Dr Mohiuddin Ashraf

Dr Mohiuddin Ashraf Homeopathic Specialist

✍️ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় মায়াজম-                        (মায়াজম পরিচিতি)হোমিওপ্যাথিক মতে রোগের মুল কারণ বা মায়াজম সম্...
16/12/2025

✍️ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় মায়াজম-
(মায়াজম পরিচিতি)
হোমিওপ্যাথিক মতে রোগের মুল কারণ বা মায়াজম সম্পর্কে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগনের অবশ্যই স্বচ্ছ ধারনা থাকা প্রয়োজন।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় কেসটেকিং ও ঔষধ নির্বাচনে ভিত্তি “মায়াজম” এর জ্ঞান।

👉 মায়াজম কি?
মায়াজম(Miasm):
কোন রোগ স্থুল ঔষধ প্রয়োগে বা অসম বিধানে চিকিৎসা করায় তার দ্বারা চাপা পড়ে শক্তিশালী রোগ বীজ নামে দেহাভ্যন্তরে অবস্থান করে।এটাই রোগ-জীবানু বা উপবিষ (Miasm)।

- মায়াজম হচ্ছে এমন কিছু যা একবার মানবদেহে ঢুকলে এবং সুচিকিৎসিত না হলে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করে, যা সারা জীবন ধরে চলতে থাকে এবং সন্তান সন্ততির মধ্যেও তার ফলজনিত অস্বাভাবিক অবস্থার চিহ্ন। প্রায়ইশ সুপ্ত অবস্থায় বর্তমান থাকে।
সোরা মায়াজম নয়, একটি মায়াজমেটিক অবস্থা যা সোরিক মায়াজমের দ্বারা সৃষ্টি হয়। সিফিলিস ও সাইকোসিস মায়াজম নয মায়াজমেটিক অবস্থা,যা সিফিলিটিক ও সাইকোটিক মায়াজম দ্বারা সৃষ্টি হয়। একটা গোরাবস্থা এবং তার কারণ এক নয়। টিউবার-কুলোসিস ও টিউবারকুল ব্যাসিলাই কখনই এক হতে পারেনা। দ্বিতীয়টি হলো কারণ এবং প্রথমটি হলো একটি রোগ।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিধান মতে, মায়াজম (রোগ-জীবাণু বা উপবিষ) হলো রোগের মূল কারণ। যে সকল প্রাকৃতিক অদৃশ্য কারণ সমূহ হইতে রোগ উৎপত্তি হয় সে সকল কারণ সমূহকে মায়াজম (Miasm) বলে।
এই উপবিষই (Miasm) যা বংশ পরস্পরায় মানব দেহে চিরস্থায়ী রুপ লাভ করে।
মায়াজম (Miasm) প্রধানত ৪ (চার) প্রকার।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক জার্মানীর ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মতানুসারে মানুষের পাপের প্রায়শ্চিক্ত ই সোরা বা কুন্ডয়ন। আর সোরার বহিঃ প্রকাশ হলো চুলকানি।

👉 ১। সোরিক মায়াজম (Psoric Miasm):
Posra বা কুন্ডয়ন অসম বিধানে চিকিৎসা করায় তা উপবিষ নামে দেহাভ্যন্তরে লুপ্ত অবস্থায় সজীব থাকে।এই সজীব Psora বীজানুই Psoric Miasm.
এন্টিসোরিক মায়াজমেটিক হোমিওপ্যাথি প্রধান ঔষধ
Psor, sulph সহ অন্যান্য ঔষধ।

👉 ২। সাইকোটিক মায়াজম (Sycotic Miasm):
Sycotic দেহে অবস্থান নিলে বাহ্যিক ভাবে আচিল বা টিউমার প্রকাশ করে, তা অসম বিধানে চিকিৎসা করলে উপবিষ সৃষ্টি হয়ে দেহে চিরস্থায়ী ভাবে অবস্থান নেয়। Sycosis এর উপবিষই Sycotic Miasm.
এন্টিসাইকেটিক মায়াজমেটিক হোমিওপ্যাথি প্রধান ঔষধঃ
Arg-m, Arg-n, Kali-s, Med, Nat-s, Nit-ac, Sep, Staph, Thuj সহ অন্যান্য ঔষধ।

👉 ৩। সিফিলিটিক মায়াজম (Syphilitic Miasm):
যৌন ক্ষত অসম বিধানে চিকিৎসায় চিরস্থায়ীসিফিলিস উপবিষ নামে বীজানু দেহে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পায়। এই Syphilis উপবিষই Syphilitic Miasm
এন্টিসিফিলিটিক মায়াজমেটিক হোমিওপ্যাথি প্রধান ঔষধঃ
Ars-i, Aur, Aur-m, Aur-m-n, Calc-F, Laur, Merc, Metc-i-f, Merc-i-r, Phyt, Still, Syph সহ অন্যান্য ঔষধ।
৪। টিউবারকুলোটিক মায়াজম (Tuberculotic Miasm):
উপরে উল্লেখিত Psoric, Sycotic, Syphilitic এই তিন ধরনের Miasm ই যখন উত্তরসূরীর দেহে স্থানান্তরিত হয় তখন তাকে Tuberculotic Miasm বলা হয়।
এন্টিটিউবারকুলোটিক মায়াজমেটিক হোমিওপ্যাথি ঔষধ
Agar, Bac, Calc, Calc-p, Hep, Iod, Kali-c, Kali-s, Lyc, Phos, Psor, Puls, Senec, Spong, Stann, Sulph, Ther, Tub, Zinc সহ অন্যান্য ঔষধ।

👉 ভেক্সিনেটিক মায়াজম (Vaccinetic Miasm):
সভ্য সমাজে আমরা আরও একটি মানব সৃষ্ট আর এক প্রকার মায়াজম দেখতে পাই। আর তা হলো বিভিন্ন ভেক্সিনেটিক Vaccinetic Miasm.
অর্থাৎ টীকা ও ইনজেকশন মানবদেহে পুশ করার পর যে Miasm এর সৃষ্টি হয়, তাই Vaccinetic Miasm.
এন্টিভেক্সিনেটিক মায়াজমেটিক হোমিওপ্যাথি প্রধান ঔষধঃ
Thuj, Med, Mal, Vac, Sil সহ অন্যান্য ঔষধ।

💎 হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সায়েন্স এর জনক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান অর্গানন বইয়ের ৭৮ নং সূত্র অনুসারে Miasm আক্রান্ত রোগীই চিররোগ। তাই এ সংশ্লিষ্ট রোগী চিকিৎসায় মায়াজম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা থাকা অবশ্যই দরকার / প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, কেবল মাত্র, প্রাকৃতিক ও সদৃশ বিধান “হোমিওপ্যাথি” চিকিৎসায় ই Miasm ধ্বংস করতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিধান মতে, মায়াজম হল রোগের মূল কারণ এবং জীবাণু গুলো হল উত্তেজক কারণ। যে সকল প্রাকৃতিক অদৃশ্য কারণসমূহ হইতে রোগ উৎপত্তি হয়, সে সকল কারণ সমূহকে মায়াজম বলে।
মহাত্মা হ্যানিম্যান বলেন,
“যাবতীয় রোগ মায়াজমের অশুভ প্রভাবে সৃষ্টি হয়।” মায়াজম শব্দের অর্থ উপবিষ, কলুষ, পুতিবাষ্প, ম্যালেরিয়ার বিষ প্রভৃতি। যাবতীয় রোগের কারণই হল এই মায়াজম। তরুণ পীড়া তরুণ মায়াজমের অশুভ প্রভাবে এবং চিররোগ চির মায়াজমের অশুভ প্রভাবে সৃষ্টি হয়। ইহা প্রাকৃতিক রোগ সৃষ্টিকারী দানব।
হ্যানিম্যান বলেছেন,
চিররোগ সৃষ্টির মূল কারণ হইল তিনটি চিররোগবীজ। ইহাদের মধ্যে সোরা হইল আদি রোগ বীজ। সকল রোগের মূল কারণ হইল সোরা। এমনকি প্রমেহ এবং উপদংশ নামক আদি রোগবীজের উৎপত্তি ও সোরা হতে; এজন্য সোরাকে আদি রোগবীজ বলা হয়।
হ্যানিম্যান️ বলেছেন, বংশ পরস্পরের মাধ্যমে লাখ লাখ মানব দেহের মধ্যে এই সোরা মায়াজম কল্পনাতীতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন অসংখ্য প্রকারের বিকৃতি, ক্ষত, বিশৃঙ্খলা ও যন্ত্রণার প্রতিমূর্তি রুপে অন্ত পীড়ায় সৃষ্টি করে থাকে।
সুতরাং মায়াজম হচ্ছে এক ধরনের গতিময় দূষণ মাধ্যম যাহা জীব দেহের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গে একবার প্রবিষ্ট হলে জীবনীশক্তির উপর প্রভুত্ব করে, ব্যক্তিকে সার্বিকভাবে এমনিধারায় দূষিত করে যার পিছনে একটি স্থায়ী রোগজ অবস্থা স্থাপন করে যাহা সম্পূর্ণ রুপে মায়াজম বিরোধী প্রতিকারক দ্বারা দূরীভূত না হলে রোগীর সারাজীবন ব্যাপী বিরাজ করবে এবং বংশপরস্পরায় প্রবাহমান থাকে।
১। সোরার রোগীর ধাতুগত লক্ষণঃ
সর্বদা ভীতিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, অবসাদগ্রস্ত, শ্রমবিমুখ।
মেজাজ খিটখিটে সামান্য মতের অমিল হলে ক্ষিপ্ত হয়।
স্বার্থপরতা কিন্তু নাটকীয় উদারতা দেখায়।
অস্বাভাবিক ক্ষুধা, খেলে আবার ক্ষুধা লেগে যায়।
অসম্ভব চুলকানি, চুলকানোর পর জ্বালা।
হাত পায়ের তলা জ্বলে।
দেহের বর্জ নির্গমন পথগুলি লাল বর্ণের।
যে কোন স্রাব নির্গমনে আরাম বোধ।
দাঁতে, মাড়ীতে ময়লা জমে।
কেবলই শুয়ে থাকতে চায়।
নোংরামি পছন্দ।
স্নয়ুকেন্দ্রে প্রবল বিস্তার করে কিন্তু যান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটে না।
যে কোন সময় রোগাক্রমন বা বৃদ্ধি ।
চোখে নানা রং দেখে ও দৃষ্টিভ্রম হয়।
সহ অন্যান্য।
২। সিফিলিসের রোগীর ধাতুগত লক্ষণঃ
আত্নহত্যা করার ইচ্ছা।
নৈরাশ্য, হঠকারিতা, মূর্খতা, বিতৃষ্ণা।
স্মরণশক্তি ও ধারণশক্তি হ্রাস।
মানসিক জড়তায় কথা কম বলে।
মাংসে অরুচি কিন্তু দুগ্ধ খাইবার ইচ্ছা।
অগ্নিকান্ড, হত্যাকান্ডের স্বপ্ন দেখে।
সূর্যাস্ত হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত বৃদ্ধি।
জিহ্বা মোটা ও দাঁতের ছাঁপযুক্ত।
চুলকানীবিহীন চর্মরোগ।
বিকলঙ্গতা।
অস্থির ক্ষয়প্রাপ্তি।
স্রাবের প্রচুরতা, দুর্গন্ধতা এবং স্রাব নিসরনে রোগ বৃদ্ধি।
দুষ্টজাতীয় ফোঁড়া।
অতিরিক্ত গরম-ঠান্ডা অসহ্য।
সহ অন্যান্য।
৩। টিউবারকুলোসিস রোগীর ধাতুগত লক্ষণ-
চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও রোগী একই লক্ষণ ঘুরে ফিরে আসে।
একই সময়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।
যে খাবারে বৃদ্ধি সেই খাবারেই আকাঙ্খা।
বিনা কারণে ঠান্ডা-সর্দ্দি লাগে।
যথেষ্ট পানাহার সত্বেও দুর্বলতা, শুষ্কতা শীর্ণতা প্রাপ্ত হয়।
কুকুর ভীতি বিদ্যমান।
উদাসীনতা ও চিন্তাশূন্যতা।
ক্রোধপরায়ণ, অসন্তুষ্ট, চঞ্চল, পরিবর্তনশীল মেজাজ।
কামোত্ততার জন্য যে কোন উপায়ে শুক্রক্ষয় করে।
বার বার চিকিৎসক বদল করে ।
জাঁকজমকের সাথে কাজ শুরু করলেও তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অনবরত ঘুরে বেড়ানো স্বভাব।
নিদ্রায় চিৎকার করে কথা বলে।
সহ অন্যান্য।
৪। সাইকোসিস রোগীর ধাতুগত লক্ষণঃ
ডাক্তারের কাছে লক্ষণ বলতে গিয়ে দেখে আশেপাশে কেউ আছে কিনা।
ডাক্তার ঔষধ দিয়েছে! সে আবার খোঁজাখুঁজি করে। কারণ ডাক্তার লক্ষণ গুলো পুরাপুররি শুনল কিনা। আবার জিজ্ঞাস করে কোন ঔষধ কিসের জন্য দিয়েছে।
পড়ালেখা করতে গেলেও সন্দেহ । একলাইন লেখে তো বারবার কাটাকাটি করে। চিন্তা করে এই শব্দের বদলে ঐশব্দ যোগ করি।
ঘর থেকে বের হবে দেখবে সব ঠিকঠাক মত আছে তো?
হিসাব করতে যাবে ব্যবসা অথবা চাকুরিতে সেখানেও সমস্যা, সন্দেহ আর ভূলে যাওয়া।
মনেও সন্দেহ! রাতে এই বুঝি কেউ পিঁছনে পিঁছনে আসছে; আশেপাশে কেউ আছে।
বাজার করতে যাবে সেখানেও সমস্যা এই বুঝি দোকানদার আমাকে ঠকিয়ে বেশি নিল। আমি বাজার করেছি কেউ দেখে ফললো না তো।
এই ডাক্তার আমার রোগ বুঝবে কি বুঝবেনা, আমার রোগ সারাবে কি সারাবে না সন্দেহ। আরো ২-৩ জন ডাক্তার একাত্রিত হলে ভাল হতো।
মনটি রোগের উপর পড়ে থাকে । সব সময় রোগের কথা বলে ।
রোগ সূর্যোদয় হতে সূর্যান্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি ।
আঁচিল, টিউমার মাংস বৃদ্ধি, অন্ডকোষ প্রদাহ এর নিদর্শক।
অস্বাভাবিক গঠন। যেমন- হাত পায়ের আঙ্গুল বেশী বা কম।
ঝড়-বৃষ্টির পূর্বে বা সময় ঘনঘন মূত্র ত্যাগ।
সহ অন্যান্য।
৫। ভেক্সিনোসিন রোগীর ধাতুগত লক্ষণঃ
বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকগণ ভ্যাক্সিন সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন।তাঁদের মতে ভ্যাক্সিনের কুফল অত্যন্ত মারাত্নক। তাঁদের মতে-
ভ্যাক্সিন কুফলে দেহে শতশত রোগ সৃষ্টি করতে পারে।টিউমার, আঁচিল, দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া, সর্দিকাশি, ক্যান্সারসহ শতশত রোগ।
ভ্যাক্সিন বা টীকার কুফলে দেহে ভ্যাক্সিনেটিক মায়াজম নামক একটি বিশেষ মায়াজমের সৃষ্টি হয়।
বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিদের মতে, ভ্যাক্সিনের কুফল সম্পর্কে বলেন- “ভ্যাক্সিন দেওয়া মানে এক ডাকাতদলের হাত থেকে গৃহ রক্ষার জন্য আরেকদল ডাকাত নিয়োগ করা।”
নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবহৃত ডাকাতদল দ্বারা গৃহকর্তা যে আক্রান্ত হবেনা তারইবা গ্যারান্টি কোথায়।
টীকা গ্রহণ করাও তেমন ব্যাপার। কিছু রোগকে ঠেকাতে দেহের মধ্যে মারাত্মক কিছু রোগ কে আক্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার নামান্তর।
হোমিওপ্যাথগণ শুধু টীকার কুফল সম্পর্কে অবহিতই করেননি। বরং টীকার কুফল দূর করতে হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধানও আবিষ্কার করেছেন।
হোমিওপ্যাথিতে রয়েছে টীকার কুফল নষ্ট করার জন্যে বিশেষ ধরণের ঔষধ, যে ঔষধগুলো এন্টিভ্যাক্সিনেটিক ঔষধ হিসেবে সুপরিচিত।
যেমন-থুজা,সাইলিসিয়া,এন্টিম টার্ট, হিপার, আর্সেনিক, এপিস, মেজিরিয়াম,ভ্যাক্সিনিনাম, ম্যালেন্ড্রিয়াম, ইচিনেসিয়া ইত্যাদি।
রোগিলিপি প্রণয়ণের সময় রোগীর অতীত ইতিহাসে টীকা দেওয়ার ইতিহাস পাওয়া গেলে টীকার কুফল দূর করতে লক্ষণ সাদৃশ্যে উপরোক্ত ঔষধগুলো থেকে প্রয়োগ করতে হবে।
লক্ষ্য করুন, টীকা বিষাক্ততায় রোগীরা আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখে।
আবার, টীকাজনিত কারণে দেহে সাইকোসিস অবস্থাও সৃষ্টি হতে পারে। উপরে বর্ণিত স্বপ্নটিও সাইকোসিসের স্বপ্ন।
আমরা জানি, আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখে থুজার রোগীরা এবং থুজা একটি এন্টিসাইকোটিক ঔষধ, যেটিকে কিং সাইকোটিক হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাছাড়া টীকার কুফলে দেখা দেওয়া দন্তক্ষয় এবং টিউমারের মত লক্ষণও থুজা উৎপন্ন করতে সক্ষম।এসকল কারণে টীকার কুফলনাশক ঔষধগুলোর মধ্যে থুজাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ ঔষধ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
টীকার কুফলে সৃষ্ট বিশেষ মায়াজমেটিক অবস্থায় অনেক সময় উপযুক্ত ঔষধও ব্যর্থ হতে থাকে।।এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই এন্টিভ্যাক্সিন ঔষধ প্রয়োগ করে আরোগ্যের পথের বাঁধা দূর করতে হবে।

🍁 উপরোক্ত আলোচনা থেকে মায়াজমের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

👉 সেরা (ঘাটতি)
সোরা দৈহিক গঠনগত কোন পরিবর্তন সাধন না করিয়া বরং ক্রিয়াগত পরিবর্তন করে ।
চুল- শুঙ্ক, কর্কশ,খুশকি যুক্ত
চর্ম – শুস্ক,কর্কশ
নখ- শুস্ক,কর্কশ
ঠোঁট- শুস্ক,সাইয়ানোসিসের মতো নীলাভ
মুখমণ্ডল – নীলাভ মুখমণ্ডল
মুখভঙ্গি – উদ্বিগ্ন,নার্ভাস, ভীতু শঙ্কিত
পোশাক- হালকা রংয়ের পোশাক পরে।

👉 সিফিলিস (ধবংস) :
চুল- চুল কম,চুল পড়ার কারনে সংখা কম।হালকা চুল
চর্ম – ফাটা ফাটা, ক্ষতযুক্ত
নখ- পাতলা,ভগুর, লম্বা ফাটাযুক্ত,গর্ভযুক্ত, অবতল চামচের মতো।
ঠোট – ফাটাযুক্ত
মুখমণ্ডল – লালচে মুখমণ্ডল, জন্মগত অসাভাবিকতা (যেমন- ঠোট কাটা, তালুকাটা)
মুখভঙ্গি – নির্দয়, পাশবিক,প্রতি-হিংসাপরায়ন, আক্রোশ,
পূর্ণ, উগ্র,নিস্তেজ,ভগ্ন বা বিষন্ন চেহারা।
পোশাক – কালো,ফ্যাকাসে, অসামজস্য রং এর পোশাক পরে।

👉 সাইকোসিস
চুল- শরীরে অধিক চুল,ঘন চুল
চর্ম – পুরু বা ভারী,মাছের আইঁশের মতো,কোষ কোষ
নখ- পুরু, শিরাযুক্ত,ঢেউ যুক্ত, উত্তল
ঠোট – পুরু বা ভারী
মুখমণ্ডল – হলুদাভ,ফোলা ফোলা ভাব,জন্মগত বা অর্জিত ওভার গ্রোথ।
মুখভঙ্গি – লোলুপ, সন্দেহ প্রবণ, ধুর্ত,হিংসার্থক,দুষ্ট
পোশাক – হলুদ রং বা গাঢ় উজ্জল রংয়ের পোশাক পরে।

👉 টিউবারকুলোসিস বা উচ্ছাস ও ক্ষয় :
চুল- চুল ভেগুে যায়,চুল ফেটে যায়,জট পাকায়
চর্ম – অতিরিক্ত রক্তসঞ্চালন যুক্ত, রক্তক্ষরণ যুক্ত।
নখ- উজ্জল চকচকে মসৃন,নখের নিচে রক্তের উচ্ছাস, সাদা স্পটযুক্ত।
ঠোট – উজ্জল লাল,রক্তের উচ্ছাস যুক্ত।
মুখমণ্ডল – রক্ত বর্ন, গাল লাল(red cheek)
মুখভঙ্গি – উদাসীন, অসুন্তুুস্ট, স্বাধীন, একগুঁয়ে – জেদী, অস্থির।
পোশাক – লাল, লালচে বেগুনী, গোলাপী পোশাক পরিধান করে।

💎 হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারগনকে এই মায়াজম বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরী। রোগ ও রোগীর লক্ষণ সমষ্টি তৈরীর ক্ষেত্রে যদি ডাক্তারগন মায়াজম অনুযায়ী পৃথক করতে সক্ষম হন তবে রোগ নিরাময় সহজ হয়।

11/12/2025

অনেকেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নেয়ার কথা আসলে দুটো বিষয় নিয়ে খুব ভাবনায় পড়ে যান

১। হোমিও ওষুধ খেলে অনেক কিছু বেছে খেতে হয়।
২। হোমিও ওষুধ খেলে শুরুতে রোগ বেড়ে যায়।

এই দুটো বিষয় নিয়ে রোগীদের মধ্যে ভুল ধারণার কারণে হোমিও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসা না নিয়ে অনেকেই যুগ যুগ ধরে, এমনকি আজীবন অসুস্থতায় ভুগতে থাকে।

আসুন এ দুটো বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

প্রথমেই দেখি, হোমিও ওষুধ খেলে কি আদৌ পছন্দের অনেক খাবার থেকে বঞ্চিত থাকতে হয় কি না। আমি বলব, একেবারেই না। আসলে সঠিক ক্লাসিক্যাল চিকিৎসা হলে এসবের কোনোটা নিয়েই ভাবতে হয় না।

এই যে কুরবানি গেলো, কোনো রোগী বলেনি যে গরুর গোস্ত খেয়ে তার স্কিন ডিজিজ কিংবা পেটের সমস্যা কিংবা পাইলস ইত্যাদি কোনো রোগ বেড়ে গেছে৷

বিশেষ কোনো খাবারে ইনটলারেন্স না থাকলে আমি কফি (যেটা অনেক হোমিও ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে বলে ধরা হয়) এবং অতিরিক্ত লবণ (যেটা আসলে সুস্থ বা অসুস্থ সবার এড়িয়ে চলা উচিত) বাদে কোনো কিছুই বেছে খেতে বলি না বা নিষেধ করি না।

আমরা জানি, শরীরে এলার্জির পরিমাণ বাড়লে স্কিন ডিজিজ বেড়ে যায়। তাই স্কিন ডিজিজ কিংবা কোল্ড এলার্জি বা এজমার রোগীরা অনেক মজার মজার খাবার, যেমন গরুর মাংস, বেগুন, চিংড়ি ইত্যাদি এড়িয়ে চলেন।

আমরা এও জানি, আইবিএসের রোগীদের বিভিন্ন খাবার যেমন দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, শাক-সবজি, আটার তৈরি খাবার, তৈলাক্ত খাবার ইত্যাদিতে ইনটলারেন্স থাকে।

আমরা আরও জানি, কনস্টিপেশন, পাইলস বা পায়ুপথের রোগের রোগীদেরও লাল মাংস, রুটি কিংবা চর্বি জাতীয় খাবারে কষ্ট বাড়ে।

উপরে বর্ণিত তিন ক্যাটাগরির রোগীর মধ্যে কেবল আইবিএস কিংবা ক্রোনস ডিজিজের রোগীদের আমরা গৎবাঁধা নয় বরং যে রোগীর যে খাবারে অসুবিধা হয়, শুধু সেই খাবারগুলোই তাকে চিকিৎসা চলাকালীন প্রথম ২/১ মাস এড়িয়ে চলতে কিংবা হিসেব করে খেতে বলি।

আমার কেইসগুলো যারা নিবিড়ভাবে দেখেন, তারা খেয়াল করবেন, রোগীরা অনেকেই আগে দুধ খেতে পারত না এখন খেতে পারে; অনেকেই আগে রুটি বা ময়দার তৈরি কোনো খাবার খেতে পারতো না, এখন খেতে পারে।

অর্থাৎ যার যে খাবারের প্রতি অসহিষ্ণুতা, সে এখন তাই খেতে পারছে, এটাই সুচিকিৎসা এবং সুস্থতার একটি বড় মানদণ্ড।

অন্য সমস্যাগুলো যেমন সোরিয়াসিস কিংবা পাইলসের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নিষেধ দেয়া হয় না বললেই চলে।

তার মানে হোমিও চিকিৎসা নিলে যে শুধু খাবারে রেস্ট্রিকশন কিংবা শুধু বাছা আর বাছা, এটা একেবারেই সঠিক নয়। এই বাছাবাছির ভয়ে অনেকেই হোমিও চিকিৎসা নেয়ার ইচ্ছে থাকলেও বিমুখ হন।

আজ থেকে ভয় ঝেড়ে ফেলুন। হোমিও চিকিৎসা নেবেন, বেছে না খাওয়ার জন্য নয়, সুস্থ হয়ে পছন্দের খাবার খেতে পারার জন্য।

এছাড়া কিছু বাছা রয়েছে যা হোমিওপ্যাথি কিংবা এলোপ্যাথি সব চিকিৎসার ক্ষেত্রেই এক— যেমন ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি পরিহার করা কিংবা শর্করা কমিয়ে খাওয়া; উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল কিংবা ফ্যাটি লিভার বা ওবিসিটির রোগীদের অতিরিক্ত তেল, চর্বি জাতীয় খাবার বা অতিরিক্ত রেডমিট এড়িয়ে চলা; সিকেডির রোগীদের উচ্চ প্রোটিন এবং বীজ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা; ওভার‍্যাকটিভ ব্লাডার বা ঘন প্রস্রাবের রোগীদের চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা— ইত্যাদি।

এসব নিয়ে শুধু হোমিওপ্যাথিকে এককভাবে দোষ দেয়ার কিছু নেই।

এছাড়া কিছু বিষয় আছে যা অসুস্থ তো বটেই, সুস্থ ব্যক্তিদেরও মেনে চলা উচিত— যেমন ভাজাপোড়া, বাইরের খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, সিগারেট, রাত্রি জাগরণ ইত্যাদি।

এসব নিয়েও একা হোমিওপ্যাথিকে দোষ দেয়ার কিছু নেই।

এবার আসি, হোমিও ওষুধ খেলে নাকি রোগ বেড়ে যায়— বিশেষ করে স্কিন ডিজিজের রোগীরাই এই ভয়টি বেশি পান।

এই ধারণাটিও পুরোপুরি সঠিক নয় বরং এখানে রোগীদের মধ্যে একটু মিসকনসেপশন আছে।

দেখুন, হোমিও চিকিৎসা নেয়া শুরু করলে শুরুতে কয়েকদিন বা কয়েক ঘন্টা কিছু কিছু সিম্পটম একটু এগ্রাবেট করতে বা বেড়ে যেতে পারে, কিন্তু তা সব ক্ষেত্রে নয় অর্থাৎ সব সিম্পটম কিংবা সব রোগীর ক্ষেত্রেও নয়।

এবং এই এগ্রাবেশনটি অত্যন্ত মৃদু, সুসহনীয় এবং সুখভোগ্য।

এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার ইন্ডিকেটর যদি চিকিৎসাটি ক্লাসিক্যাল উপায়ে এবং সূক্ষ মাত্রায় হয়ে থাকে।

অর্থাৎ আমাদের মত ক্লাসিক্যাল চিকিৎসকেরা যেভাবে একজন রোগীর শারীরিক, মানসিক সব সিম্পটম এবং অবস্থা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ কেইস টেকিংয়ের মাধ্যমে রোগীর সাথে সর্বাধিক ম্যাচ করে এমন ওষুধ একবারে একটি করে সূক্ষ মাত্রায় প্রয়োগ করে, এবং তারপর যদি প্রথম দিকে রোগ কিছুটা বাড়তিও মনে হয়, তাহলে সেটা দিয়ে বুঝতে হবে আপনার ওষুধটি সঠিক হয়েছে, এবং এ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং মনে মনে খুশি হওয়া উচিত।

এবং এই এগ্রাবেশন বা বাড়তি বিষয়টি, আবারও বলছি, সব ক্ষেত্রে যে হবে এমন কোনো কথা নেই, হলেও আবারও বলছি, তা মৃদুই হবে, সুসহনীয় হবে; একদিকে সাময়িক কিছুটা খারাপ লাগলেও অন্যদিকে রোগী স্বস্তি অনুভব করবে; মনের মধ্যে একটি ভালো লাগা বোধ বা শান্তি শান্তি অনুভূতি কাজ করবে; অনেকের ঘুম ভাল হতে শুরু করবে; মন ফুরফুরে থাকবে।

এবার স্কিন ডিজিজের রোগীদের ক্ষেত্রে বলি, যেটা নিয়ে রোগীরা বেশি ভয় পায়।

দেখুন, এখানেও একই কথা প্রযোজ্য, তাহলে আলাদা করে বলছি কেন?

কারণ অধিকাংশ রোগী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেয় ঠেকায় পড়ে, অনেকটা বাধ্য হয়ে, যখন অন্য কোনো চিকিৎসায় তার আর কাজ হয় না কিংবা পার্মানেন্ট সলিউশন আসে না।

এক্ষেত্রে তারা হোমিও চিকিৎসা নেয়ার আগে বহুদিন ধরে বহু মলম, অয়েন্টমেন্ট (যেটা হোমিও চিকিৎসায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ) ব্যবহার করে বার বার রোগটিকে স্কিনের উপর থেকে ভাল করার চেষ্টা করে— যেটা ভুল পদ্ধতি।

কারণ স্কিন ডিজিজ কখনোই শুধু স্কিনের রোগ নয়, এটি রোগীর দুর্বল ইমিউনিটির বহিঃপ্রকাশ, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অটোইমিউন এবং পরিবেশগত নিয়ামক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

তাহলে এটাকে শুধু এক্সটার্নাল এপ্লিকেশন কিংবা টপিক্যাল ওয়েতে ভাল করতে চাওয়াটা শুধু বোকামিই নয়, হাস্যকরই নয়, রীতিমতো আত্মবিধ্বংসী— কারণ এর মাধ্যমে স্কিন ডিজিজটি ভাল হয় না, বরং সাপ্রেসড হয়ে যায় বা চাপা পড়ে যায়।

এভাবে বার বার সাপ্রেশনের ফলে রোগটি তার বহির্মুখী গতিপথ পরিবর্তন করে অন্তর্মুখী হয়ে স্কিন থেকে ভাইটাল অর্গানস যেমন লাং, কিডনি, হার্ট ও অন্যান্য অর্গানকে আক্রমণ করে, এবং অসুস্থ করে।

স্কিন ডিজিজ সাপ্রেসড হয়ে যে এজমা হতে পারে, এটা এলোপ্যাথিক বক্ষব্যাধি ডাক্তাররাও স্বীকার করেন।

হ্যানিম্যান বলেছেন, রোগ হচ্ছে জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলা।

সুতরাং রোগের সিম্পটম এবং প্রকাশ বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অঙ্গে, বিভিন্ন নামে হলেও তা কেন্দ্রীয়ভাবে পীড়িত জীবনীশক্তিরই একেক রূপ।

সুতরাং যখন একজন রোগী বিভিন্ন মলম বা এক্সটার্নাল এপ্লিকেশনের মাধ্যমে স্কিন ডিজিজটিকে চাপা দেয়, বা চামড়ার উপর থেকে কমিয়ে রাখে (যেটা আদতে কিউর নয়— কিউর হলে কোনো দাগ থাকবে না, হেলদি স্কিন থাকবে), তখন আমার আগের বর্ণনা অনুযায়ী সঠিক হোমিও ওষুধ পড়লে রোগটা মলমের কারণে চাপা পড়া অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে বা কিছুটা স্পষ্ট হয়।

এটাকে এগ্রাবেশন কিংবা বেড়ে যাওয়া বলে না।

এখানে শুধু মলম লাগিয়ে ভাল না হওয়া রোগটি তার স্বরূপে ফিরে আসে এবং এই অবস্থা থেকেই কিউরের দিকে যায়।

সুতরাং এই অবস্থায়ও রোগী ভালোই বোধ করতে শুরু করে।

আপনারা খেয়াল করবেন, আমার অনেক সোরিয়াসিসের রোগী অন্য ডাক্তারের ওষুধ খেয়ে রোগটাকে যাচ্ছেতাই লেভেলে বাড়িয়ে আমার কাছে আসে, অথচ আমার চিকিৎসায় শুরু থেকেই রোগীর স্কিন ডিজিজ ক্রমান্বয়ে কমতেই থাকে, বাড়ে না।

এই প্রমিনেন্ট বা স্পষ্ট হওয়ার বিষয়টিও সবার ক্ষেত্রে ঘটে এমন নয়— বিশেষ করে যারা কখনো মলম লাগায়নি, তাদের ক্ষেত্রে খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না।

সুতরাং হোমিও চিকিৎসা নিলে রোগ বেড়ে যায়, ভোগান্তি বেড়ে যায়, এ কথাটিও সঠিক নয়, এবং যেটুকু স্পষ্ট হয় তা চিকিৎসারই অংশ।

এবং এক্ষেত্রে দৃশ্যমান বাড়তি মনে হলেও ভোগান্তি কিন্তু ক্রমাগত কমতে থাকে।

তাছাড়া এখন ফিফটি মিলিসিমাল পদ্ধতির ওষুধ আছে, সেটাতে এগ্রাবেশন খুবই কম হয়, এবং এগ্রাবেশন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আমরাও রোগী বুঝে ডোজ এবং পাওয়ার এডজাস্ট করি, যেকারণে আমার রোগীদের ৯৯% কেই সেন্টিসিমাল পটেন্সির ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করলেও তাদের স্কিন ডিজিজ বাড়ে না।

১/২% ক্ষেত্রে কিছুটা প্রমিনেন্ট হতে পারে শুরুতে।

আরেকটি ভুল ধারণা রোগীদের মধ্যে আছে, তা হচ্ছে— এই যে এগ্রাবেশনের কথা বলছি কিংবা প্রমিনেন্ট হওয়ার কথা বলছি, এটাকে আবার অনেকে সাইড ইফেক্ট মনে করে বসে।

(এগ্রাবেশন এবং সাইড ইফেক্ট যে এক বিষয় নয়, এটা নিয়ে আমার টাইমলাইনে একটা আলাদা ভিডিও দেয়া আছে)

বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি কেমন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন তার ওপর।

সুতরাং সঠিক ক্লাসিক্যাল চিকিৎসক চিনে চিকিৎসা নিলে এসব ভাবনায় পড়ে হোমিও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থেকে কষ্ট ভোগ করতে হয় না।

ধন্যবাদ।

★Skin tag★(স্কিন ট্যাগ) হলো:- এক ধরনের *নরম, ছোট, চামড়ার বাড়তি অংশ*- এটি ত্বকের উপর *লটকে থাকা* মাংসপিণ্ডের মতো দেখা যায়...
08/12/2025

★Skin tag★(স্কিন ট্যাগ) হলো:

- এক ধরনের *নরম, ছোট, চামড়ার বাড়তি অংশ*
- এটি ত্বকের উপর *লটকে থাকা* মাংসপিণ্ডের মতো দেখা যায়
- সাধারণত ব্যথাহীন, ক্ষতিকর নয়
- ত্বকের ভাঁজে বেশি হয়, যেমন: *গলা, আন্ডারআর্ম, বগল, চোখের পাতা, বুকের নিচে, কুঁচকি ইত্যাদি*

কারণ:
- চামড়ার ঘষা
- ওবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন
- হরমোনের পরিবর্তন
- ডায়াবেটিস
- পারিবারিক ইতিহাস

★হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা★
- *Thuja occidentalis*
- *Causticum*
- *Nitric acid*
*Calcarea carb। এই মেডিসিনগুলো তাদের লক্ষণ অনুসারে আসতে পারে।

"এপিডিমাইমিস" এর সাতটি হোমিও ওষুধ।"এপিডিডাইমাল" শব্দটি একটি বিশেষণ, যা পুরুষদের এপিডিডাইমিস নামক অণ্ডকোষের পেছনের একটি ক...
05/11/2025

"এপিডিমাইমিস" এর সাতটি হোমিও ওষুধ।

"এপিডিডাইমাল" শব্দটি একটি বিশেষণ, যা পুরুষদের এপিডিডাইমিস নামক অণ্ডকোষের পেছনের একটি কুণ্ডলীকৃত নালীর সঙ্গে সম্পর্কিত। এই নালীটি শুক্রাণু সঞ্চয় করে এবং সেগুলোকে পরিপক্ক হতে সাহায্য করে। একটি "এপিডিডাইমাল সিস্ট" হলো এমন একটি সিস্ট যা এই নালীর মধ্যে তৈরি হয় এবং এটি সাধারণত তরল-ভরা ও ব্যথাহীন একটি পিণ্ড।
এপিডিডাইমাল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
এপিডিডাইমিস: অণ্ডকোষের পেছনের একটি কুণ্ডলীকৃত নালী যেখানে শুক্রাণু পরিপক্ক হয়।
এপিডিডাইমাল সিস্ট: এপিডিডাইমিসের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি তরল-ভরা সিস্ট।
লক্ষণ: বেশিরভাগ সিস্টই ব্যথাহীন হয়, তবে বড় হলে অস্বস্তি বা ফোলাভাব হতে পারে।
রোগ নির্ণয়: সাধারণত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে এবং আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসা: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না,।
এপিডিডাইমাইটিসের জন্য শীর্ষ ৭টি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ
রডোডেনড্রন, ক্লেমাটিস, এপিস মেলিফিকা, পালসাটিলা, সাবাল সেরুলাটা, মেডোরিনাম এবং ক্যান্থারিস এপিডিডাইমাইটিসের জন্য কিছু শীর্ষ ওষুধ।

১. রডোডেনড্রন - এপিডিডাইমাইটিসে অণ্ডকোষের ব্যথা এবং কোমলতার জন্য
অণ্ডকোষে ব্যথা এবং কোমলতা থাকলে এপিডিডাইমাইটিসের জন্য রোডোডেনড্রন একটি প্রাকৃতিক ঔষধ। অণ্ডকোষ স্পর্শ করলে খুব ব্যথা হয় এবং ব্যথা হয়, এবং ব্যথা উরু এবং পেট পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অণ্ডকোষও ফুলে যায়। ব্যথাটি ঘা বা টানটান প্রকৃতির হতে পারে। রোডোডেনড্রন ব্যবহারের জন্য, অণ্ডকোষে ব্যথা বসে থাকার ফলে আরও খারাপ হয় এবং হাঁটার সময় ভালো হয়ে যায়। মূত্রনালী থেকে সামান্য পাতলা স্রাব বের হতে পারে। এপিডিডাইমাইটিস ছাড়াও অর্কাইটিস দেখা দিলে, অর্থাৎ এপিডিডাইমো-অর্কাইটিসের ক্ষেত্রেও রোডোডেনড্রন নির্দেশিত।

রডোডেনড্রন কখন ব্যবহার করবেন?

এই ওষুধটি এপিডিডাইমাইটিস পরিচালনার জন্য নির্বাচন করা উচিত যেখানে অণ্ডকোষের ব্যথা সাধারণত বসে থাকলে খারাপ হয় এবং হাঁটার সময় ভালো হয়।

রডোডেনড্রন কিভাবে ব্যবহার করবেন?

৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ক্ষমতায় দিনে একবার বা দুবার এই ওষুধটি খেতে পারেন। ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো এর উচ্চ ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য, একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা প্রয়োজন।

২. ক্লেমেটিস - সামান্য স্পর্শে অণ্ডকোষে ব্যথা সহ এপিডিডাইমাইটিসের জন্য
সামান্য স্পর্শে অণ্ডকোষের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ক্লেমেটিস একটি চমৎকার ওষুধ। অণ্ডকোষে চিমটি কাটার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। নড়াচড়া এবং হাঁটাও ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অণ্ডকোষের ব্যথার সাথে সাথে ইনগুইনাল অঞ্চল এবং উরুতে টানটান ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অণ্ডকোষও ফুলে যেতে পারে।

ক্লেমাটিস কখন ব্যবহার করবেন?

এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে স্পর্শ থেকে অণ্ডকোষের ব্যথা আরও খারাপ হলে ক্লেমেটিস ব্যবহার বিবেচনা করা উচিত।

ক্লেমাটিস কীভাবে ব্যবহার করবেন?

এটি নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের ওষুধে পাওয়া যায়। শুরুতে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দিনে এক থেকে দুইবার এই ওষুধটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩. এপিস মেলিফিকা - এপিডিডাইমাইটিসে ফোলা, লাল অণ্ডকোষের জন্য
এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে ফোলা, লাল অণ্ডকোষের জন্য এপিস মেলিফিকা একটি চমৎকার হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার। এপিস মেলিফিকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে, ডান দিকটি বেশি প্রভাবিত হয়। লাল, ফোলা অণ্ডকোষের পাশাপাশি অণ্ডকোষের ব্যথাও অনুভূত হয়। স্পর্শ করলে অণ্ডকোষে ব্যথা আরও বেড়ে যায়। উপরোক্ত লক্ষণগুলির পাশাপাশি, ঘন ঘন প্রস্রাব করার ইচ্ছাও থাকে। প্রস্রাবের সময় এবং পরে মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া এবং চুলকানিও স্পষ্টভাবে উপস্থিত থাকে।

এপিস মেলিফিকা কখন ব্যবহার করবেন?

এই ঔষধটি এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর, যার মধ্যে অণ্ডকোষের ফোলাভাব এবং লালভাব রয়েছে।

এপিস মেলিফিকা কিভাবে ব্যবহার করবেন?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এই ওষুধটি 30C শক্তিতে ব্যবহৃত হয় যা দিনে দুবার বা তিনবার নেওয়া যেতে পারে।

৪. পালসাটিলা - লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষের ব্যথা সহ এপিডিডাইমাইটিসের জন্য
এপিডিডাইমাইটিসের জন্য পালসাটিলা একটি উপযুক্ত ওষুধ, যখন লিঙ্গ থেকে স্রাব এবং অণ্ডকোষে ব্যথা হয়। স্রাব ঘন হলুদ বা হলুদ-সবুজ বর্ণের হয়। এর সাথে, অণ্ডকোষে ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার ব্যথা থাকে। অণ্ডকোষে ব্যথা অনুভূত হয়। গনোরিয়ার সংক্রমণের পরে এপিডিডাইমিসের প্রদাহ হলে পালসাটিলাও সাহায্য করে। অণ্ডকোষে প্রদাহ ( অর্কাইটিস )ও হতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, অণ্ডকোষে ব্যথা অনুভূত হয় এবং দাঁড়িয়ে থাকলে ফোলাভাব আরও বেড়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর হতে পারে। যাদের পালসাটিলা প্রয়োজন তাদের প্রোস্টাটাইটিসের ইতিহাসও থাকতে পারে।

পালসাটিলা কখন ব্যবহার করবেন?

এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি নির্বাচন করা উচিত, যেখানে লিঙ্গ থেকে হলুদ/হলুদ-সবুজ স্রাব এবং অণ্ডকোষে ব্যথা হয়।

পালসাটিলা কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এই ঔষধের নিম্ন এবং উচ্চ উভয় ক্ষমতাই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং এর ফলাফল চমৎকার। তবে প্রাথমিকভাবে এটি দিনে একবার বা দুবার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নেওয়া যেতে পারে।

৫. সাবাল সেরুলাটা - যন্ত্রণাদায়ক বীর্যপাত সহ এপিডিডাইমাইটিসের জন্য
এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে যন্ত্রণাদায়ক বীর্যপাতের চিকিৎসায় সাবাল সেরুলাটা সহায়ক। এই ওষুধের প্রয়োজন এমন পুরুষদের প্রোস্টাটাইটিসের ইতিহাস থাকতে পারে। এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে কঠিন এবং বেদনাদায়ক প্রস্রাবের জন্য সাবাল সেরুলাটাও সহায়ক। মূত্রনালীতে তীব্র এবং জ্বালাপোড়া ব্যথাও থাকে। প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সিও বৃদ্ধি পায়।

সাবাল সেরুলাটা কখন ব্যবহার করবেন?

এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে বেদনাদায়ক বীর্যপাতের অভিযোগ পরিচালনা করার জন্য এই ওষুধটি ভালোভাবে নির্দেশিত।

সাবাল সেরুলাটা কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এটি প্রধানত Q অর্থাৎ মাদার টিংচার আকারে দিনে একবার বা দুবার ব্যবহৃত হয়।

৬. মেডোরিনাম – গনোরিয়ার ইতিহাস সহ এপিডিডাইমাইটিসের জন্য
গনোরিয়ার ইতিহাস সহ এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে মেডোরিনাম একটি বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। এই ধরনের ক্ষেত্রে, লিঙ্গ থেকে সাদা শ্লেষ্মার সাথে মিশ্রিত একটি পাতলা, স্বচ্ছ স্রাব হতে পারে। এই স্রাব হলুদ-বাদামী দাগ ফেলে। প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীতে ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং ব্যথাও থাকে।

মেডোরিনাম কখন ব্যবহার করবেন?

গনোরিয়ার ইতিহাস সহ এপিডিডাইমাইটিসের চিকিৎসার জন্য মেডোরিনাম একটি কার্যকর ওষুধ।

মেডোরিনাম কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এই ঔষধটি সপ্তাহে একবার অথবা পনেরো দিনে একবার ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খাওয়া যেতে পারে। এটি একটি শক্তিশালী ঔষধ হওয়ায় এটির ঘন ঘন পুনরাবৃত্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

৭. ক্যান্থারিস - এপিডিডাইমাইটিসে মূত্রনালীর অভিযোগের জন্য
এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সমস্যাগুলির জন্য ক্যান্থারিস একটি কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। মূত্রনালীতে কাটা বা জ্বালাপোড়া সহ ব্যথা সহ প্রস্রাব করা এবং ঘন ঘন প্রস্রাব করা সহ অভিযোগগুলি ক্যান্থারিসের সাথে ভালভাবে নিরাময় করা হয়। প্রস্রাবের আগে, সময় বা পরে কাটা বা জ্বালাপোড়া ব্যথা থাকতে পারে। সহবাসের পরে মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়ার চিকিৎসার জন্যও ক্যান্থারিস কার্যকর। ক্যান্থারিসের প্রয়োজন হলে, প্রস্রাবের তীব্র তীব্রতা দেখা দেয়।

ক্যান্থারিস কখন ব্যবহার করবেন?

এপিডিডাইমাইটিসের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি প্রস্রাবের সময় ব্যথা এবং জ্বালাপোড়ার অভিযোগ পরিচালনা করতে সহায়তা করে।

17/08/2025

চর্মরোগে মর্ডান মেডিসিনে সাধারণত প্রকৃত আরোগ্য বলতে যা বোঝায়, তা হয় না।
মলম ইত্যাদি ব্যবহারে চর্মরোগ চাপা পড়ে বরং মেটাস্টাসিস বা রোগান্তর হয়ে আরো কঠিন রোগের জন্ম নেয়। যদিও কিছু দিন ওষুধ চলার পর চর্মরোগ তিরোহিত হয়,তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করলে পুনরায় চর্মরোগ দেখা দেয়।
হোমিওপ্যাথিতে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করে চিকিৎসা করলে চর্মরোগ চিরতরে সেরে যায়।
তবে আসল ব্যাপার হলো সঠিক ওষুধ নির্বাচন, পটেন্সি এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া।কারণ চর্মরোগের চিকিৎসায় প্রায় সময়ই হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি ঘটে।রোগী অসন্তুষ্ট হয় এবং ধরে রাখা কঠিন হয়।
তাই চর্মরোগ চিকিৎসায় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

স্কিন ডিজিজে ব্যাবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঔষধ নিয়ে আলোচনা___

✅(Anacardium)অ্যানাকার্ডিয়ামঃ- হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে, চোখের পাতায়, মুখমণ্ডল, বুক, গলা, অণ্ডকোষ, প্রভৃতি স্থানে অসহনীয় চুলকানি সহ একজিমা ।

✅(Antim Crud)অ্যান্টিম ক্রুডঃ- অত্যাধিক স্থুল ও কঠিন মধুবর্ণের মামড়ীযুক্ত একজিমা, চতুঃপার্শ্বে অত্যধিক চুলকায় ও জ্বালা করে, রাত্রিকালে, স্নানের পর বা জলে কাজ করার পর বৃদ্ধি ঘটলে এন্টিম ক্রুড উপযোগী।

✅( Arsenic alb)আর্সেনিকঃ- পুরাতন একজিমা, চামড়া কঠিন ও দৃঢ় হয়ে যায়, মাথা, মুখমণ্ডল, পায়ের তলায়, প্রভৃতি হতে শুষ্ক আইস ও হ্যাজাকর দুর্গন্ধযুক্ত রস ঝরে এবং ভীষণ জ্বালা করে ও চুলকায়, রাত্রিকালে ও ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি, উত্তাপ প্রয়োগে উপশম। সুচিবাই, খুঁতখুঁতে রোগীর ক্ষেত্রে উপযোগী এহা।

✅(Bayrita Carb)ব্যারাইটা কার্বঃ- হাতের পিছনে একজিমা, সর্দিপ্রবণ, টনসিলের বা ঘাড় গলা ফোলা যুক্ত স্থুল থপথপে শিশুগণের মস্তকে একজিমা, ভিজা স্থলে মামড়ী পড়ে ও অত্যধিক চুলকায় ও জ্বালা করে ।

✅( Bovista)বভিষ্টাঃ- জলে কাজ করার জন্য হাতের পিছনে একজিমা, চুলকালেও চুলকানির নিবৃত্তি হয় না, মুখের চতুর্দিকে ও নাকে একজিমা।

✅(Bromium)ব্রোমিয়ামঃ- মাথায় একজিমা, সমগ্র মাথাবেষ্টন করে একজিমা। দেখে মনে হয় মাথায় টুপি পরানো এমন একজিমার ক্ষেত্রে ব্রোমিয়াম উপযোগী।

✅ (Calcaria Carb)ক্যাল্কেরিয়া কার্বঃ-
মোটা সোটা বাচ্চা যাদের দাঁত ওঠাকালে মাথায় একজিমা – মাথা হতে মুখমণ্ডল পর্যন্ত বিস্তৃত হয় – রাতে ঘুমানোর পর প্রচুর চুলকানী এবং শিশু প্রবলভাবে মাথা চুলকানোর তাগিদে রক্তপাত করে, নিন্মপদ, নাভিতে, জানুতে ও কনুইতে রক্তস্রাবী একজিমা ( শীর্ণকায় শিশুদিগের – ক্যাল্কেরিয়া ফস, হলুদাভ সবুজ রস-ক্ষরণ হইলে – ক্যাল্কেরিয়া সালফ)

✅( Cantharis)ক্যান্থারিসঃ- প্রদাহিক স্থানের উপর একজিমা – অত্যধিক জ্বালা ও চুলকানি, ক্রমশঃ বিস্তৃত হয়ে পড়ে, উত্তাপে বৃদ্ধি । মুত্রত্যাগকালে জ্বালা ও কুন্থন।

✅(Chelledonium)চেলিডোনিয়ামঃ- যকৃৎ পীড়াগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিন্মপদে একজিমা ।

✅(Cicuta vera)সিকিউটা ভিরোসাঃ- মাথায় টুপি পরানোর ন্যায় একজিমা । বিশেষ চুলকায় না, সমগ্র মাথা জুড়ে টুপীর ন্যায় পাতিলেবু বর্ণের মামড়ী পড়ে, মাথার একজিমা চাপা পড়ে মস্তিস্ক বিকার।

✅( Conium)কোনিয়ামঃ- মুখমণ্ডলে, বাহুতে ও যোনির উপরিস্থ কেশময় স্থানে একজিমা, চটচটে রস ক্ষরণ হয়ে কঠিন মামড়ী পড়ে, প্রায়ই মাথা ঘোরে – শয্যায় শয়নকালে মাথা ঘোরার বৃদ্ধি ।

✅(Crotin tig)ক্রোটন টিগ:- মাথা হতে পায়ের তলা পর্যন্ত সর্বশরীরব্যাপী একজিমা, মুখমণ্ডল, চক্ষুপল্লব, অণ্ডকোষ ও জননেন্দ্রিয়ের উপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুস্কুড়ি জন্মে ও ভয়ানক চুলকায় ও জ্বালা করে এবং নিকটস্থ গ্রন্থিসমূহ স্ফীত হয়, ধীরে ধীরে চুলকালে উপশম বোধ।

✅( Graphitis)গ্র্যাফাইটিসঃ- স্থুল দেহ, স্বল্প ঋতু, শুষ্ক ও ঘর্মবিহীন চর্ম এইরূপ ব্যাক্তিগণের ( পুরুষ বা স্ত্রী ) একজিমা, কর্ণের পশ্চাৎ হইতে সূচিত হইয়া গ্রীবা ও গণ্ডদেশে বিস্তৃত হইয়া পড়ে, কর্ণের পশ্চাতে ও গ্রীবা, প্রভৃতি আক্রান্ত স্থান ফাটিয়া যায়, একজিমা হইতে প্রচুর পরিমাণে চটচটে মধুর ন্যায় রস ক্ষরিত হয় এবং অত্যধিক চুলকায় ও জ্বালা করে । কর্ণ ও মস্তকের পশ্চাৎ, করতল, প্রত্যঙ্গাদির ভাঁজ, মলদ্বারের চতুষ্পার্শ্ব, প্রভৃতি স্থানে একজিমা প্রকাশ পায় এবং উক্ত স্থানসমূহ গভীরভাবে ফাটিয়া যায়, ক্ষতস্থান স্পর্শ করিলে আদৌ যন্ত্রণাবোধ হয় না ।

✅(Heper Sulph)হিপারঃ- মস্তকে একজিমা অত্যধিক বেদনাযুক্ত, স্পর্শ সহ্য হয় না, জননেন্দ্রিয়ে, উরুতে ও অণ্ডকোষে একজিমা অত্যধিক চুলকায় ও দুর্গন্ধ বাহির হয়, নূতন ফুস্কুড়ি জন্মিয়া ক্রমশঃ বৃদ্ধি পায়, অত্যধিক শীতকাতর এবং ক্ষতস্থান স্পর্শ অসহ্যবোধ করে।

✅(Jugluas cinaria)জুগল্যান্স সিনেরিয়াঃ- হস্তপৃষ্টে ও হাতের কব্জিতে একজিমা, অসহ্য চুলকানি ও বেদনায় রোগী আদৌ নিদ্রা যাইতে পারে না, আরোগ্য হইতে না হইতেই পুনরায় প্রকাশ পায় ।

✅(Kali ars)ক্যালি আর্সঃ- পুরাতন শুষ্ক একজিমা, নিন্মবাহুর চর্ম স্বাভাবিক অপেক্ষা স্থুল, শরীর উত্তপ্ত হইলেই অত্যধিক চুলকায়, প্রাতে সন্ধিস্থানে চর্ম ফাটিয়া যায়, রসপূর্ণ উদ্ভেদসহ পুনঃ প্রকাশিত হয় ।

✅(Kali Mur)ক্যালি মিউরঃ- ঋতুস্রাবের বিপর্যয় অথবা টীকা দিবার কুফলস্বরূপ – ঘন শ্বেতবর্ণের পদার্থপূর্ণ ফুস্কুড়িযুক্ত একজিমা, ক্ষত হইতে অস্বচ্ছ সাদা পুঁজশ্লেষ্মাময় আস্রাব নির্গত হয় এবং চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা ও সর্বস্থানের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী হইতে ঘন সাদা বা হলুদাভ হড়হড়ে শ্লেষ্মা নির্গত হয় ।

✅(Lappa mezor)ল্যাপ্পা মেজরঃ- মস্তকের একজিমা – সিক্ত দুর্গন্ধযুক্ত, ধুসরাভ মামড়ী পড়ে এবং মুখমণ্ডলে বিস্তৃত হয়, অত্যধিক চুলকায় ও ছিঁড়িয়া ফেলার ন্যায় যন্ত্রণা হয় ।

✅(Lycopodium) লাইকোপোডিয়ামঃ- মস্তকের পশ্চাৎ হইতে সূচিত হইয়া মুখমণ্ডল পর্যন্ত বিস্তৃত একজিমা হইতে প্রচুর পরিমাণে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নিঃসরণ হয় এবং স্থুল মামড়ী পড়ে, সহজেই রক্তপাত হয়, নিন্মপদে ও পায়ের ডিমে গভীর ফাটল ও স্থুল মামড়ীযুক্ত একজিমা, অত্যধিক চুলকায় এবং চুলকাইলে উত্তপ্ত হইলে এবং অপরাহ্ণে ৪ টা হইতে ৮ ঘটিকা মধ্যে যাতনা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় ।

✅(Manganum)ম্যাঙ্গানামঃ- পুরাতন একজিমা, কনুই ও অন্যান্য সন্ধিস্থানে গভীর ফাটল ও অত্যধিক বেদনা হয়, মাসিক ঋতুস্রাবকালে একজিমার বৃদ্ধি ।

✅(Marc sol)মার্কসলঃ- ক্ষত হইতে ঘন হলুদাভ মামড়ী ঝরে এবং তাহার চতুষ্পার্শ্বে প্রদাহ সংঘটিত হয়, অত্যধিক চুলকায় এবং রাত্রিকালে ও শয্যার উত্তাপে চুলকানি বৃদ্ধি পায় – চুলকাইলে বেদনা ও রক্তপাত হয় । সর্ব শরীরে চটচটে ঘাম হয় । মুখে প্রচুর লালা জন্মে ।

✅(Mezerinum)মেজেরিয়ামঃ- মস্তক হইতে শরীরের সকল স্থানেই একজিমা প্রকাশ পাইতে পারে এবং ক্ষতের উপর শুষ্ক চামড়ার ন্যায় স্থুল মামড়ী পড়ে ও তাহার নীচে পুঁজ জন্মে, মস্তকে হইলে চুল জুড়িয়া যায়, ভয়ানক চুলকায়, চুলকাইলে তাহা আরও বৃদ্ধি পায় । শিশু মস্তক, মুখমণ্ডল, প্রভৃতি ভীষণভাবে চুলকাইয়া মামড়ী টানিয়া তুলিয়া ফেলে, মস্তক, মুখমণ্ডল প্রভৃতি রক্তাক্ত হয় এবং ক্ষত মধ্যে মেদপূর্ণ ফুস্কুড়ি জন্মে, সমগ্র নিন্ম পদের উপর উচ্চ শ্বেত বর্ণের মামড়ী, উত্তাপে চুলকানি বৃদ্ধি পায় ।

✅(Natrum Mur)নেট্রাম মিউরঃ- মস্তকের উপর এক কর্ণ হইতে অপর কর্ণ পর্যন্ত বিস্তৃত সাদা মামড়ী ও তাহার নীচ হইতে পুঁজ নিঃসরণ হইয়া চুলকায়, মুখের চতুষ্পার্শ্বে, জানুর খাঁজে, শরীরের সর্বস্থানেই চর্মের ভাঁজে ভাঁজে একজিমার উদ্ভেদ জন্মে ও তন্মধ্য হইতে হ্যাজাকর চটচটে রস ঝরে।

✅(Natrum Sulph)নেট্রাম সালফঃ- একজিমা হইতে প্রচুর পরিমাণে জলবৎ তরল রস নির্গত হয়, রসপূর্ণ ফুস্কুড়িযুক্ত একজিমা, সমগ্র শরীরে স্থানে স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলপূর্ণ ফুস্কুড়ি জন্মে ।

✅(Acid Nit)নাইট্রিক অ্যাসিডঃ- মস্তকে, কর্ণকুহরে বা মিয়েটাসের উপর, জননেন্দ্রিয়ে, বাহুতে হস্তে, মলদ্বারের চতুষ্পার্শ্বে একজিমা, একজিমা মধ্যে কণ্টকবিঁধনবৎ বেদনা ও সহজেই রক্তপাত হয় ।

✅(Oleander)ওলিয়েণ্ডারঃ- শিশুদিগের মস্তকের উপর জলপূর্ণ ফুস্কুড়িযুক্ত একজিমা, মস্তকের ও কর্ণের পশ্চাতে আইসযুক্ত উদ্ভেদ – পিপীলিকাদংশনের ন্যায় কুটকুট করে।

✅(Petroleum) পেট্রোলিয়ামঃ- মুখমণ্ডলে, গ্রীবায়, মস্তকের পশ্চাতে, অণ্ডকোষে, পেরিনিয়ামে ও উরুতে হলুদাভ সবুজ স্থুল মামড়ী, অত্যধিক চুলকায়, ব্যথা করে ও চর্মে গভীর ফাটল হয় ( গ্র্যাফাই, লাইকো ), হস্ত পৃষ্টে একজিমা, পদাঙ্গুলি মধ্যে একজিমা ও দুর্গন্ধযুক্ত পদ ঘর্ম, শীতকালে একজিমা প্রকাশ পায় গ্রীষ্মকালে অন্তর্হিত হয়।

✅(Psorinum)সোরিনামঃ- একজিমা গ্রীষ্মকালে অন্তর্হিত হয় ও শীতকালে প্রকাশ পায়, অত্যধিক চুলকায় এবং তাহা রাত্রিকালে শয্যার উত্তাপে বৃদ্ধি পায় ( ক্লিমেটিস, মার্ক, মেজেরি, সালফ ), প্রবলভাবে চুলকাইয়া রক্তাক্ত করিয়া ফেলে, সোরাদুষ্ট, ভগ্নস্বাস্থ্য, দুর্বল, শীতকাতর, চর্মরোগপ্রবণ, গণ্ডমালা ধাতুগ্রস্ত শিশু বা ব্যক্তিগণের, যাহাদের গাত্র হইতে সর্বদাই দুর্গন্ধ বাহির হয়, স্নান করিলেও তাহা দূর হয় না, তাহাদের পক্ষে বিশেষতঃ অন্যান্য সুনির্বাচিত ঔষধ, এমন কি, সালফার বিফল হইলে ইহা উপযোগী।

✅(Rhus tox)রাস-টক্সঃ- মস্তকে একজিমা স্কন্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, স্থুল মামড়ী পড়ে অত্যধিক চুলকায়, রাত্রিকালে বৃদ্ধি পায়, অণ্ডকোষ ও উরুর ভিতর দিকে একজিমা হইতে প্রচুর রস ক্ষরণ হয়, বর্ষা ও শীতকালে বৃদ্ধি।

✅(Sarsaparilla) সার্সাপ্যারিলাঃ- কপালে ও মুখমণ্ডলে একজিমা, একজিমার চতুষ্পার্শ্বে প্রদাহাম্বিত হয় এবং মামড়ীগুলি বায়ুস্পর্শে পড়িয়া যায় এবং ক্ষতস্থানে গভীর ফাটল হয় ও জ্বালা করে।

✅(Sepia)সিপিয়াঃ- অন্তঃসত্ত্বাবস্থায় একজিমা, শরীরে সর্ব স্থানেই হইতে পারে, লাল ফুস্কুড়ি জন্মে, অত্যধিক চুলকায় ও চুলকাইবার পর জ্বালা করে । প্রথমে শুষ্ক থাকে, শীঘ্রই দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজের ন্যায় প্রচুর আস্রাব হয় এবং তাহা শুকাইয়া মামড়ী পড়ে ও পরে ফাটিয়া ঝরিয়া যায়।

✅(Sillicea) সাইলেসিয়াঃ- অধিক পুঁজ-স্রাবী একজিমা, অত্যধিক চুলকায় ও জ্বালা করে, চুলকাইলে বৃদ্ধি, আচ্ছাদিত রাখিলে উপশম।

✅(Staphysagria)স্ট্যাফিসেগ্রিয়াঃ- শিশুদিগের মস্তকে মুখমণ্ডলে ও কর্ণের নিকটে একজিমা, গণ্ডদেশে, কর্ণের পশ্চাতে ও মস্তকের উপর স্থুল হলুদাভ মামড়ীর নীচে দুর্গন্ধময় পুঁজ জন্মে এবং অত্যধিক চুলকায়, একস্থানে চুলকাইলে তথা হইতে নিবৃত্ত হইয়া অন্যস্থানে চুলকায়, মাথার চুল ঝরিয়া যায়।

✅(Sulphur)সালফারঃ- যে সকল শিশু অথবা ব্যক্তিগণ নোংরা থাকিতেই ভালবাসে, পরিষ্কার হইবার প্রয়োজন বোধ করে না, স্নান করিতে চায় না, যাহাদের গাত্রচর্ম কর্কশ এবং প্রায়ই নানাপ্রকার উদ্ভেদ জন্মে, গাত্র হইতে দুর্গন্ধ নির্গত হয় তাহাদের সর্বপ্রকার চর্মরোগেই সালফার উপযোগী । ইহাতে চর্মরোগে গাত্র অত্যধিক চুলকায়, চুলকাইলে জ্বালা ও বেদনা হয় এবং রাত্রিকালে ও স্নান করিলে চুলকানি বৃদ্ধি পায়।

✅(Thuja)থুজাঃ- টীকা দেওয়ার কুফল স্বরূপ একজিমা অথবা টীকা লইবার পর একজিমার বৃদ্ধি, গাত্রচর্মে হস্তস্পর্শ সহ্য হয় না, ভীষণ চুলকায় এবং চুলকাইবার পর দারুণ জ্বালা করে, শরীরের অনাবৃত অংশে ঘর্ম হয় এবং আবৃত অংশে উদ্ভেদাদি জন্মে।

✅(Vinca minor) ভিনকা মাইনরঃ- মস্তকে, মুখমণ্ডলে ও কর্ণের পশ্চাতে একজিমা, চুলকায়, চুলকাইলে জ্বালা করে, দুর্গন্ধযুক্ত রস ঝরে ও চুল জুড়িয়া যায়।

✅(Viola Tricolar)ভায়োলা ট্রাইকলারঃ- শিশুদিগের মস্তকে ও মুখমণ্ডলে একজিমা, অতি স্থুল মামড়ী পড়ে ও তাহার তলদেশ হইতে প্রচুর পরিমাণে ঘন হলুদবর্ণের রস নির্গত হইয়া চুল জুড়িয়া ফেলে, অত্যধিক চুলকায় ও জ্বালা করে রাত্রিকালে বৃদ্ধি হয়, একজিমা সহ গ্রীবাগ্রন্থির স্ফীতি, মুত্রে দুর্গন্ধ।

ডাঃ মহিউদ্দিন আশরাফ
ফোন - 01730533860
ডিএইচএমএস ( কুমিল্লা )
গভঃ রেজিঃ নংঃ- 33745

Address

Comilla

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Mohiuddin Ashraf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category