25/08/2024
২০০৪ সাল থেকে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী রাহ: কে কাছ থেকে দেখেছি।
প্রতিবছর একবার উনার সাথে দেখা হতো।
মুসাফা করার দুর্লভ সুযোগ পেতাম।
সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে তিনি জনসমুদ্রে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের তাফসীর করতেন টানা দুইদিন।
বাংলাদেশের কুরআন প্রেমিক মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন ছিলেন তিনি।
আমি মাওলানা সাঈদীর ওয়াজ শুনতে দেখেছি আমার মেডিকেল কলেজের পাড় নাস্তিক শিক্ষককে আবু সিনা হোস্টেলের পাশে দাঁড়িয়ে।
সিলেট শহরে অনেক সনাতনী মানুষের বাস।
অনেক সনাতনীকেও দেখেছি উনার ওয়াজ শুনতে।
তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক কন্ঠ ছিলেন।
উনার হুংকার তাদের কলিজায় কম্পন ধরিয়ে দিতো।
আমাদের দেশকে নিয়ে ভারতীয় ষড়যন্ত্র ও আধিপত্যবাদ নিয়ে জোরালো ভাবে কথা বলতেন মাওলানা সাঈদী।
দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার আমাদের বুকের উপর চেপে বসবে সেটার ভবিষ্যৎ বাণী তিনি জনসমুদ্রেই বলে গেছেন।
তিনি বলেছিলেন,
"আমি দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে উত্তর গগণে কালো মেঘ জমা হয়েছে। যদি মোকাবিলা করতে না পারেন সক্ষমভাবে, তবে এমন গাঢ় কালো অমাবশ্যার রাত আসতে পারে- যার সুবহে সাদিক হওয়া অসম্ভব।"
ভাবুন তো সেই সুবহে সাদিক আসলো ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট ১৬ বছর পর।
কি অমোঘ ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন তিনি।
তিনি এটাও বলেছিলেন,
"বেশি লাফালাফি করবানা।
জনগন গোড়া ধরে নাড়া দিবে
মামুর বাড়ি দিল্লি গিয়ে পড়বা।
এ কথা বিশ্বাস কর।"
উনার সেই কথা কিভাবে বাস্তবে আমাদের চোখের সামনে ধরা দিলো।
আমরা দেখলাম দেশে এক ছাত্র নাগরিক জনতার অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে দিল্লি চলে গেলেন ভারতী বান্ধবী ড্রাকুলা।
এমন একজন জগৎ বিখ্যাত মুফাসসিরকে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ফাঁসির দন্ড দিয়েছিলো ড্রাকুলা সরকার।
আপীল বিভাগে যখন মামলা গেলো,সব বিচারপতি মাওলানার ফাঁসির বিরুদ্ধে ছিলেন।কারণ উনার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট হত্যার কোন ইভিডেন্স ছিলো না।
যেই বিশাবালীকে হত্যার জন্য উনাকে ফাঁসি দেওয়া হলো তার ভাই সুখরঞ্জন বালীকে আদালত প্রাঙ্গন থেকে কিভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে তারপর ভারতে গুম করা হয়েছে তা পুরো বিশ্বই দেখেছে।
কিন্ত একমাত্র বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে সাঈদীকে ফাঁসি দিতে মরিয়া ছিলেন। তিনি তার রায়ে ফাঁসি দিয়ে সেটা খুব দম্ভ করে বলে বেড়াতেন সব জায়গায়।
১৪ ই আগস্ট ২০২৩ সালে মাওলানা সাঈদী যখন হার্ট এট্যাক করে পিজি হাসপাতালের সামনে প্রিজন ভ্যান থেকে নামলেন,তখন তিনি একটা হাসি দিয়েছিলেন।
সেই হাসি কোটি কোটি মানুষের প্রাণকে স্পর্শ করেছিলো,অনুরণন তুলেছিলো।
এমন জীবন তুমি করিবে গঠন
মরণে হাসিবে তুমি,কাঁদিবে ভুবন।
মাওলানা সাঈদীর ইন্তেকালে ভুবন কি কাঁদে নাই?
সারা দুনিয়ায় উনার গায়েবানা জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হলো।
ঢাকায় উনার জানাজার নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি সেদিন।
হাসিমুখে ভুবনকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন পরপারে মাওলানা সাঈদী।
কিন্ত তাকে যিনি চরম অবজ্ঞাভরে মহাপাপী বলেছেন, তার হাল গতকাল রাত থেকে দেখছি।মানুষের চড় থাপ্পড় কিল ঘুষি খেতে হলো তাকে।
কলাপাতার বিছানায় জঙ্গলে শুয়ে থাকতে দেখলাম। গলায় গামছা দিয়ে বেঁধে গরুর মতো টেনে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখলাম।
ভারতে পার করে দিবেন বলে যারা সীমান্তে নিয়ে গেলো তাকে,তারা ৬০/৭০ লাখ টাকা, মোবাইল ঘড়ি সব ছিনিয়ে নিলো মারধর করে।
তার করুণ চেহারা, অসহায়ত্ব দেখলাম।
আমি বিশ্বাস করি,মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বেঁচে থাকলে বিচারপতি মানিকের গায়ে আঘাত করার নিন্দা ও প্রতিবাদ করতেন।
তিনিও কষ্ট পেতেন।
যেকোনো অপরাধীর ন্যায়বিচার পাবার অধিকার আছে।
তার মানবাধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা মুসলিম হিসেবেও আপনার দায়িত্ব।
একজন মানুষের কিল ঘুষি চড় থাপ্পড় এর ভিডিও দেখে মজা পাবার কিছু নেই আসলে।
বরঞ্চ শিক্ষা নেওয়া উচিত,আমার সাথে যে জুলুম করেছে,আমার উপর যে নিপীড়ন করেছে,আমিও তারসাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করিবো।
আমিও তার সাথে কোন জুলুম হউক চাইবো না।
ন্যাচারাল জাস্টিস খুব সূক্ষ্ম।
সবাইকে প্রকৃতি সবার পাওয়া মিটিয়ে দেয় বড় যত্ন করে।
প্রকৃতি কোন কিছুই বকেয়া রাখেনা।
আমাদের চোখের সামনে অনেক গুলো পয়েটিক জাস্টিস এর দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।
সব অবস্থায় আপনি ইনসাফের পক্ষে থাকুন।
নিজে মজলুমই থাকুন।
কোনভাবেই সামান্যতম জুলুম আপনার পক্ষ থেকে না হউক।
সবকিছু ফিরে আসে।
আজ বা আগামীকাল ফিরবেই।
-ডা. আহমেদ জোবায়ের।
কুমিল্লা।