06/06/2021
'১. ডায়াবেটিস রোগীদের এমনি সময়ে আমরা আম খাওয়ার পরামর্শ দি না। কিন্তু আমের পুষ্টিগুণের কথা বিচার করলে দেখা যাবে, এর মধ্যে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। এগুলো খুব জরুরি শরীরের জন্য।
২. আমের একটাই দোষ। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম। প্রায় ৫৬ থেকে ৬০ এর মধ্যে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং গ্লাইসেমিক লোড থাকে ১৮.৯ থেকে ১৯ এর মধ্যে। এই কারণেই ডায়াবেটিস, প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের বলা হয়, আম না খেতে।
৩. ধরুন, একটা মানুষের সারাদিনে যে পরিমাণ ক্যালোরির চাহিদা রয়েছে, ধার যাক ১৬০০,১৮০০ বা ২০০০ ক্যালোরি, এর মধ্যে যে পরিমাণ শর্করা গ্রহণ করা দরকার, সেটা যদি কেউ পরিমাপ করে নিতে পারেন কোনও পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে, তাতে একটা আম ডায়েটে রাখা যেতেই পারে।
৪. সেক্ষেত্রে কিন্তু ক্যালোরির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। ভাত পর্যাপ্ত খেলাম, রুটিও খাচ্ছি এবং আমও প্রচুর খেলাম, এমনটা করলে টাইপ ১, টাইপ ২ দু'ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যাবে।'
সাবধান করলেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অনন্যা ভৌমিকও। তিনি জানালেন -
'১ ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে সাধারণ কিছু গাইডলাইন দেওয়া থাকে। তাতে বলা হয়, আম না খেতে। তবে কোভিডের সময়, ডায়াবেটিক এবং প্রি-ডায়াবেটিকদের পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে তবেই খাওয়া-দাওয়া করা উচিত।
২. আম একেবারেই ছুঁতে পারবেন না, এটা আমি বলব না। বরং ডায়েটিশিয়ান এবং নিউট্রিশনিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করে শরীর বুঝে ক্যালোরি গ্রহণ করার কথা বলব।
৩. গাইডলাইন অনুযায়ী নিষেধ করা হয়। কিন্তু কখনও কখনও ক্যালোরি কাউন্ট করে আমি ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটেও কিন্তু আম রাখি।
৪. ফাইবার ছাড়াও আমে প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে। বলা যেতে পারে, আম পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিন্তু গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যেহেতু কম, তাই হঠাৎ করে শরীরের সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়।
৫. তাই কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া, হঠাৎ প্রচুর আম খেলে কিন্তু ভোগান্তি পোহাতে হবে খুব।'
অন্যদিকে নিউট্রিশনিস্ট শ্রেয়া চক্রবর্তীর মতে, 'ডায়াবেটিক, প্রি-ডায়াবেটিক দুটিই কোভিডের ক্ষেত্রে হাই-রিস্ক বলে ধরে নেওয়া হয়। তাই কোভিড হলে, নানা খাবার যেগুলোতে গ্লুকোজ লেভেল বেশি সেগুলো না খাওয়াই ভাল। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স আমে কম থাকে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের সুগার লেভেল হঠাৎ বাড়িয়ে