05/02/2026
প্রাক্টিক্যাল কিছু লাইফ হ্যাকস যেগুলো জীবনে অনেক কাজে লেগেছে আমার, আলহামদুলিল্লাহ --
(১) বার বার আল্লাহর কাছেই ফিরে আসার মানসিকতা খুব শক্ত রাখা। আমার যতই খারাপ অবস্থা থাকুক না কেন, আমি আল্লাহর কাছেই যাবো। আমি পচে-গলে দূষিত হয়ে গেলেও আল্লাহর কাছেই যাব বিশুদ্ধ হতে, তাওবাহ করতে। কোনও সঙ্কোচ, দ্বিধা কিছুই রাখবো না। যদিও মনে অপরাধবোধ অনেক বেশি থাকবে, তাও সেটা নিয়েই আল্লাহর কাছেই যাব। আল্লাহ ছাড়া আমার এমন ভালো রব আর কে আছেন যে অন্যের কাছে যাবো?
(২) একবার মুখ থেকে বের হয়ে যাওয়া কটু কথা আর ফেরত নেওয়া যায় না। দাঁতে দাঁত চেপে হলেও যোগ্য জায়গায় একটু ধৈর্য ধরে গেলে পরে অনেক কল্যাণ পাওয়া যায়। জীবনের ঋতু এবং পরিস্থিতি তো একরকম থাকে না। আজকে যাকে খারাপ লাগছে, কালকে দেখা যাবে তার জন্যেই ভালোবাসার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মুখ থেকে বের হওয়া বাজে কথাগুলো ভুলতে না পারলে, প্রিয় মানুষ হারিয়ে যাবে, বারাকাহ কমে যাবে। রসূল (সা) এর চিরন্তন হাদিস - হয় ভালো কথা বলবে, নাহলে চুপ থাকবে - কী যে এক রত্ন এই হাদিস!
(৩) দুই পক্ষের কথা না শুনেই, ভালোভাবে সার্বিক পরিস্থিতি না বুঝেই এক পক্ষের কথা শুনে কারো ব্যপারে খেপে যাওয়া যাবে না। এই ভুলের জন্য অনেক সাফার করতে হয়। কারণ ছাড়াই অশান্তি এবং awkward পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, যেই অশান্তির প্রয়োজন নেই। এটা ইসলামের প্রিন্সিপাল যে, দুই পক্ষের কথা না শুনে জাজমেন্ট করলে কোনো এক পক্ষের প্রতি জুলুম হয় যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ভীষণ গুনাহ হবে, আর নিজের অশান্তি তো আছেই।
(৪) কেউ আমার সাথে কারণ ছাড়াই খুব ঠাণ্ডা আচরণ শুরু করলে, ইগ্নোর করলে, অযাচিত ভাবে আমার সাথে জুলুম করলে, আমি তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং আমি নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। এবং দ্বিতীয়বার ঐ ব্যক্তি বা বিষয়কে আমার মগজে জায়গা দেই না। আমি মুভ অন করি। আমার ব্রেইন স্পেস এবং আমার হৃদয়ের স্পেস আমার কাছে অনেক বেশি দামী জায়গা। কারণ এই দুই জায়গায় আমাকে আল্লাহর স্মরণকে রাখতে হয়, জিকির রাখতে হয়, কুরআন রাখতে হয় এই দুই জায়গায়, এখানেই আমাকে আল্লাহর দেওয়া আমানত ইলম রাখতে হয়। এই দুই জায়গায় বিষাক্ত অথবা অপ্রয়োজনীয় কোনও কথা, বিষয় বা ব্যক্তিকে আমি জায়গা দিতে পারবো না। স্যরি।
(৫) একটু ডিসিপ্লিন ভাবে নিজের খাওয়া - দাওয়া এবং রান্নাকে কন্ট্রোলে নিয়ে আসলে প্রচুর বরকত পাওয়া যায়। সারাদিন সবার রান্নার জন্য ৪৫ মিনিটের মধ্যে যেন সবকিছু হয়ে যায়, এভাবে সবকিছু গুছিয়ে রাখলে জীবনটাই গোছানো হয়ে যায়। খাওয়া দাওয়াতে ব্যালেন্স নিয়ে আসাকে প্রায়োরিটি দিতে হবে শক্ত করে। প্রোটিন, শাক-সবজি, সালাদ, ফলমূল বেশি খাওয়া— চিনি জাতীয় খাবার, চা, কার্ব- এগুলো সচেতনভাবে কম খাওয়া। আসলে এই খাদ্যাভ্যাস আমার জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে আল্লাহর অনুমতিতে! যেটা মুখ দিয়ে পেটে ঢুকাবো, অবশ্যই সেই জিনিস আমার রুহানিয়াতের উপর প্রভাব ফেলবে। সারাদিন যা যা আমি খাবো, সেই অনুযায়ী হয় আমার ইবাদাতের এনার্জি, উদ্যাগ বহুগুণে বেশি ও ভালো থাকবে - নাহলে ক্লান্তি, Sluggish জড়তা, অলসতা রয়ে যাবে! তাই ইবাদাতে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে হেলদি হালাল খাবার নিয়ামত হিসেবে খাওয়াতে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।
(৬) উপকারী বই বই বই! উপকারী লেকচার লেকচার লেকচার ! যখন দুই হাতে কিছুই করতে না পারি, তখনো একটা bluetooth হেডফোন কানে লাগিয়ে কাপড় ভাঁজ করতে করতে ভালো কোনও ইসলামিক লেকচার শুনতে থাকবেন। যত বেশি আপনার উপকারী জ্ঞানের জন্য অন্তর এবং মন উন্মুক্ত হবে, ততই আপনি দুনিয়া আখিরাতে শান্তিতে থাকার উপকরণ গুলো নিজ চোখে দেখতে পারবেন। আসলে ইলম না থাকলে, উপকারী দ্বীনের জ্ঞান না থাকলে, চোখের সামনে শান্তি পড়ে থাকলেও চোখে পড়বে না।
(৭) কুরআন, কুরআন, কুরআন। যেভাবেই পারেন, কুরআনের সাথে লেগে থাকেন। ২ ঘণ্টা পড়েন, আর ৩০ মিনিট পড়েন আর ১৫ মিনিট পড়েন আর ৫ মিনিট পড়েন -- কিন্তু পড়েন। ছেড়ে দিবেন না প্লিজ! যেভাবে পারেন, লেগে থাকেন -- অর্থটা পড়ুন প্লিজ! বুঝে পড়ুন! তিলাওয়াত শুদ্ধ করুন! তিলাওওয়াত শুনুন। অন্য কারো কুরআনের আলোচনা কানে লাগিয়ে শুনুন -- যেভাবেই হোক কুরআনের সাথে লেগে থাকুন- নাহলে কোনও শান্তি বা সমাধান এর পথ সহজে খুঁজে পাবেন না। খুঁজে পেলেও কল্যাণ থাকবে না, বারাকাহ থাকবে না, আল্লাহর ভালোবাসার উপায় জানা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
(৮) সুধারনা, সুধারনা সুধারনা! সুধারনা কাকে নিয়ে?
প্রথমত আল্লাহকে নিয়ে, দ্বিতীয়ত আমার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে, তৃতীয়ত- আমার সামনে বসে থাকা মানুষকে নিয়ে। দিন শেষে, কেউ কারো জন্য আটকে থাকে না। যার যার পথ, তাঁকেই খুঁজে নিতে হয়। নিজেকেই যেহেতু চালাতে হবে নিজের সাফল্যের পথ, সেটা পজিটিভ এনার্জি নিয়েই চলুক!
(৯) প্রিয় রসূল (সা) কে জান দিয়ে ভালোবাসতে শিখুন। তাঁর জীবনীটা খুঁটে খুঁটে পড়ুন - তাঁর জীবনের গল্পগুলো নিয়ে যত ভালো লেকচার সিরিজ আছে, সব শুনে ফেলুন। বার বার শুনেন। তাঁকে নিয়ে লেখা সবগুলো ভালো বই পড়ে ফেলুন। বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে শুনেন, পড়ুন রসূল (সা) এর জীবন-গল্প!
তখন জীবনের ধাপগুলোতে মনে হবে, আচ্ছা এই মুহুর্তে আমার সামনে যদি প্রিয় রসূল (সা) দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমি তাঁর সামনে এই কথাগুলো বলতে পারতাম? আমি তাঁর সামনে এভাবে রিএক্ট করতে পারতাম? তাঁর সাথে কিয়ামতের দিন দেখা হলে কি আমি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারবো? অসামান্য কৃতজ্ঞতা দিয়ে যে তাঁকে ভালোবাসি সেটা বলার কোনও মুখ বাকি রেখেছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে হঠাৎ করেই জীবনের সামনের অন্ধকারগুলো সরে যায় ... সমাধানগুলো ক্লিয়ার হয়ে যায় ...
সুবহানআল্লাহ! সীরাহ আমার লাইফের কত বড় হ্যাক বলে বুঝাতে পারবো না।
(১০) তাবৎ দুনিয়ার মানুষ যে জিনিসের পেছনে ছোটে, অন্যের দুই হাতে যে জিনিস, সেই জিনিসের প্রতি লোভ ছেড়ে দেয়ার একটা হাদিসের উপর আমল করলে জীবনটা খুব দারুণ হয়ে যায়।
এই হাদিসটা পুরোটাই চমৎকার এক লাইফ হ্যাক!
হাদিসটা হলো,
এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ–এর কাছে এসে বলল: “হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন— যদি আমি তা করি, আল্লাহও আমাকে ভালোবাসবেন এবং মানুষও আমাকে ভালোবাসবে।” তখন রাসূল ﷺ বললেন:
“দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত হও—আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন; আর মানুষের হাতে যা আছে (সম্পদ/দুনিয়াবি জিনিস) তার প্রতি লোভমুক্ত হও—মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে।”
( সুনান ইবন মাজাহ: ৪১০২)
সুবহানআল্লাহ! এভাবেও আল্লাহর ভালোবাসা এবং মানুষের ভালোবাসা পাশাপাশি পাওয়া সম্ভব? জি, আলহামদুলিল্লাহ এটাই আপনার চির আকাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার হ্যাক। করেই দেখুন কী হয়....
________________
|| লাইফ হ্যাকস ||
শারিন সফি অদ্রিতা
#রৌদ্রময়ী