22/04/2026
কারপাল টানেল সিনড্রোম
আমাদের হাতের কবজিতে কারপাল টানেল নামে একটি সরু টানেল আছে, যার ভেতর দিয়ে নার্ভ ও টেন্ডন হাতের তালুতে যায়। যেহেতু টানেলটি বেশ সরু, তাই এর ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় মিডিয়ান নার্ভ চাপ খেতে পারে, যার কারণে হাতে ব্যথা, দুর্বলতা, অবশ ভাব ও ঝিনঝিন অনুভব হতে পারে। একেই বলে কারপাল টানেল সিনড্রোম। এই রোগ পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি হয়। কারণ নারীদের কারপাল টানেল বেশি সরু থাকে। এটা যেকোনো এক হাত বা একই সঙ্গে দুই হাতেও হতে পারে।
কারণ
* কবজির কাছাকাছি আরথ্রাইটিস বা ফ্রাকচার * গর্ভাবস্থা * ডায়াবেটিস * কবজির অতিরিক্ত ব্যবহার * থাইরয়েড ডিজিজ * কখনো কখনো কোনো কারণ ছাড়াই হতে পারে
উপসর্গ
এ রোগের লক্ষণগুলো সাধারণত হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা এবং রিং ফিঙ্গারের অর্ধেকে দেখা দেয়। কারণ মিডিয়ান নার্ভ এসব অংশে অনুভূতি সরবরাহ করে।
লক্ষণগুলো হলো
* আঙুল ঝিনঝিন, জ্বলুনি বা অবশভাব * খাবার খেতে, হাত মুষ্টিবদ্ধ করতে বা কোনো জিনিস ধরতে সমস্যা। * লক্ষণগুলো রাতে বেশি দেখা যায় এবং সবচেয়ে বেশি হয় হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী এবং মধ্যমাতে। * ঝিনঝিন অনুভূতি ও ব্যথার কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যায়, যা হাতে ঝাঁকুনি দিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। * এসব লক্ষণ ওপরের দিকে ছড়িয়ে বাহুতে চলে যেতে পারে। * চিকিৎসা না করালে থাম্বের মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয়
রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের সঠিক ইতিহাস জানা, কিছু শারীরিক পরীক্ষার মধ্যে মোটর ও সেন্সরি ফাংশন দেখা এবং টিনেলস টেস্ট, ফ্যালেনস ম্যানুভার ইত্যাদি করা এবং কিছু ল্যাবরেটরি টেস্ট করা জরুরি। কিছু রক্ত পরীক্ষা করা দরকার ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড ডিজিজ আছে কি না তা দেখার জন্য। এক্সের না করলেও চলে, তবে রোগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি করা দরকার।
চিকিৎসা
প্রাথমিক চিকিৎসা
১. রিস্ট সিপ্লন্ট- রাতের বেলা
২. ব্যথানাশক ওষুধ
৩. ওড়াল স্টেরয়েড
৪. বারবার হাতের বিশ্রাম, বিশেষ করে হাতের কাজের সময়
রিহ্যাবিলিটেশন
রিহ্যাবিলিটেশন করার মূল উদ্দেশ্য হাতের অতিরিক্ত ব্যবহার যাতে না করা হয়, যা সাধারণত এই রোগের উপসর্গগুলোকে আরো বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীকে রিলেটিভ রেস্ট এবং আরগোনোমিকস উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারেন। এই রিলেটিভ রেস্ট পিরিয়ডে রোগী ফ্লেক্সন ও এক্সটেনশন স্ট্রেচিং করবেন রিস্ট ও ফোরআর্মের যে হাত ভালো সেই হাত দিয়ে। এ ছাড়া এ সময় রোগী জেনারেল ফিজিক্যাল কন্ডিশনিং শুরু করবেন।
ইন্টারভেনশন
কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন কারপাল টানেলে দেওয়া যায়।
শল্য চিকিৎসা
যদি উল্লিখিত চিকিৎসায় এই রোগ ভালো না হয়, সে ক্ষেত্রেই কেবল শল্য চিকিৎসা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওপেন কারপাল টানেল রিলিজ এবং এন্ডোসকোপিক কারপাল টানেল রিলিজ।
এটি একটি নিরাময়যোগ্য রোগ। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিলে রোগী ভালো হয়ে যাবেন এবং কর্মসক্ষমতা ফিরে পাবেন। আমাদের দেশে এ রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্ভব।
ধন্যবাদ
আছমা ফিজিওথেরাপি সেন্টার বগুড়া
কানজগাড়ি, শেরপুর রোড় বগুড়া।
০১৭৯৯১৮৭৯০৯.০১৭৮৮৯২৮৭৭৭