11/12/2025
অতি গুরুত্বপূর্ণ লেখাটি শ্রদ্ধেয় মাওলানা Iftekhar Sifat
____
রোকেয়ার পরবর্তী জীবনে ইসলামের দিকে ফিরে আসার আলাপ হচ্ছে। রোকেয়ার পরবর্তী জীবনে যেসব জিনিসকে আলামত বানানো হচ্ছে, সেটা হল ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ ইত্যাদি বলা।
এখন প্রশ্ন হল, এসব জিনিসের জন্য কি তাকে কুফুরের হুকুম দেয়া হচ্ছে? রোকেয়া ইনশাআল্লাহ বলত না, আল্লাহ বলত না- এসব কারণ দেখিয়ে তো কুফুরের হুকুম বলা হচ্ছে না। তাকে তো নাস্তিক অর্থেও কুফুরের কথা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে মুরতাদ, যার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে।
ঈমান ও কুফুরের কোন উসুলে আছে কেউ আল্লাহ, ইনশাআল্লাহ বললে তাকে কুফুরের হুকুম দেয়া যাবে না? ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ বলা ব্যক্তিকে মুরতাদ মানা নিয়ে আশ্চর্য প্রকাশ করা হচ্ছে, এটাই নাকি ইতিহাসে প্রথম। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তো কাদিয়ানিও বলত। তাকে কেন কাফের বলা হয়? ইতিহাসে ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ বলা মুরতাদের অভাব নেই। এতে আশ্চর্য প্রকাশের কিছু নেই। একজন মানুষ আল্লাহ, ইনশাআল্লাহ বলে, নামাজ হজ্ব করেও মুরতাদ হতে পারে- এটা উলামায়ে উম্মতের কাছে নতুন কোন বিষয় নয়।
মানুষ ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলেও মদ খেতে পারে, নাচগান করতে পারে, কুফুরিও করতে পারে।
এবার কিছু বোল্ড পয়েন্ট বলি:
১। মুরতাদ হওয়ার জন্য পুরো দ্বীনকে অস্বীকার করার দরকার নেই। বরং দ্বীনের যেকোন অকাট্য বিধানকে অস্বীকার বা তিরষ্কারই ব্যক্তির ঈমানকে ভঙ্গ করে দেয়।
সারাখসি রহিমাহুল্লাহ(মৃত্যু:৪৯০হি.) কৃত শরহে সিয়ারে কাবির গ্রন্থে আছে,
وَمَنْ أَنْكَرَ شَيْئًا مِنْ شَرَائِعِ الْإِسْلَامِ فَقَدْ أَبْطَلَ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ مَعْنَاهُ أَنَّهُ يَصِيرُ مُرْتَدًّا فَيُقْتَلُ إنْ لَمْ يُسْلِمْ، وَبِهَذَا اللَّفْظِ تَبَيَّنَ خَطَأُ مَنْ يَقُولُ مِنْ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ أَصْحَابِنَا: إنَّ مَنْ أَنْكَرَ شَيْئًا مِنْ الشَّرَائِعِ فَهُوَ كَافِرٌ فِيمَا أَنْكَرَهُ مُسْلِمٌ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ
যে ব্যক্তি ইসলামি শরিয়াহর কোনো একটি রোকনকে প্রত্যাখ্যান করল। সে মূলত ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’কে বাতিল ও অকার্যকর সাব্যস্ত করল। এই কথার উদ্দেশ্য হলো, সে মুরতাদ হয়ে গেছে। পুনরায় ইসলাম কবুল না করলে তাকে হত্যা করা হবে। এই কথার মধ্য দিয়ে আমাদের মাজহাবের পরবর্তীদের একটি ভুল কথা স্পষ্ট হয়ে (অপনোদিত হয়ে ) যায়। কথাটি হলো, যে শরিয়াহার কোনো একটি বিষয়কে অস্বীকার করবে। সে তাঁর অস্বীকারকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে কাফির হলেও ইসলামের অবশিষ্ট বিষয়ে সে মুসলিম বলে গণ্য হবে । ( শরহে সিয়ারে কাবির)
সুতরাং ইনশাআল্লাহ বলা, আল্লাহ বলা কোন ব্যক্তির কাছ থেকেও যদি দ্বীনের অকাট্য বিধানের অস্বীকৃতি- তিরষ্কার কিংবা কোন মৌলিক বিশ্বাসের বিপরীত বিশ্বাস প্রকাশ পায়, তবে এটাই তার মুরতাদ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর বেগম রোকেয়া থেকে এরকম একাধিক জিনিস সুস্পষ্ট প্রমাণিত। তাও সে নিজে এগুলো ধারণ করেনি, বরং প্রচার, প্রসার ও সংগ্রাম করে গেছে। অর্থাৎ মুফসিদ ফিল আরদ্ব ছিল।
২। একজন মুসলিমের আসল অবস্থা তো সে ঈমানের উপর আছে। কিন্তু যখন তার থেকে কুফুর ও রিদ্দাহ আবশ্যককারী বিষয় প্রকাশ পায়, তখন ঈমানের অবস্থায় আসার জন্য জরুরী হল, সেই বিষয় থেকে সুস্পষ্ট তাওবা ও সম্পর্ক ত্যাগ করা।
এখন যার কুফর সুস্পষ্ট ও প্রচারিত, যাকে এই অবস্থার উপর আইডল বানানো হয়েছে, তার ব্যাপারে হুকুম তার প্রকাশ্য হালতের উপরই আসবে। গোপনে তাওবা করলে সেটা তার ও আল্লাহর মাঝখানের ব্যাপারে। বাহ্যিক অবস্থার ব্যাপারেই বান্দা আদিষ্ট।
এমতাবস্থায় তাকে কেউ কাফের বললে তাকে তাওবা না করার দলিল দেখানোর প্রয়োজন নাই। কারণ কুফর এখানে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য। বরং যে তাওবার দাবি করবে, দলিল তাকে পেশ করতে হবে। তার কোন লেখা বা বক্তব্যে এর তাওবার উল্লেখ থাকতে হবে। নতুবা তার উপর দুনিয়াবি হুকুম রিদ্দাহরই হবে। পার্থিব জীবনে একজন মানুষের ঈমান ও কুফুরের অবস্থান সুস্পষ্ট থাকাটা জরুরী। আর এটার জন্য বাহ্যিক অবস্থাই ধর্তব্য, গোপন অবস্থা নয়।
পাকিস্তানের সহস্রাধিক উলামায়ে কেরামের সম্মিলিত এক ফতোয়াতে এসেছে,
"মূলনীতি হচ্ছে, ব্যক্তি যখন একবার কুফরিতে জড়িয়ে পড়ে, যতক্ষণ তা থেকে তাওবা না করবে এবং এর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ না করবে , ততক্ষণ মুসলিম হতে পারবে না। নিজের পূর্বের কোনো লেখাকে ( বর্তমানের) বিপরীতে পেশ করে দেওয়া এই পর্যায়ে এসে যথেষ্ট হবে না। বরং পরিষ্কার স্বীকার করে নিতে হবে, আমার এই কথা ভুল ও কুফরি। আমি এর থেকে তাওবা করছি ।" ( ফিতনায়ে ইনকারে হাদিস, ৯১)
আল্লামা কাশ্মিরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তি কুফরি কথা ও আকিদা-বিশ্বাস বলা ও লেখার পরে ততক্ষণ মুসলিম হতে পারবে না যতক্ষণ না কুফরি আকিদা থেকে তাওবার প্রকাশ্য ঘোষণা না দিবে। ( মুকাদ্দামায়ে ভাওয়ালপুর, ৮০)