29/03/2023
শীতকালের শুরুতে বা শীতকালে ঠান্ডা, জ্বর বা ফ্লুর প্রকোপ বাড়ে, ঠান্ডা-শুষ্ক বাতাস বা শীতে বেড়ে যাওয়া ধুলাবালু ও ধোঁয়ার পরিমাণ এবং কুয়াশা ইত্যাদি শ্বাসতন্ত্র সংকুচিত করে। তাই শীতকালে হাঁপানি রোগীর কষ্ট বেড়ে যায়।
এই জন্য শীতেকালে হাঁপানির রোগীদের বাড়তি সতর্কতা ও প্রস্তুতি দরকার।
যাঁদের হাঁপানি, অ্যালার্জি আছে, তারা ঠান্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে ঘরের বাইরে বের হলে পরিষ্কার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ধুলাবালি মুক্ত পরিবেশ এবং কাপড় চোপড় বেছে নিতে হবে।
বাচ্চা শিশুরা অনেক সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। মুখ দিয়ে নেওয়া শ্বাস শুষ্ক এবং শ্বাসতন্ত্র আরও সংকুচিত করে তোলে। অন্যদিকে নাক দিয়ে নেওয়া শ্বাস উষ্ণ এবং আর্দ্র, ধোঁয়া-ধুলা ইত্যাদি ফিল্টার হয়ে আসে। তাই মুখ দিয়ে নয় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অব্যাস করাতে হবে। শিশুদের বন্ধ নাক ব্ন্ধ থাকলে খোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ্যাজমা বা হাঁপানি আসলে শ্বাসনালির সংক্রমণ ও গূলযোগ। যদি কোন কারণে শ্বাসনালিগুলো অতিমাত্রায় সংবেদনশীল (হাইপারসেনসিটিভ) হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনায় উদ্দীপ্ত হয় তখন বাতাস চলাচলের পথে বাধার সৃষ্টি হয়, ফলে শ্বাস নিতে বা ফেলতে কষ্ট হয়।
ফুসফুসকে মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । কারণ শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চালু রেখে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে এই যন্ত্র। এর প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে নেওয়া এবং রক্তপ্রবাহ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বাতাসে নিষ্কাশন করা। ফুসফুসে থাকা ডালপালার মতো অসংখ্য ছোট নালির মাধ্যমে বাতাস হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মানবদেহের শরীরে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের অবস্থান পাশাপাশি। তাই হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখার জন্য ফুসফুসকেও সুস্থ রাখা অনেক জরুরি।
গ্রীক শব্দ Az-MA থেকে Asthma শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ ‘দ্রুত নিঃশ্বাস নেয়া'। এ্যাজমা এমন একটি অবস্থা যাতে ফুসফুসের বায়ুনালীসমূহ আক্রান্ত হয়। এ্যাজমায় আক্রান্ত হলে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ অত্যাধিক সংবেদনশীল (Hyper active) হয়ে যায় এবং সহজে ফুটে ওঠে ও প্রদাহিত হয়। ফলশ্রুতিতে বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি যা দেহের কোষ ও কলায় পরিমিত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়। বায়ুমন্ডলীয় অক্সিজেন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শ্বসনতন্ত্রের শ্বাসনালী (Trachea), ব্রঙ্কাই (Bronchi) ও ব্রঙ্কিওল (Bronchiole) পেরিয়ে সব শেষ এলভিওলাই (Alveoli) বা বায়ু কুঠুরীতে পৌঁছে। সেখানেই গ্যাসের আদান প্রদান সম্পন্ন হয়।
আমাদের শ্বাসনালি গুলি খুবই ক্ষুদ্র। ২ মিমি থেকে ৫ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট। চারদিকে মাংশপেশি পরিবেষ্টিত। এ ক্ষুদ্র শ্বাসনালির ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় খুব সহজেই বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে। যদি কখনও এলার্জিক বা উত্তেজক কোন জিনিস শরীরে প্রবেশ করে তখন শ্বাসনালির মাংস পেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়। ফলে শ্বাসনালি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় আঠালো মিউকাসজাতীয় কফ আর ইনফেকশনের কারণে শ্বাসনালির ভেতরের দিককার মিউকাস আবরণী ফুলে ওঠা। ফলে শ্বাসন নিতে এবং ফেলতে কষ্ট হয়। আর মিউকাসজাতীয় আঠালো কফ উঠিয়ে ফেলার লক্ষ্যে অনবরত কাশি হতে থাকে। কখনও কখনও এই শ্বাসনালি এত সরু হয় যে, বাতাস বায়ুথলিতে পৌঁছায় না তখন শরীরে অক্সিজেনের অভাব হয়। এটা খুবই মারাত্মক অবস্থা। এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
# # এ্যাজমা হওয়ার কারণ:-
হাঁপানির প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয় তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী বংশগত ভাবে এ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। ঘরবাড়ির ধুলো-ময়লায়, মাইট পোকা, ফুলের বা ঘাসের পরাগ রেণু, পাখির পালক, জীব-জন্তুর পশম, ছত্রাক, কিছু খাবার, কিছু ওষুধ ও নানারকম রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি থেকে এলার্জিজনিত এজমা হয়ে থাকে।গবেষণায় দেখা গেছে জীবনের প্রথম দিকে যারা তামাক আসক্ত হয়ে থাকে, ফুসফুসের ইনফেকশনে (যেমন-নিউমোনিয়া) ভোগেন ও বিভিন্ন এলার্জেন এর সংস্পর্শে থাকেন তাদের এ্যাজমায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
# # ট্রিগারিং ফ্যাক্টর:-
যে সকল ফ্যাক্টরগুলো শ্বাসকষ্ট বাড়ায় অথবা হাঁপানীকে মারাত্মক রূপ দেয় সেগুলোকে ট্রিগারিং ফ্যাক্টর বলে। এরা মূলত: এ্যাজমা সৃষ্টি করে না তবে এ্যাজমার আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে।
# # দু'ধরনের ট্রিগারিং ফ্যাক্টর রয়েছে:-
**এলার্জিক ট্রিগারস:-**
* মাইট ( যা পুরনো ময়লা কাপড় চোপড়ে জন্মায়)
* বিড়ালের পশম, প্রস্রাব ও লালা।
*কুকুরের পশম, প্রস্রাব ও লালা।
* মেটাবাইসালফাইড (যা পানীয় ও খাদ্যে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।
* ফুলের রেণু বা Pollen।
* তুলার আঁশ, পাটের অাঁশ।
*ঘরের ধুলাবালি
*স্যাঁতস্যাতে কার্পেট।
*পুরনো অপরিষ্কার উলের জামা কাপড়।
* চর্মরোগ চাপা পড়া।
**নন-এলার্জিক ট্রিগারস:-**
* ধোঁয়া।
* শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম।
*গ্যাস, কাঠের গুঁড়া, কয়লা, কেরোসিন, পেট্রোল, ডিজেল।
*প্রাকৃতিক গ্যাস, প্রোপেন, রান্নায় জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত কেরোসিন।
* কুয়াশা ও ধোঁয়া।
*শ্বাসনালীর ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন।
* কাঠ পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া।
*আবহাওয়া পরিবর্তন।
*দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণ।
* অতিরিক্ত টক্সিন জমলে।
# # এ্যাজমার প্রকারভেদ:-
** তীব্রতা অনুসারে এ্যাজমা:-
* তীব্র হাঁপানি (Acute asthma)- এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীসমূহ আকস্মিকভাবে সংকুচিত হয় ও শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্টের সৃষ্টি করে।
* দীর্ঘমেয়াদী হাঁপানি (Chronic Asthma)- এতে ঘন ঘন এ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
# # কারণ অনুসারে এ্যাজমা:-
* এলার্জিক এ্যাজমা (Extrinsic asthma)- সাধারণত কোন এলার্জেন বা এন্টিজেন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। যেমন- ফুলের রেণু, বিভিন্ন প্রাণীর লোম, মাইট ও ধুলাবালি ইত্যাদি। ফলশ্রুতিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয় ও হাপানী দেখা দেয়। একে এটোপিক এ্যাজমা বা এলার্জিক এ্যাজমাও বলা হয়।
* নন এলার্জিক এ্যাজমা (Intrinsic asthma)- এ ধরনের এ্যাজমা এলার্জি ঘটিত নয় বরং ধূমপান, রাসায়নিক দ্রব্য, জীবাণুর সংক্রমণ, মানসিক চাপ, অট্টহাসি, অধিক ব্যায়াম, এস্পিরিন জাতীয় ঔষধ সেবন, খাদ্য সংরক্ষণকারী উপাদান, পারফিউম, অত্যাধিক ঠান্ডা, গরম, আর্দ্র ও শুষ্ক বাতাসের কারণে দেখা দেয়।
# # অন্যান্য এ্যাজমা:-
* মিশ্র এ্যাজমা (Mixed asthma)- এক্ষেত্রে রোগী পূর্বোক্ত এলার্জিক ও নন-এলার্জিক দু'ধরনের এ্যাজমাতেই ভোগেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রকোপ বেড়ে যায়।
* রাত্রিকালীন এ্যাজমা (Nocturnal asthma)- এ ধরনের হাঁপানি রাতের বেলা, বিশেষতঃ রাত ২ টা থেকে ৪ টার মধ্যে আক্রমণ করে। রোগীর শারীরিক দুর্বলতার জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। এমনকি দিনের বেলায় স্বল্পকালীন নিদ্রা যায়। রাত্রিকালীন এ্যাজমা গুরুত্বের সহিত নেয়া উচিত কারণ এ ক্ষেত্রে রেসপিরেটরী এরেস্ট হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
* ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমা (Bronchial asthma)- এটি মূলত: এক ধরনের এলার্জিক রিএ্যাকশন যাতে শ্বাসকষ্ট ও বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয়। শ্বাসনালীর চারপাশের পেশী ও মিউকাস মেমব্রেনসমূহের সংকোচন দেখা দেয়। শ্বাসনালীর সংক্রমণ, বায়ুবাহিত এলার্জেন, খাদ্যের এলার্জেন ও অত্যধিক মানসিক চাপ এর প্রধান কারণ।
* কার্ডিয়াক এ্যাজমা (Cardiac asthma)- হৃদপিন্ড যখন তার স্বাভাবিক রক্ত সংবহন হারিয়ে ফেলে তখন পালমোনারি ইডিমা বা ফুসফুসে পানি জমে বায়ুনালীকে সংকুচিত করে ফেলে এবং হাঁপানি সৃষ্টি হয়। এটি অত্যন্ত মারাত্মক। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা পর এটি আক্রমণ করে কারণ শুয়ে থাকলেই ফুসফুসে পানি জমে। শ্বাসকষ্টে রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং কিছুক্ষণ বসে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
* ব্যায়ামজনিত এ্যাজমা (Exereise indrced asthma)- এ ধরনের এ্যাজমা ব্যায়ামকালীন সময়ে অথবা ব্যায়ামের কিছুক্ষণ পর থেকে শুরু হয়। বিশেষতঃ শীতকালে এ ধরণের সমস্যা বেশি হয়।
* পেশাগত এ্যাজমা (Occupational asthma)- অকুপেশনাল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এ্যাজমা সাধারণত: চাকরি নেবার কয়েক মাস থেকে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে দেখা দেয়। সাধারণত কর্মস্থল ত্যাগ করার সাথে সাথে বা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে লক্ষণসমূহ কমে যায়। ‘স' মিলের গুড়া, রাসায়নিক ধোঁয়া, সর্বদা ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশ, সিমেন্ট কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, আটা ও মসলার মিল, রাইস মিল, জুট মিল, স্পিনিং মিল, রংয়ের কারখানা, রাসায়নিক সার কারখানা, ফটোকপি মেশিন, ড্রাইভিং, পোল্ট্রি ফার্ম, বেডিং স্টোর ইত্যাদিতে কর্মরত শ্রমিকরা এ ধরনের হাপানিতে বেশি আক্রান্ত হন।
* মওসুমি এ্যাজমা (Seasonal asthma)- মওসুমি এ্যাজমা সাধারণত: বিশেষ ঋতুতে দেখা দেয়। যেমন- কারো কারো গরমে এ্যাজমা বাড়ে, কারো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফুল বাগানে এ্যাজমা বাড়ে। গাছ, ঘাস, ফুলের রেণু ইত্যাদিতেও এ্যাজমা বাড়ে।
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
* নীরব এ্যাজমা (Silent asthma)- এ ধরনের হাঁপানির আক্রমণ অত্যন্ত ভয়াবহ ও জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। কোনরূপ পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই বা বুকে হালকা শব্দ করেই আক্রমণ করে।
* কফ ভেরিয়েন্ট এ্যাজমা- এ ধরনের এ্যাজমা দীর্ঘমেয়াদী ও বিরক্তিকর কাশিযুক্ত হয়ে থাকে।
# # এ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের লক্ষণসমূহ:
১. বুকের ভেতর বাঁশির মতো সাঁই সাঁই আওয়াজ।
২. শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট।
৩. দম খাটো অর্থাৎ ফুসফুস ভরে দম নিতে না পারা।
৪. ঘন ঘন কাশি।দীর্ঘ মেয়াদী কাশিতে ভুগতে থাকা।
৫. বুকে আঁটসাঁট বা দম বন্ধ ভাব।বুকে চাপ অনুভব করা।
৬. রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকা।
৭. শ্বাস কষ্ট হওয়া।
৮. ব্যায়াম করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া।
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
# # অন্যান্য লক্ষণসমূহ:-
*শীতকালে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া।
*ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া।
*কাশির সাথে কফ নির্গত হওয়া।
* গলায় খুসখুস করা ও শুষ্কতা অনুভব করা।
*রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া।
* নাড়ীর গতি দ্রুত হওয়া।
* কথা বলতে সমস্যা হওয়া।
* সর্বদা দুর্বলতা অনুভব করা।
* দেহ নীল বর্ণ ধারণ করা।
**কিছু প্রশ্নের উত্তর**
এ্যাজমা কাদের হতে পারে হাঁপানি?
যে কোন বয়সে স্ত্রী, পুরুষ, শিশু-কিশোর যে কারও হতে পারে। যাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের হাঁপানি আছে তাদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। আবার দাদা-দাদির হাঁপানি থাকলে (বাবা-মার না থাকলেও) নাতি-নাতনি বা তাদের ছেলেমেয়েরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। পিতৃকুলের চেয়ে মাতৃকুল থেকে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
এ্যাজমা কি ছোঁয়াচে রোগ?
না, এজমা ছোঁয়াচে রোগ নয়। পারিবারিক বা বংশগতভাবে এজমা হতে পারে। শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খেয়ে এজমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। মার সংস্পর্শ থেকেও হওয়ার আশঙ্কা নেই।
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
বংশগতভাবে এ্যাজমা রিস্ক কতটা?
মাতৃকুলে হাঁপানি থাকলে তিনগুণ বেশি রিস্ক আর পিতৃকুলে হাঁপানি থাকলে অনেকটা কম রিস্ক। মায়ের হাঁপানি থাকলে মোটামোটিভাবে বলা যায় তিন সন্তানের মধ্যে একটির হাঁপানি একটির আপাত সুস্বাস্থ্য এবং একটির অস্বাভাবিক শ্বাসনালির সঙ্কোচন থাকতে পারে। শেষেরটির হাঁপানি না হয়ে সর্দি-কাশির প্রবণতা থাকতে পারে।
আপনার এ্যাজমা বা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বুঝবেন কীভাবে?
উপশমকারী ওষুধের পরিমাণ বাড়তে থাকা এবং ইনহেলার দ্বারা উপশম ৩-৪ ঘণ্টার বেশি যদি না থাকে। রাতে শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যাওয়া। স্বাভাবিক কাজকর্মে শ্বাসকষ্ট হওয়া। পিক ফ্লো ধীরে ধীরে কমা। এসব উপসর্গের উপস্থিতি মানে আপনার হাঁপানি আর নিয়ন্ত্রণে নেই।
এ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কি বিপদ হতে পারে?
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
মারাত্মক জটিল এজমা হতে পারে। স্থায়ী পুরনো এজমায় পরিবর্তন হতে পারে। স্থায়ী পুরনো এজমা থেকে হার্টফেইলুর হয়ে পানি আসতে পারে এবং রোগী শয্যাশায়ী হয়ে যেতে পারে। শরীরে সবসময় অক্সিজেন কম থাকতে পারে। তাই সবসময় অবসাদগ্রস্ত মনে হবে। অক্সিজেনের অভাবে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে এবং অকালে নিজেকে বৃদ্ধদের মতো দুর্বল মনে হবে। ফুসফুসের অংশ বিশেষ চুপসে যেতে পারে। নিউমোনিয়াও হতে পারে। পায়ে পানি আসতে পারে। মুখ থেকে ছিটেফোঁটা রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাশি বন্ধ করার ওষুধটা দেয়া জরুরি।
এ্যাজমাতে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত কি না বুঝবেন কীভাবে?
যখন উপশমকারী ইনহেলার ব্যবহার করে ৫-১০ মিনিটের ভেতর শ্বাসকষ্ট লাঘব হচ্ছে না তখন বুঝতে হবে আপনার হাঁপানি মারাত্মক অবস্থা ধারণ করতে যাচ্ছে।
রোগীর সঠিক পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ
এজমা উপসর্গ ও তীব্রতা পরিবর্তিত হয়, ফলে চিকিৎসা পরিবর্তনের দরকার হয়। এজমার জন্য দায়ী এলারজেনের পরিবর্তন হতে পারে। এজমা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। নতুন সংযোজন, পুনরীক্ষণ এবং তাগিদের দরকার হতে পারে।
page..Dr. Aktar Rana chowdhoury.
# # হাঁপানি থেকে রক্ষা পাবার উপায়:-
* বিছানা ও বালিশ প্লাস্টিকের সিট দিয়ে ঢেকে নিতে হবে বা বালিশে বিশেষ ধরনের কভার লাগিয়ে নিতে হবে।
* ধুলো ঝাড়াঝাড়ি করা চলবে না।
* ধোঁয়াযুক্ত বা খুব কড়া গন্ধওয়ালা পরিবেশে থাকা চলবে না।
* আলো-হাওয়া যুক্ত, দূষণমুক্ত খোলামেলা পরিবেশ থাকা দরকার। কারণ স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ফাঙ্গাল স্পোর অনেক সময় হাঁপানির কারণ হয়।
* হাঁপানি রোগীর আশেপাশে ধূমপান বর্জনীয় ও মশার কয়েল জ্বালানো যাবে না।
*অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্যও হাঁপানি রোগীরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে পরিশ্রমের ঝুঁকি নেয়া উচিত।
* হা
***এ্যাজমা প্রতিরোধের আরো সতর্কতা ও উপায় আছে যেমন:-
১.এলার্জিকারক বস্তু এড়িয়ে চলা। যেমন : ধুলো, বালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া, ঝাঁঝালো গন্ধ ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা।
২. ঘর বাড়িকে ধুলাবালু মুক্ত রাখার চেষ্টা করা। এ জন্য দৈনিক অন্তত একবার ঘরের মেঝে, আসবাবপত্র, ভিজা কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। অথবা ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করা।
৩. ঘরে কার্পেট না রাখা।
৪. বালিশ, তোষক, ম্যাট্রেসে তুলা ব্যবহার না করে স্পঞ্জ ব্যবহার করা।
৫. পানিতে ওজু-গোসল করা
৬. ধূমপান না করা।
৭. যেসব খাবারে এলার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা পরিহার করে চলা।
৮. ঠাণ্ডা খাবার, আইসক্রিম ইত্যাদি না খাওয়া।
৯. মানসিক চাপ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তাকে ইতিবাচক মনোভাবে মানিয়ে চলা। কিংবা মানসিক চাপের কারণকে এড়িয়ে চলা।
১০. পেশাগত কারণে এজমা হলে চেষ্টা করতে হবে স্থান বা পেশা পরিবর্তনের।
১১. পরিশ্রম বা খেলাধুলার কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়লে চেষ্টা করতে হবে পরিশ্রমের কাজ পরিহার করা।
১২. সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করা। ইতিবাচক মন আপনাকে ভালো থাকতে সাহায্য করবে।
১৩. পরাগ রেণু পরিহারে সকাল-সন্ধ্যা বাগান এলাকায় বা শস্য ক্ষেতের কাছে না যাওয়া।
১৪. পরাগ রেণু এলাকা থেকে বাসায় ফিরে মাথার চুল ও কাপড় ধুয়ে ফেলা।
১৫. কুকুর-বিড়াল বাগান থেকে পরাগ রেণু বহন করতে পারে। এ জন্য নিয়মিত কুকুর-বিড়ালকে গোসল করানো প্রয়োজন।
এ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে করণীয়-
১. ধূমপান করবেন না। ধূমপায়ী ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলুন।
২. শয়নকক্ষে খুব বেশি মালামাল রাখবেন না।
৩. ঘরের সম্ভাব্য সব কিছু ঢেকে রাখবেন, যাতে ধুলাবালি কম উড়ে।
৪. টিভি, মশারি স্ট্যান্ড, সিলিং, পাখার উপর জমে থাকা ধুলোবালি সপ্তাহে একবার অন্য কাউকে দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।
৫. শোকেস বা বুক সেলফে রাখা পুরনো খাতা, ফাইল, বইপত্র অন্য কাউকে দিয়ে ঝেড়ে নিন।
৬. বাস, মোটর গাড়ি বা যানবাহনের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকবেন।
৭. উগ্র সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তীব্র দুর্গন্ধ, ঝাঁজালো গন্ধ থেকে দূরে থাকুন।
৮. বাসায় হাঁস-মুরগি, বিড়াল, কুকুর, পোষাপ্রাণী যেন না থাকে এবং এগুলোর সঙ্গে মেলামেশা করবেন না।
৯. বাড়িতে ফুলের গাছ লাগাবেন না।
১০. ঘাসের ওপর বসে থাকা পরিহার করুন। নিজে ঘাস বা গাছ কাটবেন না। ১১. শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন এবং মাপলার ব্যবহার করবেন।
১২. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। জোরে শ্বাস টানুন, প্রায় ১৫ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন। দুই ঠোঁট শীষ দেওয়ার ভঙিতে আনুন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলুন প্রতিদিন সকাল ও বিকালে ১০ মিনিট করে মুক্ত পরিবেশে।
১৩. সর্বদা ভয় ও চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন এবং কখনো হতাশাগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়বেন না। ১৪. ছোট বাচ্চারা লোশম পুতুল নিয়ে খেলা করবে না।
১৫. ঘর ঝাড়ু দেবেন না। ঘর ঝাড়ু দিতে হলে মাস্ক, তোয়ালে বা গামছা দিয়ে নাক বেঁধে নেবেন।
১৬. কাশি শক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন।
১৭. ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি/পানীয় কম খাবেন। হালকা গরম পানি পান করবেন। ১৮. অবৎড়ংড়ষ বা মশার কয়েল বা ওহংবপঃরপরফব ঘরে ব্যবহার করবেন না।
১৯. বিছানার চাদর বা বালিশের কভার পাঁচ দিন পর পর ধুয়ে ব্যবহার করবেন।
২০. মশারি সপ্তাহে একবার ধুঁয়ে ব্যবহার করবেন।
২১. যদি কোনো খাবারে সমস্যা হয়, যেমন- গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি, হাঁসের ডিম, বেগুন, কচু, পাকা কলা, আনারস, নারিকেল ইত্যাদি কম খাবেন। ২২. সর্বদা ধুলাবালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
২৩. এলার্জি ও এজমা কোনো কঠিন রোগ নয়, একটু মনযোগী হলেই এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা সম্ভব।
২৪. ডাক্তারের দেওয়া সব নিয়ম/ পরামর্শ/ ব্যবস্থাপত্র যথাসম্ভব মেনে চলুন।
২৫. শীতকালে এজমা রোগীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
হাঁপানি রোগীর খাদ্য ও পথ্য:-
**যে খাবার বেশি খাবেন**
* কুসুম গরম খাবার।
* মওসুমি ফলমূল।
* আয়োডিন যুক্ত লবণ ও সৈন্ধব লবণ।
* মধু, স্যুপ, জুস।
* কালোজিরার তেল।
* আদা ও পুদিনার চা।
**যে খাবার খাবেন না:**
* মিষ্টি দধি ও মিষ্টান্ন।
* ফ্রিজের কোমল পানীয়।
*আইসক্রীম, ফ্রিজে রাখা খাবার।
* ইসুবগুল ও গ্রেবী জাতীয় খাবার।
* কচুর লতি, তিতা জাতীয় খাবার।
* পালং শাক ও পুই শাক, মাসকলাই, মাটির নীচের সবজি যেমন-গোল আলু, মিষ্টি আলু, শালগম, মুলা, গাজর ইত্যাদি। এছাড়াও ইলিশ মাছ, গরুর গোশত, চিংড়ী মাছ। তবে উল্লেখিত খাবারের মধ্যে যাদের যে খাবারে অসুবিধা হয়না উনারা ওই খাবার খেতে পারবেন সাবধানতার সহিত।
*পাম অয়েল, ডালডা ও ঘি।
* অধিক আয়রনযুক্ত টিউবঅয়েলের পানি।
**হাঁপানি রোগীর পোশাক-পরিচ্ছদ**
* কটন জাতীয় নরম ঢিলে-ঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে।
* সিল্ক, সিনথেটিক, পশমি কাপড় পরিধান না করাই উত্তম।
*পাতলা বালিশ ও নরম বিছানায় শোয়া উচিত।
* বাসস্থান শুষ্ক ও পর্যাপ্ত সূর্যের আলো-বাতাস সম্পন্ন হওয়া উচিত।
**এ্যাজমা নির্ণয় এ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা**
রক্ত পরীক্ষা বিশেষত ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি আছে কি না তা দেখা। সিরাম আইজিইয়ের মাত্রা সাধারণত এজমা রোগীদের ক্ষেত্রে আইজিইয়ের মাত্রা বেশি থাকে।
স্কিন প্রিক টেস্ট : এ পরীক্ষায় রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন এলারজেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং এ পরীক্ষাতে কোন কোন জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা ধরা পরে। বুকের এক্স-রে করে দেখা প্রয়োজন যে অন্য কোন কারণে রোগীর শ্বাসকষ্ট কি না।
***এ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া চিকিৎসা:-**
১. আদা :
গবেষণায় দেখা গেছে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির শরীরে থাকা বেশ কিছু উপকারি উপাদান শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে অক্সিজেনের প্রবেশ যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসকষ্ট কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে সম পরিমাণে আদার রস, বেদানার রস এবং মধু মিশিয়ে একটা মিশ্রন তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রনটি দিনে ২-৩ বার খেলে দেখবেন দারুন উপকার মিলবে।
২. সরিষা:
সরিষার তেল একেবারে ঠিক শুনেছেন! শ্বাসকষ্ট কমাতে বাস্তবিকই সরিষার তেল দারুন কাজে আসে। আসলে এই তেলটি রেসপিরেটারি প্যাসেজকে খুলে দেয়। ফলে শ্বাস নিতে কোনও কষ্টই হয় না। তাই এবার থেকে অ্যাজমার অ্যাটাক হলেই অল্প করে সরষের তেল গরম করে নেবেন। তারপর সেটি অল্প ঠাণ্ডা করে বুকে-পিঠে ভাল করে মালিশ করতে থাকবেন। এমনটা করলেই ধীরে ধীরে লক্ষণ কমে যেতে শুরু করবে। সঙ্গে কমবে কষ্টও।
৩. ডুমুর:
ডুমুরএতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর একবার ফুসফুস ঠিক মতো কাজ শুরু করে দিলে শ্বাস-প্রশ্বাসও স্বাভাবিকভাবে হতে শুরু করে। ফলে শ্বাসকষ্ট দূরে পালায়। এখন প্রশ্ন হল এমন পরিস্থিতিতে ডুমুরকে কাজে লাগাবেন কিভাবে? প্রথমে তিনটি ডুমুরকে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালবেলা খালি পেটে পানি এবং ডুমুর তিনটি খেয়ে ফেলুন। ব্যাস তাহলেই কেল্লাফতে!
৪. রসুন:
রসুন হাফ কাপ দুধে পরিমাণ মতো রসুন ফেলে ভাল করে দুধটা ফোটান। তারপর হলকা ঠাণ্ডা করে দুধটা খেয়ে ফেলুন। এই পানীয়টা খাওয়ার পর দেখবেন কষ্ট কমতে সময় লাগবে না। আসলে ফুসফুস যাতে ঠিক মতো কাজ করতে পারে, সেদিকে রসুন নজর রাখে। ফলে সমস্যা কমতে সময়ই লাগে না।
৫. কফি :
কফি সত্যিই অ্যাজমার প্রকোপ কমাতে কফি দারুন কাজে আসে। কারণ গরম গরম এক পেয়ালা কফি খেলে শ্বাসনালী খুলে যায়। ফলে অক্সিজেন খুব সহজেই ফুসফুসের অন্দরে প্রবেশ করে যায়। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে কফি যত কড়া হবে, তত উপকার পাবেন। তাই এবার থেকে শ্বাস নিতে সামান্য অসুবিধা হলেই কফি খেয়ে নেবেন। দেখবেন উপকার মিলবে। তবে দিনে ৩ কাপের বেশি কফি কিন্তু ভুলেও খাবেন না। কারণ এই পানীয়টি যতটা উপকারি, বেশি মাত্রায় খেলে কিন্তু ততটাই শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর।
৬. মধু :
অ্যাজমার চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার বহু কাল ধরে হয়ে আসছে। আসলে এই প্রকৃতিক উপাদানটির শরীরে রয়েছে বেশ কিছু উপকারি উপাদান, যা এমন রোগের প্রকোপ কমাতে দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে মধুর গন্ধ নিলেও অনেকের উপকার হয়। আর যদি এমনটা করে ফল না মেলে। তাহলে দিনে তিনবার, এক গ্লাস করে গরম জলে এক চামচ করে মধু মিশিয়ে পান করলে দারুন উপকার মিলবে।
৭. পেঁয়াজ:
পেঁয়াজ এ রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে অ্যাজমার প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ খেলেই বেশি উপকার মেলে, অন্যভাবে নয় কিন্তু!
**এ্যাজমার জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা**
উপশমকারী ওষুধ ৫-১০ মিনিট পর আবার নিতে হবে। নিজেকে শান্ত রাখুন, স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে চেষ্টা করুন। যেভাবে বসলে আরাম লাগে সেভাবে বসুন। আপনার হাত হাঁটুর ওপরে রাখুন, যাতে সোজা হয়ে বসে থাকতে পারেন। শ্বাস তাড়াহুড়া করে নেবেন না, তড়াহুড়া করে শ্বাস নিলে অবসাদগ্রস্ত হয়ে যায়।
**এ্যাজমা চিকিৎসার তিনটি প্রধান উপায় :-**
১. এলাজেন পরিহার : হাঁপানির হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ পন্থা হলো যে জিনিসে এলার্জি তা যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলা। তাই এজমা রোগীদের প্রথমেই এলার্জি টেস্ট করে জানা দরকার তার কিসে কিসে এলার্জি হয়।
২. ওষুধপত্র : নানা ধরনের হাঁপানির ওষুধ আছে। প্রয়োজন মতো ওষুধ ব্যবহার করে রোগী সুস্থ থাকতে পারেন। সাধারণত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
ক) শ্বাসনালির সঙ্কোচন বন্ধ করতে ওষুধ ব্যবহার করা, যেমন ব্রঙ্কোডাইলেটর, নালবিউটামল, থিউফাইলিন, ব্যামবুটারল
খ) প্রদাহ নিরাময়ের ওষুধ, যেমন কার্টিকোস্টেরয়েড (বেকলোমেথাসন, ট্রাইএমসিনোলোন, ফ্লোটিকাসন) এগুলো ইনহেলার, রোটাহেলার, একুহেলার ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং লিউকোট্রাইন নিয়ন্ত্রক মন্টিলুকাস্ট , জেফিরলুকাস্ট ব্যবহার করা।
৩. এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : এলার্জি দ্রব্যাদি থেকে এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন ও এজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহার কর্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার অনেক কমে যায়। ফলে কর্টিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্বে স্বাস্থ্য সংস্থও এ ভ্যাকসিন পদ্ধতি চিকিৎসাকে এজমার অন্যতম চিকিৎসা বলে অভিহিত করে। এটাই এজমা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। বর্তমানে বাংলাদেশেও এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়।
আগে ধারণা ছিল এজমা একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকে ধরা পড়লে এলার্জিজনিত এজমা রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেক দিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উন্নত দেশের সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে। অপচিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুবরণ কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় করে বিদেশে যাওয়ার কোন দরকার নেই।এ্যাজমা হওয়ার পেছনে অবশ্যই কোনো না কোন কারণ থাকে, ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট ঐ কারণটাকেই একেবারে রুট লেভেল থেকে নির্মূল করে দেয় আর তখন শরীরে এ্যাজমা বা হাঁপানী থাকার প্রশ্নই আসে না। সাথে সাথে আকুপয়েন্ট গুলো নিয়মিত ম্যাসেজ করলে শরীরে ইমিউন সিস্টেম বেড়ে যায়। এলার্জি চিরতরে দূরিভূত হয় এবং সহজে আর ফিরে আসে না।
ন্যাচারাল ফুড সাপ্লিমেন্ট আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম।
কি ভাবে দেখুন:
*ধূলিকণা,দূষিত ক্ষুদ্র বস্তু ক্ষতিকর উপাদান অপসারণে দ্রুত কাজ করে।
*চিরদিনের জন্য হাঁপানী,শ্বাসকষ্ট ও এ্যাজমা থেকে মুক্তি বা নিয়ন্ত্রণ করবে।
* সাধারন খুক্খুক্ কাশি দূর করে দেয়।
* শ্লেষ্মা দূর করে দেয়।
* শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাবস্থা পুনস্থাপন করে।
* গলার প্রদাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
এ্যাজমা রোগে মৃত্যুর ৮০% প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি আধুনিক চিকিৎসা ও ডাক্তারের তদারকির মাধ্যমে এজমা নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়া হয়।
**বয়োকেমিক চিকিৎসা**
খনিজ লবণ বাইয়োকেমিক সল্ট (টিস্যু রেমেডি) এই চিকিৎসা পদ্ধতি আধুনিক চিকিৎসা জগতে নতুন যুগের সূচনা করেছে।এই চিকিৎসা এত সুন্দর,দ্রুত ও স্হায়ী ফলপ্রদ।বিজ্ঞান সন্মত চিকিৎসা হওয়ায় ইহা দ্রুত জার্মান থেকে নিজগুনে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা(WHO)বাইয়োকেমিক চিকিৎসা ব্যবস্হাকে বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
মাত্র ১২ টি ঔষধ বায়োকেমিক সল্ট নামে পরিচিত কিন্তু এই খনিজ লবন যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন টিসু,মাংসপেশী ও হাড়ের মধ্যে বিদ্যমান,
সেই রকম ১২ টি ইনঅর্গানিক লবণের মধ্যে রয়েছে -
#ক্যালসিয়ামের তিনটি,
#সোডিয়ামের তিনটি,
#পটাশিয়ামের তিনটি,
#ম্যাগনেসিয়ামের একটি,
#আয়রনের একটি ও সিলিকা একটি।
এর মধ্যে একটি লবণ হচ্ছে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCI)।
যেমন --
* আমাদের শরীরের মিউকাস মেমব্রেনের মধ্যে থাকে ---পটাশিয়াম ক্লোরাইড।
* আমাদের শরীরের হাড়ের মধ্যে থাকে
--- ক্যালসিয়াম ফসফেট ।
* আমাদের শরীরের মাংসপেশীর মধ্যে থাকে ---পটাশিয়াম ফসফেট এবং ম্যাগনেশিয়াম ফসফেট ৷
*আর রক্তের মধ্যে থাকে ফেরাম বা আয়রণ।
একজন জার্মান চিকিৎসক ডাঃ সুসলার শত শত ঔষধ ঘাঁটাঘাঁটি না করে সহজে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি বের করার জন্য নিরন্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে কিছু অর্গানিক খনিজ লবন আমাদের শরীরের সব কিছু ব্যালেনসিং করে বা ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরকে পরিচালনা করে।তাই এই সব লবন গুলির মধ্যে যার ঘাটতি হবে তারা যে সব অর্গানের উপরে কাজ ।
করোনারি আর্টারি ডিজিজ সহ হার্টের যাবতিয় রোগ নিরাময়ে বায়োকেমিক লবণ চিকিৎসা খুব কার্যকরী। এই লবন জাতীয় ঔষধ গুলি ডাইরেক্টলি বা প্রত্যক্ষভাবে শরীরের টিসুর উপরে কাজ করে এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট 100%।
** শরীরে লবণের ঘাটতি পূরণে রক্তস্বল্পতা দূর হয় এবং রক্ত পরিষ্কার করে। আমার চিকিৎসা ব্যবস্থায় বায়োকেমিক সল্ট ব্যবহার হয় তাই শরীরে লবণের ঘাটতি পূরণ হয় সাথে সাথে ইলেকট্রোলাইট নরমাল হয়ে যায়।