12/01/2026
হাজার সমস্যার ভীরে কিছু ভাল খবর আছে, যদি সেইটা ঠিক মতো মানা হয় তবে যুগান্তকারী একটা ব্যাপার হবে। খবরটা হইল আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিসট্রেসন (FDA) সংক্রান্ত। যারা জানেন না, এইটা হইল সেই প্রতিষ্ঠান, যারা পৃথিবীর সব খাবার আর ঔষধ এর ব্যাপারে অনুমোদন দেয় বা নজরদারি করে। মানে এইখানে যা বলা হয়, তা পৃথিবীর সকল ডাক্তার, ক্লিনিকাল নিউট্রিসননিস্ত বা ডায়েটিসিয়ান, ফার্মাসিস্ট থেকে শুরু করে খাবারের সম্পর্কিত সমস্থ বড় কোম্পানি, আইনের মতো মেনে চলে। তাঁদের দেয়া "ফুড পিরামিড মডেল" বা আমজনতা কি খেলে ভাল থাকবে, তার একটা দিক নির্দেশনা গত ৫০ বছরেরও অধিক সময় ধরে মানা হতছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে, হাজারও গবেষণা বা রিসার্চ এই মডেলের বিরুধে কথা বলে আসছে। আধুনিক গবেষণা বলছে, উক্ত মডেল অনুসরণ করার কারনে, মানুষের রোগ ব্যাধি চিন্তার বাহিরে ব্যাপক আকারে বেড়েছে। WHO এর হিসেবে, গত ১০০ বছর আগে যেইখানে রোগের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০০-৩০০ টা, তা আজকে হয়েছে ১৭-১৯০০০! জী, ঠিকই দেখেছেন, সতেরো থেকে উনিশ হাজার! যার মধ্যে অর্ধেক সংখ্যক রোগ মানে ৮-৯০০০ আজকাল কমন! এ আই এর যুগে এটা নিজে গুগল করে দেখে নিতে পারেন।
আমরা জানি মৌলিক খাদ্য উপাদান তিনটি। আমিষ বা প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম) , ফ্যাট বা চর্বি/ স্নেহ (মাছ-মাংসের তেল, মাখন, ঘি, নারিকেল তেল, সরিষার তেল) আর শর্করা বা কার্বো হাইড্রেড (ভাত, আটা, ময়দা)। "ফুড পিরামিড মডেল" হিসাবে এত বছর, "এফ ডি এ" বলেছে যে, জন স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের খাবারের ৬০-৭০% বা ভাগ শর্করা বা কার্বো হাইড্রেড খেতে! তারপর শাক-সব্জি এবং ফল মূল খেতে। আর বাদ বাকি হয়ত ৫%-১০% আমিষ বা প্রোটিন, তার থেকেও কম ফ্যাট বা চর্বি/ স্নেহ খাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যা ৭০-৮০'র দশক থেকে লেখাপড়া করে আসা ডাক্তার, ক্লিনিকাল নিউট্রিসননিস্ত বা ডায়েটিসিয়ান, ফার্মাসিস্ট গণ তাদের মেডিক্যাল বই, নিউট্রিশন বা খাদ্য পুষ্টির বই এ পরে ডিগ্রী নিয়েছেন এবং আজও সারা বিশ্বে তাঁরা এই জ্ঞান দিয়ে প্র্যাকটিস করছেন, ঔষধ বানাতছেন। সেই হিসাবে সারা দুনিয়ার মানুষ তাঁদের পরামর্শ নিয়েই চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য এবং খাদ্য গ্রহনের মাপ কাঠী হিসেবে ধরে নিয়েছেন।
আধুনিক বিজ্ঞান আর প্রজুগতির যুগে এই ফুড মডেল গত ২০ বছর ধরে নানা সমালোচনার মধ্যে দিয়ে গেছে। কিন্তু অনেকেই বলে থাকেন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিসট্রেসন (FDA) আসলে একটা মাফিয়াদের আস্তানা, যারা সমগ্র পৃথিবীর মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, ফুড ইন্ডাস্ট্রি, ফার্মাসুটিকাল ইন্ডাস্ট্রি হাতের মুঠোই করে রেখেছে। মানে আপনি তাঁদের বানানো খাবার খাবেন, নেশার মধ্যে পড়বেন, অসুস্থ হবেন আবার তাঁদের বানানো ঔষধ খেয়ে দুই দিন ভাল থাকবেন, তিন দিনে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতে ভুগে হতাশ হয়ে দুঃখ ভোলার জন্য আবারও তাঁদের বানানো খাবার খেয়েই আমোদ করবেন, দিয়ে আবারও অসুস্থ হবেন। মানে এটা একটা জীবন চক্র, যার নিয়ন্ত্রন তাঁদের হাতেই।
সুখবরের ব্যাপারটায় আসি। গতদিন, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিসট্রেসন (FDA) থেকে চমকপ্রদ একটা ঘোষণা এসেছে! রাজনৈতিক পরিক্রমায়, ট্রাম্প প্রশাসনের লোকজন FDA তে দখল নিয়েছে। নতুন কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনারের নাম মারটিন মাকারি। গত দিন সরাসরি টিভিতে সরকারি ভাবে মারটিন মাকারি ঘোষণা দিয়েছে যে কথিত "ফুড মডেল পিরামিড" পরিবর্তন বা বাতিল করা হয়েছে! নতুন একটা মডেল ঘোষণা করা হয়েছে যা পূর্বের মডেলের একদম উল্টো! তিনি বলেন, এত বছর আমাদের মিথ্যার বুলি শুনানো হয়েছে! আমরা বর্তমানে চিনি এবং আলট্রা প্রসেসড খাবারের কারনে ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছি, যা আমাদের সন্তানদের পাতে নিয়মিত তুলে দেয়া হতছে! এর জন্য ৫০ বছরের পুরনো ফুড পিরামিড দায়ী! আমাদের এত দিন বুঝানো হয়েছে আমিষ এবং চর্বি খাবার শরীরের জন্য খারাপ! যা পুরাটায় মিথ্যা, ভুল এবং ভুয়া!
নতুন এই মডেল এ বলা হয়েছে জন সাধারণের ডায়েটে ৬০-৭০ ভাগ থাকতে হবে আমিষ বা প্রোটিন খবারের আধিক্য। যেমনঃ মাছ, মাংস, ডিম। এর সাথে সহায়ক হিসাবে সবজীর কথাও রাখা হয়েছে। এই মডেলে আরও বলা হয়, এত দিন মানুষের যে ধারনা ছিল যে চর্বি জাতিও মাছ মাংস খারাপ, চর্বি বাদ দিয়ে মাংস খেতে হবে সেটি পুরোটাই ভুল এবং ভুয়া। বরং ভাল চর্বি বা স্নেহ খাবার যেমন মাংস, ডিম, মাখন, নারিকেল তেল, ঘি ইত্যাদি না খেলে শরীর গুরুত্ব পূর্ণ কয়েকটি ভিটামিন গ্রহণ বা হজম করতে পারে না। যেমনঃ ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে
এই মডেল মোতাবেক শর্করা জাতীয় খাবার নিরুতশায়িত করা হয়েছে ব্যাপক আকারে। আধুনিক বহু গবেষনা বা রিসার্চ বলছে, শর্করা খাবারের আধিক্য ইনসুলিন রেসিসটেন্স এবং ইনফ্লামেসন এর জন্য দায়ী, যা অধিকাংশ রোগের মূল ভিত্তি বা কারন।
আধুনিক সমস্থ রিসার্চ বা গবেষণা মোতাবেক নতুন এই মডেল ডায়বিটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ক্যান্সার, লিভারের রোগ সহ প্রায় সকল ধরনের রোগ ব্যাধি কমাতে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে। যদি সঠিক ভাবে মানা হয় তবে এই মডেলটি ঔষধ শিল্প, হসপিটাল, ক্লিনিক, ডাইগনসটিক সেন্টার এর অধিপত্ত, আবর্জনা খাবারের কোম্পানি, বা পুরো ফুড ইনডাস্ত্রির সাপ্লাইচেইন কে পুরোটাই ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদিও এই সকল বড় সেক্টর এ ঘুষ দুর্নীতির আশঙ্খা থেকে যায়। এখন দেখার বিষয় যে পুরো সিস্টেম টাকে কত খানি পরিবর্তন করতে পারে, সেইটাই এখন বড় চ্যাঁলেনজ।