21/04/2026
চেম্বারের দরজাটা ঠেলে সুকুমার বাবু ভেতরে ঢুকলেন। মুখে একগাল হাসি, হাতে এক ব্যাগ টাটকা সবজি। মাসখানেক আগে এই মানুষটাই যখন এসেছিলেন, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। আজ যেন অন্য মানুষ!
🧓🏻"ডাক্তারবাবু, আপনার ম্যাজিক তো কাজ করে দিয়েছে! হাঁটুর ব্যথা তো এখন একদম নেই বললেই চলে। কিন্তু মনে মনে একটা ভয় হচ্ছে—এই যে ভালো আছি, এটা ধরে রাখব কী করে? যাতে আর ওই কষ্ট না হয়, তার একটা দাওয়াই দিন তো!"
👨🏻⚕️আমি কলমটা টেবিলের ওপর রেখে তাকিয়ে একটু হাসলাম। বললাম, "বসুন সুকুমার বাবু। সব বলছি। দেখুন, এটা তো বয়সজনিত রোগ, বয়সকে তো আমরা কমাতে পারব না, কিন্তু রোগটা আটকানো যাবে! আপনার এই সুস্থতা কিন্তু কোনো ম্যাজিক নয়, এটা আপনার লাইফস্টাইলের ওপর নির্ভর করছে।"
🧓🏻সুকুমার বাবু মন দিয়ে শুনছেন দেখে আমি বলতে শুরু করলাম:
🖌️"সুকুমার বাবু, আমাদের হাঁটুর জয়েন্টের ভেতর একধরণের তরল থাকে, যাকে আমরা বলি সাইনোভিয়াল ফ্লুইড—চলতি ভাষায় ওটাই হলো আপনার হাঁটুর 'জেলি'। আপনি যখন নিয়ম করে দিনে দু’বার ব্যায়াম করবেন, তখন হাঁটুতে রক্ত চলাচল বাড়ে আর এই জেলি তৈরির প্রক্রিয়াটা সচল থাকে। ফলে হাড়ের ঘর্ষণ কমে যায়।"
আমি একটু থেমে যোগ করলাম, "আর সবথেকে বড় কথা, ব্যায়াম করলে মস্তিস্ক থেকে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। এটা শরীরের একদম প্রাকৃতিক পেইনকিলার! তাই ওষুধ ছাড়াই আপনার মন ফুরফুরে থাকবে আর ব্যথাও কম লাগবে।"
🔎"আপনার ঊরুর পেশি (Quadriceps) যত শক্তিশালী হবে, শরীরের ওজনটা সরাসরি হাড়ের ওপর না পড়ে পেশিগুলো ভাগ করে নেবে। অনেকটা গাড়ির শক-অ্যাবজর্বারের মতো! তাই ব্যায়াম বন্ধ করলে কিন্তু বিপদ।"
❌"ওজনটা কিন্তু আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। মনে রাখবেন, শরীরের ওজন যদি মাত্র ১ কেজি বাড়ে, হাঁটুর ওপর কিন্তু চাপ পড়ে প্রায় ৪ কেজি! আপনার জয়েন্টগুলো এত বাড়তি ভার সইতে পারে না, তাই ওজন বাড়লেই ব্যথা ফিরে আসবে।"
🎯"সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা এক্কেবারে কমিয়ে দিন। একটা প্ল্যান করে নিন সুকুমার বাবু। ওপরে কাজ থাকলে এমনভাবে গুছিয়ে নিন যাতে দিনে একবার কি বড়জোর দু’বার ওপরে উঠতে হয়। বারবার ওঠানামা করা মানেই হাঁটুর আয়ু কমিয়ে দেওয়া।"
🔎"বাথরুমে কিন্তু আর নিচে বসা চলবে না। কমোড ব্যবহার করা মানেই হাঁটুর ওপর ৯০ শতাংশ চাপ কমিয়ে দেওয়া। আর প্রতিদিন নিয়ম করে সমতলে আধঘণ্টা হাঁটুন।"
🧓🏻সুকুমার বাবু একটু ইতস্তত করে বললেন, "ডাক্তারবাবু, খাবারের ব্যাপারে কী করব? পাড়ার লোকজন তো বলছে এটা খাবেন না, ওটা খাবেন না..."
আমি হাসলাম। "খাবার নিয়ে তো আপনাকে আগেও বলেছি— প্রতিবেশীর কথা শুনে নয় কিন্তু! নিজের শরীরের ভাষা বুঝুন। কোনো বিশেষ খাবার খেলে যদি আপনার মনে হয় ব্যথা বাড়ছে, তবেই সেটা বন্ধ করবেন। ঢালাওভাবে সবার কথা শুনে ডায়েট করবেন না।"
🩺সুকুমার বাবু আশ্বস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমি ওনার কাঁধে হাত রেখে বললাম, "এই নিয়মগুলো মাথায় রাখুন সুকুমার বাবু। দেখবেন বিনা ওষুধেও আপনি দারুণ ভালো থাকবেন!"
🧓🏻সুকুমার বাবু হাসিমুখে বিদায় নিলেন। আমি ভাবলাম, শুধু সুকুমার বাবু কেন, আমাদের ঘরে ঘরে তো এমন অনেক সুকুমার বাবু আছেন! তাই আপনিও যদি কোনো সুকুমার বাবু কে চেনেন তাহলে এই নিয়ম গুলো শেয়ার করবেন কিন্তু I@top fans