খাজা ওসমান ফারুকী

খাজা ওসমান ফারুকী Khaja Osman Faruquee
A visionary guide for sincere seekers on the path of spiritual realization.
(8)

Sufi Missionary | Meditation Master | Islamic Scholar | Researcher | Author | Qur’anic Sufi Interpreter | Sufi Spiritual Mentor (Murshid)
🌐.suficentre.org 🔸 Contriver & Meditation Master
Sufi Meditation Method

🔸Chairman
Sufi Spiritual Foundation

🔸 Sajjada Nashin
'Bargahe Chishtya' সুফি সেন্টার Sufi Center

🔸 Editor & Publisher
"Sufinama" Sufi Articles Of Islamic Culture Journal

🔸 Chief Executive Officer (CEO) & Founder
Sufi Spiritual Academy

সুফিতত্ত্বে মুরাকাবা : আধ্যাত্মিক ধ্যান সাধনার রূপরেখাইসলামি আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার কেন্দ্রে যে ধারণাটি সর্বাধিক গভীর ও ...
21/04/2026

সুফিতত্ত্বে মুরাকাবা : আধ্যাত্মিক ধ্যান সাধনার রূপরেখা

ইসলামি আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার কেন্দ্রে যে ধারণাটি সর্বাধিক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ, তা হলো মুরাকাবা—একটি সচেতন অন্তর্দৃষ্টি, যেখানে মানুষ নিজের অস্তিত্বকে আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান ও উপস্থিতির মধ্যে অনুভব করে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ধ্যান-প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব ও অস্তিত্বতত্ত্বের এক অন্তর্মুখী অনুশীলন, যেখানে মানব-চেতনা ক্রমাগতভাবে তার স্রষ্টার নিকটবর্তী হওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
কুরআন মুরাকাবার এই দার্শনিক ভিত্তিকে বহুস্থানে সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ”
অর্থাৎ, “তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা আল-হাদীদ ৫৭:৪)
এই আয়াত অস্তিত্বগত নৈকট্যের একটি সার্বজনীন সত্যকে প্রকাশ করে, যা মুরাকাবার মূল দার্শনিক ভিত্তি—আল্লাহর উপস্থিতি কোনো স্থানিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বত্র বিস্তৃত।

আরেক স্থানে বলা হয়েছে:
“وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ”
অর্থাৎ, “আমি মানুষের গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও তার অধিক নিকটবর্তী।” (সূরা ক্বাফ ৫০:১৬)
এই আয়াত মানবসত্তার অন্তর্গত গভীরতার প্রতি ইঙ্গিত করে, যেখানে আল্লাহর নৈকট্য কেবল বাহ্যিক নয়, বরং অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। সুফি পরিভাষায় এই উপলব্ধিই মুরাকাবার সর্বোচ্চ স্তর—যেখানে “দূরত্ব” ধারণাটিই বিলীন হয়ে যায়।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন:
“أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ”
অর্থাৎ, “সে কি জানে না যে আল্লাহ তাকে দেখছেন?” (সূরা আল-আলাক ৯৬:১৪)
এই আয়াত মানবচেতনাকে এক অনিবার্য নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণের দিকে আহ্বান করে, যেখানে প্রতিটি চিন্তা ও কর্ম এক সর্বদ্রষ্টা সত্তার পর্যবেক্ষণের অধীন বলে প্রতিভাত হয়। এটি মুরাকাবার প্রাথমিক স্তর—আত্মসচেতন ঈমান (conscious faith)—এর ভিত্তি গঠন করে।
এই আধ্যাত্মিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করে কুরআনের তাফাক্কুর ও তাদাব্বুর সম্পর্কিত নির্দেশনাগুলো, যা মুরাকাবার বৌদ্ধিক ও আত্মিক গভীরতাকে প্রসারিত করে।
আল্লাহ বলেন:
“الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯১)
অর্থ: “যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।”
এই আয়াত তাফাক্কুর বা সৃষ্টিজগতের উপর গভীর চিন্তার মাধ্যমে স্রষ্টার মহিমা উপলব্ধির দিকনির্দেশ দেয়, যা মুরাকাবার বাহ্যিক-আন্তঃসম্পর্কিত স্তরকে সমৃদ্ধ করে।
আর তাদাব্বুর প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন:
“أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ” (সূরা নিসা ৪:৮২)
অর্থ: “তারা কি কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে না?”
এবং আরও বলেন:
“أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا” (সূরা মুহাম্মদ ৪৭:২৪)
অর্থ: “তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-অনুধ্যান করে না, নাকি তাদের হৃদয়ে তালা পড়ে গেছে?”
এই দুই আয়াত তাদাব্বুর-কে কেবল পাঠ বা শ্রবণ নয়, বরং অন্তর্দৃষ্টি ও হৃদয়-উন্মোচনের একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া হিসাবে উপস্থাপন করে। এটি মুরাকাবার বৌদ্ধিক ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করে, যেখানে কুরআন হয়ে ওঠে আত্মার অভ্যন্তরীণ আয়না।

দার্শনিকভাবে মুরাকাবা হলো এক ধরনের Metaphysical Awareness, যেখানে মানুষ তার ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বকে চিরন্তন সত্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এটি আত্মাকে বস্তুজগতের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে এক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বাস্তবতার দিকে পরিচালিত করে। সুফি চিন্তায় এই প্রক্রিয়া তাসফিয়াতুল কালব (হৃদয়ের পরিশুদ্ধি) এবং মুশাহাদা (আধ্যাত্মিক প্রত্যক্ষ উপলব্ধি)-এর পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়।

সুফিতত্ত্বে মুরাকাবা তাই একটি বহুমাত্রিক ধারণা—এটি একই সঙ্গে নৈতিক অনুশীলন, জ্ঞানতাত্ত্বিক সচেতনতা এবং অস্তিত্বগত অভিজ্ঞতার সমন্বিত রূপ। এটি মানুষের ভিতরে এমন এক অন্তর্মুখী স্থিতি সৃষ্টি করে, যেখানে সে নিজেকে নিছক একটি সামাজিক সত্তা হিসাবে নয়, বরং আল্লাহর উপস্থিতির প্রতিফলিত বাস্তবতা হিসাবে উপলব্ধি করতে শুরু করে।

“সুফিতত্ত্বে মুরাকাবা : আধ্যাত্মিক ধ্যান সাধনার রূপরেখা” কেবল একটি আধ্যাত্মিক অনুশীলনের বিবরণ নয়; বরং এটি কুরআনিক চেতনা, দার্শনিক বিশ্লেষণ এবং সুফি অভিজ্ঞতার এক সমন্বিত একাডেমিক কাঠামো, যা মানব আত্মার গভীরতম সত্যকে উপলব্ধির একটি সুসংহত পথরেখা উপস্থাপন করে।

১ম পর্ব
ধারাবাহিক ভাবে চলবে ইনশাআল্লাহ

লেখাটি শেয়ার করবেন এবং কমেন্ট বক্সে লিখুন।

ইয়া নূর ইয়া হাদী..


#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

“জিকির ও মুরাকাবা সমন্বিত আধ্যাত্মিক আমল”আত্মশুদ্ধি, অন্তরের প্রশান্তি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে সুফি সে...
20/04/2026

“জিকির ও মুরাকাবা সমন্বিত আধ্যাত্মিক আমল”

আত্মশুদ্ধি, অন্তরের প্রশান্তি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে সুফি সেন্টার একটি বিশেষ
“জিকির ও মুরাকাবা সমন্বিত আধ্যাত্মিক আমল” আপনাদের জন্য উপস্থাপন করছে।

এই আমল নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে অন্তরের অস্থিরতা প্রশমিত হয়, হৃদয় নূরানী হয়ে ওঠে এবং আল্লাহর স্মরণে এক গভীর উপস্থিতি (হুযুরে ক্বালব) সৃষ্টি হয়, ইনশাআল্লাহ।

🟥 আমলের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি:

🔹 প্রস্তুতি:
আপনি অজু করে নিরিবিলি স্থানে কিবলামুখী হয়ে বসবেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ত করবেন।

🔹 প্রারম্ভিক জিকির:
১১ বার দরূদ শরীফ এবং ১০০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করবেন।

🔹 মূল জিকির: “আল্লাহু”
প্রথমে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি সচেতন হয়ে—
শ্বাস গ্রহণের সময় মনে মনে বলবেন “আল্লাহ”,
এবং শ্বাস ত্যাগের সময় বলবেন “হু”।
এভাবে ১৫৫ বার জিকির সম্পন্ন করবেন।

এরপর শব্দের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ রেখে ৩১৩ / ৫৫৫ / ১০০০ বার “আল্লাহু” জিকির করবেন।

🔹 মুরাকাবা (নীরব ধ্যান):
১০–২০ মিনিট নীরবে অবস্থান করে এই অনুভূতি ধারণ করবেন—
“আল্লাহ আমাকে দেখছেন, আমি তাঁর সামনে উপস্থিত।”

🔹 সমাপ্তি:
১১ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে নিজের ভাষায় দোয়া করবেন।

---

🟧 বিশেষ নির্দেশনা:

▪️ এই আমলের মূল শক্তি সংখ্যা নয়; বরং আন্তরিকতা, একাগ্রতা ও উপস্থিতিতে নিহিত।

▪️ আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

▪️ শুরুতে বিশেষ অনুভূতি না হলেও ধৈর্য ধারণ করে নিয়মিত আমল চালিয়ে যেতে হবে।

◼️◼️
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে তাঁর স্মরণে স্থির থাকার এবং অন্তরের পরিশুদ্ধি অর্জনের তাওফিক দান করুন।

🛑 লেখাটি শেয়ার করে রাখুন। কেউ জিকির মুরাকাবা আমল করলে আপনিও সাওয়াব এর অংশীদার হবেন ইনশাআল্লাহ।

কমেন্ট বক্সে লিখুন ১বার আল্লাহু..

— সুফি সেন্টার


#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

সুফি মেডিটেশন  (Sufi Meditation™) কোর্স কেন করবেন? আপনার কী কখনো মনে হয়েছে—এই আধুনিক, দ্রুতগতির ডিজিটাল পৃথিবীতে আপনার দ...
15/04/2026

সুফি মেডিটেশন (Sufi Meditation™) কোর্স কেন করবেন?

আপনার কী কখনো মনে হয়েছে—
এই আধুনিক, দ্রুতগতির ডিজিটাল পৃথিবীতে আপনার দেহ ও মন যেন ঠিক তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না?
কখনো কী নিজেকে এমন এক অসহায় মাছের মতো মনে হয়, যে পানির বাইরে ছটফট করছে?

বর্তমান যুগে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মানুষের জীবনের সাধারণ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে Sufi Meditation™ একটি পরিমিত, সচেতন এবং আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ অনুশীলন—যা ব্যক্তি জীবনে স্থিতি, স্বচ্ছতা এবং গভীর আত্ম-সংযোগ গড়ে তুলতে সহায়ক।

এই পদ্ধতি মূলত শরীর, মন এবং আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দিকে লক্ষ্য করে, যেখানে ধ্যান, জিকির এবং অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আত্মিক বিকাশ সাধিত হয়।

#সুফি_মেডিটেশন_মেথড_কোর্স শুধু কোনো সাধারণ মেডিটেশন বা শরীরচর্চা নয়। এটি মানসিক প্রশান্তি, আধ্যাত্মিক জাগরণ এবং সর্বাঙ্গীণ সুস্থতার এক সমন্বিত পথ।

এই কোর্সে আপনি ধীরে ধীরে আবিষ্কার করবেন—
আপনার নিজের অন্তর্জগত, আপনার চেতনা, আপনার নীরব শক্তি।

✨ কোর্সে যা থাকবে
🔹 সহজ কিছু আসন ও দেহচর্চা
🔹 গভীর মননশীল মেডিটেশন
🔹 জিকির (আত্মস্মরণ)
🔹 দমচর্চা (Breathwork)
প্রথম সেশন থেকেই আপনি অনুভব করবেন—এক নতুন শান্তি, এক নতুন সংযোগ নিজের সাথে।

🎯 এই কোর্সের উদ্দেশ্য
একজন মানুষকে আধ্যাত্মিক জাগরণের প্রথম স্বাদ দেওয়া,
এবং মুরাকাবা ও মেডিটেশনের সঠিক, বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা।

📘 কী শিখবেন?
★ আধ্যাত্মিক জাগরণ
— নিজের বিশ্বাসের ভেতর থেকেই নিজের সত্তাকে প্রসারিত করার পথ।

★ জিকির ও অটোসাজেশন
— প্রতিদিন নিজেকে উজ্জীবিত রাখা, মানসিক শক্তি বাড়ানো এবং দক্ষতা উন্নয়নের কৌশল।

★ ইবাদতে একাগ্রতা
— নামাজ, জিকির ও ধ্যানের সময় মনকে উপস্থিত রাখা এবং গভীরভাবে উপলব্ধি করা।

★ আসক্তি থেকে মুক্তি
— অভ্যাস ও নির্ভরতার শৃঙ্খল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা।

★ নিজের কাছে ফিরে আসা
— নিজের সত্যিকারের সত্তাকে চিনে নেওয়া।

🌱 শুরু হোক আপনার অন্তরযাত্রা
মাত্র 3 দিনের এই কোর্সে অংশগ্রহণ করে
#সুফি_মেডিটেশন এক অনন্য অভিজ্ঞতা গ্রহণ করুন।
নিজেকে জানুন, নিজেকে গড়ুন, নিজের ভেতরেই খুঁজে নিন শান্তির ঠিকানা।

________

📌 ফ্রি মাস্টার ক্লাস (অনলাইন)
📅 তারিখ: ১৮–২০ এপ্রিল ২০২৬

যারা এই পদ্ধতি সম্পর্কে কাঠামোবদ্ধ ধারণা নিতে চান, তাদের জন্য এই মাস্টার ক্লাসটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

📍 কীভাবে অংশগ্রহণ করবেন:

*এই পোস্টে একটি কমেন্ট করুন
*আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনাকে গ্রুপ লিংক প্রদান করা হবে, যেখানে সরাসরি ক্লাসে যুক্ত হতে পারবেন

শান্তি ও স্থিতি বাইরের কোনো কিছু নয়—এটি অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের ভেতরেই আবিষ্কার করা সম্ভব।
এই প্রয়াস সেই পথচলার একটি সূচনা হতে পারে।


#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী







#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

আজ পহেলা বৈশাখ—বাঙালির সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।সংস্কৃতি ও ধর্ম এক নয়; তবে তাদের মধ্যে কোনো স্বাভাবিক বিরোধও নেই। ব...
14/04/2026

আজ পহেলা বৈশাখ—বাঙালির সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।

সংস্কৃতি ও ধর্ম এক নয়; তবে তাদের মধ্যে কোনো স্বাভাবিক বিরোধও নেই। বাঙালি মানুষ ধর্ম ও বর্ণে ভিন্ন হলেও সংস্কৃতিতে অভিন্ন। পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, বসতবাড়ির গঠন, পেশা, লোকসংগীত, লোককাহিনী, প্রবাদ-প্রবচন—এসবই সংস্কৃতির অংশ, ধর্মের নয়।

সংস্কৃতি মূলত গড়ে ওঠে ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস মাছ-ভাতকেন্দ্রিক হওয়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা ভিন্ন হওয়াও প্রাকৃতিক নিয়ম। একইভাবে পোশাক ও জীবনাচার জলবায়ু ও পরিবেশ-নির্ভর; ধর্ম-নির্ধারিত নয়। তাই সাইবেরিয়া, আরব ও বাংলার মুসলমানদের সংস্কৃতি একরূপ হওয়া প্রত্যাশিত নয়।

বাংলার লোকজ ঐতিহ্য—একতারা, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি গান, নৌকা বাইচ, লাঠিখেলা কিংবা গ্রামীণ খেলাধুলা—এসবই আমাদের সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ; যা প্রকৃতি, ইতিহাস ও মানুষের সম্মিলিত অভিজ্ঞতায় বিকশিত হয়েছে।

তবে একটি প্রবণতা লক্ষণীয়—কখনো কখনো সংস্কৃতিকে ধর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে বাঙালিকে তার নিজস্ব শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে অনেকের মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণা জন্ম নেয় যে, মুসলমান হতে হলে আরব সংস্কৃতি গ্রহণ করতে হবে।

বাস্তবে ইসলাম ধর্ম বিশ্বজনীন—তার মৌলিক আদর্শ সর্বত্র একই; কিন্তু সংস্কৃতি সর্বদা স্থানভেদে ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময়।

পহেলা বৈশাখ বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন—এটি বাঙালি সংস্কৃতির অংশ, কোনো ধর্মীয় আচার নয়।

অতএব, সংস্কৃতি ও ধর্মকে তাদের নিজ নিজ পরিসরে বুঝে গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়।

শুভ নববর্ষ। 🌼


#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

তাসাউফের ঐতিহ্য বনাম বিকৃত ‘সুফিবাদ’: সংকট, সংঘাত ও করণীয়🟧ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে সত্য তার নিজস্ব আলো নিয়ে টিকে থাকে...
13/04/2026

তাসাউফের ঐতিহ্য বনাম বিকৃত ‘সুফিবাদ’: সংকট, সংঘাত ও করণীয়

🟧
ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে সত্য তার নিজস্ব আলো নিয়ে টিকে থাকে, কিন্তু সেই আলোর চারপাশে অন্ধকারও সমানতালে বিস্তার লাভ করে। সুফিতত্ত্ব বা তাসাউফ—যা ইসলামি আধ্যাত্মিকতার হৃদয়, নৈতিকতার গভীরতম রসধারা এবং আত্মশুদ্ধির সুসংহত পথ—আজ এক জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই চ্যালেঞ্জ বাহ্যিক শত্রুর নয়; বরং অভ্যন্তরীণ বিকৃতি, অপব্যাখ্যা এবং আত্মকেন্দ্রিক “সুফিবাদ”-এর উত্থান।

একদল মানুষ “সুফি” পরিচয়ের আড়ালে এমন এক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যার সাথে তাসাউফের হাজার বছরের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের বাস্তব সংযোগ খুবই সীমিত। তাদের উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য, উগ্র ভাষা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, আর প্রকৃত সুফি ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি “প্রেমের পথ” বা আধ্যাত্মিকতার ভাষা ব্যবহার করলেও তাদের বক্তব্য, উপস্থাপনা এবং আচরণে অনিচ্ছাকৃতভাবে উগ্রতা, বিভাজনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পারস্পরিক বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটে। যুক্তি, অযুক্তি ও কুযুক্তির মিশ্রণে তারা নিজেদের অবস্থানকে একমাত্র সঠিক হিসাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখান, যা জ্ঞানভিত্তিক সংলাপের পরিবর্তে একধরনের আত্মকেন্দ্রিক দাবিতে পরিণত হয়।

কিছু ক্ষেত্রে এমনও লক্ষ্য করা যায় যে, ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরঞ্জিত আত্মপরিচয় বা আধ্যাত্মিক অবস্থানের দাবি উত্থাপিত হয়—যা ঐতিহ্যগত তাসাউফের বিনয়, শৃঙ্খলা এবং যাচাইকৃত ধারাবাহিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া সমাজে আধ্যাত্মিক পরিচয়ের বহুল ব্যবহার ও সহজলভ্যতার কারণে “গাউস”, “কুতুব” বা “কামেল” ইত্যাদি পরিভাষার প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে বলে মনে হয়, যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং একটি সুগভীর, ঐতিহ্যনির্ভর এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ বিশ্লেষণ—যেখানে আমরা বুঝতে পারবো সংকটের প্রকৃতি, এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং উত্তরণের বাস্তব পথ।

🟧
তাসাউফের ঐতিহ্য
ইসলামি জ্ঞানতত্ত্বে তাসাউফ কোনো নতুন সংযোজন নয়; বরং এটি কুরআন ও সুন্নাহর অন্তর্নিহিত আত্মিক চেতনার পরিপূর্ণ বিকাশ। এই ধারার মূল ভিত্তি তিনটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত—
(১) ইলম (শুদ্ধ জ্ঞান),
(২) আমল (অনুশীলন),
(৩) ইহসান (আত্মিক উৎকর্ষ)।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই চর্চা সুসংগঠিত তরিকত ও সিলসিলার মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে, যেখানে—
শায়খ-মুরিদ সম্পর্ক একটি প্রশিক্ষণমূলক কাঠামো,
নফসের তাযকিয়া একটি ধাপে ধাপে অগ্রসরমান প্রক্রিয়া, এবং আখলাক (নৈতিকতা) এই পথের দৃশ্যমান ফলাফল। এই ঐতিহ্য কোনো ব্যক্তির কল্পনা নয়; বরং এটি একটি Collective Intellectual-Spiritual Heritage, যা পরীক্ষিত, পরিশুদ্ধ এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত।

🟧
বিকৃত ‘সুফিবাদ’: আত্মকেন্দ্রিকতা ও ঐতিহ্যবিচ্ছিন্নতার উত্থান
সমসাময়িক বাস্তবতায় আমরা যে প্রবণতা লক্ষ্য করছি তা হলো—তাসাউফের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এক ধরনের “সুফিবাদ”, যা মূলত তিনটি বিষয়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে—
(১) আত্মপ্রচার,
(২) ঐতিহ্য অস্বীকার,
(৩) আবেগনির্ভর ব্যাখ্যা।
এই ধারা—
সিলসিলার হাজার বছরের ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করে,শরিয়ত ও তাসাউফের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে দুর্বল করে,এবং ব্যক্তিগত অনুভূতিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে।
ফলে “সুফি” পরিচয়টি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ আধ্যাত্মিক অবস্থান না হয়ে, এক ধরনের Brand identity বা আত্ম-প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।

‼️
সংঘাতের উৎপত্তি: বিভ্রান্তি থেকে বিদ্বেষ!
যখন প্রকৃত ও বিকৃতের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন সমাজে তিনটি প্রতিক্রিয়া জন্ম নেয়—
১. বিভ্রান্তি – সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না কোনটি প্রকৃত তাসাউফ।
২. বিরক্তি – উগ্রতা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য মানুষকে ক্লান্ত করে।
৩. বিদ্বেষ – একপর্যায়ে এই বিভ্রান্তি নেতিবাচক মনোভাব ও ঘৃণায় রূপ নেয়।
এই জমে থাকা মানসিক প্রতিক্রিয়াই কখনো কখনো সামাজিক উত্তেজনা, এমনকি সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

‼️-এখানে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—আমরা কোনো ধরনের সংঘাত, উগ্রতা বা মব মানসিকতাকে সমর্থন করি না। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধান হতে হবে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে।

🟥
মূল সংকট: জ্ঞানহীন আবেগ ও আদবহীন জ্ঞান
তাসাউফের প্রকৃত শক্তি ছিল জ্ঞান (ইলম) এবং শিষ্টাচার (আদব) এর ভারসাম্য।
বর্তমান সংকট এই ভারসাম্য হারানোর ফল—
◾ জ্ঞান ছাড়া আবেগ → বিভ্রান্তিকর আধ্যাত্মিক চিন্তা তৈরি করে
◾ আদব ছাড়া জ্ঞান → অহংকার ও বিভাজন সৃষ্টি করে
ফলে আমরা এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছি, যেখানে মানুষ “আধ্যাত্মিকতা”র কথা বলছে, কিন্তু তার মধ্যে না আছে বিনয়, না আছে শৃঙ্খলা, না আছে ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা।

🟥
আজকের আহ্বান
“নাম নয়, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা; আবেগ নয়, জ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়া; এবং বিভাজন নয়, আধ্যাত্মিক ঐক্যের পথে অগ্রসর হওয়া।”
যদি আমরা এই পথ অনুসরণ করতে পারি, তবে বর্তমানের এই সংকটই ভবিষ্যতের এক নবজাগরণের সূচনা হয়ে উঠতে পারে।

বি.দ্র.
আমরা বিশেষ কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, মতবাদ ও চিন্তার প্রতি রাগ বা বিদ্বেষমূলক ভাবনা লালন, পোষণ করি না।
আজকের এই লেখাটি মূলত বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতার পেছনের কারণ, সমস্যার উৎস এবং সম্ভাব্য সমাধানের একটি আপাতত প্রচেষ্টা।
কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ।
কাউকে আঘাত করা বা কাউকে “অসুফি” বলা আমাদের উদ্দেশ্য না।


#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

মবতন্ত্র মানেই অরাজকতা।মবতন্ত্র মানেই ভয়।মবতন্ত্র মানেই—আপনি নিরাপদ নন।প্রশ্ন হলো—আজ যদি জনতা বিচার করে,তাহলে আদালত কেন?...
12/04/2026

মবতন্ত্র মানেই অরাজকতা।
মবতন্ত্র মানেই ভয়।
মবতন্ত্র মানেই—আপনি নিরাপদ নন।

প্রশ্ন হলো—
আজ যদি জনতা বিচার করে,
তাহলে আদালত কেন?

আজ একজন পীর,
কাল একজন শিক্ষক,
পরশু হয়তো আপনি—অথবা আমি।

এই মবতন্ত্র থামানো না গেলে
কেউই নিরাপদ থাকবে না।

ধর্মের নামে,
আবেগের নামে,
গুজবের নামে—
মানুষ হত্যা কখনোই ইসলাম সমর্থন করে না,
মানবতা তো দূরের কথা।

আমাদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে—
❝ মব জাস্টিস কোনো বিচার নয়,
এটা সরাসরি হত্যা ❞

রাষ্ট্র কোথায়?
আইন কোথায়?

এই নীরবতা—
আরও অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।


#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

09/04/2026

#সুফিনামা

#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সিররুল_কুরআন

#সুফি_সেন্টার

LONG LIVE IRANইরান দীর্ঘজীবী হোক—ইরান এমন একটি ভূমি, যা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে যুগে যুগে প্র...
07/04/2026

LONG LIVE IRAN

ইরান দীর্ঘজীবী হোক—

ইরান এমন একটি ভূমি, যা তার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে যুগে যুগে প্রভাবিত করে এসেছে। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ইরান বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত।

এই ভূখণ্ডজুড়ে অবস্থিত পার্সেপোলিস, বিসোতুন ও পাসারগাদায়ের মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রাচীন এই সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। সমৃদ্ধ পারস্য সাহিত্য, যেখানে ফেরদৌসি, হাফেজ, সাদি ও রুমির মতো প্রখ্যাত কবিরা অমর সৃষ্টি রেখে গেছেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে প্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও মহাকাব্যিক চেতনার দীপ্তি।

গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানি বিজ্ঞানীরা বিশ্ববিজ্ঞানের বহু মৌলিক নীতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন। তদুপরি, জটিল নকশা ও বর্ণিল সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ ইরানি শিল্প ও স্থাপত্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

ইরান শুধু তার গৌরবময় অতীতের জন্যই নয়, বরং তার সদয়, অতিথিপরায়ণ ও শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্যও সুপরিচিত—একটি প্রিয়ভূমি হিসেবে চিরকাল সমাদৃত।

ইরানিদের আতিথেয়তা সর্বজনবিদিত; তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনার উষ্ণতা প্রতিটি ভ্রমণকারীকে মুগ্ধ ও বিস্মিত করে। ইরানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এই দেশটিকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য।

সমস্ত প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ইরানের মানুষ সর্বদা আশা ও দৃঢ়তা নিয়ে বাধার মোকাবিলা করেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরান দীর্ঘজীবী হোক—একটি সম্ভাবনাময় দেশ, যা সবসময় অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চায়। প্রাচুর্যপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজ এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এই ভূমির জন্য স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশায়—দীর্ঘজীবী হোক ইরান, দীর্ঘজীবী হোক তার গর্বিত জনগণ।

#সুফিনামা

#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সিররুল_কুরআন

#সুফি_সেন্টার

তারীখে খাজায়ে খাজেগান: খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)—জীবনদর্শন ও চিশতিয়া তরিকার বিকাশপ্রফেসর ড. সৈয়দ জিয়া উদ্দিন শামসি তাহ...
07/04/2026

তারীখে খাজায়ে খাজেগান: খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)—জীবনদর্শন ও চিশতিয়া তরিকার বিকাশ

প্রফেসর ড. সৈয়দ জিয়া উদ্দিন শামসি তাহরানী রচিত বিখ্যাত উর্দু গ্রন্থ “তারীখে খাজায়ে খাজেগান”—এর বাংলা অনুবাদ গ্রন্থের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, আলহামদুলিল্লাহ।

দীর্ঘ গবেষণা, সতর্ক অনুবাদ ও প্রাঞ্জল ভাষার সমন্বয়ে এই মহাগ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের হাতে পৌঁছাতে যাচ্ছে—যা নিঃসন্দেহে সুফিবাদ, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক দর্শনের অনুরাগীদের জন্য এক অনন্য সংযোজন হতে চলেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার আধ্যাত্মিক ইতিহাসে খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) এমন এক মহামানব, যাঁর জীবন ও কর্ম কেবল একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং মানবতাবাদ, সহমর্মিতা এবং সর্বজনীন প্রেমের এক শক্তিশালী দর্শন হিসেবে যুগে যুগে আলো ছড়িয়েছে। তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা মধ্যযুগীয় ভারতীয় সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—কিছু ব্যক্তিত্ব কেবল নিজস্ব সাধনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেন না; বরং তারা হয়ে ওঠেন যুগের পথপ্রদর্শক। খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) তেমনই এক আলোকবর্তিকা, যাঁর জীবনদর্শন তাসাউফের মৌলিক শিক্ষা—প্রেম, সেবা ও আত্মশুদ্ধি—এর বাস্তব রূপায়ণ। “গরীবে নেওয়াজ” উপাধি তাঁর সেই অসীম মানবপ্রেম ও সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য স্বীকৃতি।

এই অনুবাদ গ্রন্থ “তারীখে খাজায়ে খাজেগান” কেবল একটি ঐতিহাসিক বিবরণ নয়; এটি একটি গভীর আধ্যাত্মিক-দার্শনিক দলিল। এখানে বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিতে উপস্থাপিত হয়েছে খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর জীবন, চিন্তাধারা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত চিশতিয়া তরিকার ক্রমবিকাশ। পাশাপাশি, উপমহাদেশের অন্যান্য সুফি তরিকা, তাদের সিলসিলা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা এই গ্রন্থকে দিয়েছে এক পূর্ণাঙ্গতা।
চিশতিয়া তরিকার বিশেষত্ব হলো—বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে অন্তরের পরিশুদ্ধি, মানবপ্রেম ও সমাজকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এই তরিকার শিক্ষায় ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা অতিক্রম করে মানুষকে ভালোবাসার আহ্বান জানানো হয়। খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) তাঁর জীবনাচরণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন—প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা কখনো বিভাজন সৃষ্টি করে না; বরং তা ঐক্য, সহনশীলতা ও ভালোবাসার ভিত্তি গড়ে তোলে।
গ্রন্থটির প্রতিটি অধ্যায় পাঠককে একই সঙ্গে ইতিহাসের গভীরতা ও আধ্যাত্মিকতার সূক্ষ্মতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে। এতে উপমহাদেশের বিভিন্ন তরিকা, তাদের বিকাশধারা এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই গ্রন্থে প্রায় ৪০০-এর অধিক নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের রেফারেন্স সংযোজিত হয়েছে—যা একে করেছে অত্যন্ত প্রামাণ্য ও গবেষণাধর্মী।

এই কিতাব সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদুর রহমান। তাঁর অভিমত অনুযায়ী, খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর জীবনদর্শন বোঝার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।

এই অনুবাদ গ্রন্থ কেবল অতীতের ইতিহাস তুলে ধরে না; বরং এটি পাঠককে আহ্বান জানায় আত্ম-অনুসন্ধান, নৈতিক উৎকর্ষ এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের পথে। সমকালীন বিশ্বে যখন বিভাজন, সহিংসতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন এই গ্রন্থ একটি বিকল্প নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে—যেখানে ভালোবাসা শক্তির উৎস, মানবসেবা ইবাদতের সমতুল্য, এবং মানবতাই সর্বোচ্চ পরিচয়।

অতএব, এই গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে প্রত্যাশা করা যায়—পাঠক কেবল তথ্যগত জ্ঞান অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না; বরং তাঁর চিন্তায় বিকশিত হবে গভীর মানবিকতা, তাঁর আচরণে প্রতিফলিত হবে সহমর্মিতা, এবং তাঁর জীবন হয়ে উঠবে শান্তি, সৌহার্দ্য ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

আল্লাহ তাআলা এই প্রয়াসকে কবুল করুন এবং একে মানবকল্যাণে ফলপ্রসূ করে তুলুন—আমীন।

বি.দ্র.: প্রস্তাবিত প্রচ্ছদ ডিজাইনগুলো আপনাদের মূল্যবান মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আপনাদের কাছে যে ডিজাইনটি সবচেয়ে ভালো মনে হবে, সেটির নম্বর (১ / ২ / ৩) কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।
আপনাদের মতামতই চূড়ান্ত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

সুফি মেডিটেশন—দেশব্যাপী ফ্রী মাস্টারক্লাস উদ্যোগ আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী মে ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সুফি মেডিটে...
05/04/2026

সুফি মেডিটেশন—দেশব্যাপী ফ্রী মাস্টারক্লাস উদ্যোগ

আমরা ইনশাআল্লাহ আগামী মে ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সুফি মেডিটেশন ফ্রী সেশন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আপনি যদি এই পোস্টটি দেখে থাকেন, পড়েন—তাহলে
🌸 খাজা ওসমান ফারুকী-র অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে যুক্ত থাকার জন্য আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন।

🔸 আমরা আপনার জেলার নাম জানতে আগ্রহী
কমেন্টে আপনার জেলার নাম লিখে জানান—
আপনি কোন জেলা থেকে আমাদের সাথে আছেন।

🔸 সুফি মেডিটেশন ফ্রী মাস্টারক্লাস
আপনি কি চান আপনার জেলায় এই আয়োজন হোক?
আপনি কি এই মহৎ উদ্যোগের একজন সহযাত্রী হতে চান?

👉 যারা ইতিমধ্যে আমাদের সুফি মেডিটেশন মাস্টারক্লাসে অংশগ্রহণ করেছেন
👉 এবং ‘সুফি মেডিটেশন’ বইটি পড়েছেন

আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

🔸 আপাতত শুধু আপনার জেলার নামটি কমেন্টে লিখুন—
এতে আমরা বুঝতে পারবো কোন কোন জেলার প্রিয়জনরা আমাদের সাথে আছেন।

🔸 ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পোস্টে
প্রতিটি জেলায় কীভাবে আয়োজন করা হবে তার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।

💚 সুফি প্রেমিক, তাসাউফপন্থী সকল প্রিয়জনের আন্তরিক সহযোগিতা কাম্য...

#সুফি_মেডিটেশন
#খাজা_ওসমান_ফারুকী






#সুফি_সেন্টার
#সুফি_মেডিটেশন_মেথড
#চিশতিয়া_দর্শন

Address

Chawkbazar
Chittagong
4203

Opening Hours

Monday 10:00 - 23:00
Tuesday 10:00 - 23:00
Wednesday 10:00 - 23:00
Thursday 10:00 - 23:00
Friday 10:45 - 20:00
Saturday 10:15 - 22:00
Sunday 10:30 - 23:00

Telephone

+8801814022481

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খাজা ওসমান ফারুকী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to খাজা ওসমান ফারুকী:

Share