04/06/2022
এপেন্ডিসাইটিস পর্ব ০২
আসসালামু আলাইকুম,,, গত পর্বে আমরা এপেন্ডিসাইটিস কি,কেন হয়,কেন গুরুত্বপূর্ণ,, কি জটিলতা হতে পারে ইত্যাদি নিয়ে বলেছি। এই পর্বে আমরা রোগের উপসর্গ, রোগ নির্নয়,, চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করবো।
উপসর্গ কি কি?
★ মাঝপেটে অথবা নাভীর চারপাশে ব্যাথা অনুভব হওয়া( central or peri umbilical pain)
★ কিছু সময় পর ব্যাথাটা পেটের ডান দিকের নিচের অংশে বেশি অনুভব হওয়া মনে হবে যেন ব্যাথাটা ডান পাশে সরে আসছে( pain shifted to the rt. Illiac fossa)
★ হালকা বমি হওয়া( few episode of vomiting)
★ বমি বমি ভাব হওয়া( nausea)
★ ক্ষুদা মন্দা( anorexia)
★ হালকা জ্বর(fever),, ইত্যাদি।
এই উপসর্গ গুলি বিশেষ করে ব্যাথা,, জ্বর,,বমি বেশি হতে পারে যদি প্রদাহের( inflammation) এর মাত্রা বেশি হয় অথবা রোগের জটিলতা বৃদ্ধি পেলে।
এখানে আরেকটি কথা খুবই প্রাসঙ্গিক যে উপরে যে লক্ষন গুলি বলা হয়েছে সেগুলি রোগের ক্ল্যাসিক্যাল প্রেজেন্টেশন। সব উপসর্গ গুলি সব সময় থাকবে বা একই রকম হবে তা নয়,,,রোগী ভেদে উপসর্গ যেমন ভিন্ন হতে পারে তেমনি তীব্রতা ও কম বেশি হতে পারে।
এর পাশাপাশি প্রসাব(urine) এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের(menstruation) এর ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। আপনার চিকিৎসক আপনার কাছ থেকে এইগুলি জানতে চাইবে।
রোগ নির্নয়ের উপায়????
এই অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,,,, কারন এপেন্ডিসাইটিস এমন একটি রোগ যা বেশিরভাগ সময় চিকিৎসক রোগীর গায়ে হাত দিয়ে পরীক্ষা করে (clinical examination) নির্নয় করে থাকেন।শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা এইখানে ইনভেস্টিগেশন এর চেয়ে বেশি ভুমিকা রাখে।তবুও কিছু সাপোর্টিভ তথ্য পাওয়ার জন্য কিংবা অন্য রোগের সম্ভাবনা বাতিল করার জন্য সাধারণত কিছু ইনভেস্টিগেশন করানো হয়।যেমনঃ
★ CBC
★ urine r/e
★ X-ray KUB
★ USG
আমাদের সমাজে একটা ধারনা প্রচলিত আছে আল্ট্রাসনো করলে এপেন্ডিসাইটিস পাওয়া গেলেই শুধুমাত্র এপেন্ডিসাইটিস বলা যাবে তা না হলে এপেন্ডিসাইটিস না।।।এই ধারনা একেবারেই ভুল,,,বরঞ্চ আল্ট্রাসনোতে এপেন্ডিসাইটিস ধরতে না পারাটাই স্বাভাবিক।।। খুব ভালো আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন এবং দক্ষ সনোলজিস্ট না হলে আল্ট্রাসনোতে এপেন্ডিসাইটিস ধরতে পারা খুব কঠিন।।।।
আমরা সার্জনরা আল্ট্রাসনো করতে দেই সাধারণত অন্য সম্ভাবনা গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য।।।
আল্ট্রাসনো তে ধরা না পড়লে চিকিৎসক এর মতামত এর উপর নির্ভর করুন,,,কখনোই এপেন্ডিসাইটিস নাই ধরে নিয়ে অবহেলা করবেন না।
চিকিৎসা কি???
এখন পর্যন্ত এপেন্ডিসাইটিস এর একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন,অপারেশন, অপারেশন।।।।।
যা দুই ভাবে করা যায়
★ ওপেন (কথ্য ভাষায় যাকে বলে পেট কেটে অপারেশন)
★ ল্যাপারোস্কপিক( কথ্য ভাষায় মেশিনের মাধমে অপারেশন)
অনেকেই বলে থাকেন ল্যাপারোস্কপিক সার্জারীতে অনেক সময় আবার পেট কাটা লাগে,, তাহলে কেন ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন করাবো?
হ্যা,, কথা যে একেবারে ভুল তা নয়,, এটাকে আমরা বলি conversion( কনভারশন)। তবে এটি প্রয়োজন হয় খুব খুব কম ক্ষেত্রে।।।।ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন এর সুবিধার তুলনায় যা খুবই নগন্য অসুবিধা।
ল্যাপারোস্কপিক অপারেশন এর সুবিধা কি??
★ অপারেশন পরবর্তী ব্যাথা খুব সামান্য।
★ অপারেশন পরবর্তী ইনফেকশনের সম্ভাবনা একেবারেই কম।
★ অপারেশন পরবর্তী দাগ হয়না বললেই চলে।
★ হসপিটালে থাকতে হয় কম সময়
★ তাড়াতাড়ি কাজে যোগদান করা যায়।
★ অপারেশন পরবর্তী জটিলতার সম্ভাবনা কম।ইত্যাদি।
মেডিসিন(ওষুধ) দিয়ে চিকিৎসা করা যায় কি???
এটি যে একেবারে অসম্ভব বা করা হচ্ছে না তা বলছি না,,,কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের বেশিরভাগ এর আবার এপেন্ডিসাইটিস হয়,,,এবং মনে রাখবেন এপেন্ডিসাইটিস এর ব্যাথা যত বার হবে অপারেশন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী জটিলতার সম্ভাবনা তত বেশি হবে।।।।তাই অপারেশন এবং জটিলতার তুলনা করলে বেশিরভাগ চিকিৎসক এর মতে প্রথম বার অপারেশন করে ফেলাটাই সবচেয়ে ভালো।।।
প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এপেন্ডিসাইটিস খুব বেশি জটিল রোগ নয় কিংবা অপারেশন ও অত জটিল নয়,,,তাই ব্যাথার ওষুধ খেয়ে ব্যাথা কমানোর চেষ্টা করবেন না,,,এতে আপনার জটিলতার সম্ভাবনা বাড়তেই থাকবেই।।
সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই আপনাকে দেবে সঠিক চিকিৎসা।।। তাই আর নয় অবহেলা।।।।।
# # কারো প্ররোচনায় চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না,,,আপনার চিকিৎসক এর সাথে পরামর্শ করুন,, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
# # ছোট/বড়,অল্প/বেশি,সামান্য/অসামান্য সব ধরনের উপসর্গ কেই গুরুত্ব দিন,,কারন আপনি জানেন না কোন উপসর্গের আড়ালে কোন রোগ লুকিয়ে আছে।