06/05/2026
#আসুন_আমরা_সময়_মত_কৃমির_ঔষধ_সেবন_করি,
#প্রচারে_শাহ_গণি_ফার্মেসী_নাঙ্গলকোট।
কৃমিনাশক না খেলে কী হয়?
বাচ্চাটা ঠিকমতো খায়না,শুকিয়ে যাচ্ছে।
পড়াশোনায় মনোযোগ নেই।
সারাক্ষণ নাক চুলকায়, পেটে ব্যথা করে।
রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করে।
মা ভাবছেন — হয়তো খাওয়ার রুচি নেই।
হয়তো দুষ্টুমি করছে।
কিন্তু আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়।
পেটের ভেতর কৃমি আছে।
আর সেই কৃমি প্রতিদিন চুপ করে খেয়ে যাচ্ছে —
বাচ্চার খাবার থেকে শুরু করে তার ভবিষ্যৎ পর্যন্ত।
কৃমি আসলে কী করে শরীরে?
অনেকে ভাবেন কৃমি মানে শুধু পেটে একটু অস্বস্তি।
না।
কৃমি আপনার শরীরে থাকলে সে প্রতিদিন যা করে —
১. রক্ত চুষে নেয়
হুকওয়ার্ম বা গোলকৃমি অন্ত্রের দেওয়ালে আটকে থেকে প্রতিদিন রক্ত খায়। ধীরে ধীরে শরীরে আয়রনের অভাব হয়। রক্তশূন্যতা আসে। মুখ ফ্যাকাশে হয়, শরীর দুর্বল লাগে — কিন্তু কারণটা ধরা পড়ে না।
২. খাবারের পুষ্টি নিজে নিয়ে নেয়
আপনি খাচ্ছেন ঠিকই — কিন্তু সেই খাবারের ভিটামিন, প্রোটিন, মিনারেল কৃমি আগে নিয়ে নিচ্ছে। আপনার শরীরে পৌঁছাচ্ছে অবশিষ্ট।
৩. বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশ থামিয়ে দেয়
পুষ্টির অভাব হলে শুধু শরীর না — মাথাও বাড়ে না। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃমিতে আক্রান্ত শিশুদের IQ এবং স্কুলের ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে
কৃমি থাকলে শরীর সবসময় একটা অদৃশ্য যুদ্ধে ব্যস্ত থাকে। ফলে বাইরের ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার শক্তি কমে যায়। ঘন ঘন সর্দি, জ্বর, পেটের সমস্যা লেগেই থাকে।
৫. ঘুম নষ্ট করে
পিনওয়ার্ম রাতের বেলা পায়ুপথের কাছে ডিম পাড়ে। এতে প্রচণ্ড চুলকানি হয়। বাচ্চা ঘুমাতে পারে না, বড়রাও পারেন না — কিন্তু লজ্জায় কাউকে বলেন না।
শুধু বাচ্চা না — বড়রাও আক্রান্ত
অনেকে ভাবেন কৃমি শুধু বাচ্চাদের হয়।
ভুল।
খালি পায়ে হাঁটলে, কাঁচা বা আধাসিদ্ধ খাবার খেলে, অপরিষ্কার হাতে মুখে দিলে — যেকোনো বয়সে কৃমি ঢুকতে পারে।
বড়দের ক্ষেত্রে কৃমির লক্ষণ আরও বেশি মুখোশ পরে আসে —
দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, কাজে মনোযোগ না থাকা, হজমের সমস্যা, অকারণ ওজন কমে যাওয়া।
কতদিন পরপর খাবেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী —
✅ ২ বছরের উপরে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবাই প্রতি ৬ মাস পরপর কৃমিনাশক খাবেন
✅ অ্যালবেন্ডাজল ৪০০ মিগ্রা — একটাই ডোজ, একদিনেই কাজ হয়
✅ গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস বাদে বাকি সময় ডাক্তারের পরামর্শে খাওয়া যায়
যে ভুলটা আমরা সবাই করি
ওষুধ খাওয়া হয় না,কারণ কৃমি দেখা যায় না।
ব্যথা তীব্র না,সমস্যাটা ধীরে ধীরে আসে।
কিন্তু ধীরে ধীরে আসা ক্ষতিটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক —
কারণ সেটা আমরা টের পাই না।
শেষ কথা
বছরে মাত্র দুইটা ট্যাবলেট।
এই দুইটা ট্যাবলেট আপনার বাচ্চার পড়াশোনা, শরীর, ঘুম — সবকিছু রক্ষা করতে পারে।
আজ মনে করুন — শেষবার কবে কৃমিনাশক খেয়েছিলেন?
মনে নেই?
তাহলে এটাই সময়।
Copy By
Dr. Nobel
MBBS,BCS
অ্যাপয়েন্টমেন্ট:01764921821