Hijama Care BD

Hijama Care BD Hijama is the Prophetic Medicine.Hijama is Sunnah.Hijama/cupping theraphy is alternative treatment.?

06/01/2022

নতুন বছর উপলক্ষে
আমাদের চেম্বারে চলছে হিজামা করাতে
#স্পেশাল_ডিসকাউন্ট_অফার!
আমাদের হিজামা চেম্বারের বিশেষ সুবিধা সমুহ:
✓ #ডাক্তার এবং #হিজামা_স্পেশালিস্টদের তত্বাবধানে হিজামা করানো হয়।
✓অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার এবং থেরাপিস্ট আছেন
√ চুল না কেটেও হিযামা করাতে পারবেন
√হিজামার আগে ম্যাসেজ মেশিনের মাধ্যমে ড্রাই কাপিং দেওয়া হয়।
✓হোম সার্ভিস আছে। এইক্ষেত্রে এক্সট্রা খরচ শুধুমাত্র গাড়ী ভাড়া। ফুল বডি।

হিজামা করাতে নিচের যেকোন প্যাকেজ বেছে নিতে পারেন:
✓প্যাকেজ ১:
•হিজামা সেশন মাত্র ১০০০ টাকা
• শরীরের সর্বোচ্চ ১৬টি পয়েন্টে

✓প্যাকেজ ২:
• হিজামা সেশন মাত্র ১৫০০ টাকায়
• শরীরের সর্বোচ্চ ২৩টি পয়েন্টে

✓ প্যাকেজ ৩:
• হিজামা সেশন মাত্র ২০০০ টাকায়
• শরীরের সর্বোচ্চ ৩২টি পয়েন্টে

√ প্যাকেজ ৪:
•হিজামা সেশন ২৫০০ টাকায়
•শরীরের সর্বোচ্চ ৪০পয়েন্ট

√ প্যাকেজ ৫:
• হিজামা সেশন ৩০০০ টাকায়
• ফুল বডি A to Z Detox.

#অফার_গ্রহণের_নিয়মাবলী:
★অগ্রিম appointment নিয়ে আসতে হবে
★অফারের কথা appointment এর সময় উল্লেখ করতে হবে।
★ মহিলা রোগীদের জন্য অভিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার এবং থেরাপিস্ট আছেন।
#চুলসহ_মাথায়_হিজামা_করানোর_ক্ষেত্রে_অফারটি_প্রযোজ্য_হবে_না। সেক্ষেত্রে রেগুলার চার্জ প্রযোজ্য।

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

#হিজামা_নিয়ে_কিছু_কথা.........

হিজামা (حِجَامَة ) একটি নববী চিকিৎসা ব্যবস্থা কারণ রাসূল(সাঃ) এর জীবনে এই চিকিৎসা করার ঘটনা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণীত আছে।

যারা হিজামার কথা নতুন নতুন শুনে অভিভূত হয়েছেন- নিজে হিজামা করতে শুরু করেছেন, পরিবারের কাছের মানুষদেরকে হিজামার কথা বলছেন, নিয়েও আসছেন হিজামার জন্যে – তাদের প্রত্যেককে আমরা এই হাদিসগুলো মনে করিয়ে দিতে চাই!

❝তোমরা যে সকল পদ্ধতিতে চিকিৎসা কর তার মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে হিজামা। ❞
(সহিহ বুখারী- ৫৬৯৭)

❝নিশ্চয় হিজামা চিকিৎসার মধ্যে সকল রোগের শেফা রয়েছে। তোমরা হিজামা পদ্ধতি গ্রহন কর। ❞
(কানযুল উম্মাল-২৮১১২)

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
হিজামা কী?
হিজামা রোগের জন্য চিকিৎসা, সুস্থ ব্যাক্তির জন্য রোগ প্রতিরোধক। হিজামা এন্টি এইজিং ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ সারা দুনিয়ায় মানুষ বয়সকে ধরে রাখতে এবং স্ট্যামিনা বাড়ানোর জন্য হিজামা পছন্দ করে থাকেন।

এইটা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা যা বিভিন্ন রোগের জন্য কার্যকরী এবং যেকোন সুস্থ রোগীর জন্য রোগ প্রতিরোধ হিসেবে ইফেক্টিভ চিকিৎসা ব্যবস্থা। উন্নত বিশ্বে এর ব্যাপক প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে দিন দিন।

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
যে সকল সমস্যায় হিজামা উপকারীঃ
১. মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, পিঠের ব্যথা, কোমর ব্যথা পায়ের ব্যথা, জয়েন্ট পেইন (আর্থ্রাইটিস) সহ সকল ধরনের ব্যথায়।
২. এ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, COPD, সাইনুসাইটিস, টনসিলাইটিস, ফ্যারিঞ্জাইটিস, নিউমোনিয়া, লাং ইনফেকশান।
৩. হাই কোলেস্টেরল, হাই ট্রাইগ্লিসারাইড, হার্ট ব্লক, হাইপ্রেশার, অতিরিক্ত ওজন।
৪. গ্যাস্ট্রাইটিস (গ্যাসের সমস্যা), বুক জ্বালা পোড়া, পেটের ব্যাথা, ফিসার, পাইলস, ফ্যাটি লিভার, IBS, ।
৫. এটি হেপাটাইটিস বি এর ভাইরাল লোড কমায়।
৬. ঘুমের সমস্যা, স্ট্রেস, পারকিনসন্স ডিজিজ, মানসিক সমস্যা।
৭. স্পোর্টস ইনজুরি
৮. Erectyle dysfunction, ejaculatory dysfunction, অন্যান্য যৌন সমস্যা।
৯. থাইরয়েডের সমস্যা।
১০. Gout
১১. রক্তশুন্যতা, থ্যালাসেমিয়াতে আয়রন ওভারলোড কমাতে
১২. PCOS, মাসিকের সমস্যা সহ মেয়েদের অন্যান্য সমস্যা
১৩. অস্টিওপোরোসিস, রিউমাটয়েট আর্থ্রাইটিস সহ আরও অনেক রোগে উপকারী।

অনেকেই বলতে পারেন: "হিজামা কিভাবে এত রোগ ভাল করে?"
হিজামা শরীরের একটি বেসিক মেকানিজম এক্টিভেট করে। তা হচ্ছে এন্ডোজেনাস নাইট্রিক অক্সাইড পাথওয়েকে বুস্ট করে দেয়। এই নাইট্রিক অক্সাইডকেই বিজ্ঞানীরা মিরাকল মলিকিউল বা হিলিং মলিকিউল নাম দিয়েছেন। যেকোন ডিজিজের নাম এর সাথে effect of nitric oxide লিখে গুগোল সার্চ করলেই আমদের কথা সত্যতা পাবেন।
হিজামাতে যে লাইট স্ক্র‍্যাচ হয় এতে ক্যাপিলারি ইনজুরি হয়, এবং এই ক্যাপিলারির এন্ডোথেলিয়াম থেকেই নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়।

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
আমাদের সেবা সমুহ:
★ হিজামা চিকিৎসা
★ হিজামা ট্রেনিং
★ ফেসিয়াল কাপিং
★ ফায়ার কাপিং

মহিলাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ #মহিলা_ডাক্তার এবং থেরাপিস্ট আছেন।
আমাদের চেম্বারের ঠিকানা:
একে খান, কুটুম বাড়ী রেস্তোরার ঠিক পিছনের বিল্ডিং, চট্টগাম। মেইন রোড মাত্র ১০ সেকেন্ড লাগে সময়।
কক্সবাজার,কুমিল্লা আমাদের ব্রাঞ্চ আছে।

ফোন নাম্বার: 01815375435(হোয়াটসঅ্যাপ,ইমো)

27/11/2021
হিজামা_সমাচার।============আমরা একটা ওষুধ একটা মাত্র সমস্যার জন্য খেয়ে থাকি।কিন্তু হিজামাতে যে দূষিত প্লাজমা বেরিয়ে আসে ত...
15/07/2021

হিজামা_সমাচার।
============
আমরা একটা ওষুধ একটা মাত্র সমস্যার জন্য খেয়ে থাকি।কিন্তু হিজামাতে যে দূষিত প্লাজমা বেরিয়ে আসে তাতে থাকে একাধিক রোগের জীবাণু যেমন ঠাণ্ডা, কাশি, বিষন্নতা, আরথ্রাইটিস, কোমরের সায়াটিকার ব্যথা,চিন্তা, ঘুমের সমস্যা, মাংসপেশির ব্যথা এবং অন্যান্য সকল রোগের জীবাণু বেড়িয়ে এসে যে কোন রোগের তীব্রতা কমিয়ে দেয়।

হিজামা এক ধরণের চিকিৎসা যার মাধ্যমে শরীরের সব টক্সিন, ইউরিক এসিড, বদ-রক্ত, রোগের জন্য দায়ী জীবাণু প্লাজমা বা ফ্লুইডের সাথে বের করে নিয়ে আসা হয়।এতে একাধিক নিউরোট্রান্সমিটার মুক্ত হয়, নাইট্রিক অক্সাইড,হাইপারমিয়া বা হেমস্টোসিস প্রক্রিয়ায় কাজ করে। এর মাধ্যমে বর্তমানে সংক্রামক অনেক রোগের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এছাড়া অসংক্রামক অনেক রোগ ও ভালো হয় নিয়মিত হিজামা করালে। এটি শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত জৈব-রাসায়নিক বর্জ্য নিষ্কাশন করে। সম্প্রতি চিকুনগুণিয়া রোগ থেকে যে ব্যথা হয় যা যায় না হিজামার মাধ্যমে সে ব্যথার উপশম হয়।

হযরত জাবির রদিয়াল্লহু আনহু থেকে বর্ণিত : রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় হিজামায় শেফা রয়েছে।” সহীহ মুসলিম, হাদীস নম্বর : ২২০৫

রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “হিজামাকারী কতই উত্তম লোক। সে দূষিত রক্ত বের করে মেরুদন্ড শক্ত করে ও দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে।” সুনানে তিরমিযী, হাদীছ নম্বর : ২০৫৩

আমাদের শরীর গঠিত নাইট্রিক অক্সাইডের উপর যা ১৯৯৮ সালে আবিষ্কার হয়। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের কাজ এই আশচর্য অণু কণার উপর নির্ভর করে! ১৪০০ বছর আগে হিজামাকে সর্বোত্তম চিকিৎসা বলে দেয়া হয়েছে। অথচ আমরা তার খবর জানি না। এই এক নাইট্রিক অক্সাইড থেরাপি বর্তমান বিশ্বে বহুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অথচ হিজামাতে নাইট্রিক অক্সাইড প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়। সাথে সাথে তৈরি হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া! তাই মেডিকেল সায়েন্স হিসেবে এর কদর রয়েছে, এটি একটি উত্তম চিকিৎসা হিসেবে মানা হয়।

ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন যাদু দ্বারা পীড়িত হন তখন তিনি মাথায় শিঙ্গা লাগান এবং এটাই সবচেয়ে উত্তম ঔষধ, যদি সঠিকভাবে করা হয়।”(যাদুল মা‘আদ ৪/১২৫-১২৬)

গবেষণায় আরো পাওয়া গেছে যে, হিজামা থেরাপি ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার তীব্রতা হ্রাস পায়।

টেস্টের রিপোর্ট থেকে পাওয়া গেছে এক মাস পর ৩৪%, দুই মাস পর ৪০% এবং তিন মাস পর প্রায় ৬০% শতাংশ ব্যথা কমেছে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে ব্যথা, বাতের ব্যথা,পিঠের ব্যথা ও মেরুদন্ডের ব্যথা, ফিব্রোমায়ালজিয়া, হাটুর অস্ট্রিওআর্থারাইটিস অর্থাৎ হাটু ক্ষয়, হার্ণিয়ার সমস্যা, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা, দীর্ঘকালীন পিঠের ব্যথা, মাংশপেশীর ব্যথা, মচকে যাওয়া , পায়ে পানি আসা, ফুলে যাওয়া কিংবা আঘাতের কারণে ফেটে যাওয়ার ব্যথায় হিজামা খুব ভালো কাজ করে।

ভাইরাল এবং ইনফেকশাস রোগ কমায় ও প্রতিরোধ বাড়ায়:
হারপিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ভাইরাল হেপাটাইটিস, ব্রণ, ডার্মাটাইটিস, এবং সেলুলাইটিস এসব স্বাস্থ্য সমস্যা যা হিজামা কাপিং থেরাপি দ্বারা চিকিৎসা করা যায়। একযোগে একাধিক শারীরিক উপশমে ভূমিকা রাখে স্নায়ুতন্ত্রের সিস্টেমে সেরোটোনিন, ডোপামাইন, এন্ডোরিফিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার এর মাধ্যমে। এছাড়াও হিজামাতে যে সাময়িক সংকুচন-প্রসারণ ও কাটা হয় তা প্রতিরোধ সিস্টেমকে সক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে।

হিজামা যে যে রোগের জন্য করতে পারেন-

❂উচ্চরক্তচাপ (High Blood Pressure) ❂কিডনির সমস্যা(Kidney Disease) ❂লিভারের সমস্যা ❂ঘুম জনিত সমস্যা (insomnia) ❂যে কোন রকমের চর্মরোগ (Chronic Skin Diseases) ❂আরথ্রাইটিস ❂জয়েন্টের ব্যথা (Gout Pain) ❂বাতের ব্যথা (Arthritis) ❂পায়ের তালুর ব্যথা ❂রক্ত জমাট বাধা বা অবস ভাব ❂হাঁটু ব্যথা (Knee Pain) ❂ঘাড়ে ব্যথা (Neck Pain) ❂কোমড় ব্যথা (Waist Pain)❂ব্যথায় পায়ের পাতা ফেলতে সমস্যা ❂মাংসপেশীর ব্যথা (muscles spasm) ❂প্যারালাইসিস বা কোন অংগ অবশ হয়ে যাওয়া(Paralysis) ❂ডায়াবেটিস (Diabetes) ❂চুল পড়া (Hair fall) ❂মোটা সমস্যা (obesity) ❂হরমোনাল সমস্যা ❂মাইগ্রেনের ব্যথা (Migraine) ❂স্মৃতিহীনতা (Parkinson's disease) ❂মনোযোগ বৃদ্ধি ❂দীর্ঘকালীন মাথা ব্যথা (Headache) ❂ থাইরয়েডের সমস্যা (Thyroid Problem) ❂সাইনুসাইটিস (Sinuses problem) ❂ এজমা/ হাপানি (Asthma) ❂রক্তসংবহন তন্ত্রের ইনফেকশন(Blood circulation system) ❂গ্যাস্ট্রিক / আলসারের সমস্যা (Gastric/Ulcer) ❂ব্রণ (Acne) ❂শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন, খোস/পাচড়া (Remove toxin from body) ❂পিঠে বা সারা শরীরের যে কোন রকমের ব্যথা ❂হাড় ক্ষয় বা সরে যাওয়ার ফলে ব্যথা ❂মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক কিংবা মেয়েদের অন্যান্য সমস্যা ❂রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে প্রচলিত রোগ দূরীকরণে সাহায্য করা ❂রক্তজমাট বাঁধা (Varicose Vein) ❂দূষিত রক্ত পরিষ্কারকরণ ❂সার্জারির পরবর্তী ব্যথা

এছাড়া ❂সুন্নাহ হিজামা যা সুস্থ থাকা অবস্থাতেও করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা (Develop Immune Power) ❂মানসিক সমস্যা (Psychological disorder) সহ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় হিজামা করুন। উপকার পান। এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত অসাধারণ ইসলামিক চিকিৎসা। হিজামার যে কোন রোগ সারানোর আশ্চর্য ক্ষমতা আছে।হিজামা/Wet Cupping সম্পর্কে আরো জানুন।

# মহিলাদের জন্য সিনিয়র মহিলা থেরাপিস্ট।

সার্বিক যোগাযোগঃ 01815375435
Chittagong Division

15/07/2021

হিজামা নিন সুস্থ থাকুন,
ঈদুল আযহা উপলক্ষে 20% ছাড় চলছে।আর দেরী নয় চলে আসুন।(01815 375435)

আমরা অনেকেই বাত ব্যথায় ভুগতেছি চিকিৎসা করেও কোন আরাম পাচ্ছি না।তারা হিজামা নিতে পারেন। এবং আমাদের শরীরে প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে টক্সিন জমা হচ্ছে যা আমাদের শরীরে অনেক ধরনের রোগ ব্যধি তৈরী করে।এই টক্সিন বের করার জন্য আমরা হিজামা নিতে পারি।

হিজামা কি?
-----*-----
হিজামা হল এমন একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি, যাতে মানুষের সকল প্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতা বিদ্যামান রয়েছে। যাকে বাংলায় শিঙ্গা এবং ইংরেজিতে Cupping Therapy বলা হয়।

কেন হিজামা করাবেন?
---------*----------
আপনার রোগ হলে যেমন ডাক্তারের কাছে যান। তারপর প্রয়োজন পড়লে অস্ত্রপোচারও করান। তেমনি আপনার রোগের জন্য হিজামা করাবেন। তাহলে ফায়দা স্বরূপ রোগ থেকে ইনশাআল্লাহ মুক্তি পাবেন এবং রাসূল সাঃ এর একটি সুন্নাতের উপরও আমল করা হলো।

★হিজামার উপকারিতা:★
* হিজামা টিস্যু থেকে বিষ মুক্ত করতে সহায়তা করে।
* লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম সক্রিয় করে।
* বড় রক্তনালী পরিষ্কার করে এবং রক্ত সঞ্চালন সক্রিয় করে।
* লিম্ফ্যাটিক গ্রন্থি ও রক্ত নালী পরিষ্কার করে বিশেষ করে পায়ের পাতার, যাহা পরবর্তীতে সারা দেহে ছড়িয়ে পরে, ইহা দেহে থেকে যাওয়া ঔষধের পরিমাণও দেহ থেকে বের করে দেয়।
* দেহের অভ্যন্তর (রিফ্লেক্স জোন) এর প্রতিক্রিয়ার অবস্থা সক্রিয় ও উদ্দীপ্ত করে, ফলে আক্রান্ত অঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মস্তিস্কের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
* দেহের ভিতরে শক্তি চলাচলের পথ পরিষ্কার করে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে-৫০০০ বছর আগে চীন ও জাপানীরা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।
* চিকিৎসার পরে মানবদেহের ত্বক ও পেশীতে অবশিষ্ট ঔষধ ও বিষ দেহ থেকে শুষে নিতে কাপিং থেরাপি উপকারী। এর ফলে রক্ত থেকে ইউরিক এসিড ও জয়েন্ট থেকে ক্রিস্টাল বের করে দেয়া সহজ হয় ফলে গাউট রোগ ভাল হয়।

* দেহের কোন স্থানে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করতে বা কোন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কম হলে তা দূর করতে কাপিং করার দরকার হয়।
দেহের সাধারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ইম্যুনিটি গ্লান্ডস, বিশেষ করে থাইমাস গ্লান্ড যাহা পিঠে ৪র্থ ভার্টিব্রা বরাবর কাপিং করা হয়।

হিজামা সংক্রান্ত হাদীসঃ
---------*----------
(১) হযরত আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জিবরীল আমাকে জানিয়েছেন যে, মানুষ চিকিৎসার জন্য যতসব উপায় অবলম্বন করে, তম্মধ্যে হিজামাই হল সর্বোত্তম।” আল-হাকিম, হাদীছ নম্বর: ৭৪৭০

(2) হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “খালি পেটে হিজামাই সর্বোত্তম। এতে শেফা ও বরকত রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বোধ ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।” সুনানে ইবনে মাজা, হাদীছ নম্বর: ৩৪৮৭

হিজামা (শিঙ্গা) এর মাধ্যমে যে সব রোগের চিকিৎসা করা হয়ে থাকেঃ
-----------------*-------------------
১। মাইগ্রেন জনিত দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা
২। রক্তদূষণ
৩। উচ্চরক্তচাপ
৪। ঘুমের ব্যাঘাত
৫। স্মৃতিভ্রষ্টতা
৬। অস্থি সন্ধির ব্যাথা/ গেটে বাত
৭। ব্যাক পেইন
৮। হাঁটু ব্যাথা
৯। দীর্ঘমেয়াদী সাধারন মাথা ব্যাথা
১০। ঘাড়ে ব্যাথা
১১। কোমর ব্যাথা
১২। পায়ে ব্যাথা
১৩। মাংসপেশীর ব্যাথা
১৪। দীর্ঘমেয়াদী পেট ব্যথা
১৫। হাড়ের স্থানচ্যুতি জনিত ব্যাথা
১৬। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা
১৭। সাইনোসাইটিস
১৮। হাঁপানি
১৯। হৃদরোগ
২০। রক্তসংবহন তন্ত্রের সংক্রমন
২১। টনসিল
২২। দাঁত/মুখের/জিহ্বার সংক্রমন
২৩। গ্যাস্ট্রিক পেইন
২৪। মুটিয়ে যাওয়া
২৫। দীর্ঘমেয়াদী চর্মরোগ
২৬। ত্বকের নিম্নস্থিত বর্জ্য নিষ্কাশন
২৭। ফোঁড়া-পাঁচড়া সহ আরো অনেক রোগ।
২৮। ডায়াবেটিস
২৯। ভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রোল্যাপ্স/ হারনিয়েশান
৩০। চুল পড়া
৩১। মানসিক সমস্যা ...সহ আরও অনেক রোগ।

রাসূল সাঃ এর যুগে এই চিকিৎসা খুব বেশি প্রচলিত ছিলো। রাসূল সাঃ একদিন ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে সাথে সাথে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে হিজামা করিয়েছেন। যেহেতু আল্লাহ তায়ালার রাসূল হিজামা নিজে করেছেন এবং অন্যদের করতে উৎসাহ প্রদান করেছেন তাহলে নিশ্চয়ই এরমধ্যে বহু উপকার রয়েছে।

Appointment: 01815-375435 WhatsApp
বিঃ দ্রঃ আরবী মাসের ১৭, ১৯, ২১ তারিখ হলো হিজামার জন্য উত্তম সময়। আর দিন হিসেবে সোম, মঙ্গল আর বৃহঃবার উত্তম। তবে অন্য দিনেও হিজামা করানো যাবে।

হিজামা একটি ফরগটেন সুন্নাহ। নিশ্চয়ই এর মধ্যে উপকার রয়েছে। হিজামা করুন, একটা সুন্নাহকে রিভাইভ করুন।
অভিজ্ঞ ডাঃ এবং মনোরম পরিবেশে হিজামা করানো হয়।

চট্টগ্রামে আমরাই সবচেয়ে কম খরচে হিজামা করাই।
লোকেশান:
১। একে খান মোড়,কুটুম বাড়ি রেস্তোরাঁ পিছনে, মাহমুদ খান জামে মসজিদ রোড, চট্টগ্রাম।
2। চকবাজার,চট্টগ্রাম এর কলেজের পুর্ব গেইট।
কক্সবাজার এবং কুমিল্লা আমাদের শাখা আছে।
** মহিলাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মহিলা থেরাপিষ্ট রয়েছে ***
(বি:দ্র:হোম সার্ভিস দেওয়া হয়,ঈদের ছুটিতে ও চালু থাকবে।

হিজামা করুন সুস্থ থাকুন
12/12/2020

হিজামা করুন
সুস্থ থাকুন

14/12/2019

মাগরিবের পর থেকে শুরু হল রবিউস সানি মাসে হিজামা করার সুন্নত তারিখের প্রথম দিন।
01815375435

গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল প্রবন্ধরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল ...
05/08/2019

গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল প্রবন্ধ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি সন্নিকটে?
আজ আমরা গাজওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্তানের মহাযুদ্ধ নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ। এটা এমনই এক মর্যাদার্পূণ জিহাদ, যে ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট ফজিলত ও দিক-নির্দেশনা রয়েছে।

গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ইমাম মাহদি এবং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু আগে অথবা সমসাময়িক সময়ে এই পাক-ভারত-বাংলাদেশে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার সংগঠিত যুদ্ধকে বুঝায়। 'গাজওয়া' অর্থ যুদ্ধ, আর 'হিন্দ' বলতে এই উপমহাদেশ তথা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়।

আমরা প্রথমত এসংক্রান্ত কয়েকটি প্রামাণ্য হাদিস উল্লেখ করব। এরপর এর প্রেক্ষাপট, সময় ও অবস্থান র্নিণয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

১ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الزَّمِنُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ صُرَيْمٍ السَّكُونِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتُقَاتِلُنَّ الْمُشْرِكِينَ، حَتَّى تُقَاتِلَ بَقِيَّتُكُمُ الدَّجَّالَ، عَلَى نَهْرٍ بِالأُرْدُنِّ، أَنْتُمْ شَرْقِيَّهُ وَهُمْ غَرْبِيَّهُ، وَمَا أَدْرِي، أَيْنَ الأُرْدُنُّ يَوْمَئِذٍ مِنَ الأَرْضِ.
অর্থ : সুরাইম রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে তোমরা মুশরিকদের (মূর্তিপূজারীদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; এমনকি এ যুদ্ধে তোমাদের অবশিষ্ট মুজাহিদরা জর্ডান নদীর তীরে দাজ্জালের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এই যুদ্ধে তোমরা পূর্ব দিকে অবস্থান করবে আর দাজ্জালের অবস্থান হবে পশ্চিম দিকে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, সেদিন জর্ডান কোথায় অবস্থিত হবে?

সূত্র :
১. কাশফুল আসতার আন জাওয়াইদিল বাজ্জার : ৪/১৩৮, হা. নং ৩৩৮৭, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরুত-
২. মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৭/৩৪৮-৩৪৯, হা. নং ১২৫৪২, প্র. মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো-

মান :
এর সনদ বিশুদ্ধ। হাফিজ হাইসামি রহ. হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন, এটি ইমাম তাবারানি রহ. ও ইমাম বাজ্জার রহ. বর্ণনা করেছেন। আর বাজ্জারে বর্ণিত হাদিসটির বর্ণনাকারী সবাই নির্ভরযোগ্য।
(দেখুন, মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৭/৩৪৮-৩৪৯, হা. নং ১২৫৪২, প্র. মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো)

২ নং হাদিস :
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، عَنْ جَبْرِ بْنِ عَبِيدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، وَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ أَفْضَلَ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ.
অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্তানের জিহাদ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি আমি সে জিহাদ পেয়ে যাই তাহলে আমি আমার জান-মাল সব কিছু তাতে ব্যয় করব। এতে যদি আমি শাহাদত বরণ করি তাহলে আমি হব সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদ। আর যদি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব (জাহান্নামের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা।

সূত্র :
১. সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৪, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব-
২. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৯/২৯৭, হা. নং ১৮৫৯৯, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
৩. মুসনাদু আহমাদ : ১২/২৮-২৯, হা. নং ৭১২৮, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-
৪. মুসতাদরাকুল হাকিম : ৩/৫৮৮, হা. নং ১৭৭৫/৬১৭৭, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৮/৩১৬, প্র. আস-সাআদা, মিসর-
৬. আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৭, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :
এ বর্ণনাটির সনদ হাসান তথা উত্তম। কেননা, এর বর্ণনাকারীদের সবাই নির্ভরযোগ্য হলেও জাবর বিন আবিদা নামক একজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে সামান্য একটু বিতর্ক আছে। ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। হাফিজ জাহাবি রহ. দুর্বল রাবি বললেও হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. তার বিপরীতে তাকে মাকবুল বা গ্রহণীয় রাবি বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। (দেখুন, তাকরিবুত তাহজিব : ১/৩৩৭, জীবনী নং ৮৯২)

এছাড়াও এর সমর্থনে আরও কিছু হাদিস রয়েছে। যেমন 'মুসনাদু আহমাদ'-এর ১৪/৪১৯ পৃষ্ঠার ৮৮২৩ নং হাদিস এবং ইমাম ইবনে আবি আসিম রহ. বিরচিত ‘আল জিহাদ’ গ্রন্থের ২৯১ নং হাদিস।

৩ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الْوُصَابِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمُ اللهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ.
অর্থ : হজরত সাওবান রা. সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে হতে দুটি দলকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। একটি দল, যারা হিন্দুস্তানের যুদ্ধে শরিক হবে। আর দ্বিতীয় আরেকটি দল, যারা ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সঙ্গে মিলে যুদ্ধ করবে।

সূত্র :
১. মুসনাদু আহমাদ : ৩৭/৮১, হা. নং ২২৩৯৬, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-
২. সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৫, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব-
৩. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৯/২৯৭, হা. নং ১৮৬০০, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
৪. আল-মুজামুল আওসাত : ৭/২৩, হা. নং ৬৭৪১ প্র. দারুল হারামাইন, কায়রো-
৫. আত তারিখুল কাবির : ৬/৭২-৭৩, জীবনী নং ১৭৪৭, প্র. দায়িরাতুল মাআরিফিল উসমানিয়্যা, হায়দারাবাদ-
৬. আল কামিল, ইবনে আদি : ২/৪০৮, জীবনী নং ৩৫১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-

মান :
এ হাদিসটি হাসান। এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে বাকিয়্যা বিন অলিদ নামক একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী আছে। তবে বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি (عن) এর পরিবর্তে (حدثنا) ব্যবহার করায় এখানে তাদলিসজনিত কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হয়নি। আর আবু বকর বিন অলিদ মাজহুলুল হাল হলেও নির্ভরযোগ্য রাবি আব্দুল্লাহ বিন সালিম আশআরি রহ.-এর মুতাবাআত (অনুরূপ বর্ণনা) থাকায় হাদিসটি হাসান হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকল না।

৪ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا الْبَرَاءُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْثٌ إِلَى السِّنْدِ وَالْهِنْدِ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ، وَإِنْ أَنَا فَذَكَرَ كَلِمَةً رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النَّارِ.
অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সত্যবাদী বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করত বলেছেন, এ উম্মতের মধ্যে সিন্ধু ও হিন্দুস্তানের দিকে একটি যুদ্ধাভিযান পরিচালিত হবে। (আবু হুরাইরা রা. বলেন,) আমি যদি সে যুদ্ধ পেয়ে যাই, অতঃপর যুদ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে যাই তাহলে তো আমি মহাসৌভাগ্যবান। আর যদি আমি গাজি হযে ফিরে আসি তাহলে আমি হব মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা। আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিদান করেছেন।

সূত্র :
মুসনাদু আহমাদ : ১৪/৪১৯, হা. নং ৭১২৮, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-

মান :
এ বর্ণনাটির সনদ জইফ। কেননা, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে বারা বিন আব্দুল্লাহ গানাবি নামক একজন দুর্বল বর্ণনাকারী আছে। এছাড়াও এতে হাসান বসরি রহ. এবং আবু হুরাইরা রা.-এর মাঝে সূত্র বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ রয়েছে। যেহেতু অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের মতানুসারে হাসান বসরি রহ. আবু হুরাইরা রা. থেকে সরাসরি কোনো হাদিস শোনেননি।

৫ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا أَبُو الْجَوْزَاءِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ - وَكَانَ مِنْ نُسَّاكِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ - قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُبَيْهٍ مَوْلَى صَفِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أُدْرِكْهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، فَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ كَأَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ.
অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্তানের জিহাদ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি যদি সে জিহাদ পেয়ে যাই তাহলে তাতে আমি আমার জান-মাল সব কিছু ব্যয় করব। এতে যদি আমি শাহাদত বরণ করি তাহলে আমি হব সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদের ন্যায়। আর যদি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব (জাহান্নামের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা।

সূত্র :
আল-জিহাদ, ইবনু আবি আসিম : ২/৬৬৮, হা. নং ২৯১, প্র. মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা-

মান :
এ বর্ণনাটি জইফ। কেননা, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে হাশিম বিন সাইদ নামক একজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। অবশ্য কিনানা বিন নুবাইহকে ইমাম আজদি রহ. জইফ বললেও হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. তা প্রত্যাখ্যান করে তাকে মাকবুল বা গ্রহণীয় রাবি বলে অভিহিত করেছেন।

৬ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ صَفْوَانَ، عَنْ بَعْضِ الْمَشْيَخَةِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَكَرَ الْهِنْدَ، فَقَالَ: لَيَغْزُوَنَّ الْهِنْدَ لَكُمْ جَيْشٌ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِهِمْ مُغَلَّلِينَ بِالسَّلَاسِلِ، يَغْفِرُ اللَّهُ ذُنُوبَهُمْ، فَيَنْصَرِفُونَ حِينَ يَنْصَرِفُونَ فَيَجِدُونَ ابْنَ مَرْيَمَ بِالشَّامِ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ تِلْكَ الْغَزْوَةَ بِعْتُ كُلَّ طَارِفٍ لِي وَتَالِدٍ وَغَزَوْتُهَا، فَإِذَا فَتْحَ اللَّهُ عَلَيْنَا وَانْصَرَفْنَا فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّرُ، يَقْدَمُ الشَّامَ فَيَجِدُ فِيهَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَلَأَحْرِصَنَّ أَنْ أَدْنُوَ مِنْهُ فَأُخْبِرُهُ أَنِّي قَدْ صَحِبْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَحِكَ، ثُمَّ قَالَ: هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ.
অর্থ : আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিন্দুস্তানের যুদ্ধের আলোচনার প্রাক্কালে বলেছেন, অবশ্যই তোমাদের একটি দল হিন্দুস্থানের সাথে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ সেই দলের যোদ্ধাদের সফলতা দান করবেন এবং তারা হিন্দুস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে। আল্লাহ তাআলা সেই দলের যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর মুসলিমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে সিরিয়ায় পেয়ে যাবে। হজরত আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, আমি যদি গাজওয়াতুল হিন্দে অংশগ্রহণের সু্যোগ পাই তাহলে আমি আমার নতুন পুরাতন সব সম্পদ বিক্রি করে দেবো এবং এতে অংশগ্রহণ করব। এরপর যখন আল্লাহ তাআলা আমাদের বিজয় দান করবেন এবং আমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসব তখন আমি হব (জাহান্নামের আগুন হতে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা, যে সিরিয়ায় গিয়ে ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সাথে মিলিত হবে। হে আল্লাহর রাসুল, আমার খুব আকাঙ্ক্ষা যে, আমি ইসা আ.-এর নিকটবর্তী হয়ে তাঁকে বলব যে, আমি আপনার সংশ্রবপ্রাপ্ত একজন সাহাবি। তিনি বলেন, এতে রাসুলুল্লাহ সা. মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন এবং বললেন, সে (যুদ্ধ) তো অনেক দেরি! অনেক দেরি!!

সূত্র :
আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৬, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :
এ সনদটি জইফ। কেননা, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে বাকিয়্যা বিন অলিদ নামক একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী আছে। এছাড়াও আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণনাকারী এখানে অজ্ঞাত।

৭ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: يَبْعَثُ مَلِكٌ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ جَيْشًا إِلَى الْهِنْدِ فَيَفْتَحُهَا، فَيَطَئُوا أَرْضَ الْهِنْدِ، وَيَأْخُذُوا كُنُوزَهَا، فَيُصَيِّرُهُ ذَلِكَ الْمَلِكُ حِلْيَةً لَبَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَيُقْدِمُ عَلَيْهِ ذَلِكَ الْجَيْشُ بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مُغَلَّلِينَ، وَيُفْتَحُ لَهُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، وَيَكُونُ مَقَامُهُمْ فِي الْهِنْدِ إِلَى خُرُوجِ الدَّجَّالِ.
অর্থ : হজরত কাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জেরুজালেমের একজন বাদশাহ হিন্দুস্তানের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠাবেন। সৈন্যদল হিন্দুস্তানের ভূমি জয় করে তা পদানত করবে। এর অর্থ-ভাণ্ডার দখল করবে। তারপর বাদশাহ এসব ধনদৌলত বাইতুল মুকাদ্দাসে সাজিয়ে রাখবেন। সৈন্যদলটি হিন্দুস্তানের রাজাদের শিকল দিয়ে বেঁধে বন্দি করে তাঁর নিকট উপস্থিত করবে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সকল এলাকায় তাঁর বিজয়ার্জন হবে। দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত তাঁরা হিন্দুস্তানেই অবস্থান করবেন।

সূত্র :
আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৫, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :
এটার সনদ জইফ। কেননা, কাব রহ. থেকে বর্ণনাকারীর নাম এখানে অস্পষ্ট। আর এটা 'মাকতু' তথা তাবিয়ি বর্ণিত একটি হাদিস।

৮ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ جَرَّاحٍ، عَنْ أَرْطَاةَ، قَالَ: عَلَى يَدَيْ ذَلِكَ الْخَلِيفَةِ الْيَمَانِيِّ الَّذِي تُفْتَحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةُ وَرُومِيَّةُ عَلَى يَدَيْهِ، يَخْرُجُ الدَّجَّالُ وَفِي زَمَانِهِ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى يَدَيْهِ تَكُونُ غَزْوَةُ الْهِنْدِ، وَهُوَ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ، غَزْوَةُ الْهِنْدِ الَّتِي قَالَ فِيهَا أَبُو هُرَيْرَةَ.
অর্থ : হজরত আরতাত রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ইয়ামানি খলিফার নেতৃত্বে ইসতামবুল ও রোম (ইউরোপ) বিজয় হবে, তাঁর সময়েই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, তাঁর যুগেই ইসা ইবনে মারইয়াম আ. অবতরণ করবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই হিন্দুস্তানের যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তিনি হবেন হাশিমি বংশের লোক। গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ঐ যুদ্ধ উদ্দেশ্য, যে ব্যাপারে আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেছেন।

সূত্র :
আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪১০, হা. নং ১২৩৮, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-

মান :
এটার সনদ জইফ। কেননা, এতে অলিদ বিন মুসলিম নামক একজন মুদাল্লিস বর্ণনাকারী আছে, যে হাদিসটি عن দ্বারা বর্ণনা করেছে। আর এটা 'মাকতু' তথা তাবিয়ি বর্ণিত একটি হাদিস।

গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসগুলোর সম্মিলিত মান :
উপরিউক্ত হাদিসগুলোর কিছু সহিহ, কিছু হাসান এবং কিছু জইফ। তবে এ জইফগুলো একটিও মারাত্মক নয়; বরং সবগুলোই সহনীয় পর্যায়ের। সবগুলো সনদ একসাথে করলে সম্মিলিতভাবে গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিস সহিহ (বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত) বা কমপক্ষে হাসান (উত্তম সূত্রে বর্ণিত) পর্যায়ের বলে সাব্যস্ত হয়।
এজন্যই শাইখ আলবানি রহ. সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসটিকে সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। (দেখুন, সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৫, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) আর সিলসিলাতুস সহিহা-তে এর সনদকে জাইয়িদ বা হাসান বলে অভিহিত করেছেন। (দেখুন : সিলসিলাতুল আহাহাদিসিস সহিহা : ৪/৫৭০, হা. নং ১৯৩৪, প্র. মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ) এছাড়াও শাইখ শুআইব আরনাওত রহ. মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত উক্ত হাদিসকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন। (দেখুন, মুসনাদু আহমাদ : ৩৭/৮১, হা. নং ২২৩৯৬, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত)

গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসগুলোর সারমর্ম :
এ মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে আমরা যে বিষয়গুলো জানতে পারি, তা হলো-

১. এটা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা. কর্তৃক প্রতিশ্রুত একটি যুদ্ধের ভবিষতবাণী, যা শেষ জমানায় ঘটবে।
২. যুদ্ধটি হবে হিন্দুস্তানে, যা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়।
৩. যুদ্ধটি হবে হিন্দুস্তানের মুশরিক তথা মূর্তিপূজারী হিন্দুদের সাথে।
৪. এ যুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে নিজের জান-মাল সব কিছু ব্যয় করে অংশগ্রহণ করা উচিত; যেমনটি আবু হুরাইরা রা. বলেছেন; এমনকি তিনি এ যুদ্ধ শেষ জমানায় হবে জেনেও তাতে শরিক হয়ে ইসা আ.-এর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন।
৫. এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় অর্জন হবে এবং মূর্তিপূজারী রাষ্ট্রপ্রধানদের হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে নিয়ে আসা হবে।
৬. গাজওয়াতুল হিন্দে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে ইসা আ.-এর সাথে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং উভয় দলের একই মর্যদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।।
৭. এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
৮. এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন।
৯. এ যুদ্ধের শহিদগণ হবেন শ্রেষ্ঠ শহিদদের অন্তর্গত।
১০. এ যুদ্ধ রাসুল সা.-এর যুগের অনেক পরে দাজ্জাল আবির্ভাবের পূর্বে শেষ জমানায় সংঘটিত হবে।
১১. এ যুদ্ধ জেরুজালেম থেকে ইমাম মাহদির নেতৃ্ত্বে পরিচালিত হবে।
১২. এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মধ্য হতে যারা গাজি হয়ে ফিরবেন তারা ইসা আ.-এর সাথে দাজ্জালের বিরূদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধে শরিক হবেন।

এ যুদ্ধ কোথায় এবং কবে হবে?
'আল-হিন্দ' দ্বারা ভৌগলিকভাবে দুটি স্থানকে নির্দেশ করে। এক : ইরাকের বসরা নগরী; যেমন শাইখ মাশহুর হাসান স্বীয় 'আল ইরাক ফি আহাদিসা ওয়া আসারিল ফিতান ওয়াল মালাহিম' গ্রন্থে বলেন, 'হিন্দ' বলে কখনো কখনো ইরাকের বসরা নগরীকেও বুঝানো হয়ে থাকে। দুই : ভারত উপমহাদেশ, যা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা নিয়ে গঠিত। হাদীসে বর্ণিত 'আল হিন্দ' বলতে সকল উলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থ তথা ভারত উপমহাদেশই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। তাই 'গাজওয়াতুল হিন্দ' আমাদের এ ভুখণ্ডেই সংঘটিত হবে। আর হাদিসের ভাষ্যানুসারে এর প্রতিপক্ষ দলটি হবে হিন্দুরা।

এ যুদ্ধ পূর্বে হয়ে গেছে নাকি অদূর ভবিষ্যতে হবে এ নিয়ে উলামায়ে কিরামের মাঝে কিছুটা মতানৈক্য পাওয়া যায়। কতিপয় উলামায়ে কিরামের মতে এ যুদ্ধ বনি উমাইয়ার শাসনামালে মুহাম্মাদ বিন কাসিম রহ.-এর ভারত বিজয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে গেছে। কারও মতে সুলতান মাহমুদ গজনবি রহ.-এর ভারত অভিযানের দ্বারাই এ যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গাজওয়াতুল হিন্দের সবগুলো হাদিস সামনে রাখলে প্রতিভাত হয় যে, এ যুদ্ধ এখনও হয়নি; বরং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু কাল পূর্বে ইমাম মাহদির নেতৃত্বে এটা সংঘটিত হবে এবং এ যুদ্ধের গাজিরাই সিরিয়ায় গিয়ে ইসা আ.-এর সাথে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

শাইখ হামুদ তুওয়াইজিরি বলেন :
وما ذكر في حديث أبي هريرة رضي الله عنه الذي رواه نعيم بن حماد من غزو الهند؛ فهو لم يقع إلى الآن، وسيقع عند نزول عيسى ابن مريم عليهما الصلاة والسلام إن صح الحديث بذلك.
অর্থ : নুআইম বিন হাম্মাদ কর্তৃক বর্ণিত আবু হুরাইরা রা.-এর হাদিসে যে গাজওয়াতুল হিন্দের কথা এসেছে তা এখনও সংঘটিত হয়নি। এ হাদিসটি সহিহ হলে সত্বরই তা ইসা আ.-এর অবতরণের সময়কালে সংঘটিত হবে।

সূত্র :
ইতহাফুল জামাআহ : ১/৩৬৬, গাজওয়াতুল হিন্দসংক্রান্ত অধ্যায়, প্র. দারু সামিয়ি, রিয়াদ-

শাইখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন :
الذي يبدو من ظاهر حديث ثوبان وحديث أبي هريرة ـ إن صح ـ أن غزوة الهند المقصودة ستكون في آخر الزمان ، في زمن قرب نزول عيسى بن مريم عليهما السلام ، وليس في الزمن القريب الذي وقع في عهد معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه
অর্থ : সাওবান রা. ও আবু হুরাইরা রা. এর হাদিস সহিহ হয়ে থাকলে এর স্পষ্ট ভাষ্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, কাঙ্খিত গাজওয়াতুল হিন্দ শেষ জমানায় ইসা আ.-এর অবতরণের নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত হবে। মুআবিয়া রা.-এর যুগের কাছাকাছি সময়ে যে সকল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো নয়।

সূত্র :
ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব : প্রশ্নোত্তর নং ১৪৫৬৩৬-

বর্তমান পরিস্থিতি :
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী খোরাসান (বর্তমান আফগানিস্থান) থেকে কালিমাখচিত কালো পতাকাধারীদের উত্থান এবং তাদের কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া, পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে ভারতের কাশ্মীর সীমান্তে সাত লক্ষ সেনা মোতায়েন, পাক-ভারত-বাংলাদেশের হকপন্থী দলগুলোর সুদৃঢ় অবস্থান, পানি নিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারতের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং মুসলিমদের নির্যাতন নিয়ে ভারতের ভেতরে মুসলিমদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ, সেভেন সিস্টারস বা ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যের স্বাধীনতার দাবি নিঃসন্দেহে ভারত বিভক্তি এবং আশু সে মহাযুদ্ধেরই ইঙ্গিত বহন করে।

বর্তমানে এই উপমহাদেশের মূর্তিপূজারী ভূখণ্ডের মুসলিমপ্রধান ভূখণ্ডের ওপর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের অব্যাহত প্রচেষ্টা দেখলে বুঝা যায় যে, এটি খুব সত্বরই চূড়ান্ত সংঘাতময়রূপ ধারণ করবে এবং এখানকার ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী অনুসারে উম্মতের একটি দলকে এদিকে অগ্রসর হতে হবে। এটি ঘটবে সেই সমসাময়িক সময়ে, যখন সমগ্র দুনিয়াতে ইসলামের ক্রান্তিলগ্নে বৈশ্বিক শাসনব্যশাসনব্যবস্থা খিলাফতের আদলে সাজাতে আল্লাহ তাআলা ইমাম মাহদিকে প্রেরণ করবেন, যার খিলাফতের সপ্তম বছরে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং দাজ্জালের সাথে মহাযুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে ইসা আ.-এর আগমন ঘটবে। গাজওয়াতুল হিন্দের সময় অবশ্যই পাক-ভারত-বাংলাদেশের মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা আলাদা হয়ে যাবে। তারা হয়তো কাফিরদের পক্ষে যোগ দিবে অথবা পালিয়ে বেড়াবে। এই ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুসলিমরা জয়ী হবে এবং তারা ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়ে ইসা আ.-এর সাথে মিলিত হবে।

সারকথা :
গাজওয়াতুল হিন্দের প্রকৃত সময় এবং অবস্থা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। আমরা কেবল হাদিসের আলোকে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ঘটনা সম্পর্কে নিজেদেরকে সচেতন এবং প্রস্তুত করতে পারি। সার্বিক বিচারে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এ যুদ্ধ খুবই সন্নিকটে। কেননা, এ যুদ্ধের সাথে ইমাম মাহদি ও ইসা আ.-এর সম্পর্ক রয়েছে। আর আমার পূর্বের দুটি পোস্টে এ বিষয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করে দেখিয়েছি যে, তাঁদের আগমন খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটতে যাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল যারা, তারা ভালো করেই জানেন যে, বর্তমানে তাগুতি শক্তিগুলো আসন্ন মহাযুদ্ধের জন্য কী পরিমান প্রস্তুতি গ্রহন করছে! অথচ আমরা মুসলিমরাই একমাত্র জাতি, যারা কিনা আজও এ সম্পর্কে গাফিল ও চরম উদাসীন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এত করে সতর্ক করে দিয়ে গেছেন, যার কারণে তাগুতরা পর্যন্ত সতর্ক হয়ে গেছে, আর আমরা হতভাগার দল আজও আমাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত।

"CIA terrified of Ghazwa e Hind" (ইংরেজি) শিরোনামে এই ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারবেন, তারা কতটা সচেতন আর আমরা কতটা গাফিল হয়ে আছি!
http://www.youtube.com/watch?v=RqNbqfai9aE

হে আমার প্রিয় ভাই, ঘুম থেকে এবার জাগো। একবার চেয়ে দেখো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী ও বর্তমানের ভয়ংকর পরিস্থিতি। এখনই যদি সতর্ক না হও তাহলে ঘুম থেকে জেগে দেখবে তোমরা শিয়রে অস্ত্র হাতে তাগুতের বাহিনী দণ্ডায়মান। হে আমার দ্বীনের বন্ধু, এখনই সময় সজাগ হওয়ার, প্রস্তুতি নেওয়ার। অসময়ে তোমার দৌঁড়ঝাপ তোমার কোনো কাজে আসবে না। সত্যের বাহিনী তোমার অপেক্ষায় আছে। সাড়া দাও তাদের ডাকে; নইলে আর সময় পাবে না। হে আল্লাহ, তুমি মুসলিমবিশ্বের এ বিনাশী নিদ টুটে দাও। তাদের অন্তর্চক্ষু খুলে দাও। আশু বিপদ অনুধাবনের শক্তি দাও। আল্লাহ, আমাদের রক্ষা করো, হিম্মত দাও, তাওফিক দাও।

Address

Chittagong

Telephone

01815375435

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hijama Care BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category