14/07/2025
⛔⛔⛔ অসহ্য চুলকানীর নাম স্ক্যাবিস, জীবন অতিষ্ঠের নাম স্ক্যাবিস!!!
বর্তমানে স্কিনের যে কয়টি সমস্যা প্রায় প্রতি ঘরেই দেখা যাচ্ছে বা মহামারীর মত আকার ধারণ করছে তার মধ্যে ১ নম্বর হল স্ক্যাবিস বা খোস পাঁচড়া।
🔰🔰 স্ক্যাবিস একটি মারাত্মক ছোঁয়াচে চর্মরোগ, যা Sarcoptes scabiei নামক পরজীবি দিয়ে হয়।
সাধারণত এই রোগে বাচ্চারা আক্রান্ত হয় বেশী। পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ছোট ছোট বিচি বা ফুসকুড়ির মত উঠে। ওখান থেকে পানি পড়ে এবং রাতের বেলা তীব্র চুলকানী হয়।
⛔⛔ আশংকার বিষয় হল অনেকেই এক বা একাধিকবার এই রোগের চিকিৎসা নিয়ে ও ভাল হচ্ছেন না। কেন রোগীরা সহজে ভালো হচ্ছে না, তার কিছু কারণ আলোচনা করা হল:
১/ এটা খুবই ছোঁয়াচে। একজনের হলে ফ্যামিলির সবাই কমবেশি আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা নিতে হলে, ফ্যামিলি মেম্বার সবার একসাথে চিকিৎসা নিতে হয়। এটা অনেকে করে না। তাই রোগ বাড়তে থাকে। দেখা গেল, কেউ আত্নীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেল, সেখান থেকে এই রোগ নিয়ে এল (বিশেষ করে বাচ্চারা)।
২/ যারা মাদ্রাসা, এতিমখানা বা হোস্টেলে একসাথে থাকে তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ এক্ষেত্রে সবার একসাথে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। তাই কেউ একজন একবার ভাল হলেও অন্য বাচ্চা থেকে পুনরায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া আক্রান্ত কোন বাচ্চা স্কুলে গেলে সেখানে অন্য বাচ্চারাও আক্রান্ত হতে পারে।
৩/ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসী থেকে ক্রিম লাগানো। এক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকেই স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম দিয়ে দেয়, ফলে এই রোগ ভাল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
৪/ বাজারে স্ক্যাবিসের যেসব ওষুধ / ক্রিম পাওয়া যায় সবগুলার মান একই রকম না। মানে ভালো এরকম অল্প কয়েকটাই আছে। তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ গ্রহণ/ ক্রিম লাগাতে হবে।
৫/ কাউন্সেলিং: ওষুধ কিভাবে লাগাবে/খাবে, কাপড়চোপড় গরম পানিতে ধোয়া, আয়রন করা, ফ্যামিলির সবাই কোন নিয়মে কতটুকু লাগাবে ইত্যারি বিস্তারিত রোগীকে জানতে হবে এবং তা পালন করতে হবে। এসব বিস্তারিত বিষয় রোগীকে বা পরিবারকে সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলা দরকার। এই জায়গায় ঘাটতি থাকায় অনেকে ভাল ফলাফল পায় না।
৫/ চিকিৎসা নিতে দেরী করে, তাই সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়ে বসে থাকে, আবার কেউ কেউ আরেকজনের প্রেস্ক্রিপশন ফলো করে, কিন্তু রোগী ভেদে চিকিৎসার ডোজ ও ডিউরেশন ভিন্ন ভিন্ন হবে।
৬/ ঠিকমত ফলোআপে না যাওয়া। একবার ওষুধ খেয়ে ভালো লাগলে ১/২ সপ্তাহ পর ফলোয়াপে যেতে বললে আর যায় না। ফলে রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয় না।
✅✅ যা মনে রাখা আবশ্যক:
১/ সব নিয়ম মেনে চিকিৎসা চালালেও স্ক্যাবিস ভালো হতে ১ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তাই ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।
২/ চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর রোগী পুনরায় আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্বের চিকিৎসা রিপিট করবে।
৩/ ইনফেকশন না থাকলে অযথা এন্টিবায়োটিক খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
৪/ চুলকানীর স্থানে সরাসরি গরম পানি, নিমপাতা, ডেটল, স্যাভলন এসব লাগানো উচিত নয়।
৫/ কারো কারো ক্ষেত্রে স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিন পর কিডনীতে ইনফেকশন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসা চালাতে হবে।
৭/ অতিরিক্ত দামী সাবান, দামী লোশন এগুলো লাগানোর প্রয়োজনীয়তা নেই।
✅✅ আশা করি, এসব বিষয় মাথায় রেখে, একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পুরো পরিবারের চিকিৎসা করলে ও নিয়মকানুন মেনে চললে এই অসহ্য রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
ডা. ইউসুফ আহমেদ
MBBS, FCPS (Medicine) Final Part
DOC (Skin), CCD (BIRDEM), DMU
🩺 শহরের চেম্বার:
চেম্বার: কোর ডায়াগনস্টিক লিমিটেড
এ এস টাওয়ার, আরকান রোড (র্যাব ৭ এর বিপরীতে), বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।
🕰️ সময়: প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা (শুক্রবার বন্ধ)
📞 সিরিয়াল: 01958 092201, 01319 034327
🩺 বোয়ালখালী চেম্বার:
হেলথ পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার
রেললাইন সংলগ্ন, বেংগুরা রোড, হোসেন শপিং কমপ্লেক্স, বোয়ালখালী পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
🕔 সময়:
প্রতি রবিবার ও বুধবার (বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা)
📞 সিরিয়াল: 01886 883700, 01601 886700