19/06/2020
🔺স্বজন পীড়নে- চিৎকার:🔺
🔺অত্যন্ত দু:খের সাথে বলছি ,আজকাল হাসপাতালে যে সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তার জন্য ডাক্তার রা মোটেও দায়ী নয়।একটা হাসপাতাল ডাক্তাররা চালায় না।বেসরকারী হাসপাতালগুলো একটা ব্যবসায়ী মালিক পক্ষ ও অ-ডাক্তার ব্যবস্হাপনা কমিটির তত্বাবধানে পরিচালিত একটি প্রফিট অরগানাইজেশান।আর সরকারী হাসপাতাল পরিচালনা করেন স্বাস্হ্য প্রশাসন।যেমন :বাজেট,অবকাঠামো,লোকবল,ট্রান্সফার ও পদোন্নতি,ঔষধ ও যন্ত্রপাতি,স্বাস্হ্য দূর্যোগ ব্যবস্হাপনা,গন-সংযোগ ও নিরাপত্তা ইত্যাদী স্বাস্হ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনাধীন।
🔺ডাক্তারের দায়িত্ব রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া।তাই আপনাকে নিরপেক্ষভাবে সবকিছু বুঝতে হবে!
🔺আমি ডাক্তার বা আপনার ছেলে বা মেয়ে ডাক্তার,এটা আমার বা আপনার দোষ নয়।
🔺আপনি আপনার একজন জটিলও মুমূর্ষ রোগীকে অনেক দেরীতে আনলেন,রোগী মারা গেল।এটা আমার দোষ নয়।
🔺হাসপাতালে এসে ICU -তে বেড পাচ্ছেন না।এটা আমার দোষ নয়।
🔺হাসপাতালে এসে কোন একটা ঔষধ আপনি সাপ্লাই ফুরিয়ে যাওয়ার কারনে পাচ্ছেন না।এটা আমার দোষ না।
🔺হাসপাতালের মেশিন নষ্ট ।এটা আমার দোষ না।
🔺হাসপাতালে যখন তখন অতিরিক্ত দর্শনার্থী ভীড় করে ও স্বাস্হ্যবিধি না মেনে, রোগীকে ইন্ফেকটেড করছে,রোগী মারা যাচ্ছে।এটা আমার দোষ না।
🔺হাসপাতালের সবগুলো বেড পরিপূর্ন হওয়ার কারনে আপনাকে মাটিতে শুতে হচ্ছে।এটা আমার দোষ না।
🔺করোনা পরিস্হিতিতে প্রচুর অক্সিজেন সিলিন্ডার বাসায় কিনে রেখে,হাসপাতালে কৃত্তিম সংকট তৈরী করা।রোগী মারা যাওয়া।এটা আমার দোষ না।
🔺আউট ডোরে একজন ডাক্তারকে যদি ২০০ জন রোগী দেখতে হয়।এটা আমার দোষ না।
🔺ইনডোরে একজন ডাক্তারকে অন্তত: ৫০/৬০ জন রোগীকে ২৪ ঘন্টায় রোস্টার অনুযায়ী দেখভাল(follow up) করতে হয়।এটাআমার দোষ না।
🔺হাসপাতালের ওয়াশ রুম গুলো অপরিস্কার থাকলে,এটা আমার দোষ না।
🔺বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে,হাসপাতালে একটি ইলেকটিভ সার্জারী বা প্রসিজিওরের জন্য আপনাকে ওয়েটিং লিস্টে থাকতে হচ্ছে।এটা আমার দোষ না।
🔺আপনি যদি আপনার ব্যবস্হাপত্র সঠিক ভাবে অনুসরন না করেন বা ভুলভাবে গ্রহন করেন।এটা আমার দোষ না।
🔺যদি আপনি নিজের ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিক খাওয়ার কারনে,আপনার শরীরে resistant infection হয়।এটা আমার দোষ না।
🔺আপনি রোগীকে করোনা আক্রান্ত বলে যদি ফেলে চলে যান,এটা আমার দোষ নয়।
🔺বেসরকারী হাসপাতাল কতৃপক্ষ বর্তমান করোনা পরিস্হিতিতে লাভ-ক্ষতি-লোভ-করোনা সংক্রমন,ইত্যাদী কারনে যদি রোগী ভর্তি সংকুচিত করেন।এটা আমার দোষ নয়।
🔺আপনি রোগীর নিকট আত্নীয় এবং ভালো মানুষ,কিন্তু আপনার সাথে আসা মধ্যস্বত্ব ভোগী প্রভাবশশালী ব্যক্তিগন যদি উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন না করে বিবেকহীন ভাবে হাসপাতালে মারামারী শুরু করেন এবং ডা: রাকিবের মত একজন গরীবের-বন্ধু ডাক্তারকে মেরেই ফেলেন তখন হাদীছে বর্নিত ঐ বাক্যটিই মনে পড়ে:
“আখেরী যমানায় একজন মানুষ বিনা কারনে হিংস্র হয়ে অন্য জনকে খুন করার পর অনুশোচনায় বলবে,হায়! কেন আমি তাকে হত্যা করলাম”।
🔺তাই,এখনি সময় আপনার,এ নিয়ে ভাবনার।আর চিকিৎসক সমাজকে উপরোক্ত blame থেকে অব্যাহতি দেওয়ার।এবং চিকিৎসক সমাজের সুরক্ষার জন্য তাদের পাশে দাঁড়ানোর।ওরা আপনার ছেলে মেয়ে,ভাই বোন,যারা করোনা পরিস্হিতিতে এতগুলো(প্রায় ৪৫) ডাক্তারের মৃত্যুর যন্ত্রনা বুকে নিয়ে সন্মুখ সমরে এগিয়ে যাচ্ছে কোন পৃষঠপোষকতা ও স্বিকৃতি ছাড়াই।
🔺আল্লাহ আপনাকে শান্তিতে রাখুন ।
🔸প্রফেসর ডা: মো: সোহাইলুল ইসলাম
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ