07/01/2026
রাষ্ট্রপতি বন্দি, রাষ্ট্র কি বন্দি!
রাষ্ট্রপতিকে বন্দি করা যায়, জনগণকে নয়—এই সহজ সত্যই আজ ভেনেজুয়েলার রাজপথে আগুনের মতো জ্বলছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার মসনদ দখল করা যায়, কিন্তু মানুষের মন নয়। নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর সেই পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী ভ্রম আবারও ভেঙে পড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে আনলেই একটি রাষ্ট্র নতজানু হবে। নিউ ইয়র্কে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে ঘোষণা করা হয়েছিল—নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। কে দেশ চালাবে, কীভাবে চলবে—সব নির্ধারিত হবে ওয়াশিংটনের ইচ্ছায়। কিন্তু বাস্তবতা সেই ঘোষণাকে মুহূর্তেই মিথ্যা প্রমাণ করেছে।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সংবিধান কথা বলেছে। সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে, একই সঙ্গে মাদুরোকেই একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র চলেছে রাষ্ট্রের নিয়মেই—বাইরের হুকুমে নয়।
যেটা হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। সরকার ভেঙে পড়েনি, প্রশাসন পক্ষ ত্যাগ করেনি, বিরোধীরা ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। বরং ঘটেছে উল্টোটা। ভেনেজুয়েলার রাজপথে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, শ্রমিক থেকে শিল্পী—সবাই এক কণ্ঠে বলছে, মাতৃভূমি বিক্রির জন্য নয়।
যাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার ছক কষেছিল—মারিয়া কোরিনা মাচাদো—তাকেই এখন ট্রাম্প অগ্রহণযোগ্য বলছেন। এখানেই ধরা পড়ে সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁক। যাদের দিয়ে দেশ চালানোর স্বপ্ন, তাদের ওপরই আস্থা নেই। তাহলে এই হস্তক্ষেপ কার জন্য, কিসের জন্য?
পশ্চিমা গণমাধ্যমে কিছু উল্লাসের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। কিন্তু যে লাখ লাখ মানুষ মাদুরোর পক্ষে রাস্তায় নেমেছে, তাদের কণ্ঠ সেখানে নেই। শুধু ভেনেজুয়েলা নয়—লাতিন আমেরিকা জুড়ে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে। কারণ সবাই জানে, গায়ের জোরে রাষ্ট্র চালাতে গেলে শেষটা হয় আগুনে।
এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলার নয়। এটি গোটা বিশ্বের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। শক্তিধর রাষ্ট্র চাইলে একজন রাষ্ট্রপতিকে বন্দি করতে পারে, কিন্তু একটি জাতিকে নয়।
রাষ্ট্র বন্দি নয়।
রাষ্ট্র আজ রাজপথে দাঁড়িয়ে আছে।
আর ঐক্যবদ্ধ জনগণ—কখনো পরাজিত হয় না।
-- শ্যামল নাথ।
লেখক, সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা