19/03/2026
প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman, ধারণা করি আপনি আমার লেখা পড়েন।
পূর্বে জুলাইয়ে সন্তান হারানো অসহায় এক মা, ক্যান্সারে আক্রান্ত আরেক সন্তানকে বাঁচাতে তার অসহায়ত্বের গল্প আমি তুলে ধরার ফলে ঘটনাটি আপনার নজরে আসায়
ওই মায়ের সন্তানের চিকিৎসা ভার আপনি বহন করেছেন। পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু পরামর্শ দিয়ে একটা পোস্ট করেছিলাম, এরপর আপনার কিছু তড়িৎ সিদ্ধান্তে দেখেছি আমার পরামর্শের কয়েকটি মিল আছে। ধর্মীয় গুরুদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি-ভাতা শুভসূচনা অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় ফ্যামিলি কার্ড ইমপ্লিমেন্ট নিয়ে একটা কোটেশন পেলাম আমার পূর্বের এক লেখার সঙ্গে মিল।
তাই ধারণা করতেছি আমার লেখাও হয়ত আপনার চোখের সামনে পৌঁছায়। এই লেখাটা একান্তই আপনার উদ্দেশ্যে।
আপনার প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক৷ যারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন, তারা সবাই মার্কা ভালোবেসে কিংবা দলের প্রার্থীকে পছন্দ করে ভোট দিয়েছেন এমন নয়; অনেকেই আছেন যারা আপনার ইমপ্রেসিভ কথাবার্তায়, প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস রেখে ‘সঙ্গত ক্ষোভ’ থাকা সত্ত্বেও ধানের শীষে সিল মেরেছেন। এই সংখ্যাটা মোটেও কম নয়। এরাই ছিল আপনার সরকার গঠনের পেছনে ডিসাইডিং ফ্যাক্টর।
এই মানুষগুলো খুশী হচ্ছেন যখন আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে পুরোনো ধ্যান-ধারণার রাজনীতি পরিবর্তনে অনেক স্টেপ নিয়েছেন, আবার কিছু ভুল ডিসিশনেও আশাহত হচ্ছেন। তেমন একটি ডিসিশন ছিল সড়ক, রেলপথ, নৌপরিবহণ এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শেখ রবিউল আলম রবির কাঁধে তুলে দেওয়াটা।
রবি সাহেব মানুষের কাছে বিতর্কিত মুখ। এমন একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন, এরমধ্যেও কেউ কেউ ভেবেছেন হয়ত কাজের মাধ্যমে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে পারবে তিনি।
আমিও সেদিকে নজর দিয়েছি। কিন্তু খেয়াল করলাম উনার মধ্যে বোধহয় সেই ধরনের কোনো চিন্তাই নাই৷ দৃশ্যত কোন চেঞ্জ তো এখনো দেখাতে পারেন নাই বরং তিনি উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে সরকারের ইমেজ ক্ষুন্ন করতেছেন।
মন্ত্রী হওয়ার অল্প দিনের মাথায় ‘সমঝোতারভিত্তিতে সড়কে চাঁদা আদায় করা অন্যায় নয়' এই টাইপের স্টেটমেন্ট শুধুই ব্লাডারই করে নাই সঙ্গে সড়কে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দিলেন একপ্রকার। তিনি হয়ত বলেছেন, শ্রমিকদের কল্যাণে যেসব সমিতি বা পরিষদ আছে সেসবের কথা। উনার এটা অজানা থাকার কথা নয় সড়কে চাঁদাবাজি হয় এসব নামেই।
সড়কে চাঁদা তো আর এভাবে হয় না গাড়ি থামিয়ে বলবেন, ১০০ টাকা দেন! চাঁদাবাজি হয় মূলত বিভিন্ন ব্যানারে, আগে আওয়ামী লীগ থাকতে মুজিব কল্যাণ পরিষদ, মুজিব এই পরিষদ ওই পরিষদ, এসব ভুয়া রশিদ ধরিয়ে দিয়ে। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, ফলে পরিষদের আগে জিয়া যোগ করে চাঁদাবাজি চলে। দিনশেষে এর দায়ভার আসে দলের ওপর।সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য এই ধরনের চাঁদাবাজদেরকে একপ্রকার লাইসেন্স দিয়ে দিল ‘সমঝোতারভিত্তিতে তোরা চাঁদাবাজি কর!'
এ বক্তব্য বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচলিত নেরেটিভ এস্টাবলিশে ফুয়েল জুগিয়েছে বিরোধীদের। সর্বশেষ এই ঈদযাত্রায় উনি গলাবাজি করেও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।
ঈদচলাচলে ভাড়া বারতি আদায় করে, এটা স্বাভাবিক রীতি হয়ে গেছে। সবাই জানেনও৷ দায়িত্বরত মন্ত্রী হিসেবে উনার উচিত ছিল পরিবহন মালিকদেরকে নানানভাবে চাপে রাখা যাতে করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার নির্দেশনা না দিতে পারে। তা না করে উল্টো তিনি আগবাড়িয়ে ব্ল্যাকচেক দিয়ে পরিবহন মালিকদের হাতে ছুরি তুলে দিল যাত্রীদের গলায় চালাতে!
‘ভাড়া কোথাও বেশি নিচ্ছে না, উল্টো আগের থেকেও কম রাখা হচ্ছে’—এসব ভোগাস কথাবার্তা বলে সড়কে নৈরাজ্য করার পারমিট দিয়ে দিল।
২৬ রোজা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বারতি (৫০/১০০) ভাড়া আদায় করলেও এই দুই দিনে ডাকাতি করা হয়েছে গরু বাজারের দামাদামির মতো। কোথাও কোথাও দিগুণ/তিনগুণ ভাড়াও আদায় করেছে। কোনো কার্যকর তদারকি নাই, এ্যাকশনও নাই। সড়কে অতিরিক্ত ফোর্স নাই৷ অথচ ইন্টেরিমের সময়ে মোবাইল কোর্ট ছিল। তাৎক্ষণিক এ্যাকশন নিছে। মানুষজন স্মরণকালের একটা স্বস্তিদায়ক ঈদ উপভোগ করেছেন।
এবার মানুষের প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। একটা নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়, অথচ সড়কে পরিবহনগুলোর সিন্ডিকেট চালাচ্ছে নৈরাজ্য। রেলপথ, সড়ক এবং নৌপথে গতকাল এ একদিকে কতজন দূর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন, আল্লাহ মাবুদ জানেন। দূর্ঘটনা বলে কয়ে আসে না, সত্য। কিন্তু এ দূর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো যায় সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সরকারের ক্যাম্পেইন, সড়কে শৃঙ্খলা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।
মন্ত্রী রবি এসব কিছুতেই পুরোপুরিভাবে ফেইল করেছেন।
সদরঘাটে সেচ্ছাসেবী একটা টিম দেওয়ার বাইরে রোজায় ঈদ যাত্রায় দৃশ্যত কোনো কাজই দেখাতে পারেন নাই তিনি৷ পরিবহনে ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য বন্ধ করতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ তো নিতে পারেন নাই, উল্টো মিথ্যা সাউন্ড বাইট দিয়ে পরিবহন মালিকদেকে মহা-উৎসবের সঙ্গে ডাকাতির জন্য লাইসেন্স দিয়ে দিলেন। ভারতি ভাড়ার ফলে গার্মেন্টস কর্মীরা ঢাকায় চলাচলে ফুচকে বাস রিজার্ভ করে ফিরছেন বাড়ি, মহাসড়কে নেমে গেল ফিটনেসবিহীন এসব অচল বাস। চাপ বাড়ছে মহাসড়কে। দূর্ঘটনা ঝুঁকিও বেড়ে গেল। একই অবস্থা ট্রেনে। সড়ক, নৌপথ কোথাও শৃঙ্খলা নাই।
তারেক রহমান, আপনি হয়ত ৬ মাস পরে সব মন্ত্রণালয়ের কাজটাজের ওপরে রিপোর্ট করে রদবদল আনবেন, আমি মনে করি শেখ রবিউল আলমের ওপরে ৬ মাস অপেক্ষা করাও উচিত হবে না। উনাকে এখনই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিন। রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় চালানোর মতো যথেষ্ট কেইপেবল উনাকে মনে হচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ সুযোগ পেলে বোধহয় আরও ভালো পারফর্ম করতে পারবেন।
আপনার সরকারের ইমেজ রক্ষা করতে হলে এখনই এসব বিষয়ে ইমিডিয়েট সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পাবলিক পালস বুঝে সেই অনুযায়ী এক্ট করা আপনার জন্য জরুরি।