Gulf Duck Farm & Hatchery

Gulf Duck Farm & Hatchery Eat Organic Egg & Meat Safe Health

Livestock production using natural sources of nutrients and natural methods of crop and weed control, instead of using synthetic or inorganic agrochemicals.

08/11/2016

পানি ছাড়া খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস পালন!

অদ্ভুত এক জলচর পাখি হাঁস, পৃথিবীর সব হাঁস এসেছে বুনোপাখি ম্যালরড থেকে, আর পৃথিবীর সব উন্নত জাতের হাঁসের সৃষ্টি হয়েছে এশিয়ার জল জাঙ্গালের বুনোহাঁস থেকেই। হাঁসের চামড়ার নিচে আছে চর্বির একটা চাদর এজন্য এদের শরীরে পানি বসে না।

আমাদের দেশে লেয়ার মুরগির তুলনায় ডিমপাড়া হাঁসের খামার খুবই কম। বাজারে হাঁসের ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনেকেই খামারের মুরগির ডিম খেতে কম পছন্দ করেন, কারণ- কখনো কখনো লেয়ার খামারে এন্টিবায়টিকসহ বিভিন্নি প্রকার ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার হয়ে থাকে। যেহেতু হাঁসের রোগবালাই খুব কম, সে কারণে হাঁসের খামারে তেমন কোন ওষুধের প্রয়োজন হয় না। হাঁসের ডিম আকারে বড়, খাদ্যমান উন্নত ও খুবই পুষ্টিকর।

হাওর, বিল, নদী এলাকায় হাঁসের খামারে অতিরিক্ত খাদ্য পর্যাপ্ত লাগে না। হাঁস একেবারে প্রাকৃতিক পানি থেকেই মাছ, ঝিনুক, শামুক, পোকামাকড়, জলজউদ্ভিদ ইত্যাদি খেয়ে থাকে তাই তৈরি খাদ্যের প্রয়োজন বেশ কম। পুকুরে হাঁস চাষ করলে সার ও মাছের খাদ্য ছাড়াই মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।

হাঁসের খামার বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারিভাবে আরো জোড়াল উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের সর্বত্র চাষিরা যাতে হাতের কাছে খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের বাচ্চা পেতে পারে সে ব্যবস্থা করা জরুরি। দেশে মুরগির তুলনায় হাঁসের হ্যাচারির সংখ্যা খুব কম থাকায় চাষিরা সময়মতো হাঁসের বাচ্চা পায় না। এতে করে দেশের অনেক জলভূমির পানিজাতীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

শুধু মুরগির ডিমের ওপর নির্ভরতার কারণে মুরগির ডিমের দাম বেড়ে যায়, তাছাড়াও লেয়ার মুরগি পালনে রোগবালাইসহ নানা রকম দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। বেকারত্ব ও দারিদ্র্যবিমোচনে হাঁসের খামারের গুরুত্ব অপরিসীম।

খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের সুবিধা

১. বছরে ২৮০-৩০০টি ডিম দেয়। ২-৩ বছর বয়স পর্যন্ত ডিম দেয়, সেখানে লেয়ার মুরগি ডিম দেয় দেড় বছর পর্যন্ত।
২. সবাই হাঁসের ডিম খেতে পছন্দ করেন।
৩. হাঁসের বাচ্চার দাম খুব কম ১২ টাকা সেখানে মুরগির বাচ্ছার দাম ৬০-৬৫ টাকা।
৪. হাঁসের ডিমের সাইজ বড়।
৫. ১ হাজার মুরগির চেয়ে ১ হাজার হাঁস পালন করলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে।
৬. ডিম উৎপাদন কমে গেলে ৩ বছর পর হাঁসগুলো মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করা যাবে। হাঁসের মাংস মুরগির চেয়ে সুস্বাদু।
৭. মুরগি সব দিন ধরে ডিম দেয় কিন্তু হাঁস সকাল ৯টার মধ্যে ডিম পাড়া শেষ করে। ফলে নজরদারির খরচ কম লাগে।
৮. খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস ১৭-১৮ সপ্তাহ বয়সেই ডিম দেয়।
৯. নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ফেনী সরকারি হাঁস প্রজনন খামার থেকে ১ দিনের বাচ্চা সংগ্রহ করা যাবে।

খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের বৈশিষ্ট্য

উৎপত্তি : ইংল্যান্ডে, পালকের রঙ খাকি, মাথা এবং ঘাড় ব্রোঞ্জ রঙের, দেহের আকার মাঝারি- ১.৫-২ কেজি, পা এবং পায়ের পাতায় রঙ হাঁসার হলুদ, হাঁসীর কালো। ঠোটের রঙ হাঁসা নীলাভ, হাঁসী কালো, ডিম দেয় ২৫০-২৭০টি বছরে।

হাঁসের বাসস্থান

মুরগির মতো ততো ভালো বাসস্থান না হলেও চলে। আলো বায়ু চলাচল ভালো থাকতে হবে। বয়স্ক হাঁসপ্রতি জায়গা লাগবে ২-৩ বর্গফুট। উঠতি হাঁসা-হাঁসীর জন্য ১ বর্গফুট জায়গাই যথেষ্ট। বন্য জন্তু বিশেষ করে শেয়ালের হাত থেকে রৰার ব্যবস্থা করতে হবে। থাকার জায়গায় মুরগির লিটারের মতো বিচুলি, তুষ, কাঠের গুঁড়া বিছিয়ে দিতে হবে, এতে আরামে থাকবে পাখিগুলো, ডিম গড়িয়ে যাবে না, ভাঙবে না।

ঘর পূর্ব-পশ্চিম লম্বা করতে হবে। বাণিজ্যিক খামারের ৰেত্রে ঘরের প্রস্থ ১৮-২০ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য হাঁসের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করতে হবে। ঘর দেশি সামগ্রী – বাঁশ, টিন, ছন, খড় প্রভৃতি দিয়ে তৈরি করা যায়। ঘরের তাপমাত্রা ৫৫-৭৫% ও আর্দ্রতা ৩০-৭০% হাঁসের জন্য অনুকূল। লেয়ার হাঁসের জন্য ১৪-১৬ ঘণ্টা আলো দরকার। ৩০০ বর্গফুট স্থানের জন্য ১টি ৬০ওয়াটের বাল্ব দরকার। ঘরের চারপাশে তারের জাল দ্বারা ঘিরে দিতে হবে।

পানি ছাড়া হাঁস পালন

মানুষের খুব একটা ভুল ধারণা আছে হাঁস পালনে পানি লাগে। প্রজননের জন্য হাঁস পুষলে পানি অবশ্যই দরকার। যে কোনো অগভীর ডোবা বা ট্যাংক, গভীরতা যার ৯ ইঞ্চি আয়তন ৫। এ ধরনের মাপে ১০টি হাঁস অনায়াসে পালন চলবে। শুধু ডিমের জন্য হাঁস পালন করলে মুরগির মতো ‘ডিপলিটার’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ মেঝেতে ৩ ইঞ্চির মতো শুকনো কাঠের গুঁড়া, তুষ বিছিয়ে হাঁস পালন চলবে। এভাবে পালন করলে মুরগির মতো হাঁসকেও সেই সুষম খাদ্য দিতে হবে।

বাচ্চা ব্রুডিং

হাঁসের বাচ্চা ৩ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ব্র্বডিংয়ের জন্য ব্রুডার ব্যবস্থা করতে হয়। ব্রুডার -কাম গ্রোয়ার হাউসে হোভায়ের সঙ্গে ১০০ ওয়াটের ৩/৪টি বাল্ব সংযোজন করে তাপ উৎপাদন করা হয়। ৪ দিন বয়স পর্যন্ত ব্র্বডারে কাগজের ওপর খাদ্য দিতে হবে।

ব্রুডারের তাপমাত্রা

প্রতি লিটার পানিতে ৮০ গ্রাম গৱুকোজ ৪ গ্রাম ভিটামিন সি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত হাঁসের বাচ

https://web.facebook.com/biotechduckfarm/যারা খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের খামার করতে চান তারা খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের বাচ্চারর...
04/11/2016

https://web.facebook.com/biotechduckfarm/

যারা খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের খামার করতে চান তারা খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের বাচ্চারর জন্য যোগাযোগ করুন নিচের ফোন নং এ।
০১৯১৪৬৫৫৪১০
পরিবহনের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়।

https://web.facebook.com/biotechduckfarm/
20/10/2016

https://web.facebook.com/biotechduckfarm/

#ছাগল-ভেড়ার আমিষ জাতীয় খাদ্যের বিকল্প হিসাবে এ্যালজির (শেওলা) ব্যবহার:

ছাগল-ভেড়া পালনের ক্ষেত্রে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৭০-৭৫ ভাগ হলো খাদ্য খরচ। সুতরাং ছাগল-ভেড়া পালনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো খাদ্য সরবরাহ। আমরা জানি ছাগল-ভেড়ার প্রধান খাদ্য হলো ঘাস । রাস্তার ধার, জমির আইল, পুকুরপাড় সহ আমাদের দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি এখন মানুষের খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহাৃত হচ্ছে। ফলে ঘাষ জন্মানোর মতো কোন পতিত জমি আর অবশিষ্ট থাকে না। তাছাড়া কোন আবাদি জমি দুই ফসলের মধ্যবর্তী সময়ে এখন ফসলবিহীন পড়ে থাকে না। প্রচলিত বিভিন্ন পশু খাদ্য উপাদান যেমন-খৈল, দানাশস্য ইত্যাদির উৎসের উৎপাদন কমে গেছে। এমন বহুমুখী কারনে পশু খাদ্যের প্রাপ্তির পরিমান প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। এমতবস্থায় বিভিন্ন পুষ্টি সমৃদ্ধ অপ্রচলিত খাদ্যের সন্ধান এবং ব্যবহার বাড়াতে হবে। এই ধরনের খাদ্য খাওয়ানোকে আমরা alternative feeding বা বিকল্প খাদ্য সরবরাহ পদ্ধতি”বলতে পারি। এমন একটি alternative feed হলো এ্যাজোলা। ছাগল-ভেড়ার জন্য প্রচলিত খাদ্যের একটি পুষ্টিকর ও ভালো বিকল্প হতে পারে এ্যাজোলা।

এ্যালজি কিঃ
এ্যালজি এক ধরনের উদ্ভিদ আকারে এক কোষী থেকে বহুকোষী বিশাল বৃক্ষের মত হতে পারে। তবে আমরা এখানে দুটি বিশেষ প্রজাতির এক কোষী এ্যালজির কথা উল্লেখ করবো যা ছাগল ভেড়ার খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এদের নাম হলো ক্লোরেলা এবং সিনেডসমাস। এরা সূর্যালোক, পানিতে দ্রবীভুত অক্সিজেন, কার্বন ডাই- অক্সাই্ড ও জৈব নাইট্রোজেন আহরণ করে সালোকসংশ্লেন প্রক্রিয়ার বেচে থাকে। এরা অত্যন্ত দ্রূত বর্ধনশীল বিশেষ বিশেষ করে বাংলাদেশের মত উষ্ণ জলবায়ুতে।এদেশে পুকুর, ডোবা এবং বিভিন্ন জলাধারে এ্যাজোলা দেখতে পাওয়া যায়। পশুর খাদ্য হিসাবে আমাদের দেশে এ্যাজোলার প্রচলন নেই বা থাকলেও উল্লেখ করার মতো নয়। তাছাড়া এ বিষয়ে আমাদের ধারনাও কম। আমদের পাশের দেশ ভারতে পশুর বিকল্প খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলার ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদের দেশে কোন কোন এনজিও পশুর খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলা ব্যবহারের বিষয়ে কাজ করছে।

এ্যালজির পুষ্টিমানঃ
এ্যালজির অত্যন্ত সম্ভাবনাময় পুষ্টিকর খাদ্য যা বিভিন্ন ধরনের আমিষ জাতীয় খাদ্য যেমন-খৈল, শুটকি মাছের গুড়া ইত্যাদির বিকল্প হিসাবে ব্যবহার হতে পারে। শুষ্ক এ্যালজিতে শতকরা ৫০-৭০ ভাগ আমিষ বা প্রোটিন, ২০-২২ ভাগ চর্বি এবং ৮-২৬ ভাগ শর্করা থাকে। এছাড়াও এ্যালজিতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন ধরনের বি ভিটামিন থাকে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারের সাথে এ্যাজোলা খাওয়ানোর ফলে ছাগল-ভেড়ার দুধ, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। প্রচলিত স্বাভাবিক খাবারের সাথে এ্যাজোলা খাওয়ানো যেতে পারে এর ফলে খাদ্য খরচ অনেক কমে যাবে। তাছাড়া প্রচলিত খাদ্যের তুলনায় এ্যাজোলার পুষ্টিমান তুলনা করে দেখা যায় যে এ্যজোলার পুষ্টিমান ভালো ।

এ্যালজির চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
এ্যালজির বীজ, কৃত্রিম অগভীর পুকুর পরিস্কার স্বচ্ছ কলের পানি, মাসকলাই বা অন্যান্য ডালে ভুষি এবং ইউরিয়া।

এ্যালজির উৎপাদন পদ্ধতিঃ
প্রথমে সমতল, ছায়াযুক্ত জায়গায় একটি কৃত্রিম পুকুর তৈরী করতে হবে। পুকুরটি লম্বায় ১০ ফুট, চওড়ায় ৪ ফুট এবং গভীরতায় ১ ফুট হতে পারে। পুকুরের পাড় ইট বা মাটি তৈরী হতে পারে।

এবার ১১ ফুট লম্বা, ৫ ফুট চওড়া একটি স্বচ্ছ পলিথিন বিছিয়ে কৃত্রিম পুকুরের তলা ও পাড় ঢেকে দিতে হবে। তবে পুকুরের আয়তন প্রয়োজন অনুসারে ছোট বা বড় হতে পারে। তাছাড়া মাটির বা সিমেন্টের চাড়িতে এ্যালজি চাষ করা যায়।

১০০ গ্রাম মাসকালাই (বা অন্য ডালের) ভূষিকে ১ লিটার পানিতে সারারাত ভিজিয়ে কাপড় দিয়ে ছেঁকে পানিটুকু সংগ্রহ করতে হবে। একই ভূষিকে অন্তত তিনবার ব্যবহার করা যায়, যা পরবর্তীতে গরুকে খাওয়োনো যায়।

এবার কৃত্রিম পুকুরে ২০০ লিটার পরিমান কলের পরিস্কার পানি, ১৫-২০ লিটার পরিমান এ্যালজির বীজ, যা এ্যলজির ঘনত্বের উপর নির্ভর করে এবং মাসকালাই ভূষি ভেজানো পানি নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ২-৩ গ্রাম পরিমান ইউরিয়া নিয়ে উক্ত পুকুরের পানিতে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

এরপর প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকাল কমপক্ষে তিনবার উক্ত এ্যালজির কালচারকে নেড়ে দিতে হয়। পানির ১-২ গ্রাম পরিমান ইউরিয়া ছিটালে ফলন ভাল হয়।

এভাবে উৎপাদনের ১২-১৫ দিনের মধ্যে এ্যালজির পানি ছাগলকে খাওয়ানোর উপযুক্ত হয়। এসময় এ্যালজি পানির রং গাঢ় সবুজ বণের্র হয়। এ্যালজির পানি সংগ্রহ করে সরাসরি ছাগলকে খাওয়ানো যায়।

একটি পুকুরের এ্যালজির পানি খা্ওয়ানো পর উক্ত পুকুরে আগের নিয়ম অনুযায়ী পরিমান মত পানিম সার এবং মাসকালাই ভূষি ভেজানো পনি দিয়ে নতুন করে এ্যালজি কালচার শুরু করা যায়, এ সময় নতুন করে এ্যালজি বীজ দিতে হয় না।

যখন এ্যালজি পুকুরে পানির রং স্বাভাবিক গাঢ় সবুজ রং থেকে বাদামী রং হয়ে যায়। বুঝতে হবে যে উক্ত কালচারটি কোন কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে নতুন করে কালচার শুর করতে হব। এ কারণে এ্যালজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত সাধানতা করা উচিত।

সাবধানতাঃ
এ্যালজির পুকুরটি সরাসরি সূর্যালোকের নিচে না করে ছায়যুক্ত স্থানে করা উচিত। কারণ অতি আলোকে এ্যালজি কোষের মৃত্যু হয়।

কখনোই মাসকালই ভূষি ভেজানো পানি বর্ণিত পরিমানের চেয়ে বেশী দেয়া উচিত নয়, এতেও এ্যালজি কোষ মারা যেতে পারে।

এ্যালজি পুকুরের পানিকে না দিলে কোষের উপর কোষ থিতিয়ে কালচারটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

যদি কখনো এ্যালজি পুকুরের পানি গাঢ় সবুজ রংয়ের পরিবর্তে হালকা নীল রং ধারনকরে তখন তা ফেলে দিয়ে নতুন করে কালচার শুরু করতে হবে। কারণ নীল রঙের এ্যালজি ভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত এ্যালজি।

ফলন ও খরচঃ

উপরোক্ত নিয়মে এ্যালজি উৎপাদন করলে প্রতি ১০ বর্গ মিটার পুকুর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লিটার এ্যালজি পানি বা ১৫০ গ্রাম শুষ্ক এ্যালজি উৎপাদন সম্ভব। উৎপাদন সামগ্রীর দাম অনুসারে প্রতি লিটার এ্যালজির উৎপাদন করতে সর্বোচ্চ পাচ পয়সা খরচ পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা এই যে, এ্যালজি উৎপাদন করতে কোন আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ীতে যে কোন ছায়াযুক্ত সমতল স্থানে এমনকি ঘরের ভিতরে বা দালানের ছাদেও করা যায়।

ছাগল-ভেড়াকে এ্যালজি খাওয়ানোঃ
এ্যালজির পানি সব ধরনের, সব বয়সের ছাগল-ভেড়াকে খাওয়ানোর যায়।
এ্যালজি খাওয়ানোর কোন বাঁধা নিয়ম নেই। এটাকে সাধারণ পানির পরিবর্তে সরাসরি খাওয়ানো যায়। এক্ষেত্রে ছাগল-ভেড়াকে আলাদা করে পানি খাওয়ানো প্রয়োজন নেই। দানাদার খাদ্য অথবা খড়ের সাথে মিশিয়েও খাওয়ানো যায়। এ্যালজির পানিকে গরম করে খাওয়ানো উচিত নয়, এতে এ্যালজির খাদ্যমান নষ্ট হতে পারে।

আমরা জানি প্রোটিন একটি অন্যতম পুষ্টি উপাদান কিন্তু আমাদের দেশে ছাগল-ভেড়াকে যে ধরনের খাদ্য সরবরাহ করা হয় তা সবই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য উপাদান। বিভিন্ন বয়সের ছাগলের জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যে একটি নিদিষ্ট মাত্রায় প্রোটিন থাকা দরকার। যেমন বাচ্চার দুধ ছাড়ার সময়কালে ক্রড প্রোটিন দরকার ১৫-২০% +, বাড়ন্ত সময়কাল (৩-১৫ মাস) এ দরকার ১২-১৫% এর উপর তাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।

একটি দুগ্ধবতী ছাগীর দুগ্ধদানকালীন সময়ের বিভিন্ন পর্যায়ে- প্রারম্ভিক (early lactation),মধ্যবর্তী (mid early lactation),শেষ (late lactation), দুগ্ধবিহীন কাল (dry period) সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রোটিন থাকা দরকার। যা এ্যালজির মাধ্যমে পুরন করা যায়।

পরিশেষে বলা যায় ছাগল-ভেড়ার খাদ্য তালিকায় আমিষের সম্পুরক হিসাবে সস্তা, সহজলভ্য একটি পুষ্টিকর ও ভালো বিকল্প এ্যাজোলা।

19/10/2016

হাঁস পালনের পরিকল্পনা ও খরচের তথ্যাদি

হাঁস পালন করে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করে নেয়া যায়। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে হাঁস পালন করে অনেকেই সচ্ছল জীবন ফিরে পেয়েছেন। উন্নত জাতের একটি হাঁস বছরে ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। এ হাঁসের নাম হলো খাকী ক্যাম্ববেল ও ইন্ডিয়ান রানার। নদীর তীর, পুকুর পাড় ও আর্দ্র ভূমিতে হাঁস পালন খুবই লাভজনক।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করা যাবে। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াস্থ কেন্দ্রীয় হাঁসের খামার, খুলনার দৌলতপুর হাঁসের খামারসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাঁস-খামার থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করা যায়। নিম্নে ৫০০ হাঁস ও ৩০টি হাঁস পালনের তথ্যাদি উল্লেখ করা হলো।

ডিম পাড়া ৫০০ হাঁস পালার যাবতীয় তথ্যাদি : প্রতি হাঁসের জন্য ২ বর্গফুট হিসেবে ১০০০ বর্গফুটের ঘর তৈরি করতে হবে। পাকা হলে প্রতি হাঁসের জন্য কমপক্ষে ২ বর্গফুট হিসেবে ১০০০ বর্গফুট। কাঁচা হলে প্রতি হাঁসের জন্য ১০ বর্গফুট হিসেবে ৫০০০ বর্গফুট। ওয়াটার চেনেলের গভীরতা ৯, প্রস্থ ২০ ইঞ্চি রাখুন। ৬ মাস পর্যন্ত প্রতিপালন করতে প্রতিটি হাঁসের জন্য ১৫ কেজি খাবার দরকার হবে। ৬ মাস পর প্রতি হাঁসের জন্য দৈনিক ১৬০ গ্রাম (আড়াই ছটাকের কিছু উপরে) হিসেবে খাবার লাগবে।

আবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি : ক. ফিডার বা ফিড হপার টিন বা প্লাস্টিকের বা কাঠের তৈরি এবং উভয় দিক দিয়ে খেতে পারে এরূপ ৪ ফুট লম্বা ১০টি ফিডার;
খ. লিটার: ধান বা গমের খড়, ধানের তুষ ব্যবহার করা যায়, তবে খড় ব্যবহার করাই উত্তম;
গ. ডিম পাড়ার ঘর: হাঁসির জন্য ডিম পাড়ার ঘর তেমন দরকার হয় না। মূল ঘরের কোনায় বা দেয়ালের সঙ্গে ধানের খড় দিলে এতে হাঁসি ডিম দেবে এবং ওই ডিম পরিষ্কার থাকবে।
ঝুড়ি বা ট্রেতে করে ডিম সংগ্রহ করতে হবে। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত খরচ (জমি ও ঘর বাদে): ১১০০ বাচ্চার দাম প্রতিটি ২০ টাকা হিসেবে ২২ হাজার টাকা। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫৫০ বাচ্চার খাবার খরচ (খাবার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ১৫ কেজি এবং প্রতি কেজি খাবারের মূল্য ১৮ টাকা) ১,৪৮,৫০০ টাকা। অন্যান্য খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা। মোট বিনিয়োগ ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
৬ মাস বয়সের পর ডিম ও খাবারের হিসাব (লাভ-লোকসান)
দৈনিক ৫০০ হাঁসির খাদ্য (প্রতিটির জন্য ১৫০ গ্রাম) = ৭৫ কেজি। প্রতি কেজি ১৮ টাকা হারে ১৩৫০ টাকা। দৈনিক ডিম উত্পাদন (৬০% উত্পাদন হিসেবে) ৩০০টি। (১০০ ডিম = ৬০০ টাকা হিসেবে) ১৮০০ টাকা, ১ মাসের খাবার খরচ বাদে থাকে (১৮০০-১৩৫০) ঢ ৩০ = ১৩,৫০০ টাকা, ১ মাসে ১০০০.০০ টাকা শ্রমিক খরচ ধরলে লাভ থাকবে ১২,৫০০ টাকা।

ছোট খামার হিসেবে জমির দাম, ব্যবস্থাপনা খরচা ইত্যাদি বিবেচনা না করে শুধু বাচ্চার মূল্য, খরচ ও শ্রমিক বিবেচনা করা হয়েছে। বাচ্চা মর্দা এবং মাদী শনাক্ত করা না থাকলে ১১০০ বাচ্চা ক্রয় করতে হবে। অন্যথায় ৫৫০টি বাচ্চা ক্রয় করলেই চলবে। মৃত্যুর হার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫% ধরা হয়েছে বলে ৫০০ হাসির জন্য ৫০টি বাচ্চা বেশি ক্রয় করতে হবে। দুই মাস বয়স পর্যন্ত মর্দা বাচ্চা পালন করতে যা খরচ হবে, ওই বয়সে ওই বাচ্চাগুলো বিক্রয় করে খরচের টাকা উঠে যাবে। তাই কেবল ৫৫০টি বাচ্চার খাদ্য খরচ দেখানো হলো।

৩০টি হাঁস পালন : ক. সর্বদা বদ্ধ অবস্থায় : ঘরের জায়গার পরিমাণ : প্রতি হাঁসের জন্য ৫ বর্গফুট হিসেবে ১৫০ বর্গফুট = ১৫ × ১০ একটি ঘর। দৈনিক খাবার ৫ কেজি = ৯০ টাকা।
দৈনিক গড় ডিম = ১৮টি-১০৮ টাকা (উত্পাদন ৬০%) দৈনিক লাভ ১০৮-৯০ = ১৮ টাকা। মাসে লাভ ৫৪০ টাকা।
অর্ধ ছাড়া অবস্থায় : ঘরের জায়গার পরিমাণ ২ বর্গফুট হিসেবে = ৬০ বর্গফুট। ঘরের বাইরে রানের পরিমাণ = পাকা হলে ২-৫ বর্গফুট হিসেবে ৬০ বা ১৫০ বর্গফুট। দৈনিক গড় ডিম উত্পাদন ১৮টি ১০৮ টাকা। দৈনিক লাভ ১০৮-৯০ = ১৮ টাকা। মাসে লাভ ৫৪০ টাকা।

ছাড়া অবস্থায় : ঘরপ্রতি হাঁসের জন্য দেড় থেকে ২ বর্গফুট হিসেবে = ৪৫ বর্গফুট। দৈনিক গড় ডিম উত্পাদন ১৫টি = ৯০ টাকা (ডিম উত্পাদন ৫০% প্রতিটি ডিম ৬ টাকা) যদি কোনো খাবার খরচ না লাগে তবে মাসে লাভ ২৭০০ টাকা। যদি অর্ধেক খাবার সরবরাহ করতে হয় তবে লাভ, (মাসে অর্ধেক খাবারের পরিমাণ = ৭৫ কেজি-১৩৫০ টাকা (১ কেজি খাবারের মূল্য ১৮ টাকা) = ২৭০০-১৩৫০ = ১৩৫০ টাকা। অর্থাত্ ১৩৫০ টাকা লাভ।

হাঁস ও মাছের মিশ্র চাষ পদ্ধতি : মাছের সঙ্গে হাঁসের চাষ একটি সমন্বিত খামার পদ্ধতি। একে অন্যের সহায়ক। পুকুরে মাছ ও হাঁস পালন পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাতে পারলে সীমিত জায়গায় উত্পাদন বেশি পাওয়া যাবে। এ চাষ পদ্ধতি সবার জানা থাকলে বাংলাদেশের অনেকেই দ্বিগুণ ফসল ফলাতে পারবেন। অল্প জায়গায় মাছ ও হাঁস পালন পদ্ধতি অনেক উন্নত দেশে চালু আছে। তাইওয়ান, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে এর ব্যাপক প্রসার হয়েছে। হাঁসকে পুকুরে জৈবসার উত্পাদনকারী মেশিন বলা যেতে পারে। মাছ চাষের জন্য পুকুরে হাঁস পালন করলে খুব কম খরচে অনবরত জৈবসার ছড়ানো যায়।

হাঁস ও মাছ চাষের প্রধান সুবিধাগুলো হলো : ১. একটি হাঁস প্রতি মাসে ৩-৪ কেজি জৈবসার পুকুরে ছড়িয়ে দিতে পারে। ৩-৪টি হাঁসের জৈব সার থেকে ১ কেজি বাড়তি মাছ উত্পন্ন হতে পারে।
২. হাঁস পুকুরের অবাঞ্ছিত আগাছা খেয়ে মাছ চাষে সাহায্য করে।
৩. শামুক, ব্যাংগাচি, পোকা-মাকড় যা মাছের কোনো কাজে আসে না এমন জিনিস খেয়ে হাঁস ডিম উত্পাদন করে।
৪. পুকুরে মাছ ও হাঁসের চাষ একসঙ্গে করে বছরে প্রতি হেক্টরে ১-১৫ টন (মাছ হাঁস) উত্পাদন বাড়ানো যেতে পারে।

বাসস্থান : হাঁসের ঘর পুকুরের উপর যে কোনো পাশে অথবা পুকুরের পাড়ে নির্মাণ করা যেতে পারে। পুকুরের উপরে নির্মিত ঘরে হাঁসের বিষ্টা ও উচ্ছিষ্ট সরাসরি পানিতে পড়বে এবং মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর পুকুরের পাড়ে হাঁসের ঘর থাকলে ড্রেনের মাধ্যমে হাঁসের ময়লা পুকুরে দেয়া সহজ হবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমারদেশ

19/10/2016
19/10/2016
হাঁসের খামার দিয়েই স্বাবলম্বী=======================================মো. জিল্লু মিয়া | আপডেট: ০২:৪১, নভেম্বর ০৪, ২০১৫।আ...
11/10/2016

হাঁসের খামার দিয়েই স্বাবলম্বী
=======================================

মো. জিল্লু মিয়া | আপডেট: ০২:৪১, নভেম্বর ০৪, ২০১৫।

আমি মো. জিল্লু মিয়া। বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহরকোনা গ্রামে। পড়ালেখা তেমন করতে পারিনি। আজ থেকে ২৭ বছর আগে, আমার বয়স যখন ১০ বছর, তখন আমাদের বাড়ির পাশে সোয়াইজনি নদীতে নিকলী নগর গ্রামের ইসরাইল মিয়া, আলী হোসেন ও মঞ্জিলহাটির রহিম এই তিন বন্ধু মিলে প্রথম হাঁস পালন শুরু করে। আমি প্রতিদিন সকালে নদীর পাড়ে তাদের হাঁসের খামারে যেতাম। সকালে যখন তারা খামারে হাঁসের ডিম তুলত, তখন তা দেখতে আমার খুব ভালো লাগত। আমি বাড়ির পেছনে নদীর পাড়ে বসে হাঁসগুলো দেখতাম আর মনে মনে ভাবতাম, আমি যদি কোনো দিন এভাবে হাঁস নিয়ে নদীতে চরাতে পারতাম আর খামার থেকে ডিম তুলতে পারতাম, তাহলে আমার খুব ভালো লাগত।

দুই বছর যেতে না-যেতেই হঠাৎ ওই তিন বন্ধুর হাঁসগুলো ‘ডাক প্লেগ’ রোগে মারা যায়। তারা তিনজনই হতাশ হয়ে হাঁস পালন করা ছেড়ে দেয়। আমি দুই বছরে তাদের হাঁস পালন ও ডিম বিক্রির লাভ দেখে বাড়িতে গিয়ে বাবা আবদুর রহমানের কাছে হাঁস এনে দেওয়ার জন্য কাঁদতে থাকি। কয়েক দিন কান্নাকাটি করার পর বাবা ঘরে রাখা ৮৬ মণ ধান ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। আমাকে বলেন, পড়ালেখা যখন করবি না, তখন এই নে, তোকে ৩০ হাজার টাকা দিলাম, হাঁস এনে পালতে থাক। আমি ওই ৩০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে এলাকার আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সিলেটের বানিয়াচং উপজেলা থেকে ৩০০ হাঁস কিনে আনি। হাঁসগুলো বাড়িতে এনে জাল ও বাঁশের খঁুটা দিয়ে বেড়া বানিয়ে নদীর পাড়ে রাখি। হাতে থাকা বাকি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে খামার পরিচালনা করতে থাকি।

এক মাসের মাথায় ৩০০ হাঁসের মধ্যে ২৫০টা হাঁস ডিম পাড়া শুরু করল। প্রতিদিন খামারের খরচ করেও আমার হাতে থাকে ৪০০ টাকা। আমি এক বছর পর বাবার দেওয়া ৩০ হাজার টাকা বাবাকে দিয়ে দিলাম। দুই বছরের মাথায় খামারের লাভের টাকা দিয়ে আরও এক হাজার হাঁস কিনে আনলাম। সারা এলাকায় আমার খামারের নাম ছড়িয়ে পড়ল। এখন আমার খামারে পাঁচ হাজার ছোট-বড় হাঁস আছে। হাঁসের খাবারের খরচ বাদ দিয়েও আমার দৈনিক চার হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।
আমার হাঁসের খামার দেখে নিকলীর অনেক লোক হাঁসের খামার করেছে। তাদের সবারই ভাগ্যে পরিবর্তন হয়েছে। আগে যারা বেকার যুবক ছিল, তারা এখন অনেকেই হাঁসের খামারি। আমার খামারে দুই জাতের হাঁস আছে। একটার নাম নাগিনী; এই জাতের হাঁস সারা দিন নদীতে ঘুরে ঘুরে খাবার খায়। ডিম দেয় বেশি। অন্য জাতের নাম হলো খাগি; এরা নদীতে কুড়িয়ে খায় না। আমরা খামারিরা এগুলোকে ধান, গম ও শামুক কিনে খাওয়াই। আবার এ জাতের হাঁস ডিম দেয় কম। এ কারণে আমরা সবাই নাগিনী হাঁস পালন করি বেশি। নাগিনী হাঁস তিন বছর একটানা ডিম দেয়। ডিমের সংখ্যা কমে এলে সেগুলো বিক্রি করে নতুন নাগিনী হাঁস কিনে আনি। কারণ, আমরা তো বেশি ডিমের আশায় হাঁস পালন করি। যে খামারে যত বেশি নাগিনী হাঁস আছে, সে খামারের মালিক ডিম পান তত বেশি।

আমার জানামতে, নিকলীতে এখন ৫০০-এর বেশি হাঁসের খামার আছে। সব খামার মিলিয়ে প্রতিদিন তিন লাখ ডিম হয়। আমরা প্রতিটি ডিম সাড়ে আট টাকা করে পাইকারি বেচি। আমাদের কাছ থেকে ডিমগুলো যায় মূলত নিকলীর ডিমের পাইকারদের কাছে। আমাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজার, ঠাটারী বাজার, চিটাগাং রোডসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে তারাও লাভবান হচ্ছে। ডিম বিক্রি নিয়ে আমাদের আর কোনো চিন্তা নেই। কার্তিক থেকে জ্যৈষ্ঠ, এই আট মাস আমরা এলাকার খামারিরা হাঁসগুলো থেকে ডিম পেয়ে থাকি।

কিন্তু আমাদের কিছু সমস্যা আছে। আমাদের হাঁসের খামারে যখন ডাগ প্লেগ ও রানীক্ষেত রোগ দেখা দেয়, তখন নিকলীর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমরা যথেষ্ট সহযোগিতা পাই না। তাঁদের কাছে টিকা থাকে। টিকার সরকারি দাম ৩০ টাকা, কিন্তু নির্ধারিত দামে টিকা পাওয়া যায় না। দাম দিতে হয় ৫০ টাকা। বেশি টাকা না দিলে বলা হয় পশু হাসপাতালে কোনো টিকা নেই। আপনারা বাইরে থেকে কিনে আনেন। এমনকি, তাঁরা খামারে আসতেও চান না। পশু ডাক্তারদের খামারে আনতে হলে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে আসেন না। এ সময় টিকা না পেলে এবং ডাক্তার আমাদের খামারে না এলে খামারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এমনকি খামারের সব হাঁস মরে যায়। এ সময় যদি পশু ডাক্তাররা টিকা বা পরামর্শ দিতেন, তাহলে আমরা খামারিরা উপকার ও বড় ধরনের ক্ষতির থেকে রক্ষা পেতাম। তাই তাঁদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তাঁরা যেন আমাদের পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ করেন, পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন।

একদিন সকালবেলা আমি হাঁসের খামারে ডিম তোলার সময় প্রথম আলোর নিকলী প্রতিনিধি আমার খামারে এসে উপস্থিত। তিনি বললেন, আমার হাঁসের খামার নিয়ে একটা প্রতিবেদন লিখবেন। এই বলে খামারের ডিম তোলার ও নদীর পাড়ে হাঁসগুলোকে খাবার দেওয়ার ছবি তুললেন। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বরে প্রথম আলোতে ‘নদীতে খেয়ে খামারে ডিম’ শিরোনামে একটা প্রতিবেদন ছাপা হলো। সেদিন আমার খামার ও আমাকে দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক শ লোক আসে আমাদের বাড়িতে। তারপর থেকে চট্টগ্রাম, খুলনা, ফরিদপুর, সুন্দরবন, কুমিল্লা, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ঝিনাইদহ ও বরিশাল থেকে অনেকেই ফোন করে। তারা আমার কাছে পরামর্শ চায়। কীভাবে তারা হাঁস পালন করতে পারবে, জানতে চায়। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু পারি তাদের পরামর্শ দিয়েছি। কয়েকজন খামার করার জন্য আমার খামার থেকে হাঁস কিনে নিয়ে যায়।

সবকিছুর জন্য আমি প্রথম আলোর কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে তো আগে কেউই তেমন চিনত না। আমাকে বা আমার হাঁসের খামার দেখতে আসত না। প্রথম আলোর জন্যই আজ আমাকে বিভিন্ন জেলার লোক মোবাইলে ফোন করে হাঁসের কোনো রোগ হলে পরামর্শ নেয়। আমি যতটুকু জানি তাদের মোবাইল ফোনেই পরামর্শ দিই।

একসময় আমি এবং আমাদের সংসারের সবাই গরিব ছিলাম। আমি মানুষের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেছি। মানুষের খেতে দিনমজুরের কাজ করেছি। আমি এখন ১২ একর বোরো জমিসহ ২৫ লাখ টাকার মালিক। আগে ভাঙা ঘরে থাকতাম, এখন আমার বড় একটা পাকা ভিটের টিনশেড ঘর হয়েছে। নিজে তো এখন আর লেখাপড়া করতে পারছি না, তাই দুই মেয়েকে আমি লেখাপড়া করাচ্ছি। আমার বাবা মারা গেছেন ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি। বাবা বেঁচে থাকলে আমার এ অবস্থা দেখে খুব খুশি হতেন।

হাঁসের খামার একটা লাভজনক ব্যবসা। আমি বিশ্বাস করি, ঠিকমতো হাঁসের টিকা ও খাবার দিতে পারলে হাঁসের খামার করে আমার মতো সবাই স্বাবলম্বী হতে পারবে। তার ফলে দেশে বেকার যুবকের সংখ্যাও কমে আসবে। এখন হাঁসই আমার সব। হাঁসের সঙ্গেই আমার ওঠাবসা। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম—সবই হাঁসের সঙ্গে। (অনুলিখন)
মো. জিল্লু মিয়া, হাঁসের খামারি, নিকলী, কিশোরগঞ্জ

তথ্য সূত্রঃ প্রথম আলো-

11/10/2016

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাঁস বা মুরগির ডিম থেকে কৃত্রিমভাবে বাচ্চা ফোটানোর জন্য বিভিন্ন হ্যাচারি শিল্পে সাধারণত বড় বড় ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ। ব্যয়বহুল আর সহজলভ্য না হওয়ায় সাধারণ খামারিরা এটি ব্যবহার করতে পারেন না। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য যে তাপমাত্র...

10/10/2016
08/10/2016

পাবনা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে দুলাই ইউনিয়ন। ইউনিয়নের চারপাশে রয়েছে বিশাল বিল। এর নাম গাজনার বিল। এই বিল এলাকার তিন বেকার যুবক এক অবাস্তবকে বাস্তব গল্পে...

08/10/2016

সংসারে অভাব-অনটনের কারণে জামাল হোসেন ভোলা তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। কষ্টে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। বিয়ের পরও তিনি সংসার চালাতেন শ্রমবিক্রি করে।...

Address

Vill: Sobandi, Post:Barama, P. S:Chandanaish, Dist:Chittagong. (চট্রগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা কলেজের পাশে)
Chittagong
4383

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gulf Duck Farm & Hatchery posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Gulf Duck Farm & Hatchery:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram