18/02/2026
রমজান মানেই সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং রহমতের মাস। এই মাসে অনেক রোগীই মানসিকভাবে শক্ত থাকেন, ইবাদতে মন দেন, এবং আল্লাহর রহমতে শারীরিকভাবেও ভালো থাকেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।”
— কুরআন শরীফ, সূরা আশ-শু‘আরা (২৬:৮০)
চিকিৎসাবিজ্ঞান আমাদের চিকিৎসার পথ দেখায়, আর আরোগ্য দান করেন মহান আল্লাহ। তাই চিকিৎসা, সতর্কতা এবং তাওয়াক্কুল—এই তিনের সমন্বয়ই হলো সঠিক পথ।
🕌 নামাজ: ইবাদত এবং স্বাভাবিক ব্যায়াম
নামাজ শুধু ইবাদত নয়, এটি একটি নিয়ন্ত্রিত শারীরিক মুভমেন্ট থেরাপিও। রুকু, সিজদাহ, কিয়াম—এসব ভঙ্গিমা শরীরের জয়েন্ট ও মাংসপেশিকে সক্রিয় রাখে।
👉তবে যাদের তীব্র হাঁটু, কোমর বা বাতের ব্যথা আছে:
👉দাঁড়িয়ে কষ্ট হলে বসে নামাজ পড়ুন
👉ফরজ দাঁড়িয়ে, সুন্নত/নফল বসে পড়া যেতে পারে
👉ব্যথা সহনীয় হলে স্বাভাবিক নিয়মেই আদায় করুন
👉কোমরের বেল্ট বা হাঁটুর ক্যাপ পরে নামাজ না পড়াই ভালো, এতে অস্বস্তি বাড়তে পারে
ইসলাম আমাদের সহজতা শিখিয়েছে। কষ্ট করে ইবাদত নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদতই উত্তম।
🏃♂️ রমজানে ব্যায়াম: কখন ও কীভাবে?
👉দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু রোজায় ক্লান্তি বা সময়ের অভাবে অনেকেই ব্যায়াম বাদ দেন।
পরামর্শ:
👉সেহরির আগে হালকা স্ট্রেচিং
👉ইফতারের ২ ঘণ্টা পরে ২০–৩০ মিনিট হাঁটা
👉বাসায় বা আঙিনায় ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ
👉পর্যাপ্ত পানি পান
হালকা নিয়মিত নড়াচড়া রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, পেশি শক্ত রাখে এবং ব্যথা কমায়।
💊 রমজানে ব্যথার ওষুধ: সতর্কতা জরুরি
রোজায় দীর্ঘ সময় পাকস্থলী খালি থাকে। এই অবস্থায় অনেক ব্যথার ওষুধ (বিশেষত NSAIDs) গ্যাস্ট্রিক প্রদাহ বা আলসার বাড়াতে পারে।
মনে রাখবেন:
👉সব ব্যথার ওষুধ ভরা পেটে খাবেন
👉ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন
👉কিডনি রোগী হলে বিশেষ সতর্ক থাকুন
👉নিয়মিত প্রেসক্রাইব করা ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না
🤕 মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন কেন বাড়ে?
রমজানে মাথাব্যথার প্রধান কারণ:
🫵পানিশূন্যতা
🫵দীর্ঘক্ষণ না খাওয়া
🫵হঠাৎ চা/কফি বন্ধ করা
🫵ইফতারে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি
সমাধান:
👉ইফতারে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার
👉ফল, সবজি, ডিম, মাছ
👉এক ঘণ্টা পরপর পানি
👉মাইগ্রেনের নিয়মিত ওষুধ বন্ধ নয়
⚖️ রমজান: ওজন কমানোর সুবর্ণ সুযোগ
যাদের ওজন বেশি, তাদের জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক ক্যালোরি রিস্ট্রিকশন পিরিয়ড।
এড়িয়ে চলুন:
🫵ভাজাপোড়া
🫵অতিরিক্ত মিষ্টি
🫵কোমল পানীয়
পরিমিত খাবার ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এক মাসেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।
শেষ কথা
💊নিয়মিত চিকিৎসা
🥦সুষম খাদ্য
🚴পরিমিত ব্যায়াম
🧠ইতিবাচক মানসিকতা
🙏আর আল্লাহর উপর ভরসা
এই পাঁচটি বিষয় মিলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
ব্যথা তীব্র হলে একজন দক্ষ পেইন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সুস্থ থাকুন।
নিরাপদ ও ব্যথামুক্ত জীবন হোক সবার।
ডাঃ সৈয়দ আরিফুল ইসলাম
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (বিএসএমএমইউ), এফআইপিএম (ইন্ডিয়া),
ইউরোপিয়ান ডিপ্লোমা ইন পেইন মেডিসিন
সহকারী অধ্যাপক ও ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল
চেম্বার:
ন্যাশনাল হাসপাতাল, পশ্চিম পাইকপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
📞 +8801715222805