13/05/2026
জলাতঙ্ক
জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু প্রায় সবসময়ই (১০০%) প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা মানুষসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করে।
প্রধানত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে কামড় বা আঁচড়ের দ্বারা এটি ছড়ায়।
প্রতি বছর ৫৯,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর কারণ হয়, যার বেশিরভাগই এশিয়া ও আফ্রিকায় ঘটে থাকে এবং সাধারণত কুকুরের কামড়ের মাধ্যমেই এই রোগটি ছড়ায়।
🚩সংক্রমণ:
আক্রান্ত প্রাণীর (কুকুর, বাদুড়, র্যাকুন, স্কঙ্ক, শিয়াল) লালার মাধ্যমে কামড়, আঁচড় অথবা চোখ, মুখ বা খোলা ক্ষতের সংস্পর্শে এসে জলাতঙ্ক ছড়ায়।
🚩প্রতিরোধ:
পোষা প্রাণীদের টিকা দিন, পথচারী পশু এড়িয়ে চলুন এবং বাদুড়কে বাড়ি থেকে দূরে রাখুন।
🚩চিকিৎসা:
যদি কোনো সম্ভাব্য জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণী (যেমন, কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, বেজি, বানর, র্যাকুন ইত্যাদি ) আপনাকে কামড়ায় বা আঁচড়ায়, তাহলে সংস্পর্শে আসার পর তাৎক্ষণিক করণীয় পদক্ষেপ:
✅তাৎক্ষণিক ক্ষত পরিচর্যা:
ক্ষতস্থানটি অবিলম্বে সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে ধুয়ে ফেলুন।
✅জীবাণুমুক্ত করুন:
ক্ষতস্থানে আয়োডিন বা অ্যালকোহল প্রয়োগ করুন।
✅জরুরি চিকিৎসা নিন:
জলাতঙ্কের টিকা এবং প্রয়োজনে ইমিউনোগ্লোবুলিনের জন্য অবিলম্বে জরুরি বিভাগে যান।
ধনুষ্টংকার এর টিকা টিটেনাস টক্সয়েড নিন।
✅সেলাই করবেন না:
সম্ভব হলে, ক্ষতস্থানটি সঙ্গে সঙ্গে সেলাই করা থেকে বিরত থাকুন।
✅জলাতঙ্কের সংস্পর্শ পরবর্তী প্রতিরোধ (PEP) প্রোটোকল
১. র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG):
তাৎক্ষণিক অ্যান্টিবডি সরবরাহের জন্য এটি প্রয়োগ করা হয়, সাধারণত প্রথম পরিদর্শনে (Day 0) ক্ষতের চারপাশে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
২. জলাতঙ্ক টিকার সিরিজ:
ধারাবাহিক টিকা (সাধারণত ৪টি ডোজ: ০, ৩, ৭ এবং ১৪ তম দিনে, অথবা ৫-ডোজের একটি সময়সূচী)।
✅পূর্ববর্তী টিকাদান:
যদি পূর্বে টিকা নেওয়া থাকে, তবে কেবল দুটি বুস্টার ডোজ (দিন ০ এবং ৩) প্রয়োজন এবং কোনো ইমিউনোগ্লোবুলিনের প্রয়োজন নেই।
🚩লক্ষণসমূহ
সাধারণত সংস্পর্শে আসার ৩-১২ সপ্তাহ পরে দেখা দেয়, যদিও তা কয়েক দিনের মধ্যেও দেখা দিতে পারে বা এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
✅প্রাথমিক পর্যায়ে:
জ্বর,
মাথাব্যথা,
ক্লান্তি, অথবা
কামড়ের স্থানে অসাড়তা/ঝিনঝিন করা।
✅তীব্র স্নায়বিক পর্যায়:
দুটি রূপ নিতে পারে:
ফিউরিয়াস র্যাবিস (৮০%):
হাইড্রোফোবিয়া (পানির ভয়), অ্যারোফোবিয়া (বাতাসের ঝাপটার ভয়), অতিসক্রিয়তা, অস্থিরতা এবং প্রলাপ।
প্যারালাইটিক র্যাবিস (২০%):
ক্ষতস্থান থেকে শুরু হওয়া ধীর, ঊর্ধ্বমুখী শিথিল পক্ষাঘাত।
🚩বৈশ্বিক লক্ষ্য:
২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরবাহিত জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যু নির্মূল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।