Dr.Rajib Paul

Dr.Rajib Paul স্বাস্হ্যই সকল সুখের মূল...

ক্যানুলা করার পর ক্যানুলা সাইট ইনফেকশন কমন বিষয়।এজন্য ডাক্তাররা সবসময়ই ক্যানুলার দিকে নজর রাখে এবং ৩ দিন পর পর ক্যানুলা ...
28/01/2026

ক্যানুলা করার পর ক্যানুলা সাইট ইনফেকশন কমন বিষয়।এজন্য ডাক্তাররা সবসময়ই ক্যানুলার দিকে নজর রাখে এবং ৩ দিন পর পর ক্যানুলা পরিবর্তন করা হয়।
জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানুলা করার পর বাচ্চার হাতের অবস্থা এমন হয়ে যায়। বিভিন্ন পোস্টে দেখলাম স্বাস্থ্য কর্মী বা নার্সদের দোষ দেয়া হচ্ছে কারন, ক্যানুলা করার পর হাতের রঙ পরিবর্তন হলে তিনি বলেন ঠিক হয়ে যাবে। অবশ্যই উচিৎ ছিল ডাক্তারকে জানানো ও উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেয়া। পরবর্তীতে বাচ্চার হাত কেটে ফেলতে হয় ইনফেকশন এর জন্য।

ক্যানুলার সঠিক ম্যানেজমেন্ট এর পরও বিশ্বের বড় বড় হাসপাতালে ও ক্যানুলা সাইট ইনফেকশন থেকে রোগী মারা পর্যন্ত যায়।

কিন্তু হাসপাতালে যদি রোগী মিসম্যানেজমেন্টের এর স্বীকার হয় তাহলে তবে অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিৎ।

একজন আর্জেন্টিনার সাধারণ কার মেকানিক,ডাক্তার নন, ইঞ্জিনিয়ারও নন।ইউটিউবে দেখা একটি সহজ কৌশল থেকে তার মাথায় আসে এক গভীর প্...
17/01/2026

একজন আর্জেন্টিনার সাধারণ কার মেকানিক,
ডাক্তার নন, ইঞ্জিনিয়ারও নন।
ইউটিউবে দেখা একটি সহজ কৌশল থেকে তার মাথায় আসে এক গভীর প্রশ্ন—
প্রসবের সময় আটকে যাওয়া শিশুকে কি নিরাপদে, কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই বের করা যায়?
এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নেয় এক অভিনব ডিভাইস।
একটি প্লাস্টিক কভার ও ভেতরের নরম, বাতাসভরা ব্যাগ
যা শিশুর মাথাকে আলতোভাবে ঘিরে ধরে
এবং নিরাপদ প্রসব সম্ভব করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে বলেছে
“প্রসব চিকিৎসায় এক বিপ্লব”।
কারণ এটি সস্তা, সহজে ব্যবহারযোগ্য,
গ্রামাঞ্চলেও কার্যকর
এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমাতে পারে।
যে দেশে এখনো প্রসব মানেই ভয়,
এবং অনেক মা চিকিৎসার অভাবে মারা যান—
প্রশ্ন হলো, আমরা কি এমন নতুন সমাধানকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
আমরা কি এটা গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
আমাদের ক্লিনিকের ডাক্তাররা? দাইরা?
নাকি নতুন কিছু এলেই আমরা অবিশ্বাস করব, অপমান করব, উপহাস করব?
একজন মেকানিক যদি মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা ভাবতে পারে,
তাহলে আমরা কেন পারব না?

এই পোস্টটা শেয়ার করুন।
কারণ হয়তো এই আইডিয়াটাই
আগামী দিনে কোনো মায়ের
শেষ আশার আলো হয়ে উঠবে।

ফলো দিন👉 Dr.Rajib Paul

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জঘন্যতম জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সেন্টার। যেখানে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার, সে অবস্থাতেও ৬...
15/01/2026

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জঘন্যতম জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি সেন্টার। যেখানে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার, সে অবস্থাতেও ৬-৭ ঘন্টা বসায় রাখলো। বসায় যদি রাখবে তাহলে নাম আর্জেন্ট ট্রিটমেন্ট সেন্টার কেনো দেয়।
দেখতেছে,শুনতেছে যে আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তাও কোনো এ্যাকশন নাই। বার বার বলছি আমাকে একটু আগে দেখেন, না তারা নিয়ম কানুন মেনে সিরিয়াল অনুযায়ী দেখবে। তারপর প্রায় ৭ ঘন্টা পর ইনহেলার দিয়েছে।
যেটা বাংলাদেশ থেকে আমি আগেই এনেছি।
আর এই ইনহেলার কিনতে আরেক কাহিনি।
সিরিয়াল দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়েছে তাও ১৭ নাম্বার সিরিয়াল, সেখানেও ১.৩০ ঘন্টা বসা।
সত্যি বলতে আর যাই হোক আমাদের বাংলাদেশের ডাক্তার,চিকিৎসা ব্যবস্থা হাজার গুণ ভাল আছে আমার মতে। আর কার সাথে কি হয় জানি না, কিন্তু আমি শেষ ৫ দিন অনেক ভুগলাম।
এক পর্যায়ে ভাবছিলাম বাংলাদেশ গিয়ে ট্রিটমেন্ট করাই।
এই দেশে এক প্রেগ্ন্যাসির সময় (তাও তাদের ডিপার্টমেন্ট আলাদা), বাচ্চারা আর ৫০ বছরের উপরে যারা আছে তারাই প্রায়োরিটি পায়। মাঝের সবাই ধইন্নাপাতা।

I always respect my Country doctors, you guys are best for me 💗

Fahima Faruqe Turna

09/01/2026

নেপাল চন্দ্রগিরি হিল শিব মন্দির কবুতরের ঝাঁক।

ধোয়াঁর  আড়ালে হারিয়ে যায় জীবন...”— বারগার্স ডিজিজ ও এক amputated ভবিষ্যতের গল্পসকালের মিষ্টি রোদটা আপনার গায়ে লাগছে।এক হ...
03/01/2026

ধোয়াঁর আড়ালে হারিয়ে যায় জীবন...”

— বারগার্স ডিজিজ ও এক amputated ভবিষ্যতের গল্প

সকালের মিষ্টি রোদটা আপনার গায়ে লাগছে।
এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে এক টুকরো মৃত্যু
একটা বিড়ি।

ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে।
আপনি ভাবছেন, “এইটুকু ধোঁয়া দিয়ে কীইবা হবে?”
কিন্তু ঠিক তখনই...
আপনার শরীরের ভিতরে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে,
আপনার পায়ের আঙুলে রক্ত থেমে যাচ্ছে,
মৃত্যু ঘুম থেকে জেগে উঠছে—আপনার শরীরে।

❝ বারগার্স ডিজিজ ❞

একটা নীরব, নির্মম মৃত্যু।
না, এটা একদিনে হয় না।
এটা ধীরে ধীরে গিলে খায় আপনাকে।

আগে পায়ের আঙুল কালো হয়।

তারপর ব্যথা, জ্বালা, অসহ্য পুঁজ।

ক্ষত শুকায় না, বরং পচে যায়।

একদিন ডাক্তার বলে “এই পা রাখতে পারছি না... কেটে ফেলতে হবে”।

তখন আপনি বোবা হয়ে বসে থাকেন।
একটা সিগারেটের দাম ১৫ টাকা,
কিন্তু একটা পায়ের দাম?
– সে তো গোটা একটা জীবন!

💔 এক মুহূর্ত... ভাবুন শুধু:

আপনার শিশু ছেলেটা হেঁটে আসে,
মুখে হাসি, বলে “আব্বু চলো খেলতে যাই!”
আপনি তাকিয়ে থাকেন… হুইলচেয়ারে বসে, কাটা পা নিয়ে।

স্ত্রী পাশে এসে ভাতের থালা দেয়,
কিন্তু আপনি নিজেই খেতে পারেন না
হাতটাই তো আর চলে না ঠিকঠাক।

সবাই দেখে আপনি নিজেই নিজেকে ধ্বংস করেছেন।
ধীরে ধীরে নয়,
প্রতিটি টানেই নিজেকে এক টুকরো করে শেষ করে দিয়েছেন।

🔥 “তবু ছাড়তে পারি না…”?

না ভাই,
সিগারেট শুধু “পাপ” না।
এটা সন্তানহারা করার মত যন্ত্রণা,
এটা অসহায় মায়ের চোখের পানি,
এটা নিজের শরীরকে কেটে কেটে কবর বানানো।

আজই বলুন:

“না” — ধূমপানকে, “না” নিজের সর্বনাশকে।

চিকিৎসকের কাছে যান

উপসর্গ দেখা দিলে আর অপেক্ষা নয়

সচেতন হোন, আর কাউকে সচেতন করুন

> একদিন যারা ছিল আপনজন — তারা পাশে থাকতেও ভয় পাবে,
যদি আপনি নিজেই নিজেকে শেষ করে ফেলেন একেকটা ধোঁয়ার টানে।

#ধূমপান_নিরোধ #বারগার্স_ডিজিজ

সিজারের তিন দিন পর শিশুর মৃ-ত্যু 😭কেন হলো?শ্বাসনালীতে দুধ আটকে যাওয়ায়।দূর্ঘটনাটি ঘটেছে হাসপাতালে, মা এখনও ভর্তি। শিশুকে ...
28/12/2025

সিজারের তিন দিন পর শিশুর মৃ-ত্যু 😭
কেন হলো?
শ্বাসনালীতে দুধ আটকে যাওয়ায়।
দূর্ঘটনাটি ঘটেছে হাসপাতালে, মা এখনও ভর্তি। শিশুকে খাওয়ানোর সময় হেঁচকি শুরু হলে তা হালকাভাবে নেওয়া চলবে না—এটি জীবন-হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। তাই সবাই, বিশেষ করে নবজাতককে খাওয়ানোর সময় সাবধান থাকুন,।

👉কেন শ্বাসনালী তে আটকায়

ফিডিং পজিশন
নবজাতক যদি সঠিকভাবে ল্যাচ না করে, বা হেলানো অবস্থায় খায়, দুধ গলাগুলি (ইসোফ্যাগাস) থেকে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষ করে সিজার সন্তান বা খুব ছোট শিশু, যারা পুরোপুরি নিজের শ্বাস ও গিলে নেওয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকি থাকে।
👉 হঠাৎ বা জোর করে খাওয়ানো
ফিডার বা বোতল দিয়ে দ্রুত খাওয়ালে দুধ শিশুর গলার প্রতিক্রিয়া সামলাতে না পারার কারণে শ্বাসনালীতে চলে যেতে পারে।
👉 হেঁচকি বা কফ/রিফ্লাক্স সমস্যা
খাওয়ার পর হঠাৎ হেঁচকি বা বাচ্চার অস্থিরতা থাকলে দুধ উল্টে শ্বাসনালীতে যেতে পারে, বিশেষ করে নবজাতকের স্বাভাবিক রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বিকশিত হয় না।
👉শ্বাসনালী-গলা বিকাশ অসম্পূর্ণ
নতুন জন্মানো শিশুদের এপিগ্লটিস (যেটা শ্বাসনালী ঢেকে রাখে) পুরোপুরি শক্ত নয়, তাই খাওয়ার সময় দুধ বা খাবার ভুল পথে যেতে পারে।:
খাওয়ানোর সময় বাচ্চাকে সঠিকভাবে হেলান দিন ফিডিং বালিশ ব্যবহার করুন।
শুয়ে ফিডিং করাবেন না❌
খাওয়ার পর শান্তভাবে হালকা পরিপ্রেক্ষিত দিয়ে হেঁচকি বের করতে সাহায্য করুন।
যদি হঠাৎ বাচ্চা হাঁচি, কাশি বা রঙ পরিবর্তন দেখায়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সবাইকে সেয়ার করে জানিয়ে দিন....

ফিডার গরম পানিতে পরিষ্কার করলেন তো ডায়রিয়াকে বাবুর কাছে ডাকলেন......ভাবী কল করেছিলেন। জানিস তোর ভাতিজার আবার ডায়রিয়া...
25/12/2025

ফিডার গরম পানিতে পরিষ্কার করলেন তো ডায়রিয়াকে বাবুর কাছে ডাকলেন......

ভাবী কল করেছিলেন। জানিস তোর ভাতিজার আবার ডায়রিয়া হয়েছে খুব খারাপ অবস্থা। বাবুর বয়স এগারো মাস। শুনে খারাপ লাগছিল। বার বার ডায়রিয়া হলে ওয়াটার সলুবল ভিটামিন (পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন যেমন ভিটামিন বি ভিটামিন সি ) এর ঘাটতি দেখা যায়। যা বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক গঠনে খুব খারাপ ইফেক্ট ফেলে। ভাবীকে বলার সাহস পাচ্ছিলাম না যে বাবুর খাবার ঢেকে রাখেন কিনা? কারন ভাবী যে খুবই পরিচ্ছন্ন আর গোছালো সেটা বাড়ির সবাই জানে। নিজেই বলল বাবুর খাবার দাবারের ব্যাপারে এত সচেতন থাকি তবুও এসব হচ্ছে কেন বলেই স্বভাবসিদ্ধ কাঁদতে শুরু করল।

আরে কান্নার কি আছে? আচ্ছা বাচ্চা কি ফিডার ইউজ করে?
হ্যাঁ। কিন্তু আমি তো ফিডার শেষ হওয়ার পর প্রায় আধাঘণ্টা গরম পানিতে ফুটাই।

হেসে ফেললাম। বললাম ভাবী ভাতিজার সমস্যা তো ধরে ফেলেছি
ভাবী তো অবাক।

বললাম আচ্ছা কাঁচা ডিম ভেংগে দেখেছেন কি নরম?
হ্যাঁ।
চুলায় গরম পানিতে সিদ্ধ করলে কেমন হয়?
কেন অনেক শক্ত?

এখানেই আপনার ঝামেলা। দুধেও প্রোটিন থাকে। আপনি বাচ্চাকে ফিডার খাওয়ানোর পর ফিডারের গায়ে কিছু দুধ তো লেগে থাকেই সেটা দেখা যাক বা না যাক। এই অবস্থায় আপনি যখন সেই ফিডারকে গরম পানিতে দিচ্ছেন তখন দুধের প্রোটিংগুলো বোতলের গায়ে শক্তভাবে লেগে যাচ্ছে। আর এগুলো অনেক দিন ধরে বোতলের গায়ে থাকে ফলে জীবানু খুব সহজেই আক্রমন করে এদের। আবার ঐ বোতলেই দুধ দিচ্ছেন আর ভাতিজা দুধের সাথে জীবানু খেয়ে সব বের করে দিচ্ছে।

আমার লেকচারে ভাবির কান্না কোথায় হারিয়ে গেছে বলল তাহলে কি করব?

বললাম কেন ঠান্ডা পানি আছে না? ঠান্ডা পানিতে তো আর প্রোটিন জমে না

প্রথম দুই বছরে বাচ্চাদের ডায়রিয়া হওয়া খুব ক্ষতিকর। আর অনেক পরিচ্ছন্ন মায়েরাই এই ছোট্ট ভুলের জন্য নিজেরাতো কষ্টে ভোগেন ই বাচ্চার ও ভবিষ্যত গ্রোথকে স্লো করে দেন। তাই বাচ্চার ফিডার আগে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে বা প্রয়োজনে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে তারপর গরম পানিতে ফুটিয়ে জীবানু মুক্ত করুন। প্রথমেই গরম পানিতে ধুয়ে জীবানুযুক্ত করে সর্ষেতে ভুত ঢুকাবেন না ডায়রিয়াকে বাবুর কাছে ডাকবেন না।

পরিচিত যাদেরই বাবু আছে, নতুন বাবা মা হয়েছেন তাদের জন্য পোষ্টটি অবশ্যই শেয়ার করবেন।

21/12/2025

Suspension Bridge Ranijola Nagorkot Nepal

জম্নের ২ মিনিট পর শিশুর ছবি তোলার মুড, সে বুঝতে পারছে ছবি তুলতেছে।
18/12/2025

জম্নের ২ মিনিট পর শিশুর ছবি তোলার মুড, সে বুঝতে পারছে ছবি তুলতেছে।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দুইদিন পর ১৮ই ডিসেম্বর  রায়েরবাজার  বধ্যভূমিতে অজস্র লাশের ভিড়ে  পাওয়া গিয়েছিলো একটি লাশ। লাশটির দুই...
14/12/2025

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দুইদিন পর ১৮ই ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে অজস্র লাশের ভিড়ে পাওয়া গিয়েছিলো একটি লাশ। লাশটির দুই চোখ উপড়ানো। সমগ্র শরীরে জুড়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাতের চিহ্ন। দু হাত পিছনে গামছা দিয়ে বাঁধা। লুঙ্গিটা উরুর উপরে আটকানো। হৃদপিন্ড আর কলিজাটা ছিঁড়ে ফেলেছে হানাদার ও নিকৃষ্ট আলবদরেরা।

লাশটি ছিলো ছবির এই ভদ্রলোকের। বিশ্বখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট শহীদ অধ্যাপক ডাঃ ফজলে রাব্বি। এই ফজলে রাব্বি তিনি, সমগ্র পাকিস্তানকে সাত বার আটি দরে বিক্রি করলেও তাঁর মস্তিষ্কের দাম উঠবে না৷ সেই ফজলে রাব্বি তিনি যিনি হতে পারতেন বাংলাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী চিকিৎসা বিজ্ঞানী।

তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেলের এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় সমগ্র পাকিস্তানে শীর্ষস্থান অধিকারী ছাত্র। ১৯৬২ সালে মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানের অধীনে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি নিয়েছিলেন ডাঃ ফজলে রাব্বি। তাও আবার একটি বিষয়ে নয়, বরং দুটিতে। যথাক্রমে ইন্টারনাল মেডিসিন এবং কার্ডিওলজিতে। দেশে ফিরে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে।

মাত্র ৩২ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে মেডিসিনের উপর তাঁর বিখ্যাত কেস স্টাডি 'A case of congenital hyperbilirubinaemia ( DUBIN-JOHNSON SYNDROME) in Pakistan' প্রকাশিত হয়েছিলে বিশ্বখ্যাত গবেষণা জার্নাল 'জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন হাইজিন' এ।

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৯৭০ সালে তাঁর বিশ্বখ্যাত গবেষণা Spirometry in tropical pulmonary eosinophilia প্রকাশিত হয়েছিলো ব্রিটিশ জার্নাল অফ দা ডিসিস অফ চেস্ট ও ল্যান্সেট এ।
১৯৭০ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ডাঃ ফজলে রাব্বি মনোনীত হয়েছিলেন পাকিস্তানের সেরা অধ্যাপক পুরস্কারের জন্য। কিন্তু তাঁর আত্মায় ছিলো বাংলার অসহায়র্ত মানুষ। ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছিলেন তিনি সেই পুরুষ্কার।
মাত্র ৩৯ বছর বয়সী ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রফেসর অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড কার্ডিওলজিস্ট। আজকের দিনে কল্পনা করা যায়?
মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় তিনি আহত মানুষদের সেবা দিয়েছেন মেডিকেলে বসে। বেশ কয়েকদফা নিজের সাধ্যের চেয়ে বেশী ঔষধ আর অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় গোপন রেখে দিয়েছিলেন চিকিৎসাও।
মুক্তিযুদ্ধের ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর ডাঃ ফজলে রাব্বির স্ত্রী জাহানারা রাব্বী একই স্বপ্ন দুবার দেখলেন। স্বপ্নটা এমন একটা সাদা সুতির চাদর গায়ে তিনি তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে জিয়ারত করছেন এমন একটা জায়গায়, যেখানে চারটা কালো থামের মাঝখানে সাদা চাদরে ঘেরা কী যেন।
১৫ই ডিসেম্বর সকালে ঘুম থেকে জাহানারা রাব্বি স্বামীকে এই স্বপ্নের কথা খুলে বললেন। জবাবে ফজলে রাব্বি মৃদু হেসে বললেন, ‘তুমি বোধ হয় আমার কবর দেখেছ’। শুনে ভয় পেলেন জাহানারা রাব্বি।
টেলিফোন টেনে পরিচিত অধ্যাপকদের কারো কারো বাড়িতে ফোন করতে বললেন। দেশের কি অবস্থা জানার জন্য। ডাঃ ফজলে রাব্বিও ফোন করলেন। কিন্তু কারো বাড়িতেই সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিলো না। একসঙ্গে কাউকেই পাওয়া যাচ্ছেনা খানিকটা অবাক হলেন জাহানারা রাব্বি।
নাস্তা করে তাঁরা খেয়াল করলেন আকাশে ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান উড়ছে। কাছেই কোথাও বিমান থেকে বোমা হামলা চালাতেই বিকট শব্দের আওয়াজ। চমকে উঠলেন জাহারারা রাব্বী।
সকাল ১০টার দিকে জানা গেল দুই ঘণ্টার জন্য কারফিউ উঠেছে। এমন সময়ে ডাঃ ফজলে রাব্বি তাড়ার গলায় স্ত্রীকে বললেন, 'পুরান ঢাকায় যেতে হবে একবার। এক অবাঙালি রোগীকে দেখতে যাবো। দেখেই ফিরে আসবো।'
শুনেই জাহারানা রাব্বি বললেন, 'ওখানে যাওয়ার কাজ নেই। দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। ওরাই তো পাকিস্তানীদের সঙ্গ দিচ্ছে।'
জবাবে ফজলে রাব্বি হালকা হেসে বললেন, '‘ভুলে যেও না, সে মানুষ।’ জাহানারা রাব্বি বললেন, 'তুমি যে বল আজই আত্মসমর্পণ করবে। তো মিরপুর মোহাম্মদপুরের লোকদের আমরা ক্ষমা করতে পারব?' গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে ডাঃ ফজলে রাব্বি বললেন, 'আহা ওরাও তো মানুষ। তাছাড়া ওদের দেশ নেই।' জাহানারা রাব্বি বললেন, কিন্তু এতসবের পর ওদেরকে ক্ষমা আমরা কেমন করে করবো?' জবাবে ফজলে রাব্বী বললেন, হ্যাঁ ক্ষমাও করবে এবং এবং আমাদের স্বাধীন দেশে থাকতেও দেবে।'
সেদিব ডাঃ ফজলে রাব্বি বাসায় ফিরে এসেছিলেন ফের কারফিউ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই। দুপুরের খাবার ছিলো আগের দিনের বাসি তরকারি। কিন্তু ডাঃ ফজলে রাব্বী উল্টো বলেছিলেন, ‘আজকের দিনে এত ভালো খাবার খেলাম।’ জাহানারা রাব্বি এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশের এই অবস্থায় এখানে থাকাটা বিপজ্জনক। জাহানারা রাব্বি স্বামীকে বললেন, 'চলো এখনই চলে যাই।' ডাঃ ফজলে রাব্বি বলেছিলেন 'আচ্ছা, দুপুরটা একটু গড়িয়ে নিই। বিকেলের দিকে না হয় বেরোনো যাবে।'
কিছুক্ষণ পর বাবুর্চি এসে বললো ‘সাহেব, বাড়ি ঘিরে ফেলেছে ওরা।’ সিদ্ধেশ্বরীর বাসার বাইরে তখন কাদালেপা মাইক্রোবাস ও একটি জীপ দাঁড়িয়ে। মাইক্রোবাসের সামনে বেশ কয়েক জন তরুণ। পাশেই জীপে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানী সৈন্য দাঁড়িয়ে। যে আশংকা করছিলেন জাহানারা রাব্বি, ঠিক যেন তাই হলো।
খুব হালকা স্বরে ফজলে রাব্বি জাহানারা রাব্বির দিকে না তাকিয়েই বললেন, ‘টিঙ্কুর আম্মা ওরা আমাকে নিতে এসেছে।’ এরপর দারোয়ানকে গেট খুলে দিতে বলেছিলেন তিনি। যখন মাইক্রোবাসে তিনি উঠলেন তখন সময় ঘড়িতে বিকেল চারটা।১ ৮ই ডিসেম্বর ডাঃ ফজলে রাব্বির লাশটি পাওয়া গিয়েছিলো রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। দুই চোখ উপড়ানো। সমগ্র শরীরে জুড়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে আঘাতের চিহ্ন। দু হাত পিছনে গামছা দিয়ে বাঁধা। লুঙ্গিটা উরুর উপরে আটকানো। তাঁর হৃদপিন্ড আর কলিজাটা ছিঁড়ে ফেলেছে হানাদার ও নিকৃষ্ট আলবদরেরা।

এই সেই ডাঃ ফজলে রাব্বি, যাঁর গোটা হৃদয় জুড়ে ছিলো বাংলাদেশ আর অসহায়র্ত মানুষ। যার হৃদয় জুড়ে ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন। হানাদার ও আল বদরের ঘৃণ্য নরপিশাচেরা সেই হৃদয়কে ছিঁড়ে ফেললেই কি সমগ্র বাংলার মানুষের হৃদয় থেকে কি তাঁকে বিছিন্ন করা যায়। যায়না। হাজার বছর পরেও ডাঃ ফজলে রাব্বি থাকবেন আমাদের প্রাণে, হৃদয়ের গহীনে। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই কিংবদন্তি শহীদ বুদ্ধিজীবীকে।
~ আহমাদ ইশতিয়াক

Good Night...
14/12/2025

Good Night...

12/12/2025

Address

Noakhali
Comilla
3881

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Rajib Paul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.Rajib Paul:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram