Dr. Md. Ferdous Rayhan

Dr. Md. Ferdous Rayhan MBBS(DHAKA),BCS(HEALTH)
D-ORTHO(NITOR),MS-ORTHO(NITOR)
ORTHOPEDIC TRAUMA & SPINE SURGEON

29/04/2026

পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাদিন ক্লান্ত থাকার কারন

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সিঁড়ি ভাঙা এক প্রকার প্রাকৃতিক ব্যায়াম। কিন্তু অনেকের কাছে এই সিঁড়িই এখন আতঙ্কের নাম। এক ধাপ পা ফে...
28/04/2026

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সিঁড়ি ভাঙা এক প্রকার প্রাকৃতিক ব্যায়াম। কিন্তু অনেকের কাছে এই সিঁড়িই এখন আতঙ্কের নাম। এক ধাপ পা ফেলতেই হয়তো হাঁটুতে তীব্র টান লাগছে, অথবা কোমরের পাশ থেকে ব্যথাটা পায়ের দিকে নেমে আসছে। আমরা অনেকেই ভাবি বয়স বাড়ছে তাই এমন হচ্ছে, অথবা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িকভাবে চাপাচাপা দিয়ে রাখি। কিন্তু শরীরের এই সংকেতগুলো আসলে কী বলছে? ব্যথার জায়গা বুঝে সমস্যার উৎস শনাক্ত করাটা জরুরি, যাতে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়।

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় যদি বেশি কষ্ট হয়, তবে সাধারণত হাঁটুতে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ সমস্যায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠার চেয়ে নামার সময় হাঁটুর সামনের দিকে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। অনেক সময় হাঁটুর কার্টিলেজ বা নরম হাড় ক্ষয় হয়ে গেলে (Osteoarthritis) এই সমস্যা হয়। এছাড়া লিগামেন্টে চোট বা প্যাটেলার (Patella) অবস্থানগত সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে।

সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় যদি কষ্ট বেশি হয়, তবে সেটি হিপ জয়েন্টের সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। এই সমস্যায় সিঁড়িতে পা তোলার সময় কুঁচকিতে (Groin area) বা নিতম্বের পাশে ব্যথা হয়। অনেক সময় এই ব্যথা উরুর নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। হিপ জয়েন্টের হাড়ের ক্ষয়, ল্যাব্রাল টিয়ার (Labral Tear) বা জয়েন্টের ভেতরের পিচ্ছিলকারক রস কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ হতে পারে।

জয়েন্ট ভালো থাকলেও যদি উরুর পেশি (Quadriceps & Hamstrings) দুর্বল থাকে, তবে সিঁড়ি ভাঙার সময় শরীরের পুরো ওজন জয়েন্টের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে জয়েন্টে চাপ সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যথার সৃষ্টি করে।

সামান্য ব্যথা অবহেলা করলে পরবর্তীতে তা বড় ধরনের অপারেশন বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের দিকে গড়িয়ে যেতে পারে। যদি সিঁড়ি ভাঙতে নিয়মিত কষ্ট হয়, তবে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক্স ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে ফিজিওথেরাপি এবং সঠিক লাইফস্টাইল আপনাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

অনেকেই বলেন ঘুম থেকে উঠেই হাত-পা শক্ত লাগে, বেশি সময় বসে থাকলে উঠতে কষ্ট হয়,  কিংবা হাঁটুর জয়েন্ট নড়াতে গেলে টান লাগে। এ...
27/04/2026

অনেকেই বলেন ঘুম থেকে উঠেই হাত-পা শক্ত লাগে, বেশি সময় বসে থাকলে উঠতে কষ্ট হয়, কিংবা হাঁটুর জয়েন্ট নড়াতে গেলে টান লাগে। এই ধরনের সমস্যাকে আমরা সাধারণভাবে জয়েন্ট স্টিফনেস বা জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া বলি। অনেক সময় এটা বয়সের কারণে হয় ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে। সঠিক কারণ জানা না থাকলে সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তেও পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক জয়েন্ট স্টিফনেসের মূল কারণগুলোঃ-

🔸 অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)
এটা সবচেয়ে সাধারণ কারণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয় হতে থাকে। ফলে হাড়ের সাথে হাড় ঘষা লাগে এবং জয়েন্ট শক্ত লাগে, বিশেষ করে সকালে বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর।

🔸 রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)
এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম নিজের জয়েন্টকেই আক্রমণ করে। এতে জয়েন্ট ফুলে যায়, ব্যথা হয় এবং দীর্ঘ সময় স্টিফনেস থাকে বিশেষ করে সকালে ৩০ মিনিটের বেশি।

🔸 গেঁটে বাত (Gout)
রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে জয়েন্টে ক্রিস্টাল জমে যায়। এতে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা ও স্টিফনেস দেখা দেয়, সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলে বেশি হয়।

🔸 দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করা
এক জায়গায় অনেকক্ষণ বসে থাকা বা শুয়ে থাকলে জয়েন্টে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। এতে সাময়িক স্টিফনেস অনুভূত হয় যেটা নড়াচড়া শুরু করলে ধীরে ধীরে কমে যায়।

🔸 বারসাইটিস (Bursitis)
জয়েন্টের আশেপাশে থাকা তরল ভর্তি থলি (bursa) ইনফ্লামেশন হলে জয়েন্টে ব্যথা ও স্টিফনেস তৈরি হয়।

🔸 ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি
এই দুইটি উপাদান হাড় ও জয়েন্টের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতি হলে জয়েন্ট দুর্বল হয়ে যায় এবং স্টিফনেস অনুভূত হতে পারে।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্যকর ভেবে কিছু খাবার নিশ্চিন্তে খাই। সমাজে প্রচলিত ধারণা এমনই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এসব খাবারের...
26/04/2026

আমরা অনেক সময় স্বাস্থ্যকর ভেবে কিছু খাবার নিশ্চিন্তে খাই। সমাজে প্রচলিত ধারণা এমনই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এসব খাবারের অনেকগুলোর ভেতরে লুকিয়ে থাকে চিনি, অতিরিক্ত লবণ, ট্রান্স ফ্যাট বা প্রসেসড উপাদান, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শুধু হেলদি ট্যাগ দেখেই খাবার বেছে নেওয়া ঠিক না।

চলুন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নেই যেগুলো দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও বাস্তবে সাবধান হওয়া দরকারঃ-

✅ প্যাকেটজাত ফলের জুস
অনেকে ভাবেন ফলের জুস মানেই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু প্যাকেটজাত জুসে সাধারণত থাকে উচ্চমাত্রার চিনি, সংরক্ষণকারী (preservatives) এবং ফাইবার প্রায় থাকে না। ফল পুরোটা খেলে ফাইবার পাওয়া যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু জুসে সেটা থাকে না, ফলে দ্রুত রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে।

✅ ব্রাউন ব্রেড
ব্রাউন ব্রেড দেখলে মনে হয় এটি হোলগ্রেইন বা স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বাস্তবে অনেক ব্রাউন ব্রেডই তৈরি হয় পরিশোধিত ময়দা দিয়ে, শুধু রঙ বাড়ানোর জন্য ক্যারামেল বা রঙ ব্যবহার করা হয়।

✅ লো-ফ্যাট বা ফ্যাট-ফ্রি খাবার
অনেকে ওজন কমানোর জন্য “low-fat” বা “fat-free” লেখা খাবার বেছে নেন। কিন্তু ফ্যাট কমালে স্বাদ ঠিক রাখতে এতে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয়। ফলে এসব খাবার ডায়াবেটিস ও ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

✅ ডায়েট বিস্কুট বা সুগার-ফ্রি স্ন্যাকস
ডায়েট বা সুগার-ফ্রি লেখা থাকলেই সেটি নিরাপদ এটা ভুল ধারণা। অনেক ক্ষেত্রে এতে কৃত্রিম মিষ্টি (artificial sweeteners) বা উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট থাকে। অতিরিক্ত খেলে এগুলো মেটাবলিজমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

✅ ফ্লেভারড দই (Flavored Yogurt)
দই সাধারণত স্বাস্থ্যকর, কিন্তু ফ্লেভারড দইয়ে থাকে প্রচুর চিনি ও কৃত্রিম ফ্লেভার। অনেক ক্ষেত্রে এটি আইসক্রিমের মতোই চিনি বহন করে। তাই প্লেইন দইয়ে নিজে ফল মিশিয়ে নেওয়া ভালো।

✅ সালাদ ড্রেসিং
সালাদ স্বাস্থ্যকর হলেও এর সাথে ব্যবহার করা ড্রেসিং অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এতে থাকে উচ্চমাত্রার ফ্যাট, চিনি ও লবণ। ফলে সালাদের আসল উপকারিতা কমে যায়।

ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান

25/04/2026

লবন কম খাওয়ার উপকারিতা

সব কিছু নিজে নিজে সামলানো অনেকের কাছে এটা শক্তির প্রমাণ। আমি কারো উপর নির্ভর করি না, সব আমি একাই ম্যানেজ করি এই কথাগুলো ...
23/04/2026

সব কিছু নিজে নিজে সামলানো অনেকের কাছে এটা শক্তির প্রমাণ। আমি কারো উপর নির্ভর করি না, সব আমি একাই ম্যানেজ করি এই কথাগুলো শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু আপনি যদি সব দায়িত্ব, চাপ, সমস্যা একা কাঁধে তুলে নেন, তাহলে সেটা সত্যিই কি শক্তি? নাকি ধীরে ধীরে নিজের ক্ষতি করছেন?

সব কিছু নিজে করতে পারা খারাপ না। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটা মানসিকভাবে উপকারী। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, বারবার নিজে হ্যান্ডেল করলে ব্রেইন বেশি অ্যাডাপ্টিভ হয়, ছোটখাটো স্ট্রেস নিজে সামলাতে পারা মানসিক শক্তি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝারি মাত্রার স্ট্রেস আমাদের শরীরে Eustress তৈরি করে যা মোটিভেশন বাড়ায় এবং পারফরম্যান্স উন্নত করে।

তাহলে সমস্যা কোথায়? যখন সব আমি একাই করবো একটা অভ্যাস বা বাধ্যতায় পরিণত হয়, তখন সেটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যখন আপনি কারো সাথে শেয়ার করেন না, তখন শরীরে Cortisol দীর্ঘসময় ধরে বেশি থাকে। এর ফলে দেখা দেয় ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা
ইমিউনিটি কমে যাওয়া। সব কিছু একা সামলাতে গিয়ে ব্রেইন একসময় ওভারলোড হয়ে যায়। এটা ধীরে ধীরে Burnout syndrome-এ রূপ নিতে পারে। অনেকে মনে করেন, সাহায্য চাওয়া মানে দুর্বলতা। বাস্তবে, এটা একটা কগনিটিভ ডিস্টরশন যেটা Cognitive Behavioral Therapy-তে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ডাঃ মোঃ ফেরদৌস রায়হান

22/04/2026

ধুমপান ত্যাগ করলে আপনার শরীরে যা যা ঘটবে

পায়ের পাতা থেকে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে বেশিরভাগ মানুষই ভাবেন সমস্যাটা বুঝি পায়েই।  কিন্তু বাস্তবটা সবসময় এত সোজা না। অনেক স...
21/04/2026

পায়ের পাতা থেকে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে বেশিরভাগ মানুষই ভাবেন সমস্যাটা বুঝি পায়েই। কিন্তু বাস্তবটা সবসময় এত সোজা না। অনেক সময় শরীরের এক জায়গার সমস্যা অন্য জায়গায় ব্যথা হিসেবে ধরা দেয়। বিশেষ করে কোমরের সমস্যা পায়ের পাতায় ব্যথা হিসেবে প্রকাশ পাওয়াটা খুবই কমন একটি বিষয়।

পায়ের পাতা থেকে শুরু হওয়া ব্যথা কোমরের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে? হ্যাঁ, হতে পারে। এটাকেই বলা হয় Referred Pain/রেফার্ড পেইন। Referred pain হলো এমন এক ধরনের ব্যথা, যেখানে আসল সমস্যা থাকে শরীরের এক জায়গায়, কিন্তু ব্যথা অনুভূত হয় অন্য জায়গায়।
এই ক্ষেত্রে, কোমরের স্নায়ুতে (nerve) চাপ বা ক্ষতি হলে সেই স্নায়ুর পথ ধরে ব্যথা নিচে নেমে পায়ের দিকে চলে আসে। আমাদের মেরুদণ্ডের নিচের অংশ (lumbar spine) থেকে যে স্নায়ুগুলো বের হয়, সেগুলো সরাসরি পা পর্যন্ত সংযুক্ত।
যদি এই জায়গায় কোনো সমস্যা হয় যেমন ডিস্ক সরে যাওয়া (Slip Disc), স্নায়ু চাপে পড়া (Nerve Compression), সায়াটিকা (Sciatica) তাহলে সেই স্নায়ুর পথ ধরে ব্যথা নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে কোমর, উরু, পায়ের পাতা পর্যন্ত।

শুধু পায়ের ব্যথা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল। কিছু লক্ষণ খেয়াল করুন যেমনঃ-
🔸 পায়ের সাথে সাথে কোমরেও ব্যথা বা অস্বস্তি আছে

🔸 ব্যথা একদম সরল লাইনে নিচে নামছে (shooting pain)

🔸 ঝিনঝিন, অবশভাব বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি

🔸 দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা হঠাৎ উঠলে ব্যথা বাড়ে

🔸 হাঁটলে বা সোজা দাঁড়ালে কিছুটা কমে
এই লক্ষণগুলো থাকলে শুধু পায়ের চিকিৎসা করলে কাজ হবে না মূল সমস্যা কোমরে।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

অনেকেই ভাঙা হাড় ঠিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অপেক্ষা করতে করতে চিন্তায় পড়ে যান সব ঠিকঠাক চলছে তো?, এত দেরি কেন? আ...
20/04/2026

অনেকেই ভাঙা হাড় ঠিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অপেক্ষা করতে করতে চিন্তায় পড়ে যান সব ঠিকঠাক চলছে তো?, এত দেরি কেন? আসলে হাড় জোড়া লাগা (bone healing) একটি প্রাকৃতিক কিন্তু জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে শরীর ধাপে ধাপে নতুন টিস্যু তৈরি করে। তবে কিছু কারণে এই প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে যাকে বলা হয় delayed healing।

হাড় ভালো হতে দেরি হওয়ার প্রধান কারণগুলোঃ-

✔️ হাড় জোড়া লাগার জন্য পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আঘাতের স্থানে যদি রক্ত ঠিকমতো পৌঁছাতে না পারে, তাহলে নতুন হাড় তৈরি ধীর হয়ে যায়।

✔️ বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের পুনর্গঠন ক্ষমতা কমে যায়। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় জোড়া লাগতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।

✔️ হাড় গঠনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি দরকার, যেমন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D, প্রোটিন। এসবের ঘাটতি থাকলে healing ধীর হয়ে যায়।

✔️ ধূমপান রক্তনালী সংকুচিত করে এবং হাড়ের কোষের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে হাড় জোড়া লাগার গতি কমে যায়এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

✔️ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে শরীরের healing process ব্যাহত হয়।

✔️ হাড় ভাঙার জায়গায় সংক্রমণ হলে শরীরের স্বাভাবিক healing বাধাগ্রস্ত হয় এবং সময় অনেক বেড়ে যেতে পারে।

✔️ ভাঙা হাড় সঠিকভাবে সেট না হলে (misalignment) বা বারবার নড়াচড়া হলে হাড় ঠিকমতো জোড়া লাগে না।

✔️ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী immobilization না মানলে, অর্থাৎ প্লাস্টার/সাপোর্ট ঠিকমতো ব্যবহার না করলে healing ধীর হয়ে যায়।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

ব্যায়াম শুরু করার আগে অনেকেই একটা প্রশ্নে আটকে যান খেয়ে করবো, না খালি পেটে? আবার ব্যায়াম শেষ হওয়ার পরেও ঠিক কী খাওয়া উচি...
19/04/2026

ব্যায়াম শুরু করার আগে অনেকেই একটা প্রশ্নে আটকে যান খেয়ে করবো, না খালি পেটে? আবার ব্যায়াম শেষ হওয়ার পরেও ঠিক কী খাওয়া উচিত, সেটা নিয়েও থাকে বিভ্রান্তি। কেউ শুধু পানি খেয়েই থাকেন, কেউ আবার যেটা সামনে পান সেটাই খেয়ে ফেলেন। কিন্তু সত্যটা হলো ব্যায়ামের ফল কতটা পাবেন, সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি আগে ও পরে কী খাচ্ছেন তার ওপর। এই বিষয়টা শুধু ওজন কমানো বা বাড়ানোর জন্য না, শরীরের শক্তি, পেশীর গঠন, এমনকি হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়ামের আগে আপনার শরীরকে ফুয়েল দিতে হবে। যাতে আপনি ক্লান্ত না হয়ে ঠিকভাবে এক্সারসাইজ করতে পারেন। ব্যায়ামের ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা আগে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন কলা, ওটস, ব্রাউন ব্রেড, ভাত (হালকা পরিমাণে), ডিম (সেদ্ধ), দই, পিনাট বাটার, ডাল। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার
ফাস্ট ফুড, খুব বেশি মশলাযুক্ত খাবার এগুলো হজমে সময় নেয়। ফলে ব্যায়ামের সময় অস্বস্তি, বমি ভাব বা ক্লান্তি হতে পারে।

ব্যায়ামের পরে আপনার শরীর রিকভারি মোডে থাকে। এই সময় ঠিক খাবার না খেলে পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ফলাফল কমে যায়। ব্যায়ামের ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যে খাওয়া সবচেয়ে কার্যকর। খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল, দুধ / দই, ভাত, আলু, ফল (কলা, আপেল)।

ব্যায়ামের আগে, চলাকালীন ও পরে তিন সময়েই পানি পান জরুরি। পানিশূন্যতা হলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, পারফরম্যান্স কমে যাওয়াসহ নানান সমস্যা তৈরি হয়। ব্যায়াম শুধু করলেই হবে না ঠিকমতো খাওয়া না হলে তার অর্ধেক ফলও পাওয়া যায় না।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

18/04/2026

লিভার সুস্থ রাখতে করনীয়

এখনকার দিনে ঘুম থেকে উঠেই অনেকের প্রথম কাজ মোবাইল হাতে নেওয়া। কাজের ফাঁকে, খাওয়ার সময়, এমনকি হাঁটতে হাঁটতেও স্ক্রিনে চোখ...
17/04/2026

এখনকার দিনে ঘুম থেকে উঠেই অনেকের প্রথম কাজ মোবাইল হাতে নেওয়া। কাজের ফাঁকে, খাওয়ার সময়, এমনকি হাঁটতে হাঁটতেও স্ক্রিনে চোখ থাকে। আমরা ভাবি এগুলো ছোট অভ্যাস, তেমন ক্ষতি কী হবে? কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে আমাদের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে চাপ তৈরি করছে, যেটাকে বলা হয় টেক্সট নেক সিনড্রোম।

টেক্সট নেক হলো দীর্ঘসময় মাথা নিচু করে মোবাইল, ল্যাপটপ বা ট্যাব ব্যবহার করার কারণে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া। স্বাভাবিকভাবে আমাদের মাথার ওজন প্রায় ৪-৫ কেজি। কিন্তু যখন আপনি মাথা ৩০-৬০ ডিগ্রি সামনে ঝুঁকিয়ে রাখেন, তখন সেই চাপ বেড়ে ১৫-২৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে যায়। এই অতিরিক্ত চাপ দীর্ঘদিন থাকলে ঘাড়ের মাংসপেশি, ডিস্ক এবং লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। অনেকে ভাবেন ঘাড়ে একটু ব্যথা, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিষয়টা এত সহজ না। দীর্ঘদিন টেক্সট নেক থাকলে মেরুদণ্ডের ডিস্কে দ্রুত ক্ষয় শুরু হয়, ঘাড়ে ক্রনিক ব্যথা ও শক্তভাব তৈরি হয়, কাঁধ ও হাত পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে
মাথাব্যথা ও চোখের চাপ বাড়ে, শরীরের পোশ্চার স্থায়ীভাবে খারাপ হয়ে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই সমস্যা এখন শুধু বয়সীদের নয়, তরুণদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে।

যেসব লক্ষন দেখলে সতর্ক হবেনঃ-

🔸 ঘাড়ে টান বা ব্যথা (বিশেষ করে ফোন ব্যবহারের পর)
🔸 কাঁধ ভারী লাগা
🔸 মাথা ঘোরা বা হালকা মাথাব্যথা
🔸 ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হওয়া
🔸 হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি

এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা মানে সমস্যাকে দীর্ঘমেয়াদি করে ফেলা। ঘাড়ের মেরুদণ্ড (cervical spine) খুব সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল। বারবার ভুল ভঙ্গিতে থাকার কারণে মাংসপেশি অতিরিক্ত টানটান হয়ে যায়, ডিস্কে চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়, স্নায়ু চাপে পড়ে ব্যথা ছড়ায়। অর্থাৎ, এটা শুধু মাংসপেশির ব্যথা না এটা একটা স্ট্রাকচারাল সমস্যা হয়ে যেতে পারে।

ডা. মোঃ ফেরদৌস রায়হান
সহকারী অধ্যাপক,( অর্থোপেডিক সার্জারী)।
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

Address

Popular Diagnostic Center
Barishal
8200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md. Ferdous Rayhan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Md. Ferdous Rayhan:

Share

Category