30/01/2026
বর্তমানে আমরা সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কেমন জানি অস্থির হয়ে উঠেছি। সবকিছুতেই কেমন একটা তাড়া অনুভব করি। দ্রুত হাঁটা, দ্রুত খাওয়া, একটা কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি আবার অন্যটা শুরু করা, ঘুমের সময়টা অন্যান্য কাজে ব্যয় করে মাঝরাতে খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা। বাইরের থেকে দেখলে মনে হয় লোকটা বেশ কর্মঠ। কিন্তু শরীরের ভেতরে এর প্রতিক্রিয়া ঘটে ঠিক উল্টো। শরীর তাড়াহুড়ো পছন্দ করেনা। শরীর কাজ করতে চায় নিয়ম মেনে, ছন্দে, ধীর-স্থিরভাবে।
আমরা যখন সব সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে থাকি, তখন শরীর এটাকে বিপদের সংকেত ভেবে নেয়। তখন শরীরে চালু হয় Fight or Flight Response।
এর ফলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন বেড়ে যায়, হার্টবিট দ্রুত হয়, রক্তচাপ বাড়ে। এই অবস্থা শরীরে অল্প সময়ের জন্য উপকারী হলেও দীর্ঘদিন থাকলে এটা শরীরে বিষের মতো কাজ করে। খেয়াল করলে দেখবেন বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই বদহজমে ভুগছেন। খাওয়ার পরে বুক জ্বালা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়া আমাদের নিত্যসঙ্গী। এর পেছনেও কিন্তু এই তাড়াহুড়ো দায়ী। তাড়াহুড়ো করে খাওয়া বা খাওয়ার সময় মানসিক চাপ থাকলে পাকস্থলীতে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, হজম এনজাইম ঠিকমতো নিঃসৃত হয় না, খাবার ঠিকভাবে ভাঙে না। দীর্ঘদিন তাড়াহুড়ো আর মানসিক চাপ চলতে থাকলে কর্টিসল বেড়ে যায়, ইনসুলিনের কাজ ব্যাহত হয়, থাইরয়েড ও রিপ্রোডাকটিভ হরমোনেও নেগেটিভ প্রভাব পড়ে। এর ফল হতে পারে হঠাৎ ওজন বাড়া বা কমা, ঘুমের সমস্যা, মেয়েদের অনিয়মিত পিরিয়ড, পুরুষদের শক্তিহীনতা ও ক্লান্তি।
তাড়াহুড়ো করা মানুষ সাধারণত একসাথে অনেক কিছু ভাবে, এক কাজের মাঝে আরেক কাজ ঢুকিয়ে দেয়, শরীর বিশ্রাম পেলেও ব্রেইন বিশ্রাম পায়না। এর ফল মনোযোগ কমে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়, এংজাইটি ও ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ব্রেইন বিশ্রাম না পেলে শরীর কখনোই সুস্থ থাকবে না। শরীর কোনো মেশিন না, যা সব সময় ফুল স্পিডে চলতে থাকবে। আপনি যত বেশি তাড়াহুড়ো করবেন শরীর তত বেশি প্রতিরোধ করবে।
ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।