মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ঘর

মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ঘর Let's change ourselves by changing negative thoughts to positive.

যেভাবে টিনএইজ সন্তানের প্রেম হ্যান্ডেল করবেন।আজকের বিষয় টিনএইজ প্রেমের বিষয়গুলো  বাবা-মা কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন। একমাত...
06/11/2025

যেভাবে টিনএইজ সন্তানের প্রেম হ্যান্ডেল করবেন।

আজকের বিষয় টিনএইজ প্রেমের বিষয়গুলো বাবা-মা কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন। একমাত্র ভুক্তভোগী জানেন এটি কত বড় সমস্যা। তাই এ লেখার মাধ্যমে একজন উপকৃত হলেও ধন্য হবো।

১। প্রথমে নিজেকে সামলান।

টিনএইজ বাচ্চার প্রেমের খবর জানলে মা-বাবা সাধারণত খুব দ্রুত রিয়্যাক্ট করেন। সাধারণত তা হয় রাগারাগি, কান্নাকাটি, চেঁচামেচি, মারধোর। দয়া করে এগুলো করবেন না। শান্ত থাকুন। এ ধরনের সমস্যা কমন। আপনার বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রথম হয়নি। তাই রাগারাগি বা খুব ইমোশোনাল আচরণ না করে ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটি হ্যান্ডেল করুন। এটা নিয়ে যত চেঁচামেচিই করুন না কেন সমস্যার সমাধান হবে না।বরং আপনার সন্তান আরো জেদি হয়ে উঠবে এবং কোনো কথা শুনবে না। তাই সবার আগে নিজেকে সামলান।

২। পার্টনারের সাথে আলোচনা করুন।

এ সমস্যার মুখোমুখি হলে স্বামী-স্ত্রী একান্তে তা কীভাবে মোকাবেলা করবেন সে ব্যাপারে আলোচনা করুন। এক্ষেত্রে মায়েরা অনেক সময় একটি ভুল করেন। তাহলো, ব্যাপারটি জানলে স্বামী রাগ করবেন ভেবে তা তাঁর কাছে গোপন রাখেন।নিজে নিজে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত বাচ্চার বাবা যখন জানতে পারেন তখন সমস্যাটি এত প্রকট হয়ে যায় যে, সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই মা কিংবা বাবা যেই প্রথম ব্যাপারটি জানবেন, তিনি তা অপরজনকে জানাবেন। একার বুদ্ধিতে নয়, দুজনের বুদ্ধিতে সমস্যাটি মোকাবেলা করুন।

৩। সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন।

রাগারাগি না করে ব্যাপারটি নিয়ে সন্তানের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন। বোঝার চেষ্টা করুন ব্যাপারটি কতদূর এগিয়েছে। তাকে নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ দিন। শোনার আগেই বিচারের রায় না দিয়ে তার বক্তব্য কী, কেন সে এ পছন্দে জড়ালো তা বলতে দিন। ওর বক্তব্য হয়ত আপনার পছন্দ হবে না, তারপরও শুনুন। এধরনের সমস্যা সমাধানে তার কথা শোনা অনেক কাজে লাগবে।

৪। ঠান্ডা মাথায় বোঝান।

তার বক্তব্য শোনার পর খুব ঠান্ডা মাথায় কেন আপনি এ সম্পর্ক সমর্থন করেন না তা বোঝান। বিপক্ষে বলার অনেক ক্লু ওর কথাতেই পেয়ে যাবেন। যেমন, যার সাথে সম্পর্ক তার অনিশ্চিত ভবিষ্যত, পারিবারিক ঝামেলা, যা ভবিষ্যতে সমস্যা করবে, এরকম অনেক ক্লু। তবে যাকে ওর পছন্দ তার বদনাম করবেন না, তার পরিবারকে টেনে এনে ছোটো কথা বলবেন না। এটি উলটো সমস্যা করবে। বরং ওকে বোঝান কেন এ সম্পর্ক প্র্যাকটিক্যাল নয়। ও যদি বুঝতে পারে আসলেই সম্পর্কটির ভবিষ্যত নেই তাহলে নিজেই সরে আসবে।

৫। টিনএইজ প্রেমের সমস্যা সম্পর্কে বলুন।

ওকে উদাহরণ দিয়ে টিনএইজ প্রেমে কী কী সমস্যা হয় তা বুঝিয়ে বলুন। আপনার আশেপাশেই এরকম উদাহরণ আছে। আমি গতকাল এধরনের প্রেমে কী সমস্যা হয় তা লিখেছি। চাইলে আমার পেইজ স্ক্রল করে তা পড়তে পারেন।

৬। ওর বন্ধুদের সাহায্য নিন।

এ বয়সের ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কথা যত শুনে তার চেয়ে বেশি শুনে ওদের বন্ধু বা সমবয়স্কদের কথা। তাই ওর সবচে কাছের বন্ধবান্ধব বা কাজিনের সাথে কথা বলুন। তাদের অনুরোধ করুন ওকে বুঝিয়ে বলতে। ওরা বোঝালে কাজ হতে পারে।

৭। হুমকি দেবেন না।

অনেক মা-বাবা এধরনের সম্পর্কের কথা শুনে যার সাথে সম্পর্ক তাকে হুমকি দেন, ভয় দেখান, ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেন। প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে এর ফলাফল নেগেটিভ। এতে দুজনে জেদ আরো বাড়ে এবং শুধু জেদের কারণে আরো গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

৮। বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন।

এরকম সমস্যায় পড়লে নিজেকে সন্তানের কাছে শত্রু বানাবেন না। বরং তার বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করুন। সে বিশ্বাস করবে, আপনি মান-সম্মান বা নিজ স্বার্থে নয়, ওর ভালোর জন্য উপদেশ দিচ্ছেন। এরকম একটি জায়গা তৈরি করলে সে আপনার উপর আস্থা রাখবে এবং ভুল সম্পর্ক থেকে সরে আসবে।


৯। সবাইকে বলে বেড়াবেন না।

দয়া করে জনে জনে আলাপ করে পরামর্শ চাইবেন না। এতে আপনার সন্তান অপমানিতবোধ করবে এবং আরো জেদি হয়ে উঠবে। ফলাফল হচ্ছে, সম্পর্কচ্ছেদ না করে সে জিদ করে আরো বেশি জড়াবে।

১০। ওর অনুভূতিকে অপমান করবেন না।

টিনএইজ বাচ্চারা খুব অনুভূতিপ্রবণ। ওদের অনুভূতিতে আঘাত করলে ওরা কখনোই তা মেনে নেয় না। বরং উল্টো আচরণ করে। তাই ওর অনুভূতিকে আঘাত না করেই ওকে বোঝান। মাথায় হাত বুলান, বলুন, 'এ সম্পর্ক শেষ করার কষ্ট আমি বুঝি। কিন্তু জীবনের বাস্তবতায় আমাদের অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। তোমার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তোমাকেও মানতে হবে।'

১১। বিশ্বস্ত কারো পরামর্শ চাইতে পারেন।

জনে জনে না বললেও, খুব বিশ্বস্ত এবং আস্থা রাখা যায় এরকম কারো সাথে আলাপ করতে পারেন। যিনি পুরো প্রাইভেসি বজায় রেখে আপনাকে পরামর্শ দেবেন।

১২। ঘরে আটকে রাখবেন না: পড়াশোনা বন্ধ করবেন না।

পারতপক্ষে প্রেমের কারণে ওকে ঘরে আটকে রাখবেন না। যোগাযোগের এ যুগে চার দেয়ালের মাঝে আটকে রেখে প্রেম আটকে রাখা যায় না। ওকে স্কুল-কলেজে যেতে দিন। তবে তাকে একটি কথা বলবেন, তাহলো, ‘আমি তোমাকে বিশ্বাস করছি, এর অমর্যাদা করো না।‘ তার প্রতি এ শ্রদ্ধা ও আস্থা তাকে বন্দি রাখার চাইতে বেশি কাজ করবে বলে আমার ধারণা। তবে কতক্ষণ বাইরে থাকবে তা ঠিক করে দিন। যেমন, স্কুল বা কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে হবে। অন্যকোথাও গেলে কোথায় যাচ্ছে তা জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরতে হবে। এধরনের পরিস্থিতিতে কখনোই পড়াশোনা বন্ধ করবেন না।এতে তার জীবন ধ্বং*স হয়ে যাবে।

১৩। একে অন্যকে দোষ দেবেন না।

এধরনের সমস্যায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করেন। বিশেষ করে বাচ্চার মাদের দায়ী করা হয়। দয়া করে তা করবেন না। বরং দুজনে একসাথে সমস্যা মোকাবেলা করুন। নিজেরা ঝগড়াঝাটি করলে বাচ্চাকে সামলাবেন কখন?

১৪। ইট'স অ্যা পিউর মাইন্ড গেইম।

মনে রাখবেন, আপনার সন্তানকে এ সমস্যা থেকে বের করে আনার জন্য আপনি একটি মাইন্ড গেইম খেলছেন। এতে কে জিতবে আপনি না আপনার সন্তানের সর্বনাশা প্রেম? আপনি জিতবেন, যদি কৌশলী হন।যে কৌশলগুলোর কথা বলেছি সেগুলো প্রয়োগ করতে পারেন। মাইন্ড গেইম সাপ-লুডু খেলার মতো। একটি ভুল চাল দিলেন তো সাপ আপনাকে খেয়ে ফেলবে। তাই সাবধানে খেলুন। ভেবেচিন্তে খেলুন। আপনার জেতার উপর নির্ভর করছে সন্তানের ভবিষ্যত।


১৫। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর।

অপ্রিয় সত্য হলো, টিনএইজ এমন একটি বয়স যখন কথা শোনানো খুব কঠিন। তাই সম্পর্কে জড়ালে তা থেকে সরিয়ে আনা খুব কঠিন। সেজন্য তাতে যাতে না জড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এর জন্য যা করা দরকার তাহলো,

ক) টিন এইজে পা দিলেই সন্তানের সাথে এ ধরনের সম্পর্কের খারাপ পরিণতি নিয়ে খোলামেলা আচরণ করুন। আমার মেয়ে এ বয়সে পড়লে তার মা ব্যাপারটি নিয়ে ওর সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। এটি খুব কাজে লেগেছে।

খ) তার প্রতি সতর্ক নজর রাখুন। কার সাথে মিশছে খেয়াল রাখুন। বন্ধুদের মাঝে মাঝে বাসায় ডাকুন।তাহলে অনেক কিছু বুঝতে পারবেন। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

গ। স্মার্ট ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন। রাতে ঘুমানোর সময় ওর নাগালে এ দুটো বস্তু যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করুন। বাসায় ওয়াইফাই থাকলে তা রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ রাখুন। মোবাইল সেট আপনার কাছে জমা দিতে বলুন। একেবারে প্রথমদিকে যদি এ নিয়মগুলো বেঁধে দেন ও মেনে নেবে। তাই স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার আগেই এ শর্ত ক্লিয়ার করুন। গভীর রাতে বাচ্চার হাতে মোবাইল ফোন ‘ইবলিশ’ হয়ে উঠতে পারে।

শেষ কথা হচ্ছে, টিনএইজ সন্তানের প্রেমের কথা জানলে ঝাঁটা নিয়ে 'তোর প্রেম বের করছি' বলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। লম্বা দম নিন, তারপর ভাবুন, 'আমি একটু যুদ্ধে নামছি এবং যুদ্ধে জিতে ঠান্ডা মাথা, গরম মাথা নয়। তাই আমার মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।'
তারপর যুদ্ধে নামুন। দেখবেন, আপনি জিতবেন।

24/10/2025

ADHD শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণে বাবা-মার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ করণীয়:

ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder) শিশুদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়, কিন্তু সঠিক উপায় জানা থাকলে বাবা-মা শিশুর বিকাশ ও আচরণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। নিচে ADHD শিশুদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে বাবা-মার করণীয় বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।

১. শিশুর আচরণ বুঝতে শেখা

ADHD শিশু ইচ্ছে করে “অমনোযোগী” বা “দুষ্ট” আচরণ করে না, বরং তাদের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও ইমপালস কন্ট্রোল কম থাকে।

তাই শাস্তি না দিয়ে বুঝে নিতে হবে কখন ও কেন শিশুটি আচরণ নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।

২. নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করুন (ঘুম, খাওয়া, পড়া, খেলা ইত্যাদি)।

ADHD শিশুদের জন্য পূর্বানুমেয় রুটিন তাদের মনোযোগ বাড়ায় ও উদ্বেগ কমায়।

ভিজুয়াল রুটিন চার্ট ব্যবহার করতে পারেন (ছবিসহ সময়সূচি)।

৩. ইতিবাচক আচরণে প্রশংসা করুন

ভালো আচরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসা বা পুরস্কার দিন।

যেমন – “তুমি খুব সুন্দরভাবে কাজটা করেছো”, “আমি গর্বিত তোমার জন্য”।

ছোট পুরস্কার (স্টিকার, অতিরিক্ত খেলার সময় ইত্যাদি) খুব কার্যকর।

৪. নেতিবাচক আচরণে তাৎক্ষণিক ও শান্ত প্রতিক্রিয়া দিন

বকা না দিয়ে ছোট ও পরিষ্কার নিয়ম দিন, যেমন –
“এখন বসে থাকতে হবে”, “চিৎকার করা যাবে না”।

অতি আবেগী প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন।

৫. কাজ ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন

একসাথে অনেক নির্দেশ না দিয়ে একটি নির্দেশ একবারে দিন।

বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করে দিন এবং প্রতিটি ধাপের পর প্রশংসা করুন।

৬. সময় নিয়ন্ত্রণ শেখান

টাইমার বা ক্লক ব্যবহার করে কাজের সময় নির্ধারণ করুন।
যেমন: “এই কাজটা ১০ মিনিটে শেষ করতে হবে।”

এটি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৭. অতিরিক্ত শক্তি (hyperactivity) নির্দিষ্ট পথে ব্যবহার করুন

খেলাধুলা, দৌড়ানো, নাচ, সাঁতার বা শারীরিক কার্যক্রমে উৎসাহ দিন।

শারীরিক কার্যকলাপ ADHD শিশুর মনোযোগ ও ঘুম দুটোই উন্নত করে।



৮. শিথিলকরণ অনুশীলন (Relaxation) শেখান

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, সহজ যোগ, শান্ত সংগীত শুনে বিশ্রাম নিতে শেখান।

এটি ইমপালস কন্ট্রোল বাড়াতে সাহায্য করে।

৯. স্কুল ও থেরাপিস্টের সাথে যোগাযোগ রাখুন

শিশুর শিক্ষক, মনোবিজ্ঞানী বা বিহেভিয়ার থেরাপিস্টের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।

প্রয়োজনে Behavior Therapy, CBT, ABA বা Parent Management Training নিন।

১০. ধৈর্য, সহানুভূতি ও নিয়মিততা বজায় রাখুন

পরিবর্তন একদিনে আসবে না — সময় দিন।

শিশুকে “ভালোবাসা ও নিরাপত্তা” অনুভব করান।

ADHD শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো — বাবা-মায়ের সহানুভূতি ও ধারাবাহিক সমর্থন।

Mohammad Rashed Rana
Psychotherapist Counsellor
মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ঘর
BSc & MSc in Psychology
Behavior Therapist (CBT, BACS, AMS)

Contact
WhatsApp - 01836-417550

পরকীয়া ঠেকানোর অনন্য উপায়মধ্যযুগের ফ্রান্সের একটি শহরের মহিলাদের মধ্যে অদ্ভুত অভ্যাস ছিল। শহরের সকল বিবাহিত মহিলারা তাদ...
25/09/2025

পরকীয়া ঠেকানোর অনন্য উপায়

মধ্যযুগের ফ্রান্সের একটি শহরের মহিলাদের মধ্যে অদ্ভুত অভ্যাস ছিল। শহরের সকল বিবাহিত মহিলারা তাদের স্বামীর সকালের নাস্তায় সামান্য পরিমানে
বিষের ডোজ দিয়ে রাখতো।

আর স্বামী সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসলে সঙ্গে সঙ্গে সেই বি-ষের প্রতিষেধক দেওয়া হতো। এর ফলে স্বামীর শরীরের কোনো ক্ষতি হতো না।

এই অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক কাজটি করার কারণ ছিলো, যেনো তারা নিজ গৃহ ছাড়া কোথাও যেন না থাকে, নিজের স্বামীকে কাছে রাখার জন্য মহিলারা এই কাজ করতো।

যদি তারা বেশি সময় অন্য কোথাও থাকে, তাহলে পুরুষের শেষ পর্যন্ত বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, বিষণ্নতা, বমি, ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গের সম্মুখীন হতে শুরু করতো।

পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে অর্থাৎ বাড়ি ফিরতে যত দেরি করবে, সে তত বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং অবশেষে যখন তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন, স্ত্রী অজান্তেই তাকে সেই বিষের প্রতিষেধক দিতেন।

শিশুর মোবাইল আসক্তি: মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিবর্তমানে অনেক শিশু অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোনে ব্যয় করছে, যা তাদের মানস...
29/03/2025

শিশুর মোবাইল আসক্তি: মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি

বর্তমানে অনেক শিশু অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোনে ব্যয় করছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে তাদের একাগ্রতা কমে যায়, মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামাজিক দক্ষতা হ্রাস পায়।

এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে অভিভাবকদের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

✔ শিশুর জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন।
✔ বিকল্প বিনোদন, যেমন বই পড়া, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন।
✔ পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর ব্যবস্থা করুন।
✔ বাসায় মোবাইল ব্যবহার সীমিত করুন যাতে সন্তান আপনার দ্বারা প্রভাবিত না হয়।

সতর্কতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিশুকে মোবাইল আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

17/09/2024

বিশ্বাসীদের অগাধ বিশ্বাস এই যে মহান আল্লাহ আদম সন্তানকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এমন আজিব ও সূক্ষ্ম কিছু বিষয় দৃষ্টিগোচর হয় তা বিশ্বাসীদের বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে মিলে যায়।
মানব মস্তিষ্কের সাথে মৃত্তিকার এক নিবিড় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মস্তিষ্ককে যতই মাটির নিকটবর্তী করা যায় মস্তিষ্ক ততই শান্তি পায়। এই এক আজীব শান্তি। হতাশা বা বিষন্নতার বেড়াজালে পতিত ভাইবোনদের জন্য নি:সন্দেহে এটি অনেক বড় ঔষধ।

01/07/2024

শিশুর ইতিবাচক আচরণ :

শিশুর ইতিবাচক আচরণ প্রতিটি বাবা মার কাম্য। আর এই ইতিবাচক আচরনের শিক্ষা পায় শিশু তার পরিবার থেকে। শিশুর আচরণে গঠনমূলক পরিবর্তন সাধন করে তাকে সামাজিক ভাবে গ্রহনযোগ্য রুপে গড়ে তোলা সকল পিতা-মাতারই একটি অন্যতম দ্বায়িত্ব। এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। কারণ আপনার সন্তানের ভবিষ্যত সাফল্য অনেকাংশেই তার উত্তম ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল।

আপনার সন্তানের ভাল আচরণকে কীভাবে উৎসাহিত করবেন :

▪️ আপনি নিজেকে আপনার সন্তানের জায়গায় চিন্তা করুন।তার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করুন।আপনি যদি আপনার সন্তানের ঘনিষ্ঠ হতে পারেন তবে আপনি যা বুঝিয়ে বলেন না কেন, সে আপনার কথার প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দিবে। আপনার কথাগুলো মেনে চলতে চেষ্টা করবে।
▪️ আপনি যদি চান যে আপনার সন্তান চিৎকার না করুক বা শান্ত ভাবে কথা বলুক তাহলে আপনার নিজের কণ্ঠ স্বরকে নিচু করুন এবং শান্তভাবে কথা বলুন।মনে রাখবেন আপনার আচরণই শিশু অনুকরণ করবে।
▪️ আপনার শিশু যখন আপনার পছন্দ মাফিক ভাল আচরণ করবে, তখন তার প্রসংশা করুন, কিছু ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া করার মাধ্যমে উৎসাহিত করুন। যেমন -‘বাহ, তুমি এত সুন্দর করে খেলছো। তাকে বলুন " এলো মেলো খেলার চেয়ে গুছিয়ে খেললে বেশি সুন্দর দেখায় "।
▪️ আপনার শিশু ছোট হলেও তার ভিতরে কিন্তু বোধ শক্তি রয়েছে। তার কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা করুন। আপনি যখন আপনার প্রতিশ্রুতিগুলি পুরণ করবেন, তখন আপনার শিশু আপনাকে বিশ্বাস করবে এবং সম্মান করতে শিখবে। সে বুঝতে পারবে যে, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা একটা ইতিবাচক মনোভাব।
▪️ কোন ব্যাপারে আপনার শিশুকে “ না ”বলার আগে নিজেকে শান্ত করুন। তার সাথে বিরুপ ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঠান্ডা মাথায় তাকে বুঝিয়ে বলুন, তার বায়না কেন পূরণ যোগ্য নয়।
▪️ শিশুর সকল জেদ পূরণ করা উচিৎ নয়। এতে সে আরো বেশি জেদি হয়ে উঠবে। এজন্য যখন আপনার শিশু কোনও কিছুর জন্য জেদ করতে থাকে, আর আপনি যদি না বলে থাকেন, তবে আপনার সিদ্ধান্তে অটল থাকুন।
▪️ শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাকে কিছু দায়িত্ব দিন। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে দ্বায়িত্বটি যেন বয়স মাফিক হয়। দ্বায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি অনুভব করার সুযোগও তাকে দিন। উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনার শিশু স্কুল এ যাচ্ছে এবং স্কুল ব্যাগ গুছানোর দায়িত্ব তার নিজের। অসতর্কতার কারনে যদি সে কোন বই নিতে ভুলে যায়, তবে তাকে বই ছাড়া স্কুলে গেলে কি হয় সেটা উপলব্ধি করতে দিন। এতে আপনার শিশু দ্বায়িত্ব পালনে আরও বেশি যত্নশীল হবে।
▪️ আপনার শিশু পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এই ধারণা দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করুন। তার মতামতকে গুরুত্ব দিন।
▪️ শিশুর দেখাশুনা করার সময় বিভিন্ন প্রকার চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আপনি যদি এইসব চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিগুলি সম্পর্কে আগে থেকে চিন্তা করেন তবে আপনি আপনার সন্তানের প্রয়োজনগুলি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা গ্রহন করতে পারবেন।

একটি ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পদ্ধতি হতে পারে আপনার সন্তানের আচরণের দিকনির্দেশনা প্রদানের সেরা উপায়। এর অর্থ হল যখন আপনার শিশু কোন অপছন্দনীয় আচরণ করবে তখন তাকে শাস্তি দিয়ে নয় বরং আপনার সন্তান ভাল আচরণ করলে তাকে প্রশংসা ও পুরস্কৃত করার মাধ্যমে উৎসাহিত করা।
শিশুর ইতিবাচক আচরন শিক্ষা তাকে সুনাগরিক হতে সাহায্য করবে। আজকের শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ।
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সকল সহযোগিতামূলক পরামর্শ পেতে চোখ রাখুন আমাদের পেইজে।

22/06/2024

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে পিতামাতার সচেতনতা প্রয়োজন।

25/10/2023

আমাদের সন্তানরা আমাদের প্রাণ। তাদের মেধা ও মনন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বিকশিত হোক প্রত্যেক পিতামাতার চাহিদা। আমরা চাই যে আমাদের সন্তান একজন ভাল মানুষ হয়ে গড়ে উঠুক এবং আমার চেয়ে সমৃদ্ধি লাভ করুক। মোটকথা আমরা সবাই চাই আমার সন্তান সুস্থ পরিবেশে সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠুক।

বিভিন্ন মাধ্যমের কল্যাণে আমরা দেখতে পাচ্ছি বেশিরভাগ অভিভাবক তাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে উঠা নিয়ে চিন্তিত ও শঙ্কিত।

# সন্তানদের হাইপার অ্যাক্টিভিটি
# অনিয়ন্ত্রিত আবেগ(রাগ)
# কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি আসক্তি
# চাওয়া মাত্রই কোন কিছু না পেলে তার অস্বাভাবিক আচরণ
এমন অনেক কিছু পরিলক্ষিত হয় যা নিয়ে বাবা-মা তাদের সন্তানের সুস্থ মানসিকতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। আজকের এই আলোচনায় তাদের জন্য কিছু পরামর্শ থাকবে।

প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতিঃ
আমাদের সন্তানদের এই ধরনের আচরণ আসলে একদিনে গড়ে ওঠেনি। অপ্রিয় হলেও সত্য যে অনেক ক্ষেত্রে হয়তো এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। অনেক ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। ঘরের পরিবেশে আমাদের এই ত্রুটিপূর্ণ আচরণ থেকেই আমাদের সন্তানেরা অনেক কিছু শিখে।

শিশুরা অনুকরণ করতে পছন্দ করে। সে যদি দেখে বাবা অফিস থেকে এসে মার সাথে রাগারাগি করছে অথবা মা সবসময় বাবার সাথে রাগারাগি করে, চিৎকার করে করে কথা বলে, ফলে সন্তানের মধ্যে কাওকে সহ্য করতে না পারা, তুচ্ছ বিষয়ে রাগ করা, অস্থির হয়ে ওটা এই সব আচরণ বিকশিত হতে থাকে।
স্পষ্ট কথা! আমার সন্তান আমার পরিবেশে আমাকে দেখেই শিখে। আমি যদি সত্য বলি, সেও সত্য বলা শিখবে। আমি যদি অন্যকে সম্মান দিয়ে কথা বলি, তার মধ্যে অন্যকে সম্মান দিয়ে কথা বলার মূল্যবোধ তৈরি হবে। আর যদি আমার সন্তান আমাকে কাজের মেয়ের সাথে দুর্ব্যবহার করতে দেখে, প্রশ্নই আসে না সে কাজের মেয়েকে আপনি করে কথা বলতে শিখবে।
তাই আমাদের সবচেয়ে বেশি জরুরী আমাদের সন্তানদের সুষ্ঠু বিকাশের পরিবেশকে সুন্দর করে সাজানো।

প্রতিকারমূলক প্রস্তুতিঃ
শিশুরা আনন্দ পেতে পছন্দ করে। তাই তারা আনন্দ পাওয়ার জন্য মোবাইল হাতে নেয়। তারা গেমস খেলে আনন্দ পায়, ভিডিও দেখে আনন্দ পায়। মোটকথা মোবাইলে তাদের আগ্রহ আনন্দ পাওয়ার জন্য। এই আগ্রহ ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়। তখন সে মোবাইল ছাড়া কিছুই বুঝেনা। একটু সময় পেলেই মোবাইল নিতে চায়। মোবাইল না পেলেই হাইপার হয়ে যায় এবং আচরণে অসংগতি পরিলক্ষিত হয়।

তাদের এই এডিকশন দূর করার জন্য এবং পড়ায় মনোযোগী করার জন্য তাদের সময়গুলো কাজে লাগাতে হবে।
কিভাবে কাজে লাগাবো??

# পিতা-মাতার তাদের সন্তানকে সময় দেওয়া খুবই জরুরী। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় পিতা-মাতা ঘরের সময়গুলোতেও নিজের মোবাইল, ল্যাপটপ বা অন্য ডিভাইস নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যায়। সাথে সন্তান বিরক্ত না করার জন্য তাকেও অন্য কোন ডিভাইস নিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়।(পরীক্ষিত)
তাই আমাদের অভিভাবকদের অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে ডিভাইস ব্যবহারে সংযত হওয়া চাই।

# সন্তানদের বাসায় খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া। যতটুকু সুযোগ থাকে ঘরের পরিবেশে কিছু ইনডোর গেমস এর ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই গেমসগুলোতে নিজেও সন্তানদের সাথে অংশগ্রহণ করা।
এর ফলাফল দুটি।
১। সে দিনের একটি সময় বাবা-মাকে কাছে পেল। ফলে বাবা মা দুজনের সাথে একই সময়ে তার মিথস্ক্রিয়া হল।
২। তার সময়টা আনন্দে কাটল, যে সময়ে সে মোবাইলে ব্যাস্ত ছিল।

# মোবাইলের আসক্তি দূর করার জন্য বাসায় সুযোগ থাকলে পাখি, মাছ ইত্যাদি পোষা যেতে পারে। সাথে বারান্দায় ফুলের বাগানও করা যেতে পারে।
খাঁচায় কয়েক রঙের পাখি নিয়ে সন্তানদের ওই পাখিগুলোকে খাওয়ানোর দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এটি একটি সুন্দর কৌশল যার দ্বারা আমাদের সন্তানদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি দূর করা যেতে পারে। একইভাবে একুরিয়ামে মাছ পালনের মধ্য দিয়েও আমরা এর সুফল পেতে পারি।

এই ধরনের কাজগুলোর সাথে আমাদের সন্তানদের এইজন্যই ইনভলভ করা যে তারা অবসর সময় গুলোতে এইগুলো নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখে।
মোটকথা আমাদের সন্তানের এই প্রবলেম দূর করার জন্য এক্টিভিটির কোন বিকল্প নেই। এই এক্টিভিটি গুলো যদি হয় প্রবলেম সলভিং রিলেটেড তবে তা আরো বেশি ফলপ্রসূ হবে।(বাজারে এই ধরনের অনেক কিছু পাওয়া যায়)
আসুন আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমাদের সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশের পথকে তরান্বিত করি।

মোহাম্মদ রাশেদ রানা
শিক্ষক Al Hasanain
সাইকোথেরাপিস্ট এবং কাউন্সিলর
মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ঘর

Address

Chittagong

Opening Hours

Monday 16:00 - 21:00
Tuesday 16:00 - 21:00
Wednesday 16:00 - 21:00
Thursday 16:00 - 21:00
Saturday 16:00 - 21:00
Sunday 16:00 - 21:00

Telephone

+8801917661567

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ঘর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ঘর:

Share