20/07/2025
।। জ্বর।।
বর্তমানে চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে জ্বর।
জ্বরবিহীন ঘর পাওয়া দুস্কর।
সারা দেশে বর্তমানে জ্বরের কারন গুলো নিন্মরুপ,
নরমাল ফ্লু,
ডেঙ্গু,
চিকুন গুনিয়া,
জিকা ভাইরাস
করোনা বা কোভিড ও
টাইফয়েড ফিভার।।
জ্বরের সাথে আছে
নাকে পানি সর্দি কাশি
ভয়ানক গা ব্যাথা
গিড়া ব্যাথা
মাথা ব্যাথা
বমি
পাতলা পায়খানা (বাচ্চাদের)
খাবার অরুচি
দুর্বলতা ।।
এইবারে রোগীদের জ্বরের তীব্রতা খুব বেশি
অনেক সময় ১০৫~১০৬ ডিগ্রী হয়ে যাচ্ছে।
গিড়া ব্যাথা এমনতর অসহ্য যে জোয়ান ছেলেকে ও লাঠি নিতে হচ্ছে হাটার সময়।
খাবার অরুচি দুর্বলতা অসহনীয় মাত্রায় ভোগাচ্ছে রোগিদের।
এইবার আসি সাধারণ মানুষ কেমনে এই জ্বরকে মোকাবেলা করে দিন কাটাবেন।।
যে কোনো ভাইরাস জ্বর ৩ থেকে ৫ দিন এক টানা থাকতে পারে। জ্বর ১০০ থেকে ১০৫~১০৬ পযর্ন্ত আসতে পারে এবং কমলে ১০১ এর নিচে নাও নামতে পারে। কাজেই জ্বর শুরু হওয়ার পরের বেলাতেই বা পরের দিন জ্বর কেনো কমছে না বলে সবাই অস্হির হয়ে যাচ্ছেন। এইক্ষেত্রে অস্থির হওয়া যাবে না। জ্বরের প্যাটার্ণটাই এইবার এই রকম। হাই টেম্পারিচার।
একদিনে ভাইরাস জ্বর কমিয়ে দেয়ার মতো কোনো মেডিসিন বা ম্যাজিক ডাক্তারদের এখনো জানা নাই। অনেকে এনটিবায়োটিক খেয়ে থাকেন। ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক কোনো কাজে লাগে না যদি না কোন ইনফেকশন না হয়ে থাকে।
জ্বর হলে বাচ্চা খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিবে, বড়রাও খেতে চাইবে না। মুখে সব তিতা লাগে। এই অরুচির প্রাথমিক কোনো চিকিৎসা নাই। সবার মতো আপনাকেও বুঝিয়ে শুনিয়ে অল্প অল্প করে পানি তরল খাবার জাউ স্যুপ শরবত বা বাচ্চা যেটা খেতে চায় (এমন কিছু দিবেন না যা আবার বমি, পাতলা পায়খানা ঘটায়) তাই খাওয়াবেন। প্রস্রাব যেন অন্তত ২৪ ঘন্টায় ৪ বার হয়। মুখে একদমই খেতে না পারলে, প্রস্রাব কমে গেলে, বমি বন্ধ না হলে বা খিঁচুনি হলে বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন দিতে হবে।
হালকা থেকে মাঝারি জ্বরে অর্থাৎ ১০০ থেকে ১০২°F হলে গা মুছে দিবেন। মুখে প্যারাসিটামল ঔষধ খাওয়াবেন। একবার ঔষধ খাওয়ানোর পর আবার ঔষধ বা সিরাপ দিতে অন্তত ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। আর প্যারাসিটামল (এইস বা নাপা )সাপোসিটারী দিতে হলে অন্তত ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে।
বেশী জ্বরে ১০২° F এর উপরে গেলে তাড়াতাড়ি জ্বর কমানোর প্রয়োজন হলে প্যারাসিটামল সাপোসিটার ব্যবহার করতে পারেন (যদিও এটা বাচ্চাদের জন্য অস্বস্তিকর)। এতে জ্বর হয়তো সাময়িকভাবে ১০২ এর নিচে নামতে পারে তবে পুরোপুরি যাওয়ার সম্ভাবনা কমই প্রথম তিনদিনের মধ্যে। একটা সাপোসিটারী দেয়ার ৮ ঘন্টার মধ্যে আরেকটা সাপোসিটারী দিতে পারবেন না। তবে ৬ ঘন্টা পর সিরাপ দিতে পারবেন জ্বরের তীব্রতা অনুযায়ী।।
জ্বরের ঔষধ প্যারাসিটামল ডাবল ডোজে (নাপা ওয়ান,নাপা এক্সটেন্ড, এইস এক্স আর) বা ঘন ঘন খাওয়ালে জ্বর পড়বে না। সহনশীল নরমাল ডোজ দিতে হবে। না হয় ক্ষতি হতে পারে।
এন্টিবায়োটিক দিলেই জ্বর ভালো হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক না। জ্বর নির্ভর করবে ভাইরাসের পরিমানের উপর, কতদিন এরা এক্টিভ থাকে তার উপর। রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর ও জ্বরের স্থায়ীত্ব নির্ভর করবে।।
জ্বরের ঔষধ ঘন ঘন খাওয়ানোর চেয়ে বাচ্চার যত্ন নিন। ভেজা গামছা বা সুতি কাপড় দিয়ে গা মুছে দিন। গরম ও নরম খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করুন,
সবচেয়ে বড় কথা বাচ্চাকে বিশ্রাম নিতে দিন।
ভালো ঘুমাতে দিন, ঘুমের মধ্যে জ্বর থাকলেও তাকে ঘুম ভাঙিয়ে জ্বরের ঔষধ খাওয়ানোর দরকার নাই।
থার্মোমিটার দিয়ে মেপে জ্বর ১০০ বা বেশী পেলেই জ্বরের ঔষধ খাওয়াবেন। গায়ে হাত দিয়ে গরম লাগা, জ্বর ৯৮, ৯৯°; জ্বরের আগে শীত শীতভাব, অস্থির হওয়া ইত্যাদি জ্বরের ঔষধ খাওয়ানোর কোন কারণ হতে পারে না।
কোনো ভাবেই ব্যাথানাশক ঔষধ খাওয়াতে যাবেন না।
ভল্টারিন ক্লোফেনাক টাফনিল জাতীয় ঔষধ কখনো খাওয়া যাবে না।
কিছু টাকা খরচ হলেও জ্বরের পরীক্ষা গুলো যদি পারা যায় করে নেওয়া উত্তম। ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া ফ্লু একি কম্বোটেস্টে করে নেয়া যায়। ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া এন্টিজেন পিসিআর পরীক্ষা গুলো বড়ো ল্যাবগুলোতে এখন হচ্ছে। সিবিসি করে দেখা লাগবে। ডেঙ্গুতে অনুচক্রিকা কমে গেলে সাবধান হতে হবে। ব্লাড প্রেসার কমে গেলে ভর্তি হয়ে স্যালাইন দিতে হবে। চিকেনগুনিয়া হলে গিড়া ব্যাথা অনেক দিন থাকবে। সেইক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জ্বর যদি এক সপ্তাহের বেশি হয় তফে টাইফয়েড পরীক্ষা বুকের এক্সরে, ইউরিন পরীক্ষা করে দেখতে হবে টাইফয়েড নিউমোনিয়া ইউরিন ইনফেকশন হলো কিনা। সেক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক দিতে হবে।
বয়স্ক হার্টের রোগী এজমা ব্রন্কাইটিস ক্যান্সার ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এইসব ভাইরাস গুলো বিপদজনক হয়ে দেখা দিতে পারে। সেইক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরানপন্ন হতে হবে।
মশা থেকে দুরে থাকুন
মশা নিয়ন্ত্রণ করুন
মশারি টাঙ্গান।
কারন বেশিরভাগই জ্বরই এখন মশাবাহিত ভাইরাস জনিত জ্বর।
সবাই সুস্থ থাকুন।।