15/02/2026
১২-১৩ ঘন্টা রোজা রেখে অটোফেজি হয়ে একদম তেলেসমাতি হয়ে যাবে- এমন ভাববেন না।
অটোফেজি শুরু হতে সাধারণত ১২–১৬ ঘণ্টা ফাস্টিং করা লাগে। অর্থাৎ যখন আপনি ইফতার করবেন তখন কেবল লিভারে জমা থাকা শুগার (গ্লাইকোজেন) খরচ হয়ে ফুরিয়ে এসেছে। এটা যথেষ্ট পরিমাণে খরচ না হতে অটোফেজি শুরুই হবে না, আর প্রপারলি অটোফেজি শুরু হতে মোটামুটি ১৮ ঘন্টা ফাস্টিং করতে হয়।
এখন আপনি বলতে পারেন- একটানা ১২ ঘন্টা ফাস্টিং করে গেলে কয়েকদিন পর কি অটোফেজি আরও অল্প সময়েই শুরু হয়ে যাবে না?
না, নিয়মিত ১২ ঘণ্টা ফাস্টিং করলে অটোফেজি “আরও আগেই” শুরু হয়ে যাবে এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
অটোফেজি কোনো সুইচ না যে আজ ১২ ঘণ্টা করলে কাল ১০ ঘণ্টাতেই অন হয়ে যাবে। এটা হরমোন + এনার্জি স্ট্যাটাস + কোষের স্ট্রেস এর উপর নির্ভর করে। ফাস্টিং করলে ইনসুলিন কমে, ফ্যাট ব্যবহার বাড়ে, তখন ধীরে ধীরে অটোফেজির সিগন্যাল আসে।
এসব আমার কথা নয়, এই ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এসেছে অটোফেজির তত্ত্বের জনক Yoshinori Ohsumi–এর কাজ থেকে।
বাস্তবে যা হয়ঃ
- ১২ ঘণ্টা ফাস্টিং এর পর গ্লাইকোজেন খালি হওয়া শুরু হয়
- ১৪–১৬ ঘণ্টা ফাস্টিং এর পর অটোফেজির সিগন্যালিং শুরু
- ১৮ ঘণ্টা+ ফাস্টিং এর পর প্রক্রিয়াটা আরও স্পষ্ট হয়
আপনি যদি প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা ফাস্টিং করেন তবে শরীর এতে অভ্যস্ত হয়। মানে সেই ১২ ঘণ্টা আর “স্ট্রেস” হিসেবে মনে করে না। ফলে উল্টোটা হয় অর্থাৎ অটোফেজি দ্রুত শুরু না হয়ে, বরং একই থ্রেশহোল্ডেই থাকে। যেমন আপনি প্রতিদিন হাঁটলে প্রথমে কিছুক্ষণ হাঁপান, পরে হাঁপান না, কিন্তু হাঁপাচ্ছেন না বলে দৌড়ানোর ফিটনেস চলে আসে না।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা। আপনি যদি ওয়েট ট্রেনিং করেন এবং মাসল ধরে রাখতে চান, তাহলেঃ
- ১২ ঘণ্টা ভালো “মেনটেইন্যান্স ফাস্টিং”
- ১৪–১৬ ঘণ্টা মাঝে মাঝে করলে অটোফেজি + ফ্যাট লস দুটোই পাবেন
- এর বেশি নিয়মিত করলে পারফরম্যান্স ও রিকভারি খারাপ হতে শুরু করবে
অতএব ১২-১৩ ঘন্টা রোজা রেখে অটোফেজির আলাপ করবেন না, অটোফেজির জন্য এখনও বাস্তবসম্মত মিনিমাম উইন্ডো ১৪–১৬ ঘণ্টাই।