15/03/2026
বেশি ইউরিক এসিড (Uric Acid) রোগীর খাবার :-
১| ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা মহিলাদের ২-৬ মিলিগ্রাম/ডিএল এবং পুরুষদের ৩-৭.৬ মি গ্রা/ডি এল। শরীরে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে গিরায় ব্যথা, ঘুম থেকে উঠে পায়ের পাতা ফেলতে খুব কষ্ট বা ব্যথা কিংবা পা দিয়ে হাঁটতে গেলে তীব্র ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অচল হওয়ার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২| ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে শুধু ওষুধ নয়, খাবারের প্রতি একটু সচেতন হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব খাবারে পিউরিন বেশি থাকে সেগুলো কম খেতে হবে।
৩| সকালের নাস্তা:-
- ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ১ গ্লাস হালকা গরম পানি + লেবুর রস
- ২টা আটার রুটি / ১ কাপ ওটস
- ২টো ডিমের সাদা অংশ (কুসুম ছাড়া)
- সবজি
- সকাল ১১ টায়, ১টা ছোট আপেল বা ১ কাপ পেঁপে
৪| দুপুরের খাবার:-
- ১ কাপ ভাত( লাল চাল)
- ১ পিস মাছ (কম তেলে রান্না)
- সবজি ১ কাপ (লাউ, ঝিঙে, করলা, পটল, মিষ্টি কুমড়া)
- শসা বা সালাদ
৫| বিকেলের নাস্তা:-
- ১ কাপ গ্রিন টি / লেবু পানি / ইসবগুলের ভুসি
- অল্প মুড়ি বা ১টা ফল (কমলা, আপেল, পেয়ারা)
৬| রাতের খাবার:-
- ২টা রুটি বা অল্প ভাত
- সবজি ১ কাপ
- ডাল ( মুগ ডাল) অল্প পরিমাণ
- ১ কাপ লো-ফ্যাট টকদই
৭| কিছু খাবার আছে যেগুলো সাময়িকভাবে বাদ দিলে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হবে।
- অর্গান মিট বা নাড়িভুঁড়ি জাতীয় খাবার যেমন গরুর কলিজা, ফুসফুস, কিডনি ইত্যাদি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গরুর মাংস, খাসি বা ভেড়ার মাংসও না খাওয়াই ভালো। মুরগির চামড়া এবং পাখনা খাওয়া যাবে না।
- সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশ, রূপচাঁদা, কোরাল, ভেটকি, চিংড়ি, লইট্যা ইত্যাদি এবং বেশি লবণযুক্ত খাবার যেমন শুঁটকি মাছও সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া উচিত।
- সব ধরনের ডাল ও বিচিযুক্ত সবজি যেমন মসুর ডাল, মটরশুঁটি, সিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি কম বা সাময়িকভাবে না খাওয়াই ভালো।
- অক্সালেট বেশি থাকা সবজি যেমন পুঁইশাক, পালংশাক, ব্রুকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং মাশরুম এড়িয়ে চলা উচিত।
- প্রসেসড ও বেশি চিনিযুক্ত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, পাপড়, কোমল পানীয়, চিনিযুক্ত শরবত, ক্যান ফুড, প্যাকেট ফুড, ফ্রোজেন ফুড, ফাস্টফুড ও জাঙ্ক ফুডও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ভালো।
৮| যেসব খাবার বেশি খাবেন।
✔ প্রতিদিন অন্তত ৩–৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত(চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুসারে)। এতে প্রস্রাবের সঙ্গে ইউরিক এসিড বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।
✔ ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার: লেবু, মাল্টা, আমলকি, জলপাইসহ টক ফল নিয়মিত খেতে পারেন। চাইলে প্রতিদিন ১–২ কাপ গ্রিন টি রাখা যেতে পারে।
✔ আঁশযুক্ত খাবার: লাল চালের ভাত, লাল আটা, মাল্টিগ্রেইন আটা, ওটস, তাজা শাকসবজি ও ফল বেশি খেতে হবে।
✔️মাংস খেতে চাইলে চর্বি ছাড়া অল্প পরিমাণ মাংস সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
✔️চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস, কুসুম ছাড়া ডিম, অল্প পরিমাণ নদীর মাছ, ফ্যাটবিহীন দুধ বা টক দইও খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে।
✔️প্রচুর পরিমাণে গাঢ় সবুজ রঙের এবং হালকা সবুজ রঙের শাকসবজি রাখতে হবে দৈনিক খাদ্য তালিকায়।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সঠিক ডায়েট মেনে চললে ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং গাউট বা জয়েন্টে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকিও কমে।