02/05/2023
আজকাল আমাদের মধ্যে প্রায় সকলেই আস্তে আস্তে স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠছে। আর সেই সাথে চলছে ওজন দ্রুত ওজন কমাতে ডায়েট।
দ্রুত ওজন কমাতে রাতের বেলার ৩টি কার্যকর ডায়েট প্ল্যানঃ
মেদ ভুঁড়ি কিংবা একটু বাড়তি ওজন কমানোর জন্য বেশিরভাগ মানুষ সবসময়ই
১মাসে ১০ কেজি ওজন কমাতে চান এমন কেউ খুব আশা নিয়ে পড়তে শুরু করলে দুঃখ পাবেন। ইজিলি এক মাসে খুব দ্রুত ওজন কমানো যায় কিভাবে বা ওজন ১০-২০-৩০ কেজি কমানোর বুদ্ধি দিতে আসি নি। এসেছি আসলে, এমন একটা বিশাল পরিমাণে ওজন সত্যি সত্যি সাসটেইনেবল-ভাবে কমানো যায় কিনা… খুব দ্রুত ওজন কমানো ঠিক কিনা, তাই নিয়ে বকবক করতে।
খুব দ্রুত ওজন কমানো নিয়ে কমানো নিয়ে ৫টি প্রচলিত ভুল ধারণা!
সামনে কোন অনুষ্ঠান? এক সপ্তাহে ৫ কেজি ওজন কমাবো!
অনেকদিন ওজন মাপেন নি? ওজন ১২-১৫ কেজি বেড়ে গেছে? আত্মীয়ের খোঁটা শুনে এসেছেন?
এক মাসে ১০ কেজি কমাবো!
গত মাসে ফিট হওয়া সুন্দর জামাটা আজকে ফট করে ফেটে গেল? এখুনি ওজন কমাবো!!
কারণ যাই হোক, উদ্ভট এসব শখের প্রথম ধাপ হয় নেটে কিভাবে ওজন কমাবো?-সার্চ দিয়ে! আর সেই টাইপ সার্চ-এর কিছু জনপ্রিয় প্রশ্ন-
খুব দ্রুত ওজন কমানো নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর পর্বঃ
অনেক মোটা হয়েছেন, খুব দ্রুত ওজন কিভাবে কমাবেন?
“অনেক মোটা হয়েছি, খুব দ্রুত ওজন কীভাবে কমাবো?”
প্রশ্নটা যারা করেন তাদের আমরা উলটো প্রশ্ন করতে চাই-
অনেক মোটা’ হতে আপনার কতদিন লেগেছে? কতদিন আগে শুকনো ছিলেন?
উত্তর-
গত ৬-৭ মাসে মোটা হয়েছি।
খেয়ালই করি নি কবে মোটা হলাম!
সবাই বলে মোটা হয়েছি।
ওজন মাপি না, একদিন মেপে দেখি হঠাৎ করেই মোটা হয়েছে
মূলত উপরের উত্তরগুলো আসে যারা নিজের হেলথ, ওয়েলনেস নিয়ে একেবারেই সচেতন না তাদের কাছ থেকে। সারাজীবন ধরে ২ ভাবে এরা নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে–
অস্বাস্থ্যকর লাইফ-স্টাইল-এর একজন মানুষ যে এক্সারসাইজ করে না এবং যার মেটাবোলিজম স্বাভাবিক বা একটু স্লো, তার স্বাস্থ্যকর-ভাবে বাড়তি ১০-১৫ কেজি ওজন কমাতে ১ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।
‘স্বাস্থ্যকর’ ‘সাসটেইনেবল’ ভাবে ওজন কমানোর উপায়?
যেখানে ওজন কমার সাইড ইফেক্ট হিসেবে আপনি ম্যালনিউট্রিশন-এ ভুগবেন না, স্কিন, চুলের ক্ষতি হবে না।
সবচেয়ে বড় কথা ওজন আজ ৫ কেজি কমে কালকেই আবার ৭ কেজি বাড়বে না। ১০ কেজি কমার পর আপনি ঐ ওয়েট-টাই ধরে রাখতে পারবেন।
তাই ‘খুব দ্রুত’ নিজের একটা বিশাল ক্ষতি না করে ন্যাচারালই আপনি ওজন কমাতে পারবেন না। সেই চেষ্টা করাটাও ঠিক হবে না। এর চেয়ে হাতে সময় নিয়ে ধৈর্য ধরে স্বাস্থ্যকর রুটিন ডায়েট, পরিমিত এক্সারসাইজ ডেইলি করলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।
এছাড়া আর কোনভাবেই আপনার ওজন কমাতে বা কনট্রোলে রাখা সম্ভব হবে না। তাই সময় নষ্ট না করে ‘শিওর’ আর ‘সেফ’ রাস্তা বেঁছে নেয়াটাই ভালো না?
এক সপ্তাহে, ৫ কেজি কমাবো কীভাবে?
৫ কেজি ওজন বাড়াতে যত টাইম লেগেছে আপনার, কমাতে মিনিমাম তার ৩-৪ গুণ বেশি সময় লাগবে। তারপরেও ১ সপ্তাহে ৫ কেজি কমাতে চান? নেক্সট ৭ দিন যদি শুধু পানিও খান আপনি আপনার ওজন ৩-৪ কেজি কমতে পারে… এর ভেতরে আপনার সিরিয়াস লো ব্লাড প্রেশার, ম্যালনিউট্রিশন হবে। চুল পড়ে যাবে অর্ধেকের মতো।
আর এক সপ্তাহ পর? যখন আবার “প্রোগ্রাম” শেষে রেগুলার ডাল ভাতের ডায়েটে যাবেন? ১ মাসে আরও ৪-৫ কেজি ওজন বাড়বে! আগের চেয়েও একটু বেশি মোটা হয়ে যাবেন…নেক্সট ‘প্রোগ্রামের’ আগে এই সেম সাইকেল রিপিট করবেন। এভাবেই আপনার জীবন চলবে।
তাই না, এক সপ্তাহে এতো ওজন কমানো যায় না। বড়জোর হাফ কেজি থেকে ১ কেজি সেফলি এক্সারসাইজ ডায়েট দিয়ে কমাতে পাড়েন।
ওজন কমানোর সঠিক উপায় জেনে নিন
তাহলে দ্রুত ওজন কিভাবে কমাবেন? জিরা পানি, আদা পানি, গ্রিন টি, দারুচিনি খাব? তখন কমবে?
আবারো না, ‘কিছু খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব না’ এই পয়েন্ট-টা খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। এই সব হেনতেন কিছু ক্ষেত্রে ‘মেটাবোলিজম’ বাড়াতে হেল্প করবে। কিন্তু জাস্ট ‘ক্রাশ ডায়েট’ আর সকাল-বিকাল এই পানি সেই পানি খেয়ে ওজন কমানোর ট্রাই করে লাভের ভেতরে লাভ যা হতে পারে তা হচ্ছে- বিশাল গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি প্রবলেম, ডায়রিয়া, লো ব্লাড প্রেশার, অ্যানিমিয়া… আর কিছুই না।
সেইফ ডায়েট, এক্সারসাইজ-এর সাথে গ্রিন টি খাওয়া খুবই ভালো (এ নিয়ে আগে বলেছি, চাইলে পড়তে পাড়েন) । বাট জিরা, আদা, দারুচিনি ওজন কমায় এটা কেউ নিশ্চিতভাবে আজ পর্যন্ত পারেনি।
আমাদের সমাজ এখনও এমন একটা জায়গায় আছে যেখানে ‘চিকন’, ‘পাতলা’, ‘শুকনো’– এসব শব্দ দিয়েই দৈহিক সৌন্দর্য বোঝানো হয়। একটা নির্দিষ্ট ‘সাইজ’ এর থেকে একটু হেভি বা একটু লাইট হলেই আর দেখতে হবে না… এরা কেউই ‘সুন্দর’ না।
মেয়েরা ফিট থাকতে জিম করতে গেলে যেসব কথা বলতে হয়
সুন্দরের কনসেপ্ট-এ যাচ্ছি না। আপনি নিজেকে নিয়ে হ্যাপি, কনফিডেন্স থাকলেই আপনি সুন্দর।
আপনাদের কি মনে হয়? চিকন বা শুকনো হতে পারলেই আপনি সুস্থ? আর যারা লম্বা-চওড়া, বা লার্জ সাইজের কামিজ পরে তারা সবাই অসুস্থ? এমন ধারণা যদি আপনার থাকে তবে আজ একটা নতুন অস্বাস্থ্যকর বডি টাইপ-এর কথা জানবেন। সেটা হচ্ছে- স্কি-নি ফ্যাট।
স্কি-নি ফ্যাট কি?
একজন খুব মাস্কুলার শক্তিশালী টপ ফিমেল অ্যাথলেট-এর শরীরের মোট ওজনের ১৫%-২০% হয় ফ্যাট ।
রেগুলার এক্সারসাইজ করেন এমন একজন নারীর মোট ফ্যাট পারসেনটেজ ২১%-২৪%।
মোটামুটি একসেপ্টে-বল ফ্যাট পারসেনটেজ ২৫%-৩২%।
আর একেবারেই আনহেলদি ফ্যাট পারসেনটেজ ৩৩% বা এরও উপরে।
উপরের হিসাবে কোথাও কি ওজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? না। আসলে একজন মানুষের ওজন যাই হোক, তার বডির ফ্যাট আর মাসল-এর পারসেনটেজ-এর উপরে নির্ভর করে।
কিন্তু, ‘মাসল হয়ে যাওয়ার ভয়ে’ জিম এক্সারসাইজ-এর মতো অত্যন্ত হেলদি একটা লাইফ-স্টাইল-কে এড়িয়ে চলে আপনি নিজের ক্ষতিই করছেন।
তো, হেলদি থাকুন… শুঁকনো হয়ে গেছেন বলেই খুব জিতে গেছেন এমনটা ভাববেন না। আপনি ফিট কিনা সেটা দেখুন। দরকারের থেকে বেশি বা কম মাসল কোনটাই ভালো নয়। দরকারি রেশিও-তে মাসল আর ফ্যাট রাখুন। দেখবেন শরীরে শক্তি থাকবে, ফিগারও সুন্দর থাকবে লম্বা সময় পর্যন্ত। না খেয়ে থেকে ফ্যাট কমাচ্ছেন নাকি মাসল ধ্বংস করছেন সেটা সময় পেলে একটু ঠিকভাবে ভাবুন। আর জিমে যেতে চাইলে চলে যান… দরকারি এক্সারসাইজ করুন। অযথা আজেবাজে গুজবে কান দেবার দরকার নাই।
ওজন কমাতে চাইলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে।
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। না খেয়ে থাকাসহ বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেন অনেকে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করে যদি ওজন কমাতে না পারেন তাহলে আগের পরিকল্পনাগুলো ছেড়ে দিন। নিতে পারেন নতুন কোনো পদ্ধতি। আপনার খাওয়া কমিয়ে দিন। তবে কখনোই না খেয়ে থাকবেন না। আপনি ৩ বেলা খাবারকে ৫ বা ৬ বেলা করে খেতে পারেন। এর ফলে আপনার শরীরও আগের চেয়ে ভালো থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে ১ পাউন্ড ওজন কমানো যেতে পারে। আর এই ওজন কমাতে হলে আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকে ৫০০ ক্যালোরি বাদ দিতে হবে। আর খাবার না কমিয়ে শুধুমাত্র ব্যায়াম করে যদি আমরা এই ওজন কমাতে চাই, তবে প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়াম করতে হবে। যা সত্যিই বেশ কঠিন কাজ। চলুন জেনে নেয়া যাক ওজন কমাতে যেভাবে চেষ্টা করতে হবে-
দিনে বেশিরভাগ সময় আমরা নানা প্রয়োজনে ফোনে কথা বলে থাকি। এ সময়টা বসে কথা না বলে হেঁটে হেঁটে কথা বলুন।
অনেকেই হয়তো জানেন না, টিভি দেখার সময় খাবার খেলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮৮ ক্যালোরি অতিরিক্ত খাবার খাই। তাই টিভি দেখে দেখে খাওয়া আজই বন্ধ করুন।
সালাদ ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে সালাদ তৈরির সময় উপকরণের দিকে খেয়াল রাখুন। ওজন বাড়াতে পারে এমন উপকরণ সালাদে দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
খাবার খাওয়ার জন্য অবশ্যই ছোট প্লেটটি বেছে নিন। এতে অন্তত ২০শতাংশ খাবার কম খাওয়া হবে।
বেড়াতে গেলে খাওয়ার আগে অবশ্যই ক্যালোরির দিকে খেয়াল রাখুন। অনেক সময় অনুরোধ রক্ষা করতে যেয়ে আমরা প্রায় দ্বিগুণ ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলি। তাই সাবধান।
খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধ, পোঁচ অথবা বেক করা খাবারগুলো বেছে নিন। অল্প তেলে রান্না করা খাবার খেতে পারেন।
বাইরে বিক্রিত কোমল পানীয় থেকে আমরা ১৮০ ক্যালোরি থাকে। তাই ক্যালোরি বাঁচাতে তেষ্টা পেলে স্বাভাবিক পানি পান করুন।
চা অথবা জুস চিনি ছাড়া খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন। এতে দিনে ৪০০ ক্যালোরি শেভ করা সম্ভব।
না খেয়ে ডায়েট করা একদম ভুল। পর্যাপ্ত পানি, প্রচুর ফল এবং সবজি খান। এতে ওজনও কমবে সঙ্গে সুস্থও থাকবেন।
পরিশেষে বলা যেতেই পারে ওজন কমান কিন্তু সেফলি। সমাজ, মানুষ,কি বলবে সেটা ভেবে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করাই উত্তম।