01/10/2023
স্টিভেন জনসন সিনড্রোম( ড্রাগ রিয়াকশন) মারাত্মক বিরল একটি রোগ, যেকোন ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রতি ২ থেকে ৫ লাখ রোগীর একজনের এটা হতে পারে, এটা একটা ভয়ংকর রোগ, শরীরের বিভিন্ন অংশ এতে এতটাই ক্ষতিগ্রস্হ হয় যে অনেক ক্ষেত্রে রোগী মারাও যায়, তখন এটা প্রত্যেক ডাক্তারের জন্য ভয়ের একটা কারন হয়ে দাঁড়ায়, এ রোগ যে রোগীর হয় তার যেমন ভাগ্য খারাপ তেমনি যে ডাক্তারের ঔষধে হয় তারও ভাগ্য খারাপ, রোগীকে নিয়ে তার পরিবারের যে কি অবস্হা হয় তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না, আবার যে ডাক্তারের ঔষধের কারনে রোগীর এ অবস্থা হলো তার ও কিন্তু রেহাই নাই, তার বিরুদ্ধে গণপিটুনি থেকে শুরু করে হামলা মামলা প্রত্রিকায় লেখালেখি কোন কিছুই বাদ যায় না।
এবার আসি কেন এই রোগ হয়? কিভাবে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়?
জন্মগতভাবে আমাদের শরীরে কিছু জেনেটিক ব্যপার কাজ করে, কিছু মানুষ কিছু নির্দিষ্ট ঔষধের উপাদানের প্রতি বা কিছু খাবারের প্রতি অতিরিক্ত সেনসেটিভ এবং যখনই সে ঐসব ঔষধ বা খাবার(চিংড়ি, কাকরা,বেগুন,ইলিশ, ঢেঁড়শ,আনারস ইত্যাদি) সেবন করে সাথে সাথে তার কিছু এলার্জিক রিয়াকশন দেখা দেয় যেমন চুলকানি,সারা শরীরে ঘামাচির মতো দানা, ঠোঁট চোখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি, যে ঔষধে বা খাবারে এ রিয়াকশন দেখা দেয় নিয়ম হচ্ছে সাথে সাথে সেটা নেওয়া বন্ধ করে দিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া কারন তৎক্ষনাৎ যদি তা না করে আবার খাওয়ানো হয় তখন এই রিয়াকশন ভয়াবহ আকার ধারন করে, অনেক সময় রক্ত ক্ষরন সহ হার্ট, কিডনি, ফুসফুস বিকল হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।
এবার বলি এতে ডাক্তারের কোন দোষ আছে কিনা?
বলতে গেলে তখন সবাই সব দোষ ডাক্তারের ঘাড়ে চেপে দিলেও আসলে তাতে ডাক্তারের তেমন দোষ বা হাত থাকে না, ডাক্তার যদি কোন রোগীর কোন ঔষধে কি রিয়াকশন হতে পারে তা আগে জানতে চায় তাহলে প্রতিটা ঔষধ লেখার আগে তাকে ঐ ঔষধের জেনেটিক টেস্ট করে কনফার্ম করে লিখতে হবে, যা আমাদের দেশে হয় না বা সম্ভব না, এমনকি উন্নত দেশগুলোতেও তা করা হয় না। তারপরও যেসব ঔষধে পার্শপ্রতিক্রিয়া বেশি হয় ডাক্তাররা সেগুলো অনেক চিন্তাভাবনা করেই প্রেসক্রাইব করে কারন এক একটা ঔষধের জেনেটিক টেস্ট করতে ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। যেহেতু ২ থেকে ৫ লাখে একজনের এ সমস্যা হয়, তার মানে প্রতি একজনকে এ রোগ থেকে বাঁচানোর জন্য ৫ লাখের জেনেটিক টেস্ট করতে হবে। তা কখনোই সম্ভব না।
তাই কোন ঔষধে পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সাথে সাথে তা বন্ধ করে আপনার ডাক্তার বা পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। কিছু হলেই নিজে নিজে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করুন। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুক এবং সকল ডাক্তার কে এই ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার তওফিক দান করুক, আমিন।