14/09/2021
মাথাব্যথা :
মাথাব্যথা আসলে কোনো রোগ নয় , একটি উপসর্গ মাত্র।সব বয়সী মানুষই বিভিন্ন সময়ে এই উপসর্গে ভুগে থাকতে পারেন।এর মধ্যে প্রায় অধিকাংশ ব্যক্তিই টেনশন টাইপ মাথাব্যথা বা মাংসপেশীর সংকোচনজনিত মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন, এর পরেই আসে মাইগ্রেন । এছাড়া কেউ কেউ দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথায়ও আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
কারন:
মাথাব্যথার খুব সাধারণ কিছু কারণ হলো- ক্লান্তি, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, হতাশা, বিষণ্নতা, অতি উজ্জ্বল আলো, উচ্চ শব্দ, দীর্ঘ সময় টেলিভিশন দেখা বা মোবাইল ব্যবহার,অতিরিক্ত পরিশ্রম, দৃষ্টিক্ষীণতাসহ চোখের বিভিন্ন রোগ, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলসহ বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জ্বর, সর্দি, সাইনোসাইটিস, মাথায় আঘাত, দাঁতের রোগ, এমনকি দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনজনিত সমস্যা, গর্ভাবস্থা প্রভৃতি।
প্রকারভেদ:
মাথাব্যথা প্রধানত দুই ধরনের, যেমন- প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি।যে ধরনের মাথাব্যথায় চোখ বা মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে দৃশ্যত কোনো প্যাথোলজি থাকে না, তখন এ ধরনের মাথাব্যথাকে প্রাথমিক ব্যথা বলা হয়। মাইগ্রেন, টেনশন টাইপ হেডেক, ক্লাস্টার হেডেক, অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া ইত্যাদি হলো প্রাথমিক মাথাব্যথা।সাইনোসাইটিস, গ্লুকোমা, স্ট্রোক, মাথায় আঘাতজনিত কারণে বা মস্তিস্কের টিউমারের জন্য মাথায় ব্যথা হওয়া, প্রভৃতি হলো মাথাব্যথার সেকেন্ডারি কারণ। অর্থাৎ চোখ, মুখমণ্ডল বা মস্তিষ্কের কোনো রোগ কিংবা এসব অঙ্গে কোনো ধরনের আঘাতের জন্য সেকেন্ডারি পর্যায়ে মাথাব্যথা হয়ে থাকে।
লক্ষণ :
মাথাব্যথার সাথে আরো যেসব লক্ষণ রোগীর থাকতে পারে সেগুলো হল: বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মাথা দপ দপ করা, আলো বা অতিরিক্ত শব্দ সহ্য না হওয়া, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ঘাড়ে ব্যথা, মাথা ঘোরানো ইত্যাদি।
প্রতিকার:
নিয়মিত ঘুম, আহার ও শরীরচর্চা, মাথাব্যথা শুরু করতে পারে এমন সব কিছু এড়িয়ে চলার প্রচেষ্টা করা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, অহেতুক দুশ্চিন্তা ত্যাগ করা ইত্যাদি মাথা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।নিয়ন্ত্রণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।