25/02/2026
ভেঙে পড়েছিলাম তবুও হাল ছাড়িনি, হতাশ হয়েছিলাম তবুও জেদ ছাড়িনি,,,,journey of a 2nd timer....
ভেঙে পড়েছিলাম তবুও হাল ছাড়িনি,হতাশ হয়েছিলাম তবুও জেদ ছাড়িনি,,,,journey of a 2nd timer
: ছোটবেলা থেকে নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারতাম না,ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নটা আমার মা-ই আমাকে দেখিয়েছেন।কিন্তু সব বদলে গেলো ২৯শে ডিসেম্বর,২০২১ এর পর।স্কুলে যাওয়ার সময় আমার এক্সিডেন্ট হয়।বাম পা থেঁতলে যায়,আঙুলের হাড় ভেঙে কয়েক টুকরা হয়ে যায়।চট্টগ্রাম মেডিকেলের ইমারজেন্সিতে এডমিট করিয়ে সন্ধ্যায় সার্জারি করেন ডাক্তাররা।পরেরদিন একজন ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞেস করল,𝗪𝗵𝗮𝘁'𝘀 𝘆𝗼𝘂𝗿 𝗮𝗶𝗺? আমি মেডিকেলের ৫৬ নং বেডে শুয়ে চারপাশে ব্যাথার যন্ত্রণায় কাঁতরাতে থাকা রোগীদের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে বুঝলাম এই পৃথিবীতে মানুষকে সুস্থ করার মতো যদি কোনো 𝗠𝗮𝗴𝗶𝗰𝗮𝗹 𝗽𝗿𝗼𝗳𝗲𝘀𝘀𝗶𝗼𝗻 থাকে সেটা হলো ডাক্তারি।তখনই আমি প্রথমবারের মতো বলি"𝗜 𝘄𝗮𝗻𝘁 𝘁𝗼 𝗯𝗲 𝗮 𝗱𝗼𝗰𝘁𝗼𝗿"।মূলত তখন থেকেই আমার ডাক্তারি পেশার প্রতি তীব্র ভালোলাগা কাজ শুরু করে।SSC তে রেটিনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে বায়োলজি ক্লাস করতাম যা মানবশরীর নিয়ে জানার আগ্রহের জন্ম দেয়।
#ফার্স্টটাইমে এইচএসসির পর ভর্তি হয় রেটিনার ফুল মেডিকেল ব্যাচে(M-05)।নিয়মিত ক্লাস এক্সাম দিতে থাকতাম।কিন্তু শেষের দিকে হাল ছেড়ে দেই,পড়া ঠিকমতো গুছাইতে পারিনি।১৭ই জানুয়ারি ২০২৫ এক্সাম হলে প্যানিক হয়ে যায়,আর ১৯ তারিখের রেজাল্টে আমার মার্ক আসে মাত্র ১৫৫।তখন থেকে শুরু হয় এক বিভীষিকাময় সময় যা মনে করলেই গা শিউরে উঠে।চারপাশের লোকজন অপমান করতে লাগলো,অনেক ধরণের কথা শুনাতে লাগল,তখন নিজের উপরেই রাগ হতে থাকলো,ফ্রাস্ট্রেশন এ ভুগে তখন পড়ার ইচ্ছাই হারিয়ে ফেলি।জীবনে এর থেকে খারাপ সময় আমি মনে হয় না আর পাড় করেছি।বাবা জোর করাই কয়েকটা ভার্সিটির ফর্ম তুলি।তারমধ্যে সবার প্রথমে চান্স হয় #জগন্নাথ_বিশ্ববিদ্যালয়ে (৪১৬তম)।তারপর #কৃষিগুচ্ছ (সিলেট কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়- এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং) তারপর (4109তম) হয় আর ভর্তি হয় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং)এ।শুরু করে দিই একমনে সেকেন্ড টাইম মেডিকেল প্রিপারেশন।
#সেকেন্ডটাইমে অফলাইনে রেটিনার এক্সাম ব্যাচে ভর্তি হই ও এক্সামের সিলেবাস অনুযায়ী ডেইলি পড়া কমপ্লিট করতে থাকি।প্রথমবারে রেটিনার সব ক্লাস করেছিলাম তাই দ্বিতীয়বার শুধু পড়সি আর এক্সাম দিসি। রেটিনার প্রশ্নে যেগুলো ভুল হতো সেগুলো আইডেন্টিফাই করে সলভ করি।এক্সট্রা ইনফোর জন্য নতুন করে বই না কিনে শুধু মাত্র রেটিনার #ডাইজেস্টগুলোই পড়ি। রেটিনার #অনুশীলনীপ্রশ্নব্যাংক এর প্রতিটা প্রশ্ন ব্যাখ্যা সহ সলভ করি।প্রথমবারে আমি প্রশ্নব্যাংক এনালাইসিস না করেই পড়েছিলাম কিন্তু দ্বিতীয়বারে আমি #রেটিনারপ্রশ্নব্যাংক এর টপিক ধরে পড়েছিলাম যা আমাকে বুঝিয়েছে যে মেডিকেলের জন্য সব পড়া লাগে না।রেটিনার প্রশ্নে [৭০:২০:১০] সূত্র মেন্টেইন করতো,মানে ৭০ টা দাগানো লাইন থেকে ২০ টা Conceptual আর ১০টা এক্সট্রা ইনফো থেকে।তাই ৮০+ তোলার জন্য অনেক প্র্যাক্টিস ও ডাইজেস্ট থেকে এক্সট্রা ইনফো পড়তে উৎসাহ দিতো।মেডিকেল এক্সামে রেটিনার অনেক প্রশ্নই হুবহু কমন পাই।লাস্ট ১ মাসে যখন মেন্টাল প্রেশার হাই ছিলো তখন রেটিনার ভাইয়ারা বলতো-"তুমি ভুলছো মানে তুমি পড়তেসো,রাইট পথে আগাচ্ছো।ভুল আইডেন্টিফাই করে পড়তে থাকো"।
রেটিনার সবচেয়ে সুন্দর একটা Feature ছিলো প্রতিটা বিষয়ের আলাদা আলাদা মেন্টর।যখনই Medi-chemistry/Medi-physics এর কোনো প্রবলেম পারতাম না,তখনই ভাইয়াদের পাঠাইতাম টেলিগ্রামে তারা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা সহ সলভ করে দিতো।
আমার মেডিকেল এডমিশনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আমার বাবা।আমি হোস্টেলে থাকতাম,বাবা-মা দিনে ১২-১৫ বার কল করে আমার খবর নিতেন।আমার ডেইলি এক্সামের রেজাল্ট যেমনই হোকনা কেন তিনি আমার উপর আস্থা রেখেছেন।আমি কোনোবার এক্সামে টপ করিনি,সেকেন্ড টাইমেও হায়েস্ট ৮৮ মার্ক এর চেয়ে বেশি তুলতে পারিনি।কিন্তু তবুও বাবা বলতো"আরেকটু খেঁটে পড়,৮০ পার্সেন্টের উপরে কন্টিনিউ করতে পারলেই চান্স হবে"।আমার মা বলতো-"তুই যেটার জন্য মনপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করস সেটা তুই পারস,আমি জানি তুই পারবি।"দেখতে দেখতে কেটে গেল নভেম্বর।১২ডিসেম্বর পরীক্ষা মনে হচ্ছে আমার দ্বারা হবে না,কিন্তু আমি ওসব চিন্তাকে পাত্তা না দিয়ে শুধু পড়েছি।
#১২ডিসেম্বর২০২৫:সকাল ৪টায় ঘুম থেকে উঠে অর্গানিকটা রিভাইস দিই,ফিজিক্স-কেমিস্ট্রির অনুশীলনী প্রশ্নসব চোখ বুলিয়ে নিই তারপর বাবার সাথে যাই এক্সাম সেন্টারে।চট্টগ্রাম মেডিকেলের নতুন একাডেমিক ভবনে আমার সিট।এক্সাম শুরুর প্রথম ১৫ মিনিট আমি অনেক নার্ভাস হয়ে যায় আর ৬ টার মতো জানা জিনিস ভুল করে আসি তারপর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করতে করতে বাকিগুলো দাগানো শুরু করি দেখি সবইতো আমার পারা জিনিস।
#১৪ডিসেম্বর২০২৫: ১২ তারিখ থেকে অনেক টেনশনে ছিলাম।রেজাল্ট এর দিন বিকেলে কোনোভাবেই ওয়েবসাইট এ ঢুকতে পারছিলাম না।তাই আমার বন্ধুকে দেই পাসওয়ার্ড,আইডি আর রোল।সে দেখে পাঠায় আমার রেজাল্ট।অবশেষে ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পূর্যন্ত সেই দূর্বিষহ মানসিক অবস্থার সমাপ্তি হয়,শত শত রাত জাগা পরিশ্রম সার্থক,পরিবারের প্রথম ডাক্তার।😇
এই ডাক্তারি পেশা নিয়ে স্কুলজীবনে আমার হোম টিউটর চন্দন স্যার অনেক অনুপ্রেরণা দিতেন।কলেজজীবনে ইংরেজি শিক্ষক শওকত স্যার আমাকে অনুপ্রেরণা দিতেন,তিনি এডমিশনে প্রায়সময়ই কল করে আমার পড়াশোনার খবর নিতেন।স্কুলজীবনের সবচেয়ে মজার আনন্দঘন মুহুর্ত ছিলো ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো রোল-১ হওয়া ও তারপর জুনিয়র সায়েন্স অলম্পিয়াডে ২য় হওয়া ও সবশেষে সিটি কলেজে চান্স পাওয়া।
স্বাস্থ্যব্যাবস্থা নিয়ে আমার ভাবনা:মেডিকেল সেক্টরে আমাদের পর্যাপ্ত রিসার্চ এর অপ্রতুলতা আছে তাই এটিতে জোড় দেওয়া উচিত সাথে সকল মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ও খাবারের মান মানসম্মত হওয়া উচিত।।।
আমার জার্নিতে আমার পাশে থাকা সকল বন্ধুরা,শুভাকাঙ্ক্ষী,রুমমেট,পরিবার,শিক্ষক ও সিনিয়র(যারা আমাকে নিয়মিত গাইডলাইন দিয়েছেন)সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
অনিরুদ্ধ চক্রবর্ত্তী।
জাতীয় মেধায় ৪৬৪৫ তম।
রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ,রাঙ্গামাটি।
এক্স- সরকারি সিটি কলেজ,চট্টগ্রাম।
এক্স- কানুনগোপাড়া ড. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয়,বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।