28/08/2023
Antibiotic /এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানা প্রয়োজন :
Antibiotic কয়েক ধরনের জৈব রাসায়নিক ঔষধ যা অনুজীবদের (বিশেষকরে ব্যাক্টেরিয়া নাশ করে বা) বৃদ্ধি রোধ করে। এন্টিবায়োটিক সাধারনভাবে ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়, ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করেনা। Antibiotic প্রথমে 1927 ইংরেজিতে লন্ডনের সেন্টমেরী হাসপাতালে কর্মরত অনুজীব বিজ্ঞানী "আলেকজান্ডার ফ্লেমিং" আবিষ্কার করেন। কিন্তু মানবদেহে প্রথম ব্যবহার হয় 1941 ইংরেজিতে। অক্সফোর্ডের একজন পুলিশ কর্মকর্তা Staphyloccocus দ্বারা আক্রান্ত ছিলেন, পেনিসিলিনের প্রয়োগে তার অবস্থার নাটকীয় উন্নতি ঘটে, কিন্তু পাঁচদিন পর পেনিসিলিয়ামের সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে তিনি আবার আক্রান্ত হয়ে পরেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। এখানে উল্লেখ্য এন্টিবায়োটিক কোর্স পুরোপুরি সম্পন্ন করা জরুরী, যেমন - ৭ দিনের কোর্সে ৪ দিন খেয়ে একটু সুস্থতা বোধ করলে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করা উচিত নয়। পুরো কোর্স শেষ না করলে ভবিষ্যতে এন্টবায়োটিক আপনার দেহে আর কাজ নাও করতে পারে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার :
এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। এন্টিবায়োটিক শুধুমাত্র অনুজীবের বিরুদ্ধে কাজ করে অর্থাৎ যে সকল রোগ অনুজীবের সংক্রমণের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় সেই সব রোগ নিরাময়ে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে কোন লাভ হবে না। বরং দেহে ঐ বিশেষ এন্টিবায়োটিক রোধী ব্যাক্টেরিয়ার বিস্তার ঘটবে এবং পরবর্তীতে কোন রোগ ঐ ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা ঘটে থাকলে তখন রোগ নিরাময়ে ঐ এন্টিবায়োটিক কোন কাজে আসবেনা।
ভাইরাস ঘটিত রোগে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করা উচিত। ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিক কোন কাজে আসেনা, কারণ এন্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে, ভাইরাসের বিরুদ্ধে করেনা। যেমন আমাদের যে সাধারণ হাঁচি- কাশি জাতীয় ঠান্ডা লাগা (common cold) সেটা মূলত ভাইরাস ঘটিত। করোনাভাইরাস, রাইনোভাইরাস এজন্য দায়ী, এদের বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিক কাজ করেনা।
বর্তমানে পৃথিবীর অনেক অঞ্চলেই সাধারণ মাথা ব্যথা, পেটের ব্যথা,জ্বর, ঠান্ডা লাগা জনিত হাঁচি- কাশি ইত্যাদির জন্য এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররা এন্টিবায়োটিক খেতে দেন কিন্তু ঐ এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রোগীর শরীরের ব্যাক্টেরিয়া আগেই প্রতিরোধী হয়ে গেছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হয় না। আবার অনেক সময় রোগের প্রথমেই এন্টিবায়োটিক গ্রহনের উপদেশ দেওয়া হয় অথচ এন্টিবায়োটিক ছাড়াই ঐ রোগ নিরাময় সম্ভব ছিল। এসব কারণে এন্টিবায়োটিক রোধী ব্যাক্টেরিয়ার টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
এন্টিবায়োটিক গ্রহনে সতর্কতা :
মানব শরীরে যে পরিমাণ শ্বেত রক্তকণিকা থাকে তা রোগ প্রতিরোধে এবং সংক্রমণ তাড়াতে যথেষ্ট। এন্টিবায়োটিক সেবন করলে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াও ধবংস হয়ে যায়, যার ফলে শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে ঔষধের প্রতি নিয়মিত নির্ভরশীলতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে রোগ প্রতিরোধক কোষ ধবংসের মাধ্যমে রোগাক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এ ধরনের ঔষধ সেবনের কারণে শরীরে তৈরী হয় এই ঔষধের প্রভাব নিয়ামক উপাদান।ফলে ভবিষ্যতে মারাত্মক কোন রোগে চিকিৎসা হিসাবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক সেবন করলেও তা কোন কাজে আসবেনা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আরো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার হলো তখন অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিও অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তাই রোগের প্রথম দিকে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয় এবং যতটুকু সম্ভব এন্টিবায়োটিককে এড়িয়ে চলা উত্তম।
ডা. মোহাম্মদ জানে আলম
লাইফ কেয়ার হোমিও
চট্টগ্রাম।