18/09/2019
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে পানি ব্যবস্থাপনা ও ফ্লক তৈরী করার কলাকৌশল ঃ
…...........…...…
বায়োফ্লকে মাছ চাষের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা ও ফ্লক একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। যেকোন মাছ বা চিংড়ি চাষ বা বায়োফ্লক প্রজেক্ট করার আগে পানির উৎস কি হবে এবং তার গুণাগুণ বা ব্যবহারের উপযোগীতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরী।
পানির উৎসঃ
গভীর নলকূপ, সমূদ্র, নদী,বড় জলাশয়,লেক,বৃষ্টি ইত্যাদির উৎসের পানি গুণ মান ভাল থাকলে ব্যবহার করা যায়।
বায়োফ্লকের জন্য উপযোগী পানি তৈরীঃ
প্রথমে ট্যাংক ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। এর পর নির্বাচিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে। পানিতে আয়রনের মাত্রা ০.২ ppm এর বেশি হলে পানি থেকে আয়রন দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। আয়রন দূর করার জন্য প্রতি টন পানিতে ২৫- ৩০ ppm হারে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগের পর ১০ - ১২ ঘন্টা একটানা বাতাস সরবরাহ করতে হবে। এর পর ৫০ ppm হারে ফিটকিরি প্রোগ করে আরও ১২ ঘন্টা পানিতে অনবরত বাতাস সরবরাহ করতে হবে। ২৪ ঘন্টা পর পানিতে ১০০ ppm হারে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ( CaCO3) চুন প্রয়োগ করে বাতাস সরবরাহ নিয়মিত করতে হবে। এর পর পানির ক্লোরিন, পি এইচ ও ক্ষারত্ব পরীক্ষা করে,ব্যাবহারের জন্য বায়োফ্লক ট্যাংকে নেওয়া যায়।
ফ্লক্স তৈরীর জন্য পানি তৈরী ঃ
চাষ ট্যাংকের১ ২ ভাগের ১ ভাগ পানি নিয়ে পানিতে ১০০০ ppm হারে আয়োডিন ছাড়া লবণ প্রয়োগ করতে হবে। লবণ প্রয়োগের পর TDS পরীক্ষা করে নিতে হবে। বায়োফ্লকের জন্য ১৪০০ - ১৮০০ ppm, TDS থাকা ভাল। যদি লবণ প্রয়োগের পর কাঙ্খিত TDS পাওয়া না যায়, তা হলে কম পরিমাণলবণ প্রয়োগ করে আদর্শ মাত্রায় TDS রাখতে হবে। এর পর প্রথম ডোজে ৫ ppm প্রেবায়োটিক, ৫০ ppm চিটাগুড়, ৫ ppm ইস্ট, পানি প্রতি টনের জন্য ১ লিটার, একটি প্লাস্টিকের বালতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে ৮- ১০ ঘন্টা কালচার করে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় দিন থেকে ১ppm প্রোবায়োটিক, ৫ ppm চিটাগুড়, ১ ppm ইস্ট, প্রতি টনের জন্য ১ লিটার পানি দিয়ে উপরের সময় ও নিয়মে কালচার করে প্রতি দিন প্রয়োগ করতে হবে।
পানিতে অ্যামোনিয়া - N ও ফ্লক কি ভাবে সৃষ্টি করবেন ঃ পানিতে ফ্লক্স তৈরী করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামক দরকার। এগুলোর মধ্যে ক' একটি হলো নাইট্রোজেন, কার্বন, প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, সূর্য আলো ও অক্সিজেন। এখানে উল্লেখ করা সব নেয়ামক পানিতে যথাযথ পরিমাণে উপস্থিত থাকলে ফ্লক্স তৈরী হয়ে যায়। কার্বন যোগ হয় চিটাগুড় যোগ করলে, উপকারী অণুজীব আসে প্রোবায়োটিক যোগ করার ফলে, আর অক্সিজেন আসে এয়ার রেশনের মাধ্যমে এবং সূর্য আলো প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায়। আর নাইট্রোজেনের জন্য পানিতে কিছু পচনশীল বস্তু বা প্রতি টনের জন্য ১০০ গ্রাম মাছের খাদ্য কাপড়ে বেঁধে পানিতে পঁচানোর জন্য দিতে হবে। খাদ্য পঁচে অ্যামোনিয়া সৃষ্টি হবে, আর প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়াকে ভেঙ্গে নাইট্রোজেনকে আলাদা করে। আর ফ্লক নাইট্রোজেন ও কার্বনকে গ্রহণ করে তাদের বংশ বৃদ্ধি করে।
বায়োফ্লকের এক্টিভিটি পর্যবেক্ষণঃ বায়োফ্লক এক্টিভ হয়েছে কিনা তা বুঝার কিছু উপায় নিম্নে দেওয়া হলোঃ-
১. পানির রং সবুজ বা বাদামী দেখায়।
২. পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ কণা দেখা যায়।
৩. পানির অ্যামোনিয়া পরীক্ষা করলে পানি অ্যামোনিয়া মুক্ত দেখায়।
৪. যখন প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম ফলকের ঘনত্ব পাওয়া যাবে।
৫. ক্ষুদিপানা, দেওয়ার পর তাদের বংশ বিস্তার পরিলক্ষিত হলে।
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে পানির গুণাবলীঃ
১. তাপমাত্রা - ২৫ - ৩০ ° C
২. পানির রং - সবুজ, হালকা সবুজ, বাদামী।
৩. দ্রবীভূত অক্সিজেন - ৭- ৮ mg/L
৪. পিএইচ - ৭.৫ - ৮.৫
৫. ক্ষারত্ব - ৫০ - ১২০ mg/L
৬. খরতা - ৬০ - ১৫০ mg/ L
৭. ক্যালসিয়াম - ৪ - ১৬০ mg/L
৮. অ্যামোনিয়া - ০.০১ mg/L
৯. নাইট্রাইট - ০.১ - ০.২ mg/L
১০. নাইট্রেট - ০ - ৩ mg/L
১১. ফসফরাস - ০.১ - ৩ mg/L
১২. H2S - ০.০১ mg/ L
১৩. আয়রন - ০.১ - ০.২ mg/L
১৪. পানির স্বচ্ছতা - ২৫ - ৩৫ সে.মি.
১৫. পানির গভীরতা - ৩ - ৪ ফুট
১৬. ফলকের ঘনত্ব - ৩০০ গ্রাম / টন
১৭.TDS - ১৪০০০ - ১৮০০০ mg/L
১৮. লবণাক্ততা - ৩ - ৫ ppt