
19/07/2025
হঠাৎ করে কেউ নিজে নিজে "মেয়ে থেকে ছেলে" বা "ছেলে থেকে মেয়ে" হয়ে যাচ্ছে — এমন ঘটনা সাধারণভাবে বাস্তব জীবনে শারীরিকভাবে ঘটে না। তবে কিছু জটিল বৈজ্ঞানিক, জিনগত ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে, যেগুলোর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো।
🧬 বৈজ্ঞানিকভাবে মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ:
1. ⚙️ Disorders of S*x Development (DSD):
এগুলো এমন একটি শ্রেণির জিনগত ও হরমোনজনিত রোগ, যেখানে কোনো ব্যক্তির জিন, হরমোন এবং বাহ্যিক যৌন অঙ্গের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকে।
🔹 উদাহরণ:
Androgen Insensitivity Syndrome (AIS) – যাদের XY (ছেলের) ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু শরীর এন্ড্রোজেন হরমোনের প্রতি প্রতিক্রিয়া করে না, তারা বাহ্যিকভাবে মেয়ের মতো দেখতে হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় তারা জেনেটিকালি ছেলে।
2. 🌡️ Congenital Adrenal Hyperplasia (CAH):
এটি একটি জন্মগত হরমোনজনিত সমস্যা যেখানে শরীর অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করে।
যদি কোনো শিশু XX (মেয়ের) জিন নিয়ে জন্মায় কিন্তু শরীরে অস্বাভাবিকভাবে বেশি পুরুষ হরমোন থাকে, তাহলে বাহ্যিক যৌন অঙ্গ পুরুষসদৃশ হয়ে উঠতে পারে।
🧪 এমন ক্ষেত্রে জন্মের সময় তাকে মেয়ে মনে হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদের মত শারীরিক গঠন দেখা দিতে পারে।
3. 🔄 S*x Reversal Syndromes:
কখনো-কখনো XY জেনোটাইপ থাকা সত্ত্বেও কেউ নারী হিসেবে জন্মায় (উদা: Swyer Syndrome), আবার XX জেনোটাইপ থাকা সত্ত্বেও পুরুষ বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে (উদা: XX male syndrome)। এগুলো জিনগত রদবদলের ফল।
🧠 মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন (Gender Dysphoria):
অনেকে জন্মগতভাবে একজন লিঙ্গে থাকলেও মানসিকভাবে অন্য লিঙ্গের মতো অনুভব করে।
একে জেন্ডার ডিসফোরিয়া বলা হয়। এটা শারীরিক পরিবর্তন নয়, বরং মানসিক এবং আত্মপরিচয়ের পরিবর্তন।
❌ যা হয় না:
কোনো সুস্থ মেয়ে হঠাৎ করে ছেলে হয়ে যাবে এমনটি শারীরিকভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে হয় না।
যদি শরীরে হঠাৎ করে পরিবর্তন দেখা যায় (যেমন: গলার আওয়াজ বদলে যাওয়া, চেহারায় লোম গজানো), তাহলে সেটি সাধারণত হরমোনের ব্যাঘাত বা টিউমারজনিত সমস্যা।
🏥 করণীয়:
হরমোন পরীক্ষা, কেরিওটাইপ (Chromosome Test), এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়।
এসব সমস্যার চিকিৎসা করতে হলে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা জেনেটিক বিশেষজ্ঞ-এর পরামর্শ জরুরি।