধতা ভাঙল। ভেতরে ঢুকলেন আমাদের পাড়ার পরিচিত মুখ, বোস বাবু। হাতে একটা এক্স-রে রিপোর্ট আর মুখে যন্ত্রণার ছাপ।

🔍সোফায় বসতে বসতে লম্বা একটা শ্বাস ফেলে তিনি মোক্ষম প্রশ্নটা পাড়লেন— "ডাক্তারবাবু, একটা বড় দ্বন্দ্বে পড়েছি। পাড়ার মোড়ের হারু বলছে ব্যথার জায়গায় গরম সেঁক দিতে, আর আমার গিন্নি বরফ নিয়ে তাড়া করছে। তা আসল ব্যাপারটা কী?"

👨‍⚕️আমি হেসে বললাম, "বোস বাবু, এটা শুধু আপনার নয়, অনেকেরই প্রশ্ন। চলুন আজ আপনাকে এই 'ঠান্ডা বনাম গরমের' বিজ্ঞানটা সহজ করে বুঝিয়ে বলি।"

🖌️যখন কোথাও সদ্য চোট লাগে বা ফুলে যায় (যাকে আমরা বলি Acute Injury), যেমন ধরুন হাঁটতে গিয়ে গোড়ালি মচকে গেল বা দরজায় আঙুল চাপা পড়ল, তখন বরফই আপনার সেরা বন্ধু।

📍যখন আমরা বরফ দিই, তখন সেই জায়গার রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায় (বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে Vasoconstriction)। এতে ফোলা কমে এবং ওই এলাকার স্নায়ুগুলো সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যায়, ফলে ব্যথার অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে না।

💊বোস বাবু মাথা নেড়ে বললেন, "বুঝেছি। কিন্তু আমার তো এই পুরনো হাঁটু আর বাতের ব্যথা, যেটা মাঝে মাঝেই খোঁচায়। সেখানেও কি বরফ?"
আমি বললাম, "না বোস বাবু, পুরনো ব্যথা বা পেশির আড়ষ্টতার জন্য গরম সেঁক জাদুর মতো কাজ করে।

♨️গরম সেঁক দিলে সেই জায়গার রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয় (Vasodilation)। এতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান দ্রুত পৌঁছায়, যা টাইট হয়ে থাকা পেশিগুলোকে শিথিল করে আরাম দেয়। শুধু তাই নয়, এই রক্ত চলাচল বেড়ে যাওয়ার ফলে চোটের জায়গায় জমে থাকা ব্যথার হরমোন বা 'পেইন জেনারেটিং ফ্যাক্টর'গুলো (যেমন Histamine বা Bradykinin) দ্রুত সরিয়ে দিতে শরীরকে সাহায্য করে, ফলে আপনার অস্বস্তি কমে।"

⌛️বোস বাবু এবার একটু নড়েচড়ে বসে জিজ্ঞেস করলেন, "আচ্ছা ডাক্তারবাবু, এই সেঁক কতক্ষণ দেব? আর এই গরম সেঁকটা কি জলে ভেজানো কাপড়ে দেব নাকি শুকনো সেঁক?"

🕐আমি বুঝিয়ে বললাম, "খুব ভালো প্রশ্ন। যে সেঁকই দিন না কেন, একটানা ১০ থেকে ১৫ মিনিট, বড়জোর ২০ মিনিটের বেশি দেবেন না। আর গরম সেঁকের ক্ষেত্রে ভিজে সেঁক (Moist Heat) সাধারণত বেশি কার্যকর কারণ তা চামড়ার গভীরে দ্রুত পৌঁছাতে পারে। গরম জলে তোয়ালে চিপে সেটা দিয়ে সেঁক নিতে পারেন, তবে ঝামেলার মনে হলে হিটিং প্যাড বা হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে শুকনো সেঁক নিলেও কাজ হবে।"

‼️তবে আমি তাকে আবার সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করলাম— "বোস বাবু, একটা কথা মাথায় রাখবেন। আপনার হাঁটুতে হয়তো দীর্ঘদিনের পুরনো ব্যথা আছে যার জন্য আপনি গরম সেঁক দেন, কিন্তু যদি হঠাৎ দেখেন যে কোনো কারণে হাঁটুটা বেশ লাল হয়ে ফুলে গেছে বা প্রচণ্ড ব্যথা বেড়ে গেছে (যাকে আমরা Acute Flare-up বলি)— তখন কিন্তু ভুলেও গরম সেঁক দেবেন না। ওই অবস্থায় কিন্তু আবার সেই ঠান্ডা সেঁক বা বরফই দিতে হবে প্রদাহ কমানোর জন্য।"

🩺বোস বাবু অবাক হয়ে বললেন, "বলেন কী! তার মানে পুরনো ব্যথা হঠাৎ চাড়া দিয়ে উঠলে বা ফুলে গেলে আবার সেই ঠান্ডাই ভরসা?"
আমি সায় দিয়ে বললাম, "একেবারেই তাই। আর মনে রাখবেন, সরাসরি বরফ বা খুব গরম জল চামড়ায় লাগাবেন না, পাতলা কাপড়ে জড়িয়ে ব্যবহার করবেন।"

⌛️বোস বাবু এবার আশ্বস্ত হয়ে হাসলেন। বললেন, "চমৎকার বুঝলাম ডাক্তারবাবু। এবার বাড়ি গিয়ে গিন্নিকে বলব বরফটা ফ্রিজেই থাক, তবে হাঁটুটা ফুলে গেলে ওটা বের করে দিতে বলব!"
fans

🖌️ Rajeshree  বাবুর আমার করা একটা পোস্ট এ কমেন্ট পরে বাধ্য হলাম লিখতে । তিনি লিখেছেন, "আমাদের গোটা প্রজন্মটা পঞ্চাশের পর...
26/02/2026

🖌️ Rajeshree বাবুর আমার করা একটা পোস্ট এ কমেন্ট পরে বাধ্য হলাম লিখতে । তিনি লিখেছেন, "আমাদের গোটা প্রজন্মটা পঞ্চাশের পর জাস্ট পঙ্গু হয়ে যাবো এভাবে চললে...😢"।

✍️কথাটি আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। আজ ডাক্তার হিসেবে আমি যে চিত্রটা রোজ চেম্বারে দেখছি, তা সত্যিই শিউরে ওঠার মতো।

আপনার সন্তান বা আপনি যদি IT Sector এ কাজ করেন , তাহলে এই পোস্ট টা আপনার জন্যই I

👨‍⚕️আজকাল চেম্বারে ঢুকলে একটা দৃশ্য খুব চেনা হয়ে গেছে। কুড়ি বা ত্রিশের কোঠায় পা দেওয়া তরুণ-তরুণীরা দরজায় হাত দিয়ে ঢুকছেন, চোখেমুখে ক্লান্তি আর হাতে একগাদা রিপোর্ট। সবার মুখে একটাই কথা— "ডাক্তারবাবু, পিঠের ব্যথায় সোজা হয়ে বসতে পারছি না" অথবা "ঘাড়টা যেন পাথরের মতো শক্ত হয়ে আছে।"

আগে আমরা জানতাম স্পন্ডিলোসিস মানেই ৪৫ বা ৫০ ঊর্ধ্বদের রোগ। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ৩৫ বছর বয়সেই মানুষ স্পন্ডিলোসিসের শিকার হচ্ছেন।

❓কেন এই পিঠ ও ঘাড়ের যন্ত্রণা?
আইটি সেক্টরে কাজের ধরণটাই আসল ভিলেন। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
• ভুল ভঙ্গিতে বসা (Poor Posture): কুঁজো হয়ে বসা বা ল্যাপটপ কোলে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে।

• বিছানায় ল্যাপটপ: আরাম করে বিছানায় আধশোয়া হয়ে কাজ করা মেরুদণ্ডের জন্য 'সাইলেন্ট কিলার'।

• ভিটামিন D3-এর অভাব: সারাদিন এসি ঘরে বসে কাজ, রোদ লাগানোর সময় নেই। ফলে শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ কমে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে।

• মাংসপেশির জড়তা: ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড় ও পিঠের পেশিগুলো রক্ত চলাচলের অভাবে জমে যায়।

📱"টেক্সট নেক" (Text Neck) সিনড্রোম
শুধু ল্যাপটপ নয়, বিরতির সময় যখন আমরা মাথা নিচু করে মোবাইল স্ক্রল করি, তখন মেরুদণ্ডের বারোটা বাজে।

👀জানেন কি? আপনি যখন ৬০ ডিগ্রি কোণে মাথা নিচু করে ফোন দেখেন, তখন আপনার ঘাড়ের ওপর প্রায় ২৭ কেজি ওজনের চাপ পড়ে! অর্থাৎ ৫-৬ বছরের একটি আস্ত বাচ্চাকে ঘাড়ে নিয়ে আপনি সারাদিন ঘুরছেন। এখান থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর ঘাড়ের ব্যথা ও নার্ভের সমস্যা।

💺অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, "ডাক্তারবাবু, তাহলে কি দামী চেয়ার কিনে নেব?" আসল সত্যি হলো— চেয়ারের দাম নয়, আপনার বসার ভঙ্গি বা Posture-ই আসল। একটি সঠিক চেয়ারের ৩টি গুণ থাকা চাই:

1. লাম্বার সাপোর্ট: যা মেরুদণ্ডের নিচের স্বাভাবিক বাঁককে সাপোর্ট দেবে।
2. সঠিক উচ্চতা: পা মাটিতে সমান থাকবে এবং হাঁটু-কোমর যেন ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে।
3. আর্মরেস্ট: টাইপ করার সময় কনুই যেন ঝুলে না থাকে। মাউস ও কি-বোর্ড যেন হাতের খুব কাছে থাকে।

🧑‍💻সমাধানের উপায়: এরগোনোমিক্স (Ergonomics)
• মনিটরের উচ্চতা: কম্পিউটার স্ক্রিন যেন আপনার চোখের সোজাসুজি থাকে। ঘাড় নিচু করে কাজ করবেন না।
• পিঠের সাপোর্ট: চেয়ারে বসার সময় পিঠের নিচের অংশ যেন সাপোর্ট পায়। প্রয়োজনে ছোট কুশন ব্যবহার করুন।
• পায়ের অবস্থান: পা ঝুলিয়ে না রেখে মাটিতে সমানভাবে রাখুন।

⏪মেরুদণ্ডকে বাঁচাতে এই সহজ নিয়মটি মেনে চলুন।

৩০:৩০ নিয়ম: প্রতি ৩০ মিনিট টানা বসে কাজ করার পর অন্তত ৩০ সেকেন্ডের জন্য উঠে দাঁড়ান। একটু হাত-পা টানটান (Stretching) করুন বা একটু পায়চারি করুন। এতে পেশিগুলো আবার সচল হয়ে ওঠে।

🌞ভিটামিন D3 ও জীবনযাত্রা
মনে রাখবেন, শুধু ব্যথার ওষুধ খেলে হবে না। হাড়কে ভিতর থেকে শক্ত করতে হবে।
• প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট সকালের রোদ গায়ে লাগান।
• প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন D3 সাপ্লিমেন্ট নিন।
• প্রচুর জল খান এবং নিয়মিত ঘাড় ও পিঠের স্ট্রেচিং ব্যায়াম করুন।

🩺আপনার শরীরটা আপনার সবথেকে বড় সম্পদ। কোডিং বা প্রজেক্ট ডেডলাইন জরুরি ঠিকই, কিন্তু নিজের মেরুদণ্ডকে অবহেলা করে নয়। পঞ্চাশের পর 'পঙ্গু' হয়ে বেঁচে থাকা নয়, বরং মাথা উঁচু করে হাঁটুক আমাদের এই প্রজন্ম। আজ থেকেই নিয়মগুলো মেনে চলুন, দেখবেন বয়স ৩৫ হোক বা ৪৫— পিঠের ব্যথা আপনাকে হার মানাতে পারবে না।

🔍প্রথম কমেন্ট এ দেখুন সঠিক ভাবে বসার ছবি এবং angle দেয়া আছে I Rajarshi De Biswas fans

“এই দুই নম্বর ওষুধটা কি গ্যাসের ওষুধ লিখলেন ডাক্তারবাবু? ১০ দিনের জন্য? ওটা লিখতে হবে না… ওটা তো আমি রোজ খাই!”✍️আমি পেনট...
23/02/2026

“এই দুই নম্বর ওষুধটা কি গ্যাসের ওষুধ লিখলেন ডাক্তারবাবু? ১০ দিনের জন্য? ওটা লিখতে হবে না… ওটা তো আমি রোজ খাই!”

✍️আমি পেনটা থামিয়ে ওনার দিকে তাকালাম। চশমাটা ঠিক করে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “মানে? আপনি প্রতিদিন এই ওষুধ খাচ্ছেন? কোনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই?”

📍রমেশ বাবু হাসিমুখে উত্তর দিলেন, “এই তো বছর পাঁচেক হয়ে গেল… এখন তো এটা অভ্যেস হয়ে গেছে। সকালে একটা না খেলে দিনটা ঠিক জমে না।”

আমাদের চারপাশে এমন রমেশ বাবু বা মুখার্জি বাবু অজস্র আছেন। আমরা ভাবি ‘গ্যাসের বড়ি’ তো খুব সাধারণ একটা জিনিস। কিন্তু এই ‘নির্দোষ’ মনে হওয়া ওষুধটা যদি বছরের পর বছর খান, তবে শরীরে কী কী ঘটতে পারে জানেন?

🔬 এই ওষুধ আসলে আপনার শরীরে কী করে?

আমাদের পাকস্থলীর দেওয়ালে “Parietal Cell” নামে কিছু বিশেষ কোষ থাকে। এদের কাজ হলো খাবার হজম করার জন্য অ্যাসিড (Hydrochloric Acid বা HCl) তৈরি করা।
আপনি যখনই এই গ্যাসের ওষুধ (যাকে আমরা বিজ্ঞানের ভাষায় বলি PPI - Proton Pump Inhibitor) খান, তখন এটি গিয়ে ওই কোষগুলোর ‘অ্যাসিড তৈরির পাম্প’ বা রাস্তাটাকে একদম তালা মেরে বন্ধ করে দেয়। ফলে পেট আর আগের মতো অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না। শুরুতে আপনার মনে হয় ‘আহ্, বুক জ্বালা কমল, শান্তি!’ কিন্তু এই তালাটা যদি ৫ বছর ধরে লাগানো থাকে, তবেই বিপদ শুরু হয়।

🛡️ অ্যাসিড আপনার শত্রু নয়, ‘বডিগার্ড’
আমাদের পাকস্থলীর অ্যাসিড কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের জন্য খুব জরুরি। কেন?

1. হজম: বিশেষ করে মাছ-মাংস বা প্রোটিন হজম করতে এই অ্যাসিড মাস্ট। অ্যাসিড না থাকলে খাবার পেটে পচতে থাকে (Fermentation), আর তা থেকেই উল্টে আরও বেশি গ্যাস ও দুর্গন্ধযুক্ত ঢেকুর হয়।
2. জীবাণুনাশক: অ্যাসিড হলো শরীরের ন্যাচারাল ‘স্যানিটাইজার’। খাবার বা জলের সাথে যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আমাদের পেটে ঢোকে, অ্যাসিড তাদের সাথে যুদ্ধ করে মেরে ফেলে।

⚠️ দিনের পর দিন গ্যাসের ওষুধ খেলে যে বিপদগুলো ওত পেতে থাকে:
• হাড়ের বারোটা বেজে যাওয়া: ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজগুলো শরীরে শোষিত হওয়ার জন্য অ্যাসিডের উপস্থিতি জরুরি। ৫ বছর ধরে ওষুধ খেয়ে অ্যাসিড বন্ধ রাখলে হাড় খড়কুঠোর মতো ভঙ্গুর হয়ে যায় (Osteoporosis)।

• হাত-পা ঝিঁঝিঁ করা: ভিটামিন B12 শোষণের জন্য অ্যাসিড লাগে। নিয়মিত গ্যাসের ওষুধ খেলে শরীরে B12 কমে যায়, ফলে স্নায়ু দুর্বল হয়, হাত-পা অবশ ভাব লাগে এবং স্মৃতিশক্তিও কমতে থাকে।

• কিডনির নিরব ক্ষতি: অনেক সময় দেখা যায় কোনো লক্ষণ ছাড়াই কিডনির ছাঁকনি ব্যবস্থা নষ্ট হতে শুরু করেছে (Chronic Kidney Disease)।

• পেটের ইনফেকশন: অ্যাসিড কম থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন C. difficile) পেটে বাসা বাঁধে, যা থেকে বারবার ডায়রিয়া বা পেটের অসুখ হতে পারে।

✅ তাহলে উপায় কী?
ওষুধটাকে নিজের ‘বস’ বানিয়ে ফেলবেন না। যদি রমেশ বাবুর মতো আপনারও এই অভ্যেস থাকে, তবে:
• হুট করে বন্ধ করবেন না: দীর্ঘদিনের অভ্যেস হঠাৎ ছাড়লে হিতে বিপরীত হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ডোজ ধীরে ধীরে কমান।
• আসল রোগ সারান: আপনার গ্যাস কি লিভারের সমস্যার জন্য? নাকি খাবারে অনিয়ম? নাকি পেটে কোনো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ? আগে সেটা জানুন।
• জীবনযাত্রা বদলান: পর্যাপ্ত জল খান, সময়মতো খাবার খান এবং প্রোবায়োটিক (যেমন টক দই) ডায়েটে রাখুন।

( আমি কিন্তু গ্যাসের ডাক্তার নয় , অসুবিধে হলে মেডিসিন বা গ্যাস্ট্রো ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন 🙏)
fans

"ডাক্তারবাবু, ১০০০০ স্টেপস ডেইলি কি হাঁটতেই হবে? আর একটা কথা, আমার স্ত্রীর হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস আছে, ও কি আমার সাথে...
20/02/2026

"ডাক্তারবাবু, ১০০০০ স্টেপস ডেইলি কি হাঁটতেই হবে? আর একটা কথা, আমার স্ত্রীর হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস আছে, ও কি আমার সাথে হাঁটতে পারবে?"

🔍চেম্বারের নিস্তব্ধতা ভেঙে অনিমেষবাবু যখন এই জোড়া প্রশ্নটা করলেন, তখন ওনার চোখেমুখে এক অদ্ভুত দ্বিধা। পাশে বসা ওনার স্ত্রী মিতাদেবীর মুখটা একটু ম্লান। হয়তো মনে মনে ভাবছিলেন, হাঁটা মানেই তো হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ, আর হাড় যেখানে ক্ষয়ে যাচ্ছে সেখানে হাঁটলে কি বিপদ আরও বাড়বে?

🖌️আমি পেনটা সরিয়ে রেখে ওনাদের দিকে তাকালাম। এই '১০,০০০ পা' আর 'আর্থ্রাইটিসে হাঁটা'—এই দুটো বিষয় নিয়ে মানুষের মনে পাহাড়প্রমাণ ভুল ধারণা জমে আছে।

✍️১০,০০০ সংখ্যাটা কি সত্যিই ধ্রুবসত্য?

অনিমেষবাবুকে সহজ করে বোঝালাম, এই ১০,০০০ সংখ্যাটা আসলে কোনো ডাক্তার বা বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেননি। ১৯৬০-এর দশকে জাপানি একটি কোম্পানি তাদের স্টেপ-কাউন্টার মেশিন বিক্রি করার জন্য 'Manpo-kei' (১০,০০০ পা মাপার যন্ত্র) নামে একটা চমৎকার মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করেছিল। ব্যাস, সেই থেকেই এই সংখ্যাটা আমাদের মাথায় গেঁথে গেছে।

📚 সাম্প্রতিক অনেক গবেষণায় দেখা গেছে:

• ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ পা: হার্টের রোগ বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এই সংখ্যাটাই যথেষ্ট কার্যকরী।
• ধারাবাহিকতা: আপনি একদিন ১০,০০০ হাঁটলেন আর বাকি চারদিন সোফায় বসে থাকলেন, তাতে লাভ নেই। বরং রোজ ৫,০০০-৬,০০০ পা হাঁটা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
• তীব্রতা (Intensity): শুধু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটা নয়, একটু ঘাম ঝরিয়ে জোরে হাঁটা (Brisk Walking) অল্প সময়ে বেশি উপকার দেয়।

🚶‍♀️আর্থ্রাইটিস নিয়ে কি হাঁটা যায়?
মিতা বৌদির দিকে ফিরে বললাম, "বৌদি, আপনি কি জানেন—বসে থাকা বা একদম না হাঁটা আপনার হাঁটুর জন্য উল্টে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে?"

আর্থ্রাইটিস মানেই বিশ্রাম নয়। হাড়ের জয়েন্টের স্বাস্থ্যের জন্য 'মুভমেন্ট' অত্যন্ত জরুরি। কেন, সেটা একটু বুঝিয়ে বলি:
📍লুব্রিকেশন: আমাদের জয়েন্টের ভেতরে একধরণের তরল থাকে (Synovial Fluid)। আপনি যখন হাঁটেন, সেই তরলটা পুরো জয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে, যা হাড়ের ঘর্ষণ কমায়। অনেকটা ইঞ্জিনে মোবিল দেওয়ার মতো।
📍পেশির শক্তি: নিয়মিত হাঁটলে হাঁটুর চারপাশের পেশিগুলো মজবুত হয়। পেশি শক্তিশালী হলে শরীরের ভার হাড়ের ওপর কম পড়ে।
📍ওজন নিয়ন্ত্রণ: হাঁটু ক্ষয়ের প্রধান শত্রু হলো শরীরের বাড়তি ওজন। হাঁটাচলা করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা পরোক্ষভাবে হাঁটুকে আরাম দেয়।

🙏অনিমেষবাবুকে বললাম, "উনি আপনার সাথে হাঁটতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু ওনাকে আপনার সমান তালে দৌড়ালে চলবে না। ওনার জন্য কিছু নিয়ম আলাদা"

1. সঠিক জুতো: শক্ত চটি বা স্যান্ডেল একদম নয়। ভালো কুশন দেওয়া স্পোর্টস শু (Cushioned Shoes) মাস্ট।
2. রাস্তার ধরণ: খুব শক্ত কংক্রিটের রাস্তায় বা এবড়োখেবড়ো জমিতে না হেঁটে সমতল ঘাস বা মাটির পথে হাঁটা ভালো।
3. গতি ও সময়: শুরুতে খুব জোরে হাঁটার দরকার নেই। যদি হাঁটুতে ব্যথা বাড়ে, তবে সঙ্গে সঙ্গে বিরতি নিন।
4. বরফ সেঁক: হাঁটার পর যদি হাঁটুতে একটু গরম ভাব বা অস্বস্তি লাগে, তবে ১০-১৫ মিনিট আইস প্যাক দিয়ে সেঁক দিন।

🩺অনিমেষবাবু আর মিতা বৌদি যখন চেম্বার থেকে বেরোলেন, ওনাদের দুজনের মুখেই তখন অনেকটা স্বস্তি। আমি শুধু মনে করিয়ে দিলাম—শরীরটা মেশিন নয়। নম্বর মিলিয়ে ১০,০০০ করার চেয়ে নিজের সামর্থ্য বুঝে সচল থাকাটাই আসল সুস্থতা।
fans

18/02/2026

প্রতিদিনের ব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে নেবেন না।

CTVN PLUS–এর পডকাস্টে আমি ব্যথার বিভিন্ন কারণ ও তার আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, কোমর ব্যথা, সারভাইক্যাল সমস্যা, জয়েন্ট পেইন, স্পোর্টস ইনজুরি, নার্ভ পেইন এবং নন-সার্জিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেছি।

❎ব্যথা সহ্য করা সমাধান নয়।
সঠিক ডায়াগনোসিস ও পরিকল্পিত চিকিৎসাই আপনাকে স্বস্তির জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।

পুরো পডকাস্টটি দেখুন এবং সচেতন থাকুন।
fans
Dr Subhasish Pati CTVN AKD PLUS

Address

16, Hill Cart Road
Siliguri
734001

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+917003996890

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Subhasish Pati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr Subhasish Pati:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram