22/12/2021
Homoeopathic medicine administration and views of Islam
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ এবং ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি পার্ট -১
(বিঃদ্রঃ এই সিদ্ধান্ত গুলো আমার নিজঃস্ব স্টাডি থেকে পাওয়া …একটি প্রশ্নের উত্তর খোজতে গিয়ে এই অনুধাবন টি এসেছে..নির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি কে সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে নয়..এটি আমার কোন ফতোয়া নয়… আরো কোন তথ্য বা মত থাকলে আপনারা শেয়ার করতে পারেন…)
“তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়।……….” আল কোরআন, সূরা বাকারা, আয়াত ২১৯ ।
”হে মুমিনগণ, নিঃসন্দেহ মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব নিশ্চয়ই হচ্ছে অপবিত্র ,শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত,। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা সফলকাম হও।” আল কোরআন, সূরা মায়িদাহ, আয়াত ৯০ ।
ইবনু ‘উমার(রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘উমার(রাঃ) মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলেনঃ অতঃপর জেনে রাখ মদ হারাম করে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা তৈরী হয় পাঁচ রকম জিনিস থেকেঃ আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব। আর মদ হল, যা বুদ্ধিকে বিলোপ করে।
সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৫৫৮১. [আহমাদ ৪৬১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৬৮), সূনান আবু দাউদ(ইফাঃ )
৩৬৩৬ ।
ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মদ, তা পানকারী, পরিবেশনকারী বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদক ও শোধনকারী, যে উৎপাদন করায়, সরবরাহকারী এবং যার জন্য সরবরাহ করা হয়- এদের সকলকে আল্লাহ লা‘নত করেছেন।
সূনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত) ৩৬৭৪।
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার(রহঃ) ..... ওয়ায়িল আল-হাযরামী(রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারিক ইবনু সুওয়াইদ জুকী(রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মদ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি তাকে বারণ করলেন, কিংবা মদ প্রস্তুত করাকে খুব জঘন্য মনে করলেন। তিনি [তারিক(রাযিঃ)] বললেন, আমি তো শুধু ঔষধ তৈরি করার জন্য মদ প্রস্তুত করি। তিনি বললেনঃ এটি তো(ব্যাধি নিরামক) ঔষধ নয়, বরং এটি নিজেই ব্যাধি। সহীহ মুসলিম ৫০৩৫-(১২/১৯৮৪) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৯৭৭, ইসলামিক সেন্টার ৪৯৮৫) ।
মিশ্রিত বস্তু সম্পর্কে
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুর এবং খেজুর মিশ্রিত করে 'নাবীয' তৈরী করতে এবং আধ-পাকা ও পাকা খেজুর মিশ্রিত করে 'নাবীয' বানাতে নিষেধ করেছেন” সূনান আবু দাউদ(ইফাঃ ) ৩৬৬১ ।
নাবীয (খেজুর ভেজানো পানি) গাঢ় হয়নি এবং নেশাগ্রস্ত হয়নি, তা পান করা বৈধ
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয আম্বারী (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য রাতের প্রথম ভাগে নাবীয প্রস্তুত করা হতো। তিনি তা পান করতেন, সেদিন সকালে, আগামী রাতে, পরবর্তী দিনে, এর পরের রাতে এবং পরদিন 'আসর পর্যন্ত। তবে যদি কিছু পরিশিষ্ট থেকে যেত, তা তিনি তার সেবাদানকারীকে পান করাতেন, কিংবা ফেলে দিতে নির্দেশ দিতেন” সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমি) ৫১২১-(৭৯/২০০৪) (আরও৫১২২-৫১৩২)
(ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫০৫৬, ইসলামিক সেন্টার ৫০৬৬) ।
গর্হিত প্রতিষেধক সম্পর্কে
মুহাম্মদ ইবন উবাদা (রহঃ) .... আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “মহান আল্লাহ রোগ এবং ঔষধ নাযিল করেছেন। আর তিনি প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ সৃষ্টি করেছেন। তাই তোমরা ঔষধ ব্যবহার করবে, তবে হারাম জিনিষ দিয়ে ঔষধ ব্যবহার করবে না” সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ ৩৮৩০), সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ )৩৮৩২ ।
নেশার বস্তু ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে।
মুসাদ্দাদ (রহঃ) ...আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। আর যে বস্তুর অধিক পানে নেশার সৃষ্টি হয় তা এক অঞ্জলীও পান করা হারাম” সূনান আবু দাউদ(ইফাঃ ) ৩৬৪৬ ।
বিখ্যাত সুন্নি মুসলিম স্কলার শেখ আল ইসলাম (ইবনে তাইমিয়াহ) (রহঃ)বলেছেন:
যদি অ্যালকোহল জলে পড়ে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয়, তবে কেউ এটি পান করেন, তাকে মদ পান করা হিসাবে বিবেচনা করা হয় না এবং অ্যালকোহল পান করার শাস্তি তার উপর বহন করা উচিত নয়, কারণ এর স্বাদ, রঙ বা গন্ধ কিছুই থাকে না ।
বিষয়টির সংক্ষিপ্তসার হিসাবে, অ্যালকোহলে মেশানো খাবার এবং পানীয় সম্পর্কিত ক্ষেত্রে দুটি পরিস্থিতি রয়েছে:
যেখানে অ্যালকোহল খাবার বা পানীয়ের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয় এবং এতে অদৃশ্য হয়ে যায়, এমনভাবে যাতে এর সংশ্লেষ আর থাকে না এবং পানীয়, (বা খাবার) এর রঙ, স্বাদ বা শর্তাবলী হিসাবে এর কোনও সন্ধান পাওয়া যায় না গন্ধ। এ জাতীয় জিনিস খাওয়া বা পান করা মোটেই খারাপ কিছু নয়।
শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমীন বলেছেন: যদি এই অ্যালকোহলটি কোনও কিছুর সাথে মিশ্রিত হয় এবং এটি যা মিশ্রিত হয় তাতে পুরোপুরি শোষিত হয় না এবং এতে অদৃশ্য না হয়, তবে সেই জিনিসটি হারাম হয়ে যায়, কারণ এই মিশ্রণ এটি দ্বারা প্রভাবিত হয়।
এই খাবার বা পানীয়তে অ্যালকোহলের উপস্থিতি এটিকে নিষিদ্ধ করে তোলে, এমনকি অ্যালকোহলের শতাংশ খুব কম হলেও ।
মালয়েশিয়ার ইসলামিক ধর্ম বিষয়ক জাতীয় কাউন্সিলের ফাতওয়া কমিটি ১৪, ১৬ জুলাই, ২০১১-এ খাদ্য, পানীয়, সুগন্ধি ও ওষুধে অ্যালকোহলের ব্যবহার সম্পর্কিত ফতোয়া সংশোধন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের বিবরণ, উপস্থাপনা এবং ব্যাখ্যাগুলির ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের হালাল প্রোডাক্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইউনিভার্সিটি পুত্র মালয়েশিয়া এবং এর আগে জাতীয় কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মালয়েশিয়ার ফতোয়া কমিটিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে ফতোয়া কমিটি নিম্নরূপে সিদ্ধান্ত নিতে সম্মত হয়েছে:
১. সমস্ত খামার্ (মদ) (خمر) এ অ্যালকোহল থাকে। তবে সব অ্যালকোহলই খামার্ নয়। খামার্ তৈরির প্রক্রিয়া থেকে প্রাপ্ত অ্যালকোহল হলো নাজ এবং হারাম।
২. খামার্ শিল্প থেকে প্রাপ্ত অ্যালকোহল নাজ নয়, তবে এটির মূল আকারে পান করা জায়েজ নয় কারণ এটি বিষাক্ত এবং মৃত্যু হতে পারে।
৩. সফট ড্রিঙ্কস যা প্রক্রিয়াজাত করা হয় বা খামার্ তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি করা না হয় এবং অ্যালকোহল ১% (ভি / ভি) এর নীচে থাকে তাহলে তা পান করা যাবে ।
৪) সফট ড্রিঙ্কস যা খামার্ তৈরির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে বা সামান্য অ্যালকোহল বা পাতিত অ্যালকোহল থাকে, তা হারাম।
৫. প্রাকৃতিক অ্যালকোহলযুক্ত ফল বা বাদাম বা শস্য এবং এর রস, বা খাবার বা পানীয় উৎপাদন প্রক্রিয়া চলাকালীন উপজাত হিসাবে উত্পাদিত অ্যালকোহল জাতীয় খাবার বা পানীয় খাওয়া বা পান করা যাবে না ।
৬. স্থিতিশীলতার উদ্দেশ্যে অ্যালকোহলযুক্ত স্বাদকারক, ঘ্রাণকারক বা রঙকারক উপকরণসমূহ যে গুলো খামার্ (মদ্ ) উৎস থেকে উৎপন্ন নয় সেসবযুক্ত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে যদি চূড়ান্ত পণ্যটিতে অ্যালকোহলের পরিমাণ উন্মাদক না হলে এবং অ্যালকোহল এর হার ০.৫ % অতিক্রম না করলে ।
৭. ঔষধ এবং আতরে দ্রাবক হিসাবে যে অ্যালকোহল রয়েছে (খামার উত্স থেকে নয়) ব্যবহৃত হচ্ছে তা নাজ নয় । অর্থাৎ অনুমোদন যোগ্য ।
উপরোক্ত কোরআন , হাদীস ও ফতোয়া থেকে সারসংক্ষেপে বলা যায় –
ইসলামের দৃষ্টিতে-
১.হাদীসে বর্ণিত খামার্ উৎস (আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব) থেকে উৎপাদিত অ্যালকোহল দিয়ে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ তৈরি ও ব্যবহার করা য়াবে না ।
২. অ্যালকোহল যুক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (ডাইলুশন, মাদার টিংচার ) সরাসরি গ্রহণ ও প্রদান করা যাবে না ।
৩. অ্যালকোহল যুক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (ডাইলুশন, মাদার টিংচার ) ডিস্টিল ওয়াটার বা অন্য কোন ভেহিকল / দ্রাবক এর সাথে প্রয়োগ করা যাবে যদি অ্যালকোহল সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয় (এবং ভালো হয় যদি এর স্বাদ, রঙ বা গন্ধ কিছুই না থাকে ।)
৪. অ্যালকোহল যুক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (ডাইলুশন, মাদার টিংচার ) ডিস্টিল ওয়াটার বা অন্য কোন ভেহিকল / দ্রাবক এর সাথে প্রয়োগ করলে সলুশন /ডোজ টিতে উল্লেখযোগ্য হারে (১% এর বেশি) অ্যালকোহল এর উপস্থিতি রাখা যাবে না । এবং অধিক হারে ডোজ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে ।
৫. উপরোক্ত শর্তাবলী চিকিৎসা , ঔষধ ক্রয় –বিক্রয় এমনকি যেকোন সংশ্লিষ্টতায় প্রযোজ্য হবে ।
২য় ভাগে হ্যানেমান এর এবং ক্লাসিকাল হোমিওপ্যাথির আলোকে এই অনুধাবন সমূহ যাচাই করার চেষ্টা করবো ।
ধন্যবাদ