29/05/2020
সুস্থ দাঁত ও হাড় গঠনে ভিটামিন ডি এর গুরুত্ব:
মানুষের দাঁত এবং হাড় এর অন্যতম প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস। এই উপাদানের ঘাটতির কারণে হয়ে উঠতে পারে দুর্বল দাঁতের গঠন। মানুষের দেহের ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন ডি এর অভাবে মানুষের দেহের দাঁত এবং হাড় এর অনেক সমস্যা দেখা যায়। শিশুদের দাঁতের গঠন শুরু হয় মায়ের পেটে থাকা অবস্থা থেকে। শিশুর বয়স যখন ৪-৬ সপ্তাহ (মায়ের পেটে) তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় দাঁত তৈরী হওয়া। প্রথমে দুধ দাঁত, তারপরে স্থায়ী দাঁত এবং সবার শেষে আক্কেল দাঁত- এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে অনেক বৎসর। তাই সুস্থ দাঁত ও হাড় গঠনে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিনের ডি এর উপস্থিতি অত্যাবশক।
ভিটামিন ডি এর অভাবে কি হয়:
ভিটামিন ডি এর অভাবে শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে দাঁত এবং হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত পরিমান ভিটামিন ডি এর প্রভাব দাঁতের উপরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের দুর্বল দাঁতের কারণে খুব দ্রুত দন্তক্ষয় দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যার ফলে খুব দ্রুত দাঁত সম্পূর্ণ ক্ষয় হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ব্যথা, মাড়ির ইনফেকশন, অসময়ে দাঁত পড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতার সৃস্টি হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁতেও বিভিন্ন লক্ষণ- দন্তক্ষয়, দাঁত নড়ে যাওয়া, ভেঙে ভেঙে পড়াসহ অন্যান্য উপসর্গও দেখা যায়।
কি করে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি এর পর্যাপ্ত চাহিদা পূরণ করতে পারি:
ভিটামিন ডি মানুষের দেহের বিকাশ ও বৃদ্ধির একটি অন্যতম উপাদান যা দেহে উৎপন্ন হয়। এজন্য সূর্যরশ্মির উপস্থিতি আবশ্যক। যখন শরীর সূর্যরশ্মির নিকটে আসে তখন ত্বক সূর্যরশ্মি শোষণ করে নেয় যা ভিটামিন ডি উৎপাদনে সহায়তা করে। সকালের সূর্যরশ্মি খুবই উপকারী পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি তৈরী হওয়ার জন্য। এজন্য শিশুদের অবশ্যই অল্প সময়ের জন্য হলে ও প্রতিদিন সূর্যরশ্মির নিচে অবস্থান করানো জরুরি। এছাড়াও সকালের সূর্যরশ্মি দেহের অন্যান্য উপাদান বিকাশে ও সাহায্য করে।
আমরা বিভিন্ন রকমের খাদ্য থেকেও ভিটামিন ডি পেয়ে থাকি যেমন- সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম ইত্যাদি। নিম্নোক্ত ভিটামিন ডি সম্পূর্ণ খাদ্যতালিকার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেয়া হলো-
১. সামুদ্রিক মাছ- টুনা, কোরাল, স্যালমন ইত্যাদি
২. মাছের ডিম্
৩. ডিমের কুসুম
৪. দুধ
৫. দুগ্ধজাত সামগ্রী- মাখন, চিজ, দই
৬. মাশরুম
৭. প্রক্রিয়াজাত কমলার জুস
৮. সিরিয়াল ইত্যাদি
এসকল খাদ্যতালিকার মধ্যে কমপক্ষে একটি উপাদান প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা প্রয়োজনীয়। এছাড়াও বিভিন্ন ভিটামিন ডি সম্পূর্ণ ঔষধ রয়েছে যা শুধু মাত্র ডাক্তারের পরামর্শের মাদ্ধমেই খাওয়া যেতে পারে।
উপসংহার :
বিভিন্ন গবেষণায় এটি স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে ভিটামিন ডি এর অভাবে দাঁতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকে। ভিটামিন ডি অসম্পূর্ণ মানুষের দাঁত ও হাড় ভিটামিন ডি সম্পূর্ণ মানুষের দাঁত ও হাড় থেকে অনেকাংশে দুর্বল হয়ে থাকে। সচেতনতা এবং পর্যাপ্ত পরিমানে পুষ্টিকর আহার দিতে পারে শক্তিশালী দাঁত এবং সুস্থ মাড়ি।
আপনার শিশুকে প্রতি ৬ মাস পর পর দন্তচিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করান, দন্তক্ষয় রোধ করুন।
Dentist Rana Sen
Dentistry...