Dr. Asfak Hossain Sweet

Dr. Asfak Hossain Sweet Ear, Nose, Throat, Head-Neck & Thyroid specialist and Surgeon, Photographer

কুমিল্লার বেলতলিতে ঢাকা চিটাগং মহাসড়কে জনাব আজমির ৫০টা বড়সড় বকুল গাছ কেটে ফেলেছেন। কারণ, গাছগুলো আবর্জনার মত। আরও বড় কার...
16/11/2025

কুমিল্লার বেলতলিতে ঢাকা চিটাগং মহাসড়কে জনাব আজমির ৫০টা বড়সড় বকুল গাছ কেটে ফেলেছেন। কারণ, গাছগুলো আবর্জনার মত।
আরও বড় কারণ, জনাব আজমির এই দেশের মালিক। তিনি যা ইচ্ছা তাই করবেন।

এই রাষ্ট্রকে তার নামে লিখে দিতে হবে৷ কারণ তার পূর্বপুরুষ এই দেশের রাজা ছিলেন।
বর্তমানে তিনি কুমিল্লার শিশু হাসপাতালের পাশে চা বিক্রি করেন।

জনাব আজমির প্রফেসর ড. ইউনুসকে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটা যেন তার নামে লিখে দেওয়া হয়।
দেশটা তার নামে লিখে দিলেই তো পেট ভরবে না৷ তাই তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকও তার নামে লিখে চান।
ব্যাংক না হয় নিলেন, কিন্তু তিনি তো শিশু হাসপাতালের সামনে চা বিক্রি করেন। হাসপাতালের সামনে আরও অনেক চা বিক্রেতা। ব্যাপক প্রতিযোগিতা।

ব্যাংকের পাশাপাশি এবার তিনি শিশু হাসপাতালের মালিকানাও বুঝে নিতে চান। যেন হাসপাতালের সামনে তিনি ছাড়া আর কেউ চা বিক্রি করতে না পারে।

দেশ, ব্যাংক এবং শিশু হাসপাতাল লেখাপড়া করে নিয়ে তিনি প্রফেসর ইউনুসকে তার চায়ের দোকানে এক কাপ চা খেতে দাওয়াত দিয়েছেন।

মেডিকেলের ভাষায় একে গ্রান্ডিউজ ডিলিউসন বলে। এ রোগে আক্রান্ত মানুষ নিজের সম্পর্কে অবাস্তব, অতিরিক্ত বড়াইপূর্ণ বিশ্বাস করে। এমন বিশ্বাস যা বাস্তবতার সাথে মেলে না, কিন্তু রোগী তা পুরোপুরি সত্য বলে মনে করে।

অথবা তিনি বেশ ভালো পরিমাণ সিদ্ধি সেবন করেন।

যাই হোক, মহামান্য রাজা জনাব আজমিরকে আজ বেরসিক পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গাঞ্জা গাছের উৎপত্তি আনুমানিক ২.৮ কোটি বছর আগে, বর্তমান তিব্বতের মালভূমিতে।তখনকার তিব্বতের জলবায়ু ছিল শুষ্ক ও ঠান্ডা। এই...
16/11/2025

গাঞ্জা গাছের উৎপত্তি আনুমানিক ২.৮ কোটি বছর আগে, বর্তমান তিব্বতের মালভূমিতে।

তখনকার তিব্বতের জলবায়ু ছিল শুষ্ক ও ঠান্ডা। এই পরিবেশে বেঁচে থাকতে উদ্ভিদটি কিছু রাসায়নিক তৈরি করে যা তাকে রোদ, তাপ ও প্রাণীভোজী পোকামাকড় থেকে রক্ষা করত।

এই রাসায়নিকগুলোর মধ্যেই ছিল ক্যানাবিনয়েডস এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি হলো tetrahydrocannabinol- এটা মনে আনন্দ জাগায়, আর cannabidiol - এটা সাইকোঅ্যাকটিভ নয়, কিন্তু চিকিৎসা পারপাসে ইউজ হয়।

ইতিহাসে মানুষের সঙ্গে গাজা গাছে সহ-বিবর্তন লাভ করেছে।

প্রায় ১০,০০০ বছর আগে, মধ্য এশিয়ায় মানুষ প্রথম গাঁজা গাছ চাষ করতে শুরু করে।

প্রথমে উদ্দেশ্য ছিল ফাইবার পাওয়া, দড়ি, কাপড়, মাছ ধরার জাল তৈরি করা।
পরবর্তীতে, এর প্রোটিন ও তেলসমৃদ্ধ বীজ খাওয়া শুরু হয়।

হঠাৎ কোনো এক এলাকার কিছু মানুষ কিছু গাছ থেকে ভালো ফাইবার না পাওয়ায় রেগে মেগে বাগানের সব গাঁজা গাছ কেটে পুড়িয়ে ফেলল।
ধোঁয়া নাকে যেতেই ভালো লাগার স্বর্গীয় আনন্দ পেল।
আরেব্বাহ!
তারা অন্য চাষীদের জানালো।

তার পরে, মানুষ বুঝতে পারে কিছু জাতের গাছ খেলে বা পোড়ালে সিদ্ধিলাভ হয়। সেখান থেকেই গাঁজার সাইকোঅ্যাকটিভ ব্যবহার শুরু।

হাজার হাজার বছরে মানুষ গাছটিকে এমনভাবে সিলেক্টিভ প্রজনন করেছে, যাতে কিছু গাছে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনয়েড বেশি, কিছু গাছে ফাইবারের পরিমাণ বেশি।

ফলে আজ আমরা দুই ধরণের গাঁজা গাছ পাই।

H**p (এতে নেশা কম )

Ma*****na (বেশি)

গাঁজা সেবনে মনে উচ্ছ্বাস, সময়বোধের পরিবর্তন, স্বস্তি, কখনো হাসির বন্যা বয়ে যায়।

রোগশোকের এই পৃথিবী থেকে পালাতে কিছু মানুষের জন্য এটি স্ট্রেস কমানোর সহজ উপায় মনে হল।

এর মধ্যে আমরা সিলেক্টিভ ব্রিডিং করে “চিকিৎসা গাঁজা” ও “নেশার গাঁজা” সম্পূর্ণ ভিন্ন জাত আলাদা করে ফেলি।

Cannabis হলো এমন একটি গাছ যাকে মানুষ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী জেনেটিকভাবে গঠন করেছে।

একে বলা যায় coevolutionary companion—যেভাবে মানুষ বন্য নেকড়ে থেকে পোষ মানিয়ে কুকুরকে “গৃহপালিত” করেছে, Cannabis-ও তেমনই মানুষের হাত ধরে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

#জেনেটিকস #ইভোলিউশন #জিনের_ভূত_ভবিষ্যৎ

11/11/2025

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে করেছে আমরা সেভাবে প্রতিহিংসামূলক মামলা করব না, যদি মামলা হয়েও থাকে আমরা সেই মামলা তুলে নিব।

10/11/2025

ডেংগু ভাইরাস যদি আক্রান্ত রোগীকেই মেরে ফেলে, তাহলে তো রোগীর সাথে ভাইরাস কবরে যাবে, ভাইরাসের তো আর লাভ হলো না।

ভাইরাসের লক্ষ্য “মারা ফেলা” নয়, বরং “বংশবিস্তার”

ভাইরাস কোনো নৈতিকতা নাই। ওর একটাই উদ্দেশ্য: যত বেশি সংখ্যক কপি তৈরি করা, যত দ্রুত সম্ভব।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে ভাইরাস রক্তে উচ্চ টাইটার তৈরি করে, যাতে মশা কামড়ালে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

অর্থাৎ, ভাইরাসের সাফল্য নির্ভর করে মানুষ বেঁচে থাকা অবস্থায় মশা কামড়াতে পারছে কিনা।

তাই ভাইরাসের দৃষ্টিকোণ থেকে হোস্ট মারা যাওয়া আসলে অসুবিধাজনক।
কিন্তু, কিছু সংক্রমণে দুর্ঘটনাবশত বা জেনেটিক ভ্যারিয়েশনজনিত কারণে অতিরিক্ত ইমিউন রেসপন্স হয়, তখন মানুষ মারা যায়। এটি ভাইরাসের ইচ্ছায় নয়, বরং side effect হিসেবে।

এখন, ভাইরাস দুইটা খেলা খেলে, এরা তাদের মারাত্মকতা (Virulence) ও ছড়ানোর ক্ষমতার (Transmission) মধ্যে এক ভারসাম্য তৈরি করে।

এটা এক ধরণের ইভোলিউশনারি কৌশল।

একদিকে ভাইরাস যদি খুব সফট হয়, মানে হালকা সংক্রমণ দেয় — রক্তে ভাইরাস টাইটার কম হবে, ফলে মশা সহজে ভাইরাস নিতে পারবে না।
অন্যদিকে, যদি ভাইরাস খুব এগ্রেসিভ হয়, মানুষ দ্রুত মারা যাবে, ফলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগই পাবে না।

সেই ভাইরাসগুলোই ন্যাচেরাল সিলেকশনের মাধ্যমে টিকে যারা খুব এগ্রেসিভও না, খুব সফটও না, যেখানে মানুষ অসুস্থ হয়, রক্তে ভাইরাস বেড়ে যায়, কিন্তু হোস্ট তৎক্ষণাৎ মারা যায় না।
এটাই ডেঙ্গু ভাইরাসের বর্তমান ভারসাম্য।

কিন্তু, মারাত্মক আকার ধারণ করে কখন?

গুরুতর সংক্রমণ যেমন ডেংগু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম আসলে দেহের ইমিউন সিস্টেমের ভুল প্রতিক্রিয়া।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ ভাইরাস নিজে নয়, বরং ইমিউন সিস্টেমের অতিপ্রতিক্রিয়া।

ডেংগুর চারটা সেরোটাইপ, যখন কেউ দ্বিতীয়বার অন্য সেরোটাইপে সংক্রমিত হয়, তখন পুরনো অ্যান্টিবডিগুলো ভাইরাসকে নিউট্রালাইজ করে না, বরং সহজে কোষে ঢুকতে সাহায্য করে —
এটাকে বলে Antibody Dependent Enhancement (ADE)।

ফলাফল: ভাইরাস কোষে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, সাইটোকাইন স্টর্ম শুরু হয়, রক্তনালী লিক করে, শক সিন্ড্রোম হয়।

অর্থাৎ মানুষের মৃত্যুর কারণ সরাসরি ভাইরাস নয়।

কেন ভাইরাস তবু টিকে আছে?

কারণ বেশিরভাগ সংক্রমণই মৃদু (subclinical), প্রায় ৮০% লোক মারা যায় না, এমনকি হাসপাতালেও ভর্তি হবার প্রয়োজন হয় না।

ভাইরাস তখনই সফল, কারণ হোস্ট বেঁচে আছে এবং অন্য মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ভাইরাসের দৃষ্টিতে মানুষ মারা যাওয়া একটা “collateral damage” মাত্র।

বট ফল মানুষ কাঁচা খাওয়ার চেষ্টা করেছে, খেতে ভালো না। সেদ্ধ করে খাওয়ার ট্রাই করেছে, ভালো লাগে নাই। তরকারি রান্না করে খাওয়...
09/11/2025

বট ফল মানুষ কাঁচা খাওয়ার চেষ্টা করেছে, খেতে ভালো না। সেদ্ধ করে খাওয়ার ট্রাই করেছে, ভালো লাগে নাই। তরকারি রান্না করে খাওয়ার ট্রাই করেছে, তাও ভাল না।

ভারতবর্ষে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে দারিদ্র্যপীড়িত সময় বা খরা মৌসুমে মানুষ পাকা বটফল শুকিয়ে বা সেদ্ধ করে খেত। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষ বট ফলের দিকে ঘুরেও তাকায় না।

কারণ ফলটি ছোট, বীজে ভর্তি, স্বাদহীন এবং কিছুটা কষযুক্ত।
এই কষ বট গাছের নিজস্ব প্রটেক্টিভ মেকানিজম। কারণ মানুষের অন্ত্র এই বট ফল হজম করে ফেলে। মানুষের পায়খানায় বটের বীজ তাজা থাকে না।

তবে পাখি ও বাদুড়ের পায়খানায় বটের বীজ তাজা থাকে।

বট গাছ চায় যে তার ফল পাখিরা খাক, কিন্তু মানুষরা না খাক। পাখিদের এই বটের কষ খারাপ লাগে না। পাখিদের জিহবায় এই কষটা রিসেপ্টর নেই।

রাতের অন্ধকারে ফল খাওয়ার জন্য পাখিরা উড়ে আসে। বটফল পেকে গেলে এর ভেতরে থাকা চিনি আর গন্ধ ওদের আকর্ষণ করে। পাখিরা ফলটা মুখে নেয়, মিষ্টি অংশ খেয়ে বীজসহ অনেক দূরে গিয়ে থুতু ফেলে দেয় বা মলত্যাগ করে। ফলে সেই বীজ পড়ে নতুন বটগাছ জন্মায়।

পাখি ও বাদুড় না থাকলে বটগাছের প্রাকৃতিক বিস্তার অনেকটাই থমকে যেত। এই প্রক্রিয়াকে বলে seed dispersal — বিনামূল্যে বীজ বিতরণ ব্যবস্থা।

মানুষ বট ফলটাকে “তেমন কিছু না” বলে পাশ কাটিয়ে যায়, পাখি আর বাদুড় সেটাকেই ব্রেকফাস্ট আর ডিনারের মেন্যুতে রাখে।

এখানেই লক্ষ কোটি বছর ধরে জেনেটিকস আর ইভোলিউশন দুয়ে মিলে সার্ভাইভালের দুর্দান্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে।

বটগাছ আর পাখির সম্পর্কটা সহ-বিবর্তন (coevolution) এর এক ক্লাসিক উদাহরণ — যেখানে দুই প্রজাতি একে অপরের সাথে হাজার হাজার বছর ধরে অভিযোজিত হয়েছে।

শুরুটা গাছের দিক থেকে।

বটগাছের ফল ছোট, কষযুক্ত, এবং মানুষ খেলে বীজ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বটগাছের কাছে মানুষ তেমন আকর্ষণীয় নয়।

এবার, এটি টার্গেট হিসেবে বেছে নিল পাখি আর বাদুড়দের — কারণ তাদের ঘ্রাণশক্তি তীব্র, আর তারা প্রচুর ফল খায়।
তখন বটগাছ এমন ফল তৈরি করতে শুরু করল যা রাতে তীব্র গন্ধ ছড়ায়, রঙে গাঢ় যেন রাতেও চিনতে পারে, তাও লাল রঙ যা কিনা সবুজ পাতার মধ্যে সহজেই চোখে পড়ে। আর নরমও, যাতে সহজে কামড়াতে পারে।

আবার পাখি আর বাদুড়ও বটফল হজম করার মতো gut adaptation তৈরি করেছে।
ওদের অন্ত্রে বীজ নষ্ট হয় না, বরং অক্ষত অবস্থায় মলের সাথে বের হয়ে যায়। ফলে বীজগুলো নতুন জায়গায় পড়ে অঙ্কুরিত হয়।
এই পারস্পরিক সম্পর্কের ফলেই বটগাছ পুরো জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে, অন্য প্রাণীর জন্য ফল ও আশ্রয় দেয়, নিজেও বিস্তার লাভ করে।

বট গাছ আর পাখিদের এই সুক্ষ্ম সম্পর্কের ছবি তুলেছি রাজশাহীর পদ্মার তীর থেকে।
হরিয়ালের ঝাঁক বট ফল খেতে এবার রাজশাহীতে বেড়াতে এসেছে।

#জেনেটিকস #ইভোলিউশন #জিনের_ভূত_ভবিষ্যৎ

নভেম্বরের শুরুতে এসেও সারা দেশে ডেঙ্গুর অবস্থা ভয়াবহ। ডেঙ্গু রোগ দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে, অর্থাৎ ডেঙ্গু ভাইরাস এবং তার বাহক...
09/11/2025

নভেম্বরের শুরুতে এসেও সারা দেশে ডেঙ্গুর অবস্থা ভয়াবহ।

ডেঙ্গু রোগ দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে, অর্থাৎ ডেঙ্গু ভাইরাস এবং তার বাহক এডিস মশাও দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে, আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য ডেঙ্গু এবং এডিস মশার বিবর্তন সম্পর্কে জানতে হবে৷

অতীত জানলে ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সুবিধা হয়।

মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসের সাথে এডিস মশা আর ডেঙ্গু ভাইরাস সহ-বিবর্তিত হয়েছে। Co-evolution এর চমৎকার উদাহরণ এই ডেঙ্গু৷

এডিস মশার পূর্বপুরুষ (মশার ক্ষেত্রে পূর্বমহিলা, মহিলা এডিস মশাই দুষ্টু) আফ্রিকার রেইনফরেস্টে বাস করত, যেখানে তারা বন্য প্রাণীর রক্ত খেত এবং গাছের ফাঁপা অংশে জমে থাকা পানিতে ডিম দিত।

কিন্তু প্রায় ৪,০০০–৫,০০০ বছর আগে, যখন আফ্রিকায় মানব বসতি এবং গ্রাম গড়ে উঠতে শুরু করল, তখন এডিস মশা ধীরে ধীরে মানুষের পরিবেশে অভ্যস্ত হতে শুরু করে, লোমহীন মানুষকে কামড়াতে সুবিধা।

এডিস মশা এই পর্যায়ে তিনভাবে অভিযোজিত হলো।

1. Habitat shift: বন থেকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের পানির পাত্রে — যেমন হাঁড়ি, কলস, টব — প্রজনন শুরু।

2. Host preference shift: বন্য প্রাণী থেকে মানুষের রক্তে বিশেষভাবে অভিযোজিত হয়।

3. Behavioral adaptation: দিনে কামড়ানো শুরু করে, কারণ রাতে মানুষ ঘুমায়, আগুন ও ধোঁয়া দিয়ে মশা তাড়ানো শুরু করে।

সভ্যতার ক্রমঅগ্রগতির সাথে সাথে এই “urban adaptation” বা গৃহস্থালী অভিযোজনই তাকে পৃথিবীর অন্যতম সফল মশায় পরিণত করেছে।

ইতিহাসে এডিস মশা আর মানুষ আসলে এক ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে আছে।

মানুষ ঘর বানিয়েছে, পানি সংরক্ষণ করেছে, শহর গড়েছে, এডিসকে নতুন ব্রিডিং স্পট দিয়েছে।

মশারি, স্প্রে, জেনেটিক কন্ট্রোলের মাধ্যমে মশার ওপর সিলেক্টিভ প্রেসার তৈরি করেছে।

মশা ধীরে ধীরে ইনসেক্টিসাইডের বিরুদ্ধে resistance genes তৈরি করেছে।

দিনেও কামড়ানোর অভ্যাস তৈরি করে মানুষের ঘুমের সময় এড়িয়ে যাচ্ছে।

মানুষের গন্ধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড সেন্সর রিসেপ্টরগুলোতে জিনগত পরিবর্তন এসেছে, ফলে মানুষের গন্ধে সহজে আকৃষ্ট হয়। কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে তুলনামূলক ভারী, পায়ের দিকে জমে থাকায় মশারা পায়ে কামড়ায় বেশি, ওখানে হাত পৌছায় না, মারা কঠিন হয়।

এইভাবে মানুষ ও এডিস একে অপরের সাথে co-evolve করছে — একপক্ষ নতুন প্রতিরক্ষা তৈরি করে, আরেকপক্ষ নতুন আক্রমণ কৌশল।

এখন আসি ভাইরাসে, যারা এই মশাকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করে।
আফ্রিকায় ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV) মূলত প্রাইমেট ভাইরাস ছিল।

মানুষ ও এডিসের সম্পর্ক নিবিড় ওয়ার পর ভাইরাস host jump করে মানুষের শরীরে আসে।

বর্তমানে ৪টি সেরোটাইপ (DENV-1 থেকে DENV-4) আছে, আর একে অপরের থেকে অ্যান্টিজেনিক ড্রিফট এর মাধ্যমে আলাদা হয়েছে। অ্যান্টিজেনিক ড্রিফট আর শিফিট কী জিনিস পরে একবার আলোচনা করব, খুবই মজার জিনিস।

যাই হোক, একজন মানুষ একবার এক সেরোটাইপ দিয়ে ডেঙ্গু হলে পরে অন্য সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি-ডিপেন্ডেন্ট এনহান্সমেন্ট (ADE) হয়ে রোগ আরও মারাত্মক হতে পারে।

এটাও এক ধরনের কো-ইভোলিউশন — ভাইরাস হোস্টের ইমিউন সিস্টেমকে ধোঁকা দিতে শিখছে।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) এটি RNA ভাইরাস, এবং RNA ভাইরাসের মিউটেশন রেট অত্যন্ত বেশি।

ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, ২০০৫ সালে ভারত মহাসাগরীয় প্রাদুর্ভাবের সময় CHIKV এর E1-A226V mutation দেখা যায় — যা মশার Aedes albopictus প্রজাতির সংক্রমণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

অর্থাৎ ভাইরাসও vector adaptability বাড়িয়ে নিজের বেঁচে থাকার পথ তৈরি করছে।
এই ভাইরাস তার বাহক মশার শক্তিও বাড়িয়ে তুলেছে, কী ভয়াবহ ব্যাপার!

অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, "মানুষ মশা ভাইরাস"
সবাই একে অপরের পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় ক্রমশ বিবর্তিত হচ্ছে।

আমরা মানুষরা এডিস মশার এই বিবর্তন সম্পর্কে জেনে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে শুরু করলাম, জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া শুরু করলাম।

মশারা বিপদে পড়ল।

তারাও বিবর্তির হলো, আগে তারা ৭ দিনের জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ত, এখন এরা ৩ দিনের জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে, আগে এরা বেশি উড়তে পারত না, বড়োজোর ২-৩ তলা, এখন ১০-২০ তলাতেও উড়তে পারে। এরা লিফট, সিড়ি, বাতাসের প্রবাহ ব্যবহার করে এত উপরে উঠে আসে। এরা ছাদে জমে থাকা পানির গন্ধ পায় অনেক দূর থেকে। ঢাকায় এবং সিংগাপুরে ১৮ তলার উপরেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছে।

এমনকি, এরা এখন সামান্য পানিতেও ডিম পাড়ে, মাত্র এক চামচ পানিতেও ডিম পাড়তে পারে। চুইংগামের খোসায় যে ৫ মিলি পানি জমে থাকে, সেই পানিতেও এরা এখন ডিম পাড়তে পারে।

আরও ভয়ানক ব্যাপার, এরা এতই বিবর্তিত হয়েছে, এরা পানি ছাড়াও শুকনা টব, ভাঙা হাড়ির ধারে ডিম পাড়া শুরু করেছে, এদের ডিম আবার ৬ মাস তাজা থাকে, এই ছয় মাসের মধ্যে সামান্য পানির ছোঁয়া পেলেই দ্রুত ডিম ফুটে লার্ভা বেরিয়ে পড়ে।

সামনে কত ভয়ানক দিন আসছে, তা আমাদের বুঝতে হলে মশা এবং ভাইরাসের ইভোলিউশন সম্পর্কে আমাদের পূঙ্খানুপুঙ্খ জানতে হবে।

বাঁচতে হলে জানতে হবে।

#জেনেটিক্স #ইভোলিউশন #জিনের_ভূত_ভবিষ্যৎ

আমরা খুবই আনন্দিত যে, আমরা বাংলায় ফোটোগ্রাফির উপরে অনলাইন ম্যাগাজিন “ফটোল্যাব” বের করতে যাচ্ছি। আপাতত আমাদের ইচ্ছা ত্রৈম...
23/05/2024

আমরা খুবই আনন্দিত যে, আমরা বাংলায় ফোটোগ্রাফির উপরে অনলাইন ম্যাগাজিন “ফটোল্যাব” বের করতে যাচ্ছি।

আপাতত আমাদের ইচ্ছা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা। ভবিষ্যতে আমরা অফলাইনেও এই পত্রিকাটি প্রকাশ করার আশা রাখি। আগামী জুলাই মাসে এই ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যা বের হতে যাচ্ছে।
আমার সকল বন্ধুদের এই ম্যাগাজিনে লেখার ও ছবি জমা দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমাদের কিছু নিয়মিত বিভাগ থাকবে। ক্যামেরা রিভিউ, লেন্স রিভিউ, টিউটোরিয়াল, সাক্ষাৎকার, ছবি প্রতিযোগিতা, ছবির পিছনের গল্প, ফটো সিরিজ, চিন্তা, দর্শন ইত্যাদি।
একটি ল্যাবরেটরিতে যেমন অণুপরমাণুর বিক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নতুন কিছু জন্ম হয়, আমরা তেমনই Photo Lab ম্যাগাজিনের খুব সহজ বিষয় থেকে কিভাবে নতুন কিছু তৈরী করা যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করব।
আমাদের Photo Lab Magazine গ্রুপে জয়েন করে এই বিষয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। গ্রুপটি সকলের জন্য উন্মুক্ত।

Work, Travel, Save, Repeat......
05/09/2023

Work, Travel, Save, Repeat......

01/09/2023

আপনি ভাবছেন আপনার বিকল্প নাই?

নাকের সাইনাসের অপারেশনের প্রায় শতবর্ষব্যাপী প্রচলিত একটি অপারেশনের নাম কাল্ডওয়েল-লাক অপারেশন।
আমেরিকান সার্জন কাল্ডওয়েল ১৮৯৬ সালে এই অপারেশনের পদ্ধতি বর্ণনা করেন। ঠিক তার পরের বছর ফরাসি সার্জন লাকও প্রায় একই পদ্ধতি লিখে জার্নাল প্রকাশ করেন।
তাঁদের দুইজনের সম্মানার্থে অপারেশনের নামকরণ করা হয় কাল্ডওয়েল-লাক পদ্ধতি।

সার্জন লাক এক্ষেত্রে লাকি, তাঁর নাম অন্তত ইতিহাসে অক্ষত হয়ে রইল। অনেকেই তার মত লাকি নন।

ডারউইনের বিবর্তনবাদের সমর্থন করে একই রকম তত্ত্ব দেন বৃটিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস। ডারউইন একটা বই লিখে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন, অরিজিন অফ স্পিসিস যার সংক্ষিপ্ত নাম। ওয়ালেস বিজ্ঞানী মহল ছাড়া বাইরে তেমন একটা পরিচিতি পান নি। তবে, ডারউইন বইটা না লিখলে, বা ডারউইন না জন্মালে, হয়ত আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসই বিবর্তনবাদের জনক বলে বিবেচিত হতেন।

১৯০০ সালে জীববিজ্ঞানী হুগো দ্য ভ্রিস বংশগতির অমূল্য সূত্র আবিষ্কার করেন, একই সময়ে তাঁকে সমর্থন করে পৃথকভাবে গবেষণার ফল প্রকাশ করেন বিজ্ঞানী কার্ল করেন ও এরিখ শেরমার্ক।

জার্নালে প্রকাশের আগে এ সংক্রান্ত কোনো জার্নাল পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা লাইব্রেরিতে গিয়ে খুঁজতে গিয়ে অবাক হন যে, ৪০ বছর আগেই গ্রেগর জোহান মেন্ডেল নামে একজন একই ধরণের ফলাফল বর্ণনা করে জার্নালে বিস্তারিত লিখে গিয়েছেন। হুগো দ্য ভ্রিস একটু প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন, তিনি মেন্ডেলকে বংশগতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু তাঁর প্রতিবাদ টিকে নাই। মেন্ডেলকে আমরা জেনেটিক্সের জনক হিসেবে শ্রদ্ধা করলেও হুগো দ্য ভ্রিসের, করেন ও শেরমার্কের কাজকে খাটো করে দেখার অবকাশ নাই।

মেন্ডেলেরও বিকল্প ছিল, মেন্ডেল ফলাফল লিখে গেলেও কিভাবে কী হচ্ছে তার ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও ভ্রিস, করেন ও শেরমার্ক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

যাই হোক, আমাদের সবারই বিকল্প আছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের একক কাউকে পৃথিবীর প্রয়োজন নাই। সে আপনি যতই জ্ঞানী বা গুণী হোন।

পৃথিবীতে সবাই তোমাকে ভালোবাসবে, সেই ভালোবাসার মাঝে যে কোনো প্রয়োজন লুকিয়ে থাকে। কিন্তু একজন কোনো প্রয়োজন ছাড়াই তোমাক...
22/08/2023

পৃথিবীতে সবাই তোমাকে ভালোবাসবে, সেই ভালোবাসার মাঝে যে কোনো প্রয়োজন লুকিয়ে থাকে। কিন্তু একজন কোনো প্রয়োজন ছাড়াই তোমাকে ভালোবাসবে।

সে হলো মা।

খুবই আনন্দদায়ক ব্যাপার যে, আমরা দুই বাল্যবন্ধু একসাথে রোগীর অপারেশন করছি.....
12/08/2023

খুবই আনন্দদায়ক ব্যাপার যে, আমরা দুই বাল্যবন্ধু একসাথে রোগীর অপারেশন করছি.....

মনে হল এ পাখার বাণী                  দিল আনি               শুধু পলকের তরে     পুলকিত নিশ্চলের অন্তরে অন্তরে             ...
07/08/2023

মনে হল এ পাখার বাণী

দিল আনি

শুধু পলকের তরে

পুলকিত নিশ্চলের অন্তরে অন্তরে

বেগের আবেগ।

-বলাকা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বকের এই ছবিটি সুন্দরবনে তোলা। ফেব্রুয়ারি ২০২৩।

Address

Bholaganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Asfak Hossain Sweet posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Asfak Hossain Sweet:

Share

Category