24/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষী, অনুসারী এবং আমার পরিচিতজনেরা,
জীবনের কিছু বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন হলেও, নিয়তি এবং তাকদিরের ফয়সালাকে হাসিমুখে মেনে নিতে হয়। আপনারা অনেকেই জানেন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে আমি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম। আজ অত্যন্ত প্রশান্ত ও স্থির চিত্তে আপনাদের জানাচ্ছি যে, প্রায় ৮ বছরের দীর্ঘ একটি সু সম্পর্ক এবং প্রায় ৪ বছর ৩ মাসের একটি সংসারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। আজ থেকে সে আমার জীবনে সম্পূর্ণ একজন পরনারী এবং শুধুই একটি অতীত।
সবার তাকদিরে সবকিছু থাকে না। মহান আল্লাহ হয়তো আমার তাকদিরে মহব্বতের সম্পর্ক বা দীর্ঘস্থায়ী সংসার লিখে রাখেননি। আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানাতে চাই, এই বিচ্ছেদে তার কোনো দোষ নেই, আমারও কোনো দোষ নেই। আগুন আর পানি যেমন একসাথে থাকতে পারে না, সাপ ও বেজি যেমন এক পাত্রে খেতে পারে না—তেমনি দুটি ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এক ছাদের নিচে থাকতে পারে না। এখানে আগুনেরও কোনো দোষ নেই, পানিরও কোনো দোষ নেই। আগুন পুড়িয়ে ছাই করে এটা আগুনের ধর্ম ও আগুনের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা সম্মান জনক কাজ, পানি আগুন কে নিভিয়ে দেয় এটা পানির ধর্ম ও পানির দৃষ্টিকোণ থেকে এটা সম্মান জনক কাজ। এখানে আগুন ও দোষী নয় আর পানিও দোষী নয়। উভয়ের স্থান থেকে উভয় সঠিক কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবেই আগুন আর পানির একত্রে অবস্থান অসম্ভব। আগুন আর পানির মতই আমাদের কেবল বনিবনা হয়নি, তাই অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে।
স্টেইজে উঠে সবার সামনে নৃত্য প্রদর্শন করা অবশ্যই খারাপ কিছু নয়। চুল খোলা রেখে জনসমক্ষে চলাফেরা করা বা আল্লাহ প্রদত্ত সৌন্দর্য সবার সামনে প্রদর্শন করা আধুনিক জীবনযাত্রায় দোষের কিছু নয়। সবারই অধিকার রয়েছে নিজের লাইফস্টাইল স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়ার। এটা তাঁর দৃষ্টিতে সম্মান জনক কাজ। কিন্তু আমি একজন হাফেজ, একজন আধ্যাত্মিক গবেষক এবং ধর্ম প্রচারক। আমার নিজস্ব কিছু ইথিকস এবং সুনির্দিষ্ট গণ্ডি রয়েছে, যা অতিক্রম করা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
একজন হাফেজ, আধ্যাত্মিক গবেষক এবং দ্বীনের পথের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার জীবনের কিছু সুনির্দিষ্ট নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রয়েছে। আমার কাছে আমার ধর্ম, শালীনতা, আদর্শ এবং আত্মসম্মান সবার আগে। যখন কোনো সম্পর্কে জীবনসঙ্গীর ব্যক্তিগত পছন্দ, রুচি, জনসমক্ষে নিজেকে উপস্থাপন করার পদ্ধতি এবং জীবনাচরণ আমার পবিত্র ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শের সাথে তীব্রভাবে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই সম্পর্ক থেকে সসম্মানে সরে আসাই একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পুরুষের একমাত্র যৌক্তিক পথ।
জীবনের একটি পর্যায়ে এসে উপলব্ধি হয় যে, মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার ওপর জোর খাটানো যায় না। আপনজনের মঙ্গলের জন্য বারবার সতর্ক করা এবং সঠিক পথ দেখানোর ঐকান্তিক চেষ্টাও যখন ক্রমাগত উপেক্ষিত হয়, তখন বুঝতে হয় যে প্রতিটি মানুষের নিজস্ব 'কর্ম' এবং জীবনের পছন্দ সম্পূর্ণ আলাদা।
ধৈর্য এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা একজন পুরুষের বড় গুণ। কিন্তু যখন সেই ধৈর্যের চরম অবমূল্যায়ন ঘটে এবং কেউ নিজের পছন্দের পথে হাঁটতে বদ্ধপরিকর থাকে, তখন আত্মসম্মান বজায় রেখে মর্যাদার সাথে নীরবে সরে আসাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
জোর করে কাউকে তাঁর দৃষ্টিকোনের বাহিরে গিয়ে নিজের দৃষ্টিকোনের সম্মানজনক আদর্শে আবদ্ধ রাখা যায় না। যার যার কর্মফল এবং জীবন নির্বাচনের পথ তার নিজস্ব। সৃষ্টিকর্তা সবাইকে নিজ নিজ পথে চলার এবং নিজ কর্মের পরিণতি গ্রহণ করার প্রজ্ঞা দান করুন। আমি কেবল আমার নীরবতা আর নিজস্ব আত্মিক যাত্রাতেই প্রশান্তি খুঁজি।
তার প্রতি আমার বিন্দুমাত্র কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই, এবং আমি বিশ্বাস করি আমার প্রতিও তার কোনো অভিযোগ থাকার কথা না। সে তার নিজের জগতে ভালো থাকুক, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
তবে, একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই—এই আনুষ্ঠানিক ডিভোর্সের পর আমাদের এই একান্ত ব্যক্তিগত ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেউ যদি আমাকে বা তাকে লক্ষ্য করে কোনো হীন কথা বলেন বা কোনো ধরনের বাজে মন্তব্য করেন, তবে তিনি আমার আত্মীয় হোন, বন্ধুবান্ধব হোন, পাড়া-প্রতিবেশী হোন কিংবা যেকেউই হোন না কেন—তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সম্মানহানির যেকোনো চেষ্টাকে সরাসরি আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করার অধিকার আমি কাউকে দিইনি।
আমি জানি, দুনিয়ার চোখে আমি হয়তো এক চরম বাজে মানুষ। সারা পৃথিবীর নিকট, আমার ক্যাম্পাসের মানুষের নিকট আমি হয়তো একজন খারাপ মানুষ। এই বিশাল পৃথিবীতে হয়তো আমার কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী নেই। হয়তো ক্যাম্পাসে আমার কোনো বন্ধুও নেই। এর কারণ একটাই—আমি সবসময় গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কথা বলি। সাধারণ মানুষ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর ন্যায় সবাই যখন আমাকে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ভাবে ভুল বুঝেছেন, তখন আমার জীবনসঙ্গিনীও আমাকে ভুল বুঝবে—এতে নতুনত্ব কিছু নেই। মানুষ আমাকে ভুল বুঝতেই অভ্যস্ত। কিন্তু আমি দুনিয়ার মানুষের কাছে কোনো প্রাপ্তির আশা রাখি না, আমার যা কিছু প্রাপ্তি তা কেবল আমার আল্লাহ পাকের নিকট ঘটবে ইনশাআল্লাহ।
সবাই আমাদের উভয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম ফয়সালাকারী।
✍🏻 ময়ূর মানব 🦚
আধ্যাত্মিক গবেষক হাফেজ সাইফুল্লাহ মানসুর
ভাইস চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল।
উপদেষ্টা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাব।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান: Divine Codex