18/03/2026
আমার জীবন ও চেম্বার সংক্রান্ত …
আসসালামুআলাইকুম ।
আলহামদুলিল্লাহ,
ইনশাআল্লাহ, ওমরাহ শেষে আমরা ২০ তারিখ দেশে ফিরবো।
দেশে লেন্ড করে আমি ফেসবুকের মাধ্যমে আপনাদের ইনশাআল্লাহ জানিয়ে দিব ২৩, ২৪ নাকি ২৫ তারিখ থেকে চেম্বার শুরু করবো। একটু ধৈর্য্য ধরলেই ফেসবুকে চোখ রাখলেই ইনশাআল্লাহ সব জেনে যাবেন।
জীবনে প্রতিটি সফর, প্রতিটি সময় থেকেই আমি কিছু পজেটিভ শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি।
সবসময় চেষ্টা থাকে ধীরে ধীরে চেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে আগের চেয়ে ভালো ও উন্নত মানুষে রুপান্তর করতে।
কোরআন হাদিস যতটুকু পড়াশোনা করেছি বা নিজের জীবন চর্চা থেকে জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা জীবনের এ পর্যায়ে বেশ অনুধাবন করতে পেরেছি। আর আমার মতো সাধারণ একটা মানুষ বুঝতে পেরেছি আমার জীবনের আসল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম নিস্পাপ ঈমানদার বান্দা হিসাবে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া।
এটা আমার নতুন কোন উপলব্ধি নয়। আমি বহু আগে থেকেই এ বিশ্বাসে বিশ্বাসী। তবে আমি লক্ষ্য করেছি আমার জীবন যাপনে কিছু সমস্যা আছে । আমি অফিস, চেম্বার, রোগি, ওটি ,খামার , ফেসবুক , নিজের যত্ন এবং সংসার ও সন্তানের মধ্যে গুরুত্ব অনুযায়ী আমার প্রত্যহ সময় ভাগ করে একটা ব্যলেন্স ও ডিসিপ্লিনড লাইফ চর্চায় বার বার ব্যর্থ হচ্ছিলাম, আর বারবার হতাশ হচ্ছিলাম।
গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখলাম, কিভাবে সব সমন্বয় করে একটা বেলেন্স জীবন যাপন করা যায়। বুঝলাম মানুষের পক্ষে সব কিছু সঠিক পরিমাপে করা প্রায়ই অসম্ভব। তবে অন্তত চেষ্টা করতে পারি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সাহায্য করবেন।
আমার পূর্বের দৈনন্দিন রুটিনের প্রধান সমস্যা ছিল, আমি অধিক কাজে ভারাক্রান্ত হয়ে রোজ রাত ১ টার পর বাসায় ফিরতাম। ফলে রোজ ঘুমের ঘাটতি থাকতো এবং আমার ফজরের নামাজ কাজা হতো। বাচ্চা ও হাসবেন্ড সবার সাথে কোন কোয়ালিটি সময় কাটানোর ফুসরত মিলতো না। আমার বাচ্চা নবম শ্রেণীতে এখন। ওর পড়াশোনার খবর নেয়াটা আমার জন্য খুবই জরুরী।
সব বিবেচনা করে দৈনন্দিন একটা রুটিন মনে মনে ঠিক করেছি। আমার রোগিদের সহযোগিতা ছাড়া এ রুটিন আমার পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না কখনো।
আমি ঠিক করেছি আমি প্রতিদিন দুপুরে অফিস শেষ করে বাসায় যাবো না, সরাসরি চেম্বারে চলে আসবো। রোগিরা ( ঠিক রমজানের রুটিনের মতো) ১ টার দিকে চেম্বারে আসবেন । আমার সহকারী ডাক্তার ও কর্মীরা রোগিদের এন্ট্রি করবেন, ওজন প্রেশার মেপে ইতিহাস নিয়ে ফেলবেন॥ আর আমি এসে রোগি দেখা শুরু করলে ইনশাআল্লাহ মাগরিবের আগে সব রোগি দেখা শেষ হয়ে যাবে।
দৈনিক যাদের রুটিন আল্ট্রাসনোগ্রফি করতে হবে তাদেরকে পরের দিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে সে কাজটি করার স্কিডিউল দিয়ে দিব, তাহলে তাদের ও অপেক্ষাকাল কম হবে। অর্থাৎ সব কাজ রাত ৭-৮টার মধ্যেই শেষ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।
এর ফলে আমি বাসায় গিয়ে রাতের নামাজ শেষ করে খাওয়া দাওয়া করে বাচ্চার পড়ার খবর নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এবং সঠিক সময়ে ঘুমালে ইনশাআল্লাহ ফজরের সময় উঠতে পারবো। তখন নিজের যত্ন ও পরিবারের যত্ন নিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
আমি আল্লাহর ওয়াস্তে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। যদি এ রুটিন ফলো করা যায় তবে মধ্য রাত অবধি আমার বা রোগিদের রাস্তায় থাকতে হবে না।
অনেক মহিলা স্বামী ( ওনাদের জবের কারণে )ছাড়া দিনের বেলায় চেম্বারে আসতে চান না, আপনারা আমার প্রতি দয়া করুন। একদিন ছুটি মেনেজ করে বা অন্য কারো সাথে আসার চেষ্টা করুন। আমি সন্দ্ধার পর আর চেম্বারে রোগি নিব না। আমি এ ব্যপারে কঠোর না হলে আমি ধ্বংসের দিকে চলে যেতে হবে। রোজ ফজর নামাজ কাজা হওয়াতো ধ্বংসের ই সামিল।
আবারও বলছি রোগিদের সহযোগিতা ছাড়া আমার পক্ষে এ রুটিন মানা সম্ভব নয়।
আশাকরি আমার প্রতি সদয় হবেন।
আপনাদের সকলের দোয়া চাই।