11/02/2026
দোকানে কাস্টমার আসছে না? মাল বিক্রি হচ্ছে না? ঋণ বেড়েই চলেছে?
সকাল ৯টায় দোকান খুলেছেন। দোকানের শাটার উঠল-কিন্তু মনটা উঠল না।
একজন কাস্টমার এলো। দেখে চলে গেল। আর আপনি ভেতরে ভেতরে হিসাব করতে থাকলেন—
আজ ভাড়া দিতে হবে।
আজ কর্মচারীর বেতন। আজ সাপ্লায়ার টাকা চাইবে। বাড়িতে বাজার নেই, বাচ্চার স্কুল ফি বাকি।
দিন যত গড়ায়-মাথার ভেতরের চাপ তত বাড়ে। রাতে শুয়ে থাকেন, চোখ বন্ধ হয় না। শুধু একটা কথাই ঘোরে-
"এভাবে চলতে থাকলে দেউলিয়া হয়ে যাব... দোকান বন্ধ করতে হবে... পরিবারকে নিয়ে কী করব?"
মাঝে মাঝে মনে হয়-
“ব্যবসা ছেড়ে চাকরি খুঁজি... অন্তত মাসশেষে নিশ্চিত বেতন থাকবে।"
কিন্তু একথা মনে রাখুন-
বাজারের হাতে নয়, কাস্টমারের হাতে নয়-রিজিক আল্লাহর হাতে।
তিনি চাইলে আজ যে দরজা বন্ধ-কালই খুলে দিতে পারেন।
আর আল্লাহ ব্যবসায়ীদের জন্য কুরআনে এমন একটি ছোট সূরা দিয়েছেন, যার ভেতরে আছে খাদ্য ও নিরাপত্তার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি- সূরা কুরাইশ।
---
সূরা কুরাইশ-ব্যবসায়ীদের সূরা (রেফারেন্সসহ)
মক্কার কুরাইশরা ছিল ব্যবসায়ী।
তাদের বড় বড় কাফেলা শীতকালে ইয়েমেন, গ্রীষ্মকালে সিরিয়ায় যেত।
রাস্তায় ছিল ডাকাতি, লুটপাট-তবু আল্লাহ তাদের ক্ষুধা থেকে খাদ্য এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন।
আল্লাহ বলেন-
لإِيلَافِ قُرَيْشٍ إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشَّتَاءِ وَالصَّيْفِ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَذَا الْبَيْتِ الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ
উচ্চারণ:
লিইলাফি কুরাইশ, ইলাফিহিম রিহলাতাশ শিতাই ওয়াস সাইফ, ফালইয়া'বুদু রাব্বা হাযাল বাইত, আল্লাযী আত'আমাহুম মিন জু'ইঁ ওয়া আমানাহুম মিন খাওফ।
অর্থ:
আসক্তির কারণে-
কুরাইশদের আসক্তির কারণে—তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের তাদের উচিত এই ঘরের রবের ইবাদত করা, যিনি তাদের ক্ষুধায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।
রেফারেন্স: সূরা কুরাইশ, আয়াত ১-৪ (১০৬:১–৪)
এখানে আল্লাহ যেন ব্যবসায়ীদের সরাসরি বলে দিচ্ছেন- "খাদ্য আমি দিই, নিরাপত্তা আমি দিই— তাই আমার ইবাদত করো, আমার কাছেই চাও।”
ব্যবসায় বরকতের ৫টি আমল (রেফারেন্সসহ)
১) দোকান খোলার আগে সূরা কুরাইশ ১১ বার
প্রতিদিন দোকান খোলার আগে সূরা কুরাইশ ১১ বার পড়ুন। সময় লাগবে ২ মিনিটেরও কম।
তারপর দোয়া করুন-
“হে আল্লাহ, আপনি কুরাইশদের ব্যবসা রক্ষা করেছিলেন। আমার ব্যবসাও রক্ষা করুন। কাস্টমার পাঠান। বিক্রি বাড়ান। লোকসান থেকে বাঁচান।"
তারপর বিসমিল্লাহ বলে দোকান খুলুন।
রেফারেন্স: সূরা কুরাইশ (১০৬:১-৪)
Follow
২) তাহাজ্জুদে কান্না করে দোয়া করুন
চাপ যখন বুকের ভেতর জমে পাথর হয়ে যায়- সিজদাই তখন সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।
প্রতিরাতে তাহাজ্জুদে ২ রাকাত পড়ে সিজদায় বলুন-
"হে আল্লাহ, আমার ব্যবসা লোকসান হচ্ছে।
ঋণ বাড়ছে।
দেউলিয়া হয়ে যাব।
আপনি আমাকে বাঁচান।
কাস্টমার পাঠান।
বিক্রি বাড়ান।
ঋণ শোধের তৌফিক দিন।"
32
৩) প্রতিদিন সদকা করুন (দোকান থেকে)
প্রতিদিন বিক্রি থেকে সামান্য সদকা করুন- ১০/ ২০/ ৫০ টাকা-যত পারেন।
কারণ বরকত আসে যখন হাত খোলে, নিয়ত ঠিক হয়।
রেফারেন্স:
নবীজি(সাঃ) বলেছেন—
"সদকা সম্পদ কমায় না।"
– সহীহ মুসলিম
(মা নাকাসাত সদাকাতুম মিন মাল)
৪) ইস্তিগফার পড়ুন (১০০ বার)
প্রতিদিন সকালে দোকানে বসে ১০০ বার পড়ুন-
"আস্তাগফিরুল্লাহ"
রেফারেন্স:
নবীজি বলেন- যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তার জন্য সব সংকট থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন এবং ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেন।
- সুনানে আবু দাউদ (এই মর্মের হাদিস)
৫) হালাল ব্যবসার নিয়ত করুন
মিথ্যা নয়।
ধোঁকা নয়।
নকল নয়।
ওজনে কম নয়।
হালাল পথ ধরুন।
কারণ লাভ কম হলেও বরকত থাকলে জীবন টেকে।
রেফারেন্স:
“সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতে নবী, সিদ্দীক ও শহীদদের সাথে থাকবে।”
– সুনানে তিরমিজি
শেষ কথা
ব্যবসা থেমে গেলে মনে হয়-জীবন থেমে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
আগামীকাল থেকে ৫টা কাজ শুরু করুন— দোকান খোলার আগে সূরা কুরাইশ ১১ বার তাহাজ্জুদে দোয়া প্রতিদিন সামান্য সদকা ১০০ বার ইস্তিগফার হালাল ব্যবসার দৃঢ় অঙ্গীকার
আল্লাহ আপনার দোকানে কাস্টমার পাঠান, বিক্রি বাড়ান, ঋণের বোঝা কমান—ইনশাআল্লাহ।
আপনি কি আগামীকাল থেকে দোকান খোলার আগে সূরা কুরাইশ পড়া শুরু করবেন?