21/11/2025
শিশুর গলায় ছোট ছোট গুটি দেখলে বাবা–মায়ের দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে যা জানা দরকার, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সার্ভিকাল লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি – মানে ঘাড়ের লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, এবং এর মূল কারণ সাধারণ সংক্রমণ। এখন বিষয়টা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করি।
লিম্ফ নোড আসলে শরীরের পাহারাদার। কোন জীবাণু আক্রমণ করলে এরা ফুলে ওঠে, কারণ ভেতরে রোগ প্রতিরোধের লড়াই চলছে। তাই সামান্য infection–এ গলায় গুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
এবার কারণগুলো সহজভাবে দেখি।
সবচেয়ে সাধারণ কারণ ভাইরাল সংক্রমণ। সর্দি–কাশি, ফ্লু, হাম–রুবেলা, চিকেনপক্স, EBV বা CMV সবই লিম্ফ নোড ফুলিয়ে দিতে পারে। ভাইরাল ইনফেকশনে গুটি সাধারণত নরম থাকে, একটু নড়াচড়া করে, আর ব্যথা কমবেশি থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নোড কয়েক সপ্তাহে নিজে থেকেই ছোট হয়ে যায়।
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণেও একই ঘটনা হতে পারে। স্ট্রেপ থ্রোট, টনসিলাইটিস, কানের ইনফেকশন, ত্বকের ইনফেকশন, দাঁত বা মাড়ির সমস্যা—এসব কারণে ঘাড়ের নোড ফুলে উঠতে পারে। এগুলো সাধারণত বেশি ব্যথা দেয় এবং শিশুর জ্বর থাকতে পারে। ঠিকমতো চিকিৎসা পেলে গুটি কমে আসে।
আরো কিছু কমন কারণ আছে। বিড়ালের আঁচড়ের পর Bartonella নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে নোড ফুলে থাকে। আবার TB–তেও ঘাড়ের নোড বড় হয়, কিন্তু এটি তুলনামূলক কম দেখা যায়। খুব কম ক্ষেত্রে অটোইমিউন রোগ বা রক্তের ক্যান্সারের মতো জটিল সমস্যায়ও নোড বড় হতে পারে, কিন্তু এগুলো বিরল।
এখন প্রশ্ন হলো—কখন চিন্তা করবেন, কখনই বা দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে?
যদি গুটিটা ২ সেন্টিমিটারের বেশি বড় হয়, খুব শক্ত লাগে বা নড়াচড়া না করে, তাহলে একটা চেকআপ দরকার। যদি গুটির উপরিভাগ লাল হয়ে যায়, স্পর্শে ব্যথা বাড়ে, বা পুঁজ হওয়ার মতো মনে হয়—এটাও সতর্ক হওয়ার বিষয়। তিন–চার সপ্তাহ কেটে গেলেও যদি গুটি কমে না আসে বা বরং বাড়ে, তখন দেরি করবেন না।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিগনাল আছে। শিশুর বারবার জ্বর, রাতে ঘাম, ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি—এগুলো থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। আর গুটি যদি কলার বোনের উপর (supraclavicular area) দেখা যায়, সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
সংক্ষেপে বললে, গলা বা ঘাড়ে গুটি দেখা মানেই বড় সমস্যা নয়। অধিকাংশ সময় কারণ সাধারণ সংক্রমণ আর কয়েক সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যায়। তবুও যেসব লক্ষণ বললাম, সেগুলো দেখলে দ্রুত মূল্যায়ন করালে ভালো।
Dr.Tanvir Ahmed